খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে সংঘর্ষের জেরে দুই মাস ধরে শতাধিক ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ

নুরুল ইসলাম নাহিদ, সালথা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সংঘর্ষের জেরে দুই মাস ধরে শতাধিক ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তীতে ফরিদপুরের একটি বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অব্যাহত হামলা ও হুমকির মুখে শতাধিক ব্যবসায়ী  তাদের দোকানে যেতে পারছেন না। এতে করে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েড়েছেন তারা, বেকার হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী ও শ্রমিকরা।

সালথা ও বেয়ালমারী উপজেলার দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে প্রতিপক্ষের ভয়ে গত দুই মাস শতাধিক ব্যবসায়ী স্থানীয় ময়েনদিয়া বাজারে থাকা তাদের দোকানে যেতে পারছেন না বলে  জানিয়েছেন। টানা দুই মাস ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে না পারায় দোকানে  কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হচ্ছে ।  এমন অবস্থায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে সালথার খারদিয়া গ্রাম ও বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত অত্র এলাকার সবচেয়ে বড় হাট ময়েনদিয়া বাজার| বাজারে অন্তত এক হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে । দীর্ঘদিন ধরে বাজারটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের সাথে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের বিএনপি সমর্থক টুলু মিয়া এবং জিহাদ মিয়ার বিরোধ চলে আসছে।  টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার বাড়ি খারদিয়া গ্রামে আর আব্দুল মান্নানের বাড়ি ময়েনদিয়া বাজার এলাকায়।

স্থানীয়রা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন মান্নান চেয়ারম্যান| আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন হান্নান চেয়ারম্যানের বাড়ি পুড়িয়ে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। একপর্যায় মান্নান চেয়ারম্যান ও তার নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়| পরে ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে নেন টুলু ও জিহাদ মিয়া। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির এক নেতার সহযোগিতায় এলাকায় ফিরে আসেন মান্নান চেয়ারম্যান। এরপর মান্নান ও তার সমর্থকরা ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে সালথার খারদিয়া গ্রামের শতাধিক ব্যবসায়ী ময়েনদিয়া বাজারে থাকা তাদের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না। বাজারের গেলেও মান্নানের সমর্থকরা তাদের উপর হামলা করে ও হুমকি ধামকি দেয়। এমন অবস্থায় গত দুই মাস ধরে খারদিয়া গ্রামের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রাখায় তাদের কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ময়েনদিয়া বাজারের মিনহাজ টেডার্সের মালিক মো. ফায়েক বলেন, দুই মাস ধরে ময়েনদিয়া বাজারে থাকার আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না। এতে আমার দোকানে সিমেন্ট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু আমি একা নয়, আমার মতো শতাধিক ব্যবসায়ী মান্নান চেয়ারম্যান ও তার ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের সমর্থকদের ভয়ে বাজারে থাকা তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। এতে আমাদের ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার সম্পদ ও মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা ব্যবসায়ী, আমাদের কোনো দলপক্ষ নেই। তারপরেও বাজারে যেতে দেয়া হচ্ছে না আমাদের।

কাপড় ব্যবসায়ী আকরাম শিকদার বলেন, সংঘর্ষ হয়েছে দুটি পক্ষের মধ্যে, কিন্তু আমাদের ব্যবসায়ীদের কি দোষ? আমাদের দোকান কেন খুলতে দিচ্ছে না। কোনো ব্যবসায়ী বাজারে গেলেও তাকে মারধর করা হয়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে না পেরে আমরা পথে বসে যাচ্ছি।  আমাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা না খেয়ে মরবো। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানানো পরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

খারদিয়া গ্রামের ভ্যানচালক ছায়েদুল মুন্সী বলেন, কয়েকদিন আগে আমি ভাড়া নিয়ে ময়েনদিয়া বাজারে গেলে মান্নান চেয়ারম্যানের ভাই সিদ্দিক ও তার লোকজন আমাকে মারধর করে বলে, তোরা খারদিয়া গ্রামের কোনো লোকজন ময়েনদিয়া বাজারে আর আসবি না।

ময়েনদিয়া বাজারের ইজারাদার টুলু মিয়া বলেন, আমার বাড়ি খারদিয়া হওয়ায় সংঘর্ষের পর থেকে বাজার থেকে ইজারার টাকা তুলতে দিচ্ছে না মান্নান চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। আমার লোকজন বাজারে গেলেই তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বাজার থেকে বের করে দেয়। এমন অবস্থায় বাজার থেকে ইজারার টাকাও তুলতে পারছি না।

শাহিন মিয়া নামে ময়েনদিয়া বাজারের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থেকে বাজারের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা নিজেরা ব্যবসা করতে না পারলে অন্যদেরও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং ব্যবসায়ীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বর্তমানে বাজারের পরিস্থিতি  স্বাভাবিক রয়েছে।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জেলে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার ভাই ময়েনদিয়া বাজারের বাসিন্দা সিদ্দিক মাতুব্বরের ছেলে মো. শাহিন মিয়া বলেন, গত ৫ আগস্টের ঘটনার পর তার চাচা পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বরের বাড়িসহ তাদের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। এরপর প্রায় দেড় বছর তারা নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেননি।

তিনি বলেন, যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তার দাবি, বাজারে এখনো স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে এবং অধিকাংশ ব্যবসায়ী নির্ভয়ে দোকান খুলছেন। যারা বাজারে আসতে পারছেন না বা আসছেন না, তাদের একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম  বলেন, অনেক আগে থেকেই ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রন নিয়ে ওই দুই পক্ষের মধে বিরোধ চলমান ছিলো, উভয় পক্ষের দায়ের করা একাধীক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ গত ১৪  ফেব্রুয়ারী ময়েনদিয়া ও খারদিয়াবাসীর মধ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়, বেশ কয়েকটি দোকানে অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট করা হয়। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নজরে রেখছে জেলা পুলিশ বিভাগ।

তিনি বলেন, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলায় আমরা বেশ কিছু আসামিকে ধরতে সক্ষম হয়েছি, আরো কয়েকজনকে খুঁজছি, আশা করি ধরতে সক্ষম হব শীঘ্রই। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় চাপা ক্ষোভ রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও নিরাপরাধ ব্যবসায়ীরা যাতে বাজার এলাকায় নির্বিঘ্নে তাদের কাজ করতে পারে তার নিশ্চয়তা দিতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। কোন নিরীহ বা নির অপরাধ লোককে করা হবে না। কেউ কাউকে হুমকি দিলেও সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাধারণ মানুষের কাজকর্ম ও চলাচলে বাধা দিলে কোন ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা গরু চিনবেন যেভাবে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা গরু চিনবেন যেভাবে?

কোরবানির ঈদ এলেই দেশের পশুর হাটগুলোতে বেড়ে যায় গরু কেনাবেচার ব্যস্ততা। এই সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় গরুকে স্টেরয়েড, হরমোন বা বিভিন্ন ক্ষতিকর ইনজেকশন দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে মোটাতাজা করে।

বাইরে থেকে এমন গরু দেখতে আকর্ষণীয় মনে হলেও এর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব গরুর মাংস খেলে লিভার ও কিডনির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসক ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, হাটে গিয়ে ইনজেকশন দেওয়া গরু চেনার কয়েকটি সহজ উপায় নিচে তুলে ধরা হলো—

১. আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে দেখুন

কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর শরীরে অনেক সময় অতিরিক্ত পানি জমে থাকে। এটি বোঝার সহজ উপায় হলো গরুর শরীরের মাংসল অংশে আঙুল দিয়ে চাপ দেওয়া। গরুর পিঠ বা রানের অংশে জোরে চাপ দিলে যদি জায়গাটি দেবে যায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় নেয়, তাহলে সেটি সন্দেহজনক হতে পারে। সুস্থ গরুর মাংস সাধারণত শক্ত ও টানটান থাকে। চাপ দিলে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

২. আচরণ লক্ষ্য করুন

স্টেরয়েড বা হরমোন দেওয়া গরু অনেক সময় ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তাদের আচরণেও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।

এ ধরনের গরু সাধারণত বেশি অলস থাকে, ঠিকভাবে হাঁটতে চায় না এবং অল্পতেই হাঁপিয়ে যায়। অনেক সময় মাথা নিচু করে ঝিমাতে দেখা যায়। চোখও ঘোলাটে বা ক্লান্ত দেখাতে পারে।

অন্যদিকে সুস্থ গরু তুলনামূলক চঞ্চল হয়। আশপাশে মানুষ দেখলে সাড়া দেয়, কান ও লেজ নেড়ে স্বাভাবিক আচরণ করে।

৩. অস্বাভাবিক ফোলা ও অতিরিক্ত লালা

ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগের কারণে অনেক গরুর শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। বিশেষ করে উরু, রান, থুতনি বা প্রস্রাবের রাস্তার আশপাশের অংশ অতিরিক্ত ফোলা দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া কিছু গরুর মুখ থেকে নিয়মিত লালা বা ফেনা পড়তে দেখা যায়, যা অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে।

যে কারণে সতর্ক থাকা জরুরি?

প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা গরুর মাংস মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এমন পশু দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

গরু কেনার সময় যা করবেন

সম্ভব হলে অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা পরিচিত খামারিকে সঙ্গে নিন। গরুর দাঁত, চোখ ও হাঁটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। পরিচিত ও বিশ্বস্ত খামার বা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনার চেষ্টা করুন। কেনার আগে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট গরুর আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন।

সূত্র : কালবেলা

সালথায় সংঘাত থামাতে সংবাদ সম্মেলন, সম্প্রীতি চান জাহিদ মাতুব্বর

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
সালথায় সংঘাত থামাতে সংবাদ সম্মেলন, সম্প্রীতি চান জাহিদ মাতুব্বর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বালিয়া ও গট্টি এলাকায় দীর্ঘদিনের বিরোধ, দাঙ্গা ও সংঘর্ষের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ মাতুব্বর। তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আর কোনো কাইজ্জা-মারামারী নয়, সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করুন।”

সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার গট্টি এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক, বিএনপির নেতাকর্মী ও তার সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদ মাতুব্বর বলেন, তিনি ২০০১ সালে সাবেক মন্ত্রী মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের নির্বাচনে কাজ করেছিলেন। পরে ২০০৭ সালে ইউরোপে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার পর ২০১৮ সালে দেশে ফিরে ফরিদপুরে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, কোনো সময়ই আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন না, তবে নাগরিক হিসেবে ভোট দিয়েছেন।

তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত আখ্যা দিয়ে একাধিক মামলায় জড়িয়েছে। সম্প্রতি গট্টি এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও রাজিব মাতুব্বরের ওপর হামলার ঘটনায়ও তাকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জাহিদ মাতুব্বর বলেন, “ঘটনার দিন সকাল থেকেই আমি অসুস্থ ছিলাম এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। টানা চারদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ফরিদপুরে চলে যাই। অথচ আমাকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।”

তিনি মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এলাকায় তার একটি সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব রয়েছে। গ্রামের মানুষ তাকে একটি পক্ষের প্রধান হিসেবে দেখলেও তিনি কোনো সংঘাত চান না। বরং এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতেই কাজ করতে চান।

এ সময় তিনি তার সমর্থক ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাকে যারা ভালোবাসেন, তারা আর কোনো সংঘর্ষে জড়াবেন না। সবাই ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবেন—এটাই আমার অনুরোধ।”

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শামা ওবায়েদ ইসলাম মরহুম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। তিনি এলাকায় শান্তি চান। আমরাও তার নির্দেশনা মেনে চলবো। আগামী দিনেও শামা ওবায়েদ আপার পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো, ইনশাল্লাহ।”

কেন কিছু লোকের অল্প খেয়েও ওজন বেড়ে যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
কেন কিছু লোকের অল্প খেয়েও ওজন বেড়ে যায়?

শুধু অতিরিক্ত খাওয়ার ফলেই শরীরে মেদ জমে না। চিনি, হরমোন, ঘুম, মানসিক চাপ থেকে শুরু করে জীবনযাত্রা পর্যন্ত—এই সবকিছুই প্রতিদিন সূক্ষ্মভাবে ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীরে কেন সহজে চর্বি জমে এবং ওজন বাড়ে, তা বুঝতে হলে প্রথমে আমাদের দেখতে হবে শরীরে কীভাবে চর্বি তৈরি হয়। জাতীয় পুষ্টি ইনস্টিটিউটের প্রাপ্তবয়স্ক পুষ্টি পরীক্ষা ও পরামর্শ বিভাগের প্রধান ড. ত্রান চৌ কুয়েনের মতে, এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ‘ব্যয়ের চেয়ে বেশি গ্রহণ’ করার পরিস্থিতি।

যখন খাবার ও পানীয় থেকে গৃহীত ক্যালোরির পরিমাণ শরীর দ্বারা ব্যয়িত শক্তির চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন অতিরিক্ত ক্যালোরি বিপাকিত হয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়।

চর্বি জমার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আসল সত্য:

ডঃ কুয়েনের মতে, এই প্রক্রিয়ায় চিনির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গ্রহণ করা চিনি যখন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহৃত হয় না, তখন শরীর সেটিকে ট্রাইগ্লিসারাইডে—যা চর্বির প্রাথমিক রূপ—রূপান্তরিত করে এবং ফ্যাট কোষে জমা রাখে। এ কারণেই অনেকে সুন্দর ত্বকের আশায় প্রচুর ফল খেলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ওজন বেড়ে যায়। যদি ফলের মধ্যে থাকা চিনির পরিমাণ শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়, তবে সেই অতিরিক্ত অংশও চর্বিতে রূপান্তরিত হতে পারে।

উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবার, বিশেষ করে যেগুলোতে চিনি ও চর্বির পরিমাণ বেশি, তা শরীরে চর্বি জমাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় এবং উচ্চ-চর্বিযুক্ত নাস্তা গ্রহণের ফলে সময়ের সাথে সাথে শরীরে ধীরে ধীরে অতিরিক্ত শক্তি জমা হতে থাকে।

এছাড়াও, সারাদিনে খাবার গ্রহণের ধরণও বিপাক ক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত খাওয়া বা গভীর রাতে খাওয়া শরীরের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করতে পারে, বিপাকীয় দক্ষতা কমিয়ে দিতে পারে এবং শরীরে চর্বি জমার কারণ হতে পারে,” বিশেষজ্ঞ বলেছেন।

হরমোনগত কারণগুলোও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি খাবারের পর, শরীর ইনসুলিন নিঃসরণ করে যা কোষগুলোকে গ্লুকোজ শোষণ করতে এবং তা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। যখন কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, তখন গ্লুকোজ দক্ষতার সাথে শোষিত হয় না এবং এর পরিবর্তে তা চর্বিতে রূপান্তরিত হয়ে জমা হয়। এছাড়াও, লেপটিন এবং ঘ্রেলিনের মতো হরমোনগুলো ক্ষুধা এবং তৃপ্তির অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। যদি এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, তবে খাদ্য গ্রহণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যেতে পারে।

অলস জীবনযাপনও এর আরেকটি সাধারণ কারণ। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শক্তি ব্যয় কমে যায়, অথচ ক্যালোরি গ্রহণ অপরিবর্তিত থাকে, যার ফলে শরীরে চর্বি জমতে থাকে।

এছাড়াও, ঘুম এবং মানসিক চাপও এই প্রক্রিয়াটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে। অপর্যাপ্ত ঘুম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোর ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যার ফলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাওয়া বেড়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় – এই হরমোনটি চর্বি জমার সাথে সম্পর্কিত, বিশেষ করে পেটের অংশে।

ডঃ চৌ কুয়েন মনে করেন যে আচরণগত এবং পরিবেশগত কারণগুলোও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবেগপ্রবণ খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত খাওয়া, অথবা বৈজ্ঞানিক খাদ্যতালিকার উপর আস্থার অভাব সহজেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণের দিকে পরিচালিত করে। অন্যদিকে, সুবিধাজনক দোকান থেকে শুরু করে বাড়িতে ফাস্ট ফুড মজুত করার অভ্যাস পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যাপক সহজলভ্যতা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বেছে নেওয়াকে আরও কঠিন করে তোলে।

উপরে উল্লিখিত কারণগুলো ছাড়াও, জিনগত কারণও প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরে মেদ জমার প্রবণতাকে প্রভাবিত করে। বিজ্ঞান বিপাকের হার, মেদ বণ্টন এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু জিন শনাক্ত করেছে।

উদাহরণস্বরূপ, FTO জিনের বিভিন্ন রূপ উচ্চ বডি মাস ইনডেক্স (BMI) এবং স্থূলতার ঝুঁকি বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। এছাড়াও, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং পরিবেশগত কারণসমূহ জিনের প্রকাশকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে বিপাক এবং চর্বি সঞ্চয়ও প্রভাবিত হয়।

প্রতিদিন শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যে পরামর্শ দিয়েছেন:

অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে শুধু ওজনই বাড়ে না, বরং এটি স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং কিছু ধরণের ক্যান্সারের মতো অসংখ্য স্বাস্থ্য সমস্যার সাথেও জড়িত। তাই, এর প্রতিরোধে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রথমত, ডঃ কুয়েনের মতে, সমস্ত খাদ্য গোষ্ঠীর পর্যাপ্ত পরিমাণ সহ একটি সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে সবুজ শাকসবজি, তাজা ফল, শস্যদানা এবং মাছ, শিম ও বাদাম থেকে প্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সাথে, সম্পৃক্ত চর্বি, পরিশোধিত চিনি এবং ফাস্ট ফুড সীমিত করা উচিত। বিচক্ষণতার সাথে খাবার বেছে নিলে তা কেবল ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না, বরং শরীরকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজও সরবরাহ করে।

এর পাশাপাশি, একটি সক্রিয় জীবনধারা বজায় রাখা অপরিহার্য। হাঁটা, সাইকেল চালানো, নাচ বা যোগব্যায়ামের মতো কার্যকলাপ অতিরিক্ত শক্তি পোড়াতে, বিপাকক্রিয়া বাড়াতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে।

“প্রত্যেকেরই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক কার্যকলাপের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যায়ামের সুযোগগুলো কাজে লাগানো উচিত, যেমন—সিঁড়ি ব্যবহার করা, কেনাকাটার সময় হাঁটা, অথবা কাজের বিরতিতে স্ট্রেচিং ও হালকা ব্যায়াম করা,” বলেছেন ড. কুয়েন।

ঘুমও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমালে তা হরমোন নিয়ন্ত্রণে, খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা কমাতে এবং শক্তি বিপাকে সহায়তা করে। এছাড়াও, ধ্যান, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস বা অন্যান্য আরামদায়ক কার্যকলাপের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করলে আবেগপ্রবণ হয়ে খাওয়ার প্রবণতা কমে যেতে পারে।

সূত্র: https://znews.vn/vi-sao-an-it-van-beo-can-nang-tang-post1626550.html