খুঁজুন
, ,

ভোরের আলোয় সবুজ গ্রামবাংলা, আশা আর জীবনের প্রতিচ্ছবি

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
ভোরের আলোয় সবুজ গ্রামবাংলা, আশা আর জীবনের প্রতিচ্ছবি

ভোর মানেই নতুন আশা, নতুন আলো। দিনের প্রথম প্রহরে প্রকৃতি যখন ধীরে ধীরে জেগে ওঠে, তখন গ্রামবাংলা যেন নিজের সবচেয়ে সুন্দর রূপে ধরা দেয়। ছবিতে ধরা পড়া এই ভোরের দৃশ্যটি ঠিক তেমনই—সবুজ ফসলের মাঠের বুক চিরে উঠে আসা সোনালি সূর্য, দূরের গাছপালার আবছা রেখা আর কুয়াশা মাখা নীরবতা।

রাতের অন্ধকার পেরিয়ে সূর্য যখন পূর্ব আকাশে উঁকি দেয়, তখন চারপাশের রঙ বদলে যেতে শুরু করে। আকাশের কমলা আর হলুদ আভা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে মাঠজুড়ে। সবুজ জমির ওপর সূর্যের আলো পড়ে সৃষ্টি করে এক অনন্য দৃশ্য—যা শুধু চোখে দেখার নয়, অনুভব করারও।

এই ভোরের মাঠ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি নয়, এটি গ্রামবাংলার জীবনের প্রতীক। এখান থেকেই শুরু হয় কৃষকের দিনের কাজ। ভোরের আলো ফোটার আগেই মাঠে নামেন অনেক কৃষক। কেউ জমিতে পানি দেখছেন, কেউ ফসলের অবস্থা যাচাই করছেন, আবার কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছেন নতুন দিনের পরিশ্রমের জন্য।

গ্রামের ভোর মানেই আলাদা এক শব্দের জগৎ। দূরে আজানের ধ্বনি, পাখির ডাক, গরুর ঘণ্টা, কোথাও কোথাও লাঙলের শব্দ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক শান্ত অথচ জীবন্ত পরিবেশ। ছবির নীরবতার ভেতরেও যেন লুকিয়ে আছে সেই চিরচেনা শব্দগুলো।

এই সবুজ মাঠ বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির বাস্তব চিত্র। দেশের একটি বড় অংশের মানুষের জীবিকা জড়িয়ে আছে এই মাঠের সঙ্গে। ধান, সরিষা, গম কিংবা সবজি—মাঠের বুকেই জন্ম নেয় মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি। ভোরের আলোয় এই মাঠ তাই শুধু সৌন্দর্য নয়, এটি পরিশ্রম, ধৈর্য আর জীবনের গল্প।

প্রতিটি ভোর যেন নতুন করে আশার বার্তা নিয়ে আসে। কৃষকের কাছে ভোর মানে নতুন সম্ভাবনা—আজ হয়তো ফসল ভালো হবে, আজ হয়তো শ্রমের ফল মিলবে। শহরের ব্যস্ত জীবনে এই ভোর অনেক সময় অদৃশ্য থেকে যায়, কিন্তু গ্রামে ভোরই দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

এই ছবিতে দেখা সরু পথটি যেন সময়ের সাক্ষী। দিনের পর দিন এই পথ ধরে কৃষক হেঁটেছেন মাঠে, কাঁধে কোদাল বা লাঙল নিয়ে। বর্ষা, শীত কিংবা গ্রীষ্ম—সব ঋতুতেই এই পথ সাক্ষী থেকেছে গ্রামীণ জীবনের গল্পে।

ভোরের সূর্য শুধু আলো দেয় না, উষ্ণতাও ছড়িয়ে দেয়। শীতের সকালে এই সূর্যের আলো শরীরে লাগে স্বস্তি হয়ে। কুয়াশা ধীরে ধীরে সরে যায়, স্পষ্ট হতে থাকে চারপাশ। প্রকৃতির এই পরিবর্তনের মুহূর্তগুলো গ্রামবাংলায় খুব স্বাভাবিক, অথচ অসাধারণ।

বর্তমান সময়ে যখন নগরজীবনের কংক্রিট আর প্রযুক্তির ভিড়ে প্রকৃতি অনেকটাই আড়ালে, তখন এমন ভোরের দৃশ্য আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। মনে করিয়ে দেয়—এই দেশ, এই মানুষ, এই জীবন কতটা প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।

অনলাইন দুনিয়ায় চোখ বুলালে প্রতিদিনই অসংখ্য খবর আসে—রাজনীতি, অপরাধ, সংকট আর সংঘাতের সংবাদ। তার ভিড়ে এমন একটি ভোরের ছবি আর গল্প পাঠকের মনে এনে দিতে পারে প্রশান্তি। এটি মনে করিয়ে দেয় জীবনের সহজ সৌন্দর্যের কথা।

এই ভোর শুধু একটি দিনের শুরু নয়, এটি আশা আর টিকে থাকার গল্প। সবুজ মাঠের মতোই গ্রামবাংলার মানুষও বারবার ঘুরে দাঁড়ায়। প্রতিটি সূর্যোদয় যেন বলে যায়—আবার শুরু করা যায়, আবার সামনে এগোনো যায়।

সবুজের বুকে জেগে ওঠা এই সূর্য তাই কেবল প্রকৃতির দৃশ্য নয়, এটি বাংলাদেশের হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি। ভোরের আলোয় ভিজে থাকা এই মাঠ আমাদের শেখায়—সহজ জীবনে, নীরবতায় আর পরিশ্রমে লুকিয়ে আছে প্রকৃত সৌন্দর্য।

ফরিদপুরে চীনা যুবকের সঙ্গে কলেজছাত্রীর বিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চীনা যুবকের সঙ্গে কলেজছাত্রীর বিয়ে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম। এরপর পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে। চীনা নাগরিক বলে দাবি করা এক যুবককে বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার এক কলেজছাত্রী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নবদম্পতিকে একনজর দেখতে তাঁদের বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। এ নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে কৌতূহল ও চাঞ্চল্য। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি গ্রামে।

তবে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে নবদম্পতিকে পাওয়া যায়নি। তাঁরা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই যুবকের নাম ওয়াং চাও (২৫)। তিনি চীনের নাগরিক বলে দাবি করা হচ্ছে। বিয়ের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছে আরিফ ইসলাম। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২০) ফরিদপুর শহরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি সালথার নকুলহাটি গ্রামে।

তাহমিনার পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াং চাওয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি। তবে তাহমিনা নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় পরে পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়। এরপর গত ১৯ অক্টোবর ঢাকায় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আগে হলফনামার মাধ্যমে ধর্ম ও নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন ওই যুবক। পরে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের পর গত ২৬ অক্টোবর রাতে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি নকুলহাটি গ্রামে আসেন ওয়াং চাও। বিদেশি যুবকের সঙ্গে স্থানীয় কলেজছাত্রীর বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে দেখতে বাড়িতে ভিড় জমাতে থাকেন স্থানীয় লোকজন। এ নিয়ে গ্রামজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়। তবে শনিবার বিকেলে তাঁদের আর বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

তাহমিনার পরিবারের সদস্যরা জানান, ওয়াং চাও সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাঁদের জানা নেই। বর্তমানে তাহমিনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তাঁরা দুজনই চীনে চলে যাবেন।

এ বিষয়ে আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিষয়টি আজই লোকমুখে জানতে পেরেছি। আমি ওই বাড়িতে যাচ্ছি। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।

গণরায় নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: জামায়াত আমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
গণরায় নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: জামায়াত আমীর

জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের ৭ দফা দাবিতে আয়োজিত পথসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “গণরায় নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে চরম প্রতারণা করেছে। জনগণের সেই রায় ও অধিকার বাস্তবায়নের জন্যই আজ আমরা রাজপথে নেমেছি।”

​তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের চূড়ান্ত মুক্তির জন্য মাঠে নেমেছি। বর্তমানে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। আমরা একটি বৈষম্যহীন ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ লড়াই মূলত আমাদের অধিকার ও মুক্তির লড়াই।”

​শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে লংমার্চের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​এর আগে সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটক থেকে সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ে ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে এই রোডমার্চ কর্মসূচির সূচনা হয়।

​সংক্ষিপ্ত সভা শেষে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চটি ঢাকা থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এবং মাদারীপুর-শরীয়তপুর সীমানা অতিক্রম করে ভাঙ্গায় এসে পৌঁছায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে গাড়িবহরটি খুলনা বিভাগের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

​লংমার্চের আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী এ কর্মসূচির যাত্রাপথে মাওয়ার নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরী চত্বর ও স্বাধীনতা চত্বরে ধারাবাহিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে লংমার্চের বহরটি যশোরের মুড়লি মোড় এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত পথসভায় মিলিত হবে।

​লংমার্চের শেষ পর্যায়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এক বিশাল সমাপনী মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে এই দূরপাল্লার কর্মসূচি শেষ হবে।

​এদিকে লংমার্চকে কেন্দ্র করে যাত্রাপথে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর শহরের সিংপাড়া নিবাসী কৌশিক সাহা জিতু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ফরিদপুর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর শাখা।

​ফরিদপুর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তাপস কুমার সাহার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, সহ-সভাপতি ননী গোপাল বিশ্বাস ও সুকেশ কুমার সাহা, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তুষার কুমার দত্ত, সদর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সিতাংশু মিত্র কিংকর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চিরঞ্জীব রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ সরকার স্বাধীন এবং চন্দ্রা দেবনাথ।

​এ সময় পৌর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রাম দত্ত, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্যসচিব সুব্রত রবিদাসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৌশিক সাহা জিতুর অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো ফরিদপুরজুড়ে তীব্র শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​বক্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।