খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

প্রকৃত সাংবাদিক কারা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ
প্রকৃত সাংবাদিক কারা?

দেশে ‘প্রকৃত সাংবাদিকদের’ একটি জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির সরকারি ঘোষণা নতুন করে গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। 

ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে— প্রকৃত সাংবাদিক কারা? কোন মানদণ্ডে তাদের নির্ধারণ করা হবে? এই দায়িত্ব কি সরকারের হাতে থাকবে, নাকি সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তা নির্ধারিত হবে? রাষ্ট্র যখন সাংবাদিকের পরিচয় নির্ধারণ করবে, তখন সেটি পেশাগত শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নাকি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অংশ— এ নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।

কেন ডাটাবেজের উদ্যোগ 

তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ‘সাংবাদিক সুরক্ষা সহায়তা সেল’ গঠন করা হয়েছে। হুমকি, হামলা বা ডিজিটাল হয়রানির শিকার সাংবাদিকদের আইনি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, নারী সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং জেলা পর্যায়ে সুরক্ষা উদ্যোগসহ সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে।

এই উদ্যোগগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্যই সাংবাদিকদের একটি যাচাইযোগ্য জাতীয় ডাটাবেজ প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।

তিনি আরও জানান, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

সরকারের যুক্তি  

তথ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিবন্ধিত সংবাদমাধ্যমের বাইরে সাংবাদিক পরিচয়ে নানা অপকর্মের অভিযোগ বেড়েছে। প্রেস কার্ড ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব খাটানো এবং অনিবন্ধিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিস্তার প্রশাসন ও সাংবাদিক সংগঠন— উভয় পক্ষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

সরকারের মতে, একটি যাচাইযোগ্য তালিকা থাকলে প্রকৃত সংবাদকর্মীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং পেশার মর্যাদা রক্ষা পাবে। চিকিৎসক বা আইনজীবীদের মতো সাংবাদিকদেরও একটি স্বীকৃত ডাটাবেজ থাকা উচিত বলে মনে করছেন তারা।

‘প্রকৃত সাংবাদিক’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে 

সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন, নিবন্ধিত সংবাদপত্র, টেলিভিশন বা অনলাইন গণমাধ্যমে সম্পাদকীয় কাঠামোর মধ্যে কাজ করেন এবং পেশাগত নৈতিকতা ও আইনি কাঠামোর আওতায় আছেন— তাদেরই সাধারণভাবে ‘প্রকৃত সাংবাদিক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ডাটাবেজ তৈরির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যে মানদণ্ডগুলো আলোচনায় রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— বৈধ প্রেস কার্ড, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের নিয়োগপত্র, সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যপদ, মাঠপর্যায়ে সক্রিয় কাজের প্রমাণ, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্বেগ।

ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন গণমাধ্যমের একটি অংশ। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। সঠিক তালিকা তৈরি হলে পেশার মর্যাদা বাড়বে।

তবে সাংবাদিকদের আরেক অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, ‘প্রকৃত সাংবাদিক’ নির্ধারণের ক্ষমতা যদি পুরোপুরি সরকারের হাতে যায়, তাহলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

পুরনো আলোচনা, নতুন উদ্যোগ 

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আবদুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সাংবাদিকদের ডাটাবেজ তৈরির আলোচনা নতুন নয়; প্রায় এক দশক ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।”

তিনি জানান, প্রথমে প্রেস কাউন্সিল এ উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাদের কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি থেমে যায়। পরে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) একটি ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিলেও তা অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।

কল্যাণমূলক সুবিধা প্রকৃত সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকেও ডাটাবেজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্ভাব্য বিতর্ক এড়াতে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় থেকে সেই উদ্যোগ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বর্তমান সরকারের সময়ে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে বলেও উল্লেখ করেন এম আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, “কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা সঠিকভাবে দিতে একটি ডাটাবেজ প্রয়োজন, এমন সিদ্ধান্ত তার দায়িত্ব ছাড়ার আগের বোর্ড সভায় নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে যে ডাটাবেজের কথা বলা হচ্ছে, তা পূর্বের সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা কিনা— তা তিনি নিশ্চিত নন।”

বিতর্কের জায়গা কোথায় 

এম আবদুল্লাহ বলেন, “ডাটাবেজ তৈরির বড় জটিলতা শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্নে। বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের একটি বড় অংশ মনে করে, সাংবাদিকতা মূলত বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতানির্ভর পেশা; শুধু একাডেমিক ডিগ্রি দিয়ে ভালো সাংবাদিক নির্ধারণ করা যায় না।”

তার ভাষায়, “অনেক উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি সাংবাদিকতায় সফল হননি, আবার উচ্চমাধ্যমিক পাস করেও অনেকেই প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক হয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই বিতর্কের গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করে যদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়, তাহলে তা সাংবাদিক সমাজের স্বাগত জানানো উচিত।”

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

ফের পুলিশের জালে ফরিদপুরের সেই ‘সিরিঞ্জ তুফান’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
ফের পুলিশের জালে ফরিদপুরের সেই ‘সিরিঞ্জ তুফান’

ফরিদপুর শহরে ইনজেকশনের সিরিঞ্জে পচা রক্ত ভরে পথচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে আলোচিত ‘সিরিঞ্জ তুফান’ আবারও পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ২টার দিকে শহরের নিউমার্কেট এলাকার ইমামুদ্দিন স্কয়ারের পাশ থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

আটক তুফানের কাছ থেকে একটি ইনজেকশনের সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন।

তিনি জানান, মাসখানেকেরও বেশি সময় আগে সিরিঞ্জে পচা রক্ত ভরে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করানোর ভয় দেখিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে তুফানকে আটক করা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় সম্প্রতি তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পরপরই একই কায়দায় আবারও ছিনতাইয়ের চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের লোহার ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মাহফুজুর রহমান শাহিদ নামে এক যুবককে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন তুফান। পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরলে ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। এরপরই তাকে আটকের জন্য অভিযান শুরু করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউমার্কেট এলাকা থেকে তুফানকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

এর আগে ভুক্তভোগী মাহফুজুর রহমান শাহিদ নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, র‌্যাফেলস মোড় থেকে লোহার ব্রিজের দিকে যাওয়ার সময় তুফান তাকে থামিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা না থাকায় তিনি প্রতিবাদ করলে তুফান নিজের পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং পুলিশকে নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন শাহিদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে আসছিলেন তুফান। বিশেষ করে সিরিঞ্জে রক্ত ভরে ভয় দেখানোর অভিনব কৌশলের কারণে তিনি ‘সিরিঞ্জ তুফান’ নামে পরিচিতি পান। ফলে তার পুনরায় আটকের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে স্থানীয় সাংবাদিক শ্রাবণ হাসান ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ‘সিরিঞ্জ তুফান’ ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এরপর থেকে তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। পরে স্থানীয় জনতা আটক করে তাকে পুলিশে দেয়। তবে, কিছুদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে ফের একই কাজ করতে থাকে। পরে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে আবার তুফানকে আটক করা হলো। এবার পুনরায় আটকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

ফরিদপুরে আগুন নেভাতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আগুন নেভাতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার একটি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় বাবুল মোল্লা (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আগুনে বাজারের অন্তত পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের যোগিবরাট ভেন্নাতলা বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভোররাতে বাজারের নুর মিয়ার মুদি দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বাবুল মোল্লাও।

আগুন নেভানোর একপর্যায়ে একটি দোকানের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে বাবুল মোল্লা, আলামিন বিশ্বাস, নুর মিয়া শেখসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুল মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে বাজারের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে নুর মিয়ার মুদি দোকান, সাহেব আলীর চায়ের দোকান, কেসমত আলীর সার ও কীটনাশকের দোকান, বাবর আলীর সাইকেল মেরামতের দোকান এবং জাকির মোল্লার কাপড়ের দোকান।

বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা রয়েল আহমেদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় দোকানের ভেতরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে একজনের মৃত্যু এবং তিনজন আহত হন।”

তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সালথায় ৭ নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সালথায় ৭ নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন করে ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব বিদ্যালয়ের অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংকটপূর্ণ এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক গ্রামের শিক্ষার্থীদের দূরবর্তী বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে হয়। বিশেষ করে ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। নতুন বিদ্যালয়গুলো স্থাপিত হলে এসব এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার কাছেই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন  বলেন, “সালথায় ৭টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, অতিশীঘ্রই বিদ্যালয়গুলো অনুমোদন পাবে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করা সহজ হবে। একই সঙ্গে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমবে এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার আরও বৃদ্ধি পাবে।

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই নতুন এসব বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, নতুন বিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হলে সালথার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং সরকারের ‘সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা’ নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।

এদিকে বিদ্যালয়গুলোর অনুমোদনের খবরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ ও আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।