খুঁজুন
, ,

বারবার দল বদল, বয়স সীমা: ফরিদপুর-১ আসনে শাহ জাফরের চ্যালেঞ্জ

পান্না বালা, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
বারবার দল বদল, বয়স সীমা: ফরিদপুর-১ আসনে শাহ জাফরের চ্যালেঞ্জ

ফরিদপুর-১ আসনে (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) ১১ বারের মত সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর (৮০)। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মোট ১০টি নির্বাচনে অংশ নেওয়া শাহ জাফর চারবার বিজয়ী হয়েছেন এবং ছয়বার পরাজিত হয়েছেন। এবার তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নতুন জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

শাহ জাফরের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ১৯৭৯ সালে, যখন তিনি আওয়ামী লীগ (মালেক) দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬ সালে বাকশাল, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি, এবং সর্বশেষ ২০০৫ সালের উপ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। তবে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এভাবে ছয়টি পার্টি ও জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া শাহ জাফরের বারবার দল পরিবর্তন রাজনৈতিক সমালোচনার মূল বিষয়।

শাহ জাফর ১৯৪৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বোয়ালমারী উপজেলার হাসামদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং সরাসরি যুদ্ধেও অংশ নেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন। এই মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতির পটভূমি তাকে বরাবরই নির্বাচনী মাঠে সমর্থন দিয়েছে, তবে বর্তমান বয়স এবং শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার ক্ষমতার উপর প্রশ্ন তোলে।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, “শাহ জাফরের বয়স, বারবার দল পরিবর্তন ও জনপ্রিয়তার অবনতি তাকে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে বাধা দিয়েছে। মানুষের কাছে নীতি ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ, যা তার ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। কর্মী বাহিনী ধরে রাখতে হলে নেতাকে ধারাবাহিক ও আদর্শবান হতে হবে।”

অন্যদিকে, জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের আমির নিয়ামুল হাসান বলেন, “শাহ জাফর একজন পুরনো রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে এবার নির্বাচনে তার পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ সম্ভব নয়। আমরা তার দোয়া ও সমর্থন চাই।”

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে শাহ জাফর বলেন, “আমি বারবার দল বদল করেছি, তবে এতে জনগণের কোনো ক্ষতি হয়নি। কেউ বলতে পারবে না যে আমি কারও ক্ষতি করেছি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোনো পক্ষ আমাকে ভয় দেখাতে পারবে না। আমি জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করবো।”

এই আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে সাতজন স্বতন্ত্র এবং আটজন বিভিন্ন দল ও জোটের প্রার্থী। দলের প্রার্থীরা হলেন মোহাম্মদ খালিদ বিন নাসের (বাংলাদেশ কংগ্রেস), মো সারাফাত হোসাইন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), মো. সুলতান আহমেদ (জাতীয় পার্টি), মৃন্ময় কান্তি দাস (বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি), হাসিবুর রহমান (জাতীয় নাগরিক পার্টি), শামসুদ্দিন মিয়া (বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী)।
স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, শেখ আব্দুর রহমান, মো আবুল বাশার খান, মো. গোলাম কবির মিয়া, মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমদ ও লায়লা আরজুমান বানু।

শাহ জাফরের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, বারবার দল পরিবর্তন, বয়সের সীমা এবং জনপ্রিয়তার অবনতি এই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা আগামী নির্বাচনে নজরদারির বিষয় হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা ও মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা থাকলেও নতুন প্রজন্মের প্রার্থী ও স্থায়ী নীতি-আদর্শের অভাব তাকে নির্বাচনী শক্তিতে সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে।

ফরিদপুরে চীনা যুবকের সঙ্গে কলেজছাত্রীর বিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চীনা যুবকের সঙ্গে কলেজছাত্রীর বিয়ে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম। এরপর পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে। চীনা নাগরিক বলে দাবি করা এক যুবককে বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার এক কলেজছাত্রী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নবদম্পতিকে একনজর দেখতে তাঁদের বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। এ নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে কৌতূহল ও চাঞ্চল্য। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি গ্রামে।

তবে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে নবদম্পতিকে পাওয়া যায়নি। তাঁরা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই যুবকের নাম ওয়াং চাও (২৫)। তিনি চীনের নাগরিক বলে দাবি করা হচ্ছে। বিয়ের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছে আরিফ ইসলাম। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২০) ফরিদপুর শহরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি সালথার নকুলহাটি গ্রামে।

তাহমিনার পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াং চাওয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি। তবে তাহমিনা নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় পরে পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়। এরপর গত ১৯ অক্টোবর ঢাকায় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আগে হলফনামার মাধ্যমে ধর্ম ও নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন ওই যুবক। পরে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের পর গত ২৬ অক্টোবর রাতে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি নকুলহাটি গ্রামে আসেন ওয়াং চাও। বিদেশি যুবকের সঙ্গে স্থানীয় কলেজছাত্রীর বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে দেখতে বাড়িতে ভিড় জমাতে থাকেন স্থানীয় লোকজন। এ নিয়ে গ্রামজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়। তবে শনিবার বিকেলে তাঁদের আর বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

তাহমিনার পরিবারের সদস্যরা জানান, ওয়াং চাও সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাঁদের জানা নেই। বর্তমানে তাহমিনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তাঁরা দুজনই চীনে চলে যাবেন।

এ বিষয়ে আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিষয়টি আজই লোকমুখে জানতে পেরেছি। আমি ওই বাড়িতে যাচ্ছি। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।

গণরায় নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: জামায়াত আমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
গণরায় নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: জামায়াত আমীর

জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের ৭ দফা দাবিতে আয়োজিত পথসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “গণরায় নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে চরম প্রতারণা করেছে। জনগণের সেই রায় ও অধিকার বাস্তবায়নের জন্যই আজ আমরা রাজপথে নেমেছি।”

​তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের চূড়ান্ত মুক্তির জন্য মাঠে নেমেছি। বর্তমানে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। আমরা একটি বৈষম্যহীন ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ লড়াই মূলত আমাদের অধিকার ও মুক্তির লড়াই।”

​শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে লংমার্চের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​এর আগে সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটক থেকে সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ে ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে এই রোডমার্চ কর্মসূচির সূচনা হয়।

​সংক্ষিপ্ত সভা শেষে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চটি ঢাকা থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এবং মাদারীপুর-শরীয়তপুর সীমানা অতিক্রম করে ভাঙ্গায় এসে পৌঁছায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে গাড়িবহরটি খুলনা বিভাগের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

​লংমার্চের আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী এ কর্মসূচির যাত্রাপথে মাওয়ার নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরী চত্বর ও স্বাধীনতা চত্বরে ধারাবাহিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে লংমার্চের বহরটি যশোরের মুড়লি মোড় এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত পথসভায় মিলিত হবে।

​লংমার্চের শেষ পর্যায়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এক বিশাল সমাপনী মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে এই দূরপাল্লার কর্মসূচি শেষ হবে।

​এদিকে লংমার্চকে কেন্দ্র করে যাত্রাপথে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর শহরের সিংপাড়া নিবাসী কৌশিক সাহা জিতু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ফরিদপুর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর শাখা।

​ফরিদপুর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তাপস কুমার সাহার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, সহ-সভাপতি ননী গোপাল বিশ্বাস ও সুকেশ কুমার সাহা, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তুষার কুমার দত্ত, সদর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সিতাংশু মিত্র কিংকর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চিরঞ্জীব রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ সরকার স্বাধীন এবং চন্দ্রা দেবনাথ।

​এ সময় পৌর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রাম দত্ত, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্যসচিব সুব্রত রবিদাসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৌশিক সাহা জিতুর অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো ফরিদপুরজুড়ে তীব্র শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​বক্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।