খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

বারবার দল বদল, বয়স সীমা: ফরিদপুর-১ আসনে শাহ জাফরের চ্যালেঞ্জ

পান্না বালা, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৫৩ পিএম
বারবার দল বদল, বয়স সীমা: ফরিদপুর-১ আসনে শাহ জাফরের চ্যালেঞ্জ

ফরিদপুর-১ আসনে (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) ১১ বারের মত সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর (৮০)। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মোট ১০টি নির্বাচনে অংশ নেওয়া শাহ জাফর চারবার বিজয়ী হয়েছেন এবং ছয়বার পরাজিত হয়েছেন। এবার তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নতুন জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

শাহ জাফরের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ১৯৭৯ সালে, যখন তিনি আওয়ামী লীগ (মালেক) দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬ সালে বাকশাল, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি, এবং সর্বশেষ ২০০৫ সালের উপ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। তবে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এভাবে ছয়টি পার্টি ও জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া শাহ জাফরের বারবার দল পরিবর্তন রাজনৈতিক সমালোচনার মূল বিষয়।

শাহ জাফর ১৯৪৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বোয়ালমারী উপজেলার হাসামদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং সরাসরি যুদ্ধেও অংশ নেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন। এই মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতির পটভূমি তাকে বরাবরই নির্বাচনী মাঠে সমর্থন দিয়েছে, তবে বর্তমান বয়স এবং শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার ক্ষমতার উপর প্রশ্ন তোলে।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, “শাহ জাফরের বয়স, বারবার দল পরিবর্তন ও জনপ্রিয়তার অবনতি তাকে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে বাধা দিয়েছে। মানুষের কাছে নীতি ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ, যা তার ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। কর্মী বাহিনী ধরে রাখতে হলে নেতাকে ধারাবাহিক ও আদর্শবান হতে হবে।”

অন্যদিকে, জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের আমির নিয়ামুল হাসান বলেন, “শাহ জাফর একজন পুরনো রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে এবার নির্বাচনে তার পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ সম্ভব নয়। আমরা তার দোয়া ও সমর্থন চাই।”

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে শাহ জাফর বলেন, “আমি বারবার দল বদল করেছি, তবে এতে জনগণের কোনো ক্ষতি হয়নি। কেউ বলতে পারবে না যে আমি কারও ক্ষতি করেছি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোনো পক্ষ আমাকে ভয় দেখাতে পারবে না। আমি জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করবো।”

এই আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে সাতজন স্বতন্ত্র এবং আটজন বিভিন্ন দল ও জোটের প্রার্থী। দলের প্রার্থীরা হলেন মোহাম্মদ খালিদ বিন নাসের (বাংলাদেশ কংগ্রেস), মো সারাফাত হোসাইন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), মো. সুলতান আহমেদ (জাতীয় পার্টি), মৃন্ময় কান্তি দাস (বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি), হাসিবুর রহমান (জাতীয় নাগরিক পার্টি), শামসুদ্দিন মিয়া (বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী)।
স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, শেখ আব্দুর রহমান, মো আবুল বাশার খান, মো. গোলাম কবির মিয়া, মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমদ ও লায়লা আরজুমান বানু।

শাহ জাফরের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, বারবার দল পরিবর্তন, বয়সের সীমা এবং জনপ্রিয়তার অবনতি এই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা আগামী নির্বাচনে নজরদারির বিষয় হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা ও মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা থাকলেও নতুন প্রজন্মের প্রার্থী ও স্থায়ী নীতি-আদর্শের অভাব তাকে নির্বাচনী শক্তিতে সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।

ফরিদপুরে ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল চার বছরের শিশু মায়েসার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৬ পিএম
ফরিদপুরে ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল চার বছরের শিশু মায়েসার

ফরিদপুর শহরের শ্যামসুন্দরপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মায়েসা (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামসুন্দরপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মায়েসা ওই এলাকার বাসিন্দা মাহফুজের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির সামনে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলা করছিল মায়েসা। একপর্যায়ে খেলার ছলে দৌড়ে বাড়ির সামনে পাকা সড়কে উঠে পড়ে সে। ঠিক তখনই দ্রুতগতিতে আসা একটি অজ্ঞাতনামা ইঞ্জিনচালিত ভ্যান তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে শিশুটি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও এলাকাজুড়ে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা জানান, মায়েসা ছিল খুবই চঞ্চল ও সবার আদরের। তার এমন অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। পরে হাসপাতাল থেকে শিশুটির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ভ্যানটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘাতক যানবাহনটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।