খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: শতাধিক রোগী পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: শতাধিক রোগী পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুরে সুবিধাবঞ্চিত ও সাধারণ মানুষের জন্য দিনব্যাপী একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (০৩ জুন) সোসাইটি ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভস (এসডিসি)-এর আয়োজনে এবং স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশন ফরিদপুর ও থ্যালাসেমিয়া-হিমোফিলিয়া রুগী কল্যাণ কেন্দ্রের (পশ্চিম খাবাসপুর) সহযোগিতায় কানাইপুর এসডিসি ব্রাঞ্চ কার্যালয়ে এ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এ ক্যাম্পে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক রোগী অংশগ্রহণ করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ওষুধ বিতরণের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ক্যাম্পে আগত রোগীদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ, উপসর্গ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সংক্রমণ, এর কারণে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি এবং প্রতিরোধে টিকাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়।

এছাড়া হাইপোথাইরয়েডিজম ও থাইরয়েডজনিত বিভিন্ন রোগ নিয়ে বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ওই অঞ্চলের প্রায় শতাধিক থাইরয়েড আক্রান্ত রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিকিৎসা পরীক্ষার সময় কয়েকজন রোগীর মধ্যে উদ্বেগজনক স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত হয়। এর মধ্যে একজনের রক্তচাপ ১৮০/১১০ মি.মি. পারদ পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ের। অপর একজনের রক্তে শর্করার মাত্রা ২৩.৩ ধরা পড়ে, যা মারাত্মক ডায়াবেটিস জটিলতার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া এক রোগীর TSH-এর মাত্রা ৫৪.১ পাওয়া যায়, যা তীব্র হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।

ক্যাম্পে অনেক রোগীর ইসিজি (ECG) পরীক্ষার মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। প্রয়োজনীয় রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধও সরবরাহ করা হয়।

স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মো. মিজানুর রহমান (মিজান) বলেন, “গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিতভাবে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। ভবিষ্যতেও এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘দারুল এহসান মাদ্রাসা ও এতিমখানা’-য় বর্তমানে ৫০ জনের বেশি আবাসিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সহায়তা, রক্তদাতা সংগ্রহ এবং অসহায় শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

মেডিকেল ক্যাম্পে সভাপতিত্ব করেন এসডিসি-এর নির্বাহী পরিচালক কাজী আশরাফুল হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মো. মিজানুর রহমান (মিজান), ডা. সাদেকা সুলতানা সেতু, ডা. আব্দুল্লাহ ইসলাম, এসডিসির সমন্বয়কারী প্রসেনজিৎ পাল, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাদিয়া আক্তার ও নূর আলম চৌধুরী।

এছাড়া স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাব্বির মোল্লা, মো. রেফাতুল ইসলাম (নোমান), এস. এম. জান্নাতুল ফেরদৌস (আলিফ), শেখ মোহাম্মদ রাব্বিসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সালথায় ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের সড়ক-আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলেই ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
সালথায় ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের সড়ক-আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলেই ব্যবস্থা

ক্লাস চলার সময়ে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে রাস্তাঘাট বা অপ্রয়োজনীয় স্থানে ঘোরাফেরা করলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এমন কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন।

​বুধবার (০৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সালথা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সালথা উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জানানো যাচ্ছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ক্লাস চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে বা অপ্রয়োজনীয় স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অভিভাবককে উপজেলা প্রশাসনে বা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে অভিভাবকের কাছ থেকে উপযুক্ত মুচলেকা গ্রহণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

​উপজেলা প্রশাসন জানায়, এই নির্দেশনা অত্যন্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থেই মূলত এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে সালথা উপজেলা প্রশাসন।

সালথায় জমিতে বেড়া দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
সালথায় জমিতে বেড়া দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের সালথায় ফসলি জমির সীমানায় বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১৫টি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

​বুধবার (০৪ নভেম্বর) বিকেলে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মেহেরদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

​স্থানীয়রা জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও ফসলি জমি নিয়ে মেহেরদিয়া গ্রামের মো. কালাম মুন্সীর সঙ্গে নুর ইসলাম মুন্সীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার দুপুরে কালাম মুন্সী তাঁর ফসলি জমির সীমানায় বেড়া দিতে গেলে নুর ইসলামের সমর্থকরা তাঁকে মারধর করেন।

​এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর করে সংঘর্ষকারীরা।

​এ ঘটনায় কালাম মুন্সী ও শাহজাহান মাতুব্বরসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

​সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘জমিতে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।’

​এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

ফরিদপুরে ডিবির অভিযানে চাকরিচ্যুত সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ গ্রেফতার ৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডিবির অভিযানে চাকরিচ্যুত সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ গ্রেফতার ৩

ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে একটি আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

​গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সাবেক (চাকরিচ্যুত) দুই সদস্য রয়েছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ডাকাতি হওয়া একটি ১৫০ সিসি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

​বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

​পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া করার ছলে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার তদন্তে নেমে চক্রটির সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে চক্রের মূল হোতা সাবেক পুলিশ সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪) ও তার সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকাকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার লিমন ও সাকার বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে লিমন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই করে আসছিলেন। পরবর্তীতে ছিনতাই করা ইজিবাইকগুলো মুকসুদপুরের মন্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হতো। লিমনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে।

​পরে লিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবেক সেনা সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে (৫৫) গ্রেফতার করে ডিবি। খুলনা সদর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বর্তমানে রঘুনন্দনপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

​অভিযানে তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় রূপগঞ্জে ডাকাতি হওয়া মোটরসাইকেলটি। পুলিশের দাবি, জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বড় ধরনের ডাকাতি সংঘটিত করে নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতার এবং লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।