খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

আজ পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের জন্মদিন : গ্রামবাংলার প্রাণের কবিকে শ্রদ্ধা

মাহমুদুল হাসান আরিফ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আজ পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের জন্মদিন : গ্রামবাংলার প্রাণের কবিকে শ্রদ্ধা

আজ ১ জানুয়ারি—পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের জন্মদিন। বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য উচ্চতার এই কবি ১৯০৩ সালের এই দিনে ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে তাঁর মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। পল্লিজীবন, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বাংলার লোকজ অনুভূতিকে যিনি কবিতার ভাষায় অমর করে রেখেছেন, সেই মহান কবিকে জন্মদিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সাহিত্যপ্রেমী মানুষ।

কবি জসীমউদ্দীনের পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা জসীমউদ্দীনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে ফরিদপুরের গ্রামীণ জনপদের মাঝে। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি, নদী, মাঠ-ঘাট ও মানুষের জীবনসংগ্রাম তাঁর মননে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যা পরবর্তীকালে তাঁর সাহিত্যের প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে।

শিক্ষাজীবনে তিনি ফরিদপুর হিতৈষী স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আইএ ও বিএ ডিগ্রি অর্জনের পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবনেই তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং সাহিত্যচর্চায় তিনি নিজেকে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করেন।

জসীমউদ্দীনের সাহিত্যজীবনের সূচনা হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। গ্রামবাংলার গান, পালা, কাহিনি ও লোকজ উপাদান সংগ্রহের মাধ্যমে তিনি বাংলার হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে লিখিত রূপ দেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং পরে সরকারি প্রচার বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। তবে প্রশাসনিক বা শিক্ষাগত দায়িত্বের বাইরেও তাঁর মূল পরিচয় ছিল—তিনি ছিলেন পল্লিজীবনের কবি।

পল্লিজীবন ও প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে রচিত তাঁর কবিতাগুলো বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ধারার সূচনা করে। তাঁর লেখায় গ্রামবাংলার সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, হাসি-কান্না ও মানবিক বেদনা অত্যন্ত সহজ ও আবেগঘন ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে। ‘কবর’ কবিতার মাধ্যমে তিনি সাহিত্যে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। এছাড়া ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’, ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’, ‘বেদের মেয়ে’, ‘ধানখেত’সহ অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্যকর্ম তাঁকে অমর করে রেখেছে।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদকসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হন। তাঁর সাহিত্য শুধু শিল্পগুণেই সমৃদ্ধ নয়, বরং তা বাঙালির শেকড়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।

১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ ঢাকায় পল্লী কবি জসীমউদ্দীন ইন্তেকাল করেন। তবে তাঁর মৃত্যুতে সাহিত্যজগত শূন্য হলেও তাঁর সৃষ্টি আজও বাঙালির হৃদয়ে অম্লান। জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করা মানে গ্রামবাংলার আত্মাকে, মানুষের সহজ-সরল জীবনবোধকে এবং বাংলা সাহিত্যের এক অনির্বাণ ধারাকে নতুন করে অনুভব করা।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।