খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

‘চাঁদাবাজি করলে বিন্দু পরিমান কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ — ওসি বাবলু

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:০৬ পিএম
‘চাঁদাবাজি করলে বিন্দু পরিমান কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ — ওসি বাবলু

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নে পুলিশের উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা করে সালথা থানা পুলিশ।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান। মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন সালথা থানার এএসআই শাহবুদ্দীন খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালথা থানার ওসি বলেন—
“সালথা থেকে মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। কোনো দলের আতি নেতা বা পাতি নেতা যদি চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকে, তাহলে বিন্দু পরিমাণ কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এসব অন্যায়ের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তাদেরকে সালথার বুকে থাকতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

কৃষি ও সামাজিক শান্তি প্রসঙ্গে ওসি মো. বাবলুর রহমান খান বলেন— “সালথা উপজেলা কৃষিতে ভরপুর একটি এলাকা। আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ কৃষিজমি। কাইজ্যা-মারামারি বাদ দিয়ে সবাই যদি কৃষি কাজে মন দেয়, তাহলে আগামী পাঁচ বছরে সালথা উপজেলা ‘সোনার সালথা’ হিসেবে গড়ে উঠবে।”

তিনি আরও বলেন—“আপনাদের সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমরা একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সালথা গড়তে চাই। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর রহমান, প্রচার সম্পাদক নাসির মাতুব্বর, সালথা উপজেলা যুবদল নেতা হাসান আশরাফ, সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, সালথা উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, আটঘর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রবিউল মাতুব্বর, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মিঠু, যুবদল নেতা আমিনুল ইসলাম বিশু, মুরাদুর রহমান, শাফিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান খান, শিমুল মিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আটঘর ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা শওকত ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন আটঘর ইউনিয়নের সভাপতি কারী ওবায়দুল ইসলাম, বিএনপি নেতা ভুট্টো মাতুব্বর, মাজেদ মাতুব্বর, ফিরোজ মাতুব্বর, সালথা উপজেলা গণধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ত্বক ও চুল সুস্থ রাখতে নিমপাতার জাদুকরী ভূমিকা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩২ এএম
ত্বক ও চুল সুস্থ রাখতে নিমপাতার জাদুকরী ভূমিকা

আমরা সবাই জানি, নিম একটি ওষুধি গাছ। যার ডাল, পাতা, রস সবই কাজে লাগে। নিম ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া নাশক হিসেবে খুবই কার্যকর। আর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এর জুড়ি মেলা ভার।

নিমের উপকারিতাগুলো:

ত্বক: বহুদিন ধরে রূপচর্চায় নিমের ব্যবহার হয়ে আসছে। ত্বকের দাগ দূর করতে নিম খুব ভালো কাজ করে। এছাড়াও এটি ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে। ব্রণ দূর করতে নিমপাতা বেটে লাগাতে পারেন।

মাথার ত্বকে অনেকেরই চুলকানি ভাব হয়। নিমপাতার রস মাথায় নিয়মিত লাগালে এ চুলকানি কমে। নিয়মিত নিমপাতার সঙ্গে কাঁচা হলুদ পেস্ট করে লাগালে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি ও স্কিন টোন ঠিক হয়।

চুল: উজ্জ্বল, সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন চুল পেতে নিমপাতার ব্যবহার বেশ কার্যকর।

চুলের খুশকি দূর করতে শ্যাম্পু করার সময় নিমপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে চুল ম্যাসেজ করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। খুশকি দূর হয়ে যাবে। চুলের জন্য নিমপাতার ব্যবহার অদ্বিতীয়। সপ্তাহে ১ দিন নিমপাতা ভালো করে বেটে চুলে লাগিয়ে ১ ঘণ্টার মতো রাখুন। এবার ১ ঘণ্টা পর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

দেখবেন চুল পড়া কমার সঙ্গে সঙ্গে চুল নরম ও কোমল হবে।

কৃমিনাশক: পেটে কৃমি হলে শিশুরা রোগা হয়ে যায়। পেট বড় হয়। চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। বাচ্চাদের পেটের কৃমি নির্মূল করতে নিমপাতার জুড়ি নেই।

দাঁতের রোগ: দাঁতের সুস্থতায় নিমের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করার প্রচলন রয়েছে, সেই প্রাচীনকাল থেকেই। নিমের পাতা ও ছালের গুড়া কিংবা নিমের ডাল দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে দাঁত হবে মজবুত, রক্ষা পাবেন দাঁতের রোগ থেকেও।

চিকিৎসক দেখিয়ে বেরোনোর পর এই ভুলটা কি আপনিও করেন?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৮ এএম
চিকিৎসক দেখিয়ে বেরোনোর পর এই ভুলটা কি আপনিও করেন?

শরীর ভালো থাকলে আমরা সবাই যেন একটু বেশিই সাহসী হই। হালকা জ্বর, কাশি, পেটের গোলমাল—এসবকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজে নিজেই সামলে নেওয়ার চেষ্টা করি। অনেকের কাছেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া মানে অযথা সময় নষ্ট, লম্বা সিরিয়াল, আর সঙ্গে হাজার একটা পরীক্ষা ও ওষুধের ঝামেলা। এই ভয়েই অনেক সময় ডাক্তারখানা এড়িয়ে চলেন অনেকে।

কিন্তু সমস্যা যখন গুরুতর হয়ে ওঠে, তখন আর উপায় থাকে না—চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতেই হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক যখন প্রেসক্রিপশন দেন, তখন আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। মনে হয়, এবার বুঝি সব ঠিক হয়ে যাবে। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়েই আমরা এমন কিছু ভুল করি, যেগুলোর কারণে রোগ সারার বদলে আরও জটিল হয়ে ওঠে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর কোন কোন ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে বসেন মানুষ—

১. ওষুধ কেনার সময় পুরো ডোজ না নেওয়া

সবচেয়ে বড় ভুলটি করেন অনেকেই ওষুধ কেনার সময়। চিকিৎসক যদি ৩০ দিনের জন্য ওষুধ খেতে বলেন, তাহলে অনেকেই ১৫ দিনের ওষুধ কিনেই বাড়ি ফেরেন। ভাবেন, ‘দেখি আগে কেমন কাজ করে’। কিন্তু এতে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় এবং রোগ পুরোপুরি সারে না।

২. নিজের মতো করে ওষুধ বা চিকিৎসা চালানো

অনেকেরই নিজের মতো করে চিকিৎসা করার প্রবণতা রয়েছে। চিকিৎসক যে ওষুধ বা পরীক্ষা পরামর্শ দিয়েছেন, তার বদলে আগের কোনো ওষুধ খাওয়া বা পরিচিত কারও পরামর্শে ওষুধ বদলে ফেলা—এসব অভ্যাস বিপদ ডেকে আনে। এতে রোগের জটিলতা আরও বেড়ে যেতে পারে।

৩. ওষুধ ঠিক সময়ে না খাওয়া

চিকিৎসকের দেওয়া সময় মেনে ওষুধ না খাওয়াও একটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর ভুল। অনেকেই সময়ের ওষুধ সময়মতো খান না, কখনো ভুলে যান, কখনো আলসেমি করেন। অথচ নিয়ম না মেনে ওষুধ খেলে শারীরিক সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

৪. একটু ভালো লাগলেই ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া

পুরো ডোজ শেষ না করাটা একধরনের খারাপ অভ্যাস। অনেকেই সামান্য শরীর ভালো লাগলেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ডোজ সম্পূর্ণ শেষ না হলে রোগ পুরোপুরি সারে না এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই দ্রুত সুস্থ হওয়ার একমাত্র পথ। সামান্য অবহেলা বা নিজের মতো সিদ্ধান্তই বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

অজান্তেই বিপদ! ফুসফুস ক্যানসারের যে ৬ উপসর্গ অনেকেই গুরুত্ব দেন না?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৮ এএম
অজান্তেই বিপদ! ফুসফুস ক্যানসারের যে ৬ উপসর্গ অনেকেই গুরুত্ব দেন না?

ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, ধূমপান বা দূষিত পরিবেশ— এসবের ভিড়ে নিজের শরীরের ছোটখাটো সমস্যাকে আমরা প্রায়ই গুরুত্ব দিই না।

একটু কাশি, সামান্য শ্বাসকষ্ট কিংবা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া—এসবকে অনেক সময়ই সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ এই অবহেলাই একসময় ডেকে আনতে পারে ভয়ংকর বিপদ।

প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় বিশ্ব ক্যানসার দিবস। ক্যানসারের মতো মারণরোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেই এই দিবসের আয়োজন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে আজ ক্যানসার মানেই মৃত্যু নয়, তবে শর্ত একটাই, সময়মতো রোগ ধরা পড়তে হবে।

সারা বিশ্বে যেসব ক্যানসারে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি, তার শীর্ষে রয়েছে ফুসফুস ক্যানসার। আমাদের দেশে ধূমপান, তামাক সেবন, বায়ুদূষণ ও কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকির কারণে এই ক্যানসারের আশঙ্কা আরও বেশি। অথচ ফুসফুস ক্যানসারের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ আগে থেকেই চেনা গেলে এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে এই ভয়ংকর রোগ থেকেও সেরে ওঠা সম্ভব।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, ফুসফুস ক্যানসারের এমন ৬টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ, যেগুলো অনেকেই অবহেলা করে থাকেন—

১. দীর্ঘদিনের তীব্র কাশি

প্রচণ্ড ও লাগাতার কাশি ফুসফুস ক্যানসারের একটি প্রাথমিক লক্ষণ। দিনের পর দিন কাশি চলতে থাকলে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়ে গেলে বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। প্রায়ই কাশি হওয়া হলে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

২. কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া

কাশির সময় কফের সঙ্গে লালচে রক্ত বেরিয়ে আসা ফুসফুস ক্যানসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। ফুসফুসের ভেতরে ক্যানসার কোষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমনটা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

৩. শ্বাসকষ্ট

ফুসফুসে ক্যানসার কোষ যত বাড়তে থাকে, ততই শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। অল্প কাজেই হাঁপিয়ে যাওয়া, বুক ভরে শ্বাস নিতে না পারা, এগুলো ফুসফুস ক্যানসারের বড় লক্ষণের মধ্যে পড়ে। চিকিৎসকেরা এই উপসর্গে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলেন।

৪. বুকে ব্যথা

ফুসফুস ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর আরেকটি হলো বুকে ব্যথা। কাশির সময় ব্যথা হওয়া ছাড়াও, অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই বুকে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো জরুরি।

৫. খিদে কমে যাওয়া

হঠাৎ করে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া বা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম খাওয়া ক্যানসারের একটি সাধারণ লক্ষণ। নিয়মিত খাবার খেতে না চাওয়া বা রোজকার খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন ভালো লক্ষণ নয়। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

৬. অকারণে ওজন কমে যাওয়া

ওজন কমে যাওয়া প্রায় সব ধরনের ক্যানসারেরই একটি সাধারণ লক্ষণ। কোনো ডায়েট বা বাড়তি পরিশ্রম ছাড়াই যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তাহলে সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের এসব সংকেতকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সচেতনতা আর সময়মতো চিকিৎসাই পারে ফুসফুস ক্যানসারের মতো ভয়ংকর রোগের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে।

সূত্র হিন্দুস্তান টাইমস