খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে জামায়াত আমীরের আগমন ঘিরে প্রত্যাশার জোয়ার, ১০ দফা দাবি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকজুড়ে

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে জামায়াত আমীরের আগমন ঘিরে প্রত্যাশার জোয়ার, ১০ দফা দাবি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকজুড়ে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুর সফরে আসছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর এ সফরকে ঘিরে ফরিদপুরজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ফরিদপুরের উন্নয়নসংক্রান্ত ১০ দফা দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

জেলা জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, নড়াইলের জনসভা শেষে বিকেলে ফরিদপুর-১ আসনের বোয়ালমারী স্টেডিয়ামে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন জামায়াত আমীর। এরপর রাত ৮টার দিকে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। এ দুটি জনসভাকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে জামায়াত আমীরের আগমন উপলক্ষে ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার বিষয়গুলো নতুন করে সামনে এসেছে। ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ফরিদপুরকে পূর্ণাঙ্গ বিভাগ ঘোষণা, পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের নামে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, একটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি গার্লস ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা। এসব দাবিকে ফরিদপুরের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিও রয়েছে এ তালিকায়। ফরিদপুর মহানগরীর মুন্সি বাজার মোড় থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত এবং রাজবাড়ী রাস্তার মোড় থেকে দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত ৬ লেনের সড়ক নির্মাণের দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। পাশাপাশি সি অ্যান্ড বি ঘাটকে আধুনিক নৌবন্দরে রূপান্তর এবং ধলার মোড়কে একটি অত্যাধুনিক পর্যটন এলাকায় গড়ে তোলার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ফরিদপুরে একটি ইপিজেড (EPZ) স্থাপনের দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তরুণ সমাজের মতে, ইপিজেড হলে শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।

রেল যোগাযোগ উন্নয়নের দাবিও রয়েছে তালিকায়। কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ী-ফরিদপুর-শিবচর-জাজিরা হয়ে ঢাকা পর্যন্ত সকালে বিশেষ ট্রেন চালু এবং বিকেলে একই রুটে ফিরতি ট্রেন চালুর পাশাপাশি ফরিদপুর মহানগরীর রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন নাগরিকরা।

জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, জনসভা থেকে এসব দাবি জামায়াত আমীরের কাছে তুলে ধরা হবে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জনগণের ভোটে জামায়াত-১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে ফরিদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে এসব দাবি বাস্তবায়নে আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জামায়াত আমীরের এ সফর ও জনসভা ঘিরে ফরিদপুরবাসীর প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। জনসভায় তাঁর বক্তব্যে এসব দাবি কতটা গুরুত্ব পায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো জেলা।

‘এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
‘এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, এবারের বাজেট স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বাজেট। বর্তমান এই ভঙ্গুর অর্থনীতিতে স্বাস্থ্য সেবায় এবং স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ কি পরিমাণে বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে এটি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সব সেক্টরে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে চলছেন। যার মধ্যে অগ্রাধিকার রয়েছে স্বাস্থ্য খাত।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি নির্বাচিত করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে বলেন, ভৌগলিক কারণে এই অঞ্চলের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেসব অনিয়ম রয়েছে সবকিছু আমাদেরকে ঠিক করতে হবে। সর্বোপরি আমরা চাই আমাদের রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে। রোগী হাসপাতাল এসে যদি সেবা না পাই এবং চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় তাহলে এটা হাসপাতালের অদক্ষতায় মধ্যে পড়ে। হাসপাতালে দুর্নীতি বন্ধ করা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আমার প্রধান লক্ষ্য থাকবে। আমরা যদি এগুলো বন্ধ করতে পারি তাহলে হাসপাতাল অনেক ভালোভাবে চলবে। আর এ জন্য কোন আপোষ আমি করব না। কারণ এটা আমার দায়বদ্ধতার ভিতর পরে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বিগত দিনের মতো রাজনৈতিক দলের পরিচয় ধরে কেউ যাতে হাসপাতালের অনৈতিক কাজ বা পরিবেশ নষ্ট না করতে পারে সেটা দেখতে হবে। এক্ষেত্রে সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে সবাইকে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মো. মাজাহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. দিলরুবা জেবা, বিএমএ এর সাধারণ সম্পাদক ডা. আলী আকবর, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল প্রমুখ। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে বিষপানে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিষপানে যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরে বিষপানে সোহেল শেখ ওরফে সাইদুল (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ছয় দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান।

নিহত সোহেল শেখ ফরিদপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি হানিফ শেখের ছেলে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সোহেল শেখ বিষপান করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে সোহেল শেখ বিষপান করেছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ফরিদপুর জেলা কারাগারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে মৌসুমী ফল কাঁঠাল বিতরণ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা কারাগারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে মৌসুমী ফল কাঁঠাল বিতরণ

ফরিদপুর জেলা কারাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে সৌহার্দ্য, আন্তরিকতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির অংশ হিসেবে মৌসুমী ফল কাঁঠাল বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্টাফদের হাতে কাঁঠাল তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া এবং জেলার মনির হোসেন।

অনুষ্ঠানে জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ ও তাদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কারাগার কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। দেশীয় মৌসুমী ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবাইকে একসঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, কর্মস্পৃহা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর। এমন উদ্যোগ কর্মপরিবেশকে আরও ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

এ সময় জেলার মনির হোসেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কারাগারের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

কাঁঠাল বিতরণ অনুষ্ঠানে কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কারারক্ষী এবং কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এ উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী স্টাফরা কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, এমন ছোট ছোট আয়োজন কর্মক্ষেত্রে উৎসাহ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ ও মনোবল বৃদ্ধি করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।