খুঁজুন
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

বারবার দল বদল, বয়স সীমা: ফরিদপুর-১ আসনে শাহ জাফরের চ্যালেঞ্জ

পান্না বালা, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
বারবার দল বদল, বয়স সীমা: ফরিদপুর-১ আসনে শাহ জাফরের চ্যালেঞ্জ

ফরিদপুর-১ আসনে (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) ১১ বারের মত সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর (৮০)। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মোট ১০টি নির্বাচনে অংশ নেওয়া শাহ জাফর চারবার বিজয়ী হয়েছেন এবং ছয়বার পরাজিত হয়েছেন। এবার তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নতুন জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

শাহ জাফরের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ১৯৭৯ সালে, যখন তিনি আওয়ামী লীগ (মালেক) দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬ সালে বাকশাল, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি, এবং সর্বশেষ ২০০৫ সালের উপ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। তবে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এভাবে ছয়টি পার্টি ও জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া শাহ জাফরের বারবার দল পরিবর্তন রাজনৈতিক সমালোচনার মূল বিষয়।

শাহ জাফর ১৯৪৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বোয়ালমারী উপজেলার হাসামদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং সরাসরি যুদ্ধেও অংশ নেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন। এই মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতির পটভূমি তাকে বরাবরই নির্বাচনী মাঠে সমর্থন দিয়েছে, তবে বর্তমান বয়স এবং শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার ক্ষমতার উপর প্রশ্ন তোলে।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, “শাহ জাফরের বয়স, বারবার দল পরিবর্তন ও জনপ্রিয়তার অবনতি তাকে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে বাধা দিয়েছে। মানুষের কাছে নীতি ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ, যা তার ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। কর্মী বাহিনী ধরে রাখতে হলে নেতাকে ধারাবাহিক ও আদর্শবান হতে হবে।”

অন্যদিকে, জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের আমির নিয়ামুল হাসান বলেন, “শাহ জাফর একজন পুরনো রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে এবার নির্বাচনে তার পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ সম্ভব নয়। আমরা তার দোয়া ও সমর্থন চাই।”

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে শাহ জাফর বলেন, “আমি বারবার দল বদল করেছি, তবে এতে জনগণের কোনো ক্ষতি হয়নি। কেউ বলতে পারবে না যে আমি কারও ক্ষতি করেছি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোনো পক্ষ আমাকে ভয় দেখাতে পারবে না। আমি জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করবো।”

এই আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে সাতজন স্বতন্ত্র এবং আটজন বিভিন্ন দল ও জোটের প্রার্থী। দলের প্রার্থীরা হলেন মোহাম্মদ খালিদ বিন নাসের (বাংলাদেশ কংগ্রেস), মো সারাফাত হোসাইন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), মো. সুলতান আহমেদ (জাতীয় পার্টি), মৃন্ময় কান্তি দাস (বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি), হাসিবুর রহমান (জাতীয় নাগরিক পার্টি), শামসুদ্দিন মিয়া (বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী)।
স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, শেখ আব্দুর রহমান, মো আবুল বাশার খান, মো. গোলাম কবির মিয়া, মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমদ ও লায়লা আরজুমান বানু।

শাহ জাফরের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, বারবার দল পরিবর্তন, বয়সের সীমা এবং জনপ্রিয়তার অবনতি এই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা আগামী নির্বাচনে নজরদারির বিষয় হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা ও মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা থাকলেও নতুন প্রজন্মের প্রার্থী ও স্থায়ী নীতি-আদর্শের অভাব তাকে নির্বাচনী শক্তিতে সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে।

ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ২৩ বছরের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন- উপজেলার বুরাইচ ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের মো. লিটন মোল্লা (৩৩), একই ইউনিয়নের কটুরাকান্দি গ্রামের সবুজ মোল্লা (২৩) ও টাবনী গ্রামের আলী শরীফ (২০)।

ভুক্তভোগী নারীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণীর সঙ্গে মো. লিটন মোল্লার গত দুই মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে লিটন মোল্লা বিয়ের প্রলোভনে ওই তরুণীকে সবুজ মোল্লার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে লিটন, সবুজ ও আলী শরীফ ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করেন।

এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালিত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে ওই তরুণী বাদী হয়ে ওই তিন ব্যক্তিকে আসামি মামলা দায়ের করেন। পরে বিকেলের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ‘

ওসি আরও বলেন, গ্রেফতার হওয়া তিন আসামিকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।

“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

শরিফুল ইসলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

একসময় গ্রামবাংলার সন্ধ্যা ছিলো অন্যরকম এক পরিবেশ। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার নেমে এলে মানুষ একে একে জড়ো হতো কারও বাড়ির উঠোনে। শুরু হতো গানের আসর – কখনও ভাটিয়ালি, কখনও পালাগান, আবার কখনও মুর্শিদী গানে। আপন মুর্শিদের প্রতি আবেগে ঝড়তো চোখের জল।

সেই আসর ছিল না শুধু বিনোদনের জায়গা, বরং ছিল ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সংযোগস্থল। দিনভর ক্লান্তি, দুঃখ-কষ্ট, অভিমান – সব কিছু মিলিয়ে যেত একসাথে বসার আনন্দে।

আজ প্রযুক্তির যুগে আমরা অনেক এগিয়েছি, কিন্তু সেই উঠোনভরা সম্প্রীতি যেন হারিয়ে গেছে। বিদ্যুতের আলো আমাদের ঘর আলোকিত করেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের মন যান্ত্রিক ও স্বার্থের আখরা বানিয়েছে । এখন প্রত্যেকে নিজ নিজ মোবাইল বা টেলিভিশনের পর্দায় ডুবে থাকে; পাশের মানুষের সাথে কথা বলার সময়ও যেন কমে গেছে।

গ্রামের সেই সন্ধ্যার গান আমাদের শিখিয়েছে – সম্পর্ক গড়তে বড় আয়োজন লাগে না, দরকার শুধু আন্তরিকতা আর একসাথে থাকার ইচ্ছা। সমাজে ভেদাভেদ, হিংসা, দূরত্ব কমাতে আবারও দরকার এমন ছোট ছোট উদ্যোগ।

হয়তো আমরা পুরোপুরি সেই দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে পারব না, কিন্তু চেষ্টা করলে অন্তত মানুষের মাঝে হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্ববোধকে জাগিয়ে তুলতে পারি।

লেখক: সাংবাদিক, ফরিদপুর

‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ দেশের সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) থেকে ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। কোর্সটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি ‘ফেলো অব দ্য ক্যাপস্টোন কোর্স’ হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন, যা দেশের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।

রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গত ৫ এপ্রিল শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সমাপ্ত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা কোর্সটির গুরুত্ব ও মর্যাদাকে আরও স্পষ্ট করে।

এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল এমডি ফয়জুর রহমান স্বাক্ষরিত সনদপত্রে উল্লেখ করা হয়, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নায়াব ইউসুফ জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত নেতৃত্ব, নীতি প্রণয়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিরাই বেশি থাকেন, ফলে এখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাস্তব নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ক্যাপস্টোন কোর্সটি মূলত দেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

এতে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সংকট ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

কোর্স চলাকালে বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা, গ্রুপ আলোচনা, কেস স্টাডি এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ পান। এছাড়া নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নায়াব ইউসুফ এই প্রশিক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার নেতৃত্বগুণ, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং নীতি নির্ধারণের সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ করেছেন। সহপাঠী ও প্রশিক্ষকদের মূল্যায়নেও তিনি একজন মনোযোগী ও দক্ষ অংশগ্রহণকারী হিসেবে প্রশংসিত হন।

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নায়াব ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার এই নতুন অর্জন ভবিষ্যতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।