ফরিদপুরে টানা তিনদিন সূর্যের দেখা নেই, কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত
ফরিদপুরে টানা তিনদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশা, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও শীতল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে পুরো জেলা। এতে সড়ক, নৌ ও রেলপথে চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি, কমছে গতি। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও ছিন্নমূলরা।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সূর্যের আলো না থাকায় সড়কে যানবাহনের হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কুয়াশার কারণে দূরত্ব দেখা যাচ্ছে না ৫০ থেকে ১০০ মিটারের বেশি। এতে করে ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নদীপথেও একই অবস্থা—কুয়াশার কারণে ফেরি ও নৌযান চলাচল ধীরগতিতে হচ্ছে।
ফরিদপুর আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে ফরিদপুরেও তাপমাত্রা কমে গেছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্যের আলো ভেদ করে নামতে পারছে না।
ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’কে জানান, “ফরিদপুরে মঙ্গলবার ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল যেটি ছিল ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’
তিনি বলেন, “উত্তর দিক থেকে আসা শীতল বাতাস এবং আকাশে মেঘ থাকার কারণে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়েছে। এ কারণে টানা কয়েকদিন সূর্যের দেখা মিলছে না। আগামী এক থেকে দুইদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এরপর আকাশ আংশিক পরিষ্কার হলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
এদিকে শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। ভোরে কাজে বের হওয়া শ্রমজীবীরা শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী ও বয়স্ক মানুষ ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীতের এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যানবাহন চালকদের সাবধানে চলাচল এবং শীতজনিত রোগ থেকে বাঁচতে গরম পোশাক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আপনার মতামত লিখুন
Array