খুঁজুন
, ,

“জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা”—এনসিপি ছেড়ে বিস্ফোরক অভিযোগ নীলিমা দোলার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
“জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা”—এনসিপি ছেড়ে বিস্ফোরক অভিযোগ নীলিমা দোলার

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির নেত্রী ও সংগঠক সৈয়দা নীলিমা দোলা। ডানপন্থী রাজনীতির দিকে দলটির ঝুঁকে পড়া, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট এবং প্রগতিশীল রাজনীতির আদর্শ থেকে সরে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

শনিবার (০৩ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এনসিপির সকল দায়িত্ব ও পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

পদত্যাগপত্রে সৈয়দা নীলিমা দোলা উল্লেখ করেন, এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পেছনে তাঁর প্রত্যাশা ছিল—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দলটি একটি মধ্যপন্থী ও সংস্কারমুখী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটির একাধিক সিদ্ধান্ত তাঁকে হতাশ করেছে। তাঁর ভাষায়, “এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি সম্ভব নয়। দলটি পুরোপুরি ডানপন্থী ঘরানায় ঢুকে পড়ছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির যে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট, সেটি কোনো কৌশলগত জোট নয় বরং নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রতারণার ফল। মনোনয়ন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনেককে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

পদত্যাগ প্রসঙ্গে দলের ভেতরে প্রচলিত ‘ক্ষমতা বা গুরুত্ব না পেয়ে চলে যাওয়া’র অভিযোগও নাকচ করেন সৈয়দা নীলিমা দোলা। তিনি বলেন, “আমাকে কেউ কোনো ক্ষমতা দেয়নি। বরং আমার প্রগতিশীল মানসিকতা ও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের পরিচয়ই এতদিন এনসিপিকে শক্তি জুগিয়েছে।”

তিনি মনে করেন, দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীদের ‘বামপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা একটি পরিকল্পিত কৌশল, যার মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কাছে দলকে সহজে বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন—তাহলে যারা রয়ে গেলেন, তারা কি সবাই ডানপন্থী? এনসিপি কি আদৌ সেন্ট্রিস্ট দল?

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপিতে যোগদানের আগেও এবং পরেও তিনি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর মতে, বর্তমান বাস্তবতায় তাঁর মতো কর্মীকে ধরে রাখার রাজনৈতিক সক্ষমতা এনসিপির আর নেই।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের যে আস্থা ও বিশ্বাস এনসিপির ওপর ছিল, তা বিগত কয়েক মাসে ভেঙে পড়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আসন্ন সময়ে জনগণ এর যথাযথ জবাব দেবে।

দলটির ভেতরে থেকেই নারী, শিশু, শ্রমিক, আদিবাসী, হিজড়া, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষে সেন্ট্রিস্ট অবস্থান বজায় রাখতে লড়াই করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রান্তিক মানুষের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় এনসিপির মন্থর ও দায়সারা প্রতিবাদ তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন।

সবশেষে সৈয়দা নীলিমা দোলা বলেন, তাঁর মতো মানুষদের এনসিপি থেকে বিদায় প্রমাণ করে—বাংলাদেশে এনসিপির বাইরেও জুলাইয়ের আরেকটি পক্ষশক্তি রয়েছে। তিনি এনসিপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানালেও ধর্মীয় রাজনীতিকে সামনে এনে রাজনীতি করার তীব্র সমালোচনা করেন।

পোস্টে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব হয়নি,” এবং শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ধর্মীয় রাজনীতির পথে হাঁটা এনসিপির জন্য বেমানান বলেও মন্তব্য করেন।

পদত্যাগপত্রের অনুলিপি তিনি এনসিপির সদস্য সচিব ও দলীয় দপ্তরে পাঠিয়েছেন বলে জানান।

ফরিদপুরে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ফরিদপুরে পুলিশের দুই দিন মেয়াদী দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রথম ব্যাচের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর পুলিশ লাইনসের শহীদ ছালাম সভা কক্ষে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, “আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিটি সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে।”

​কোর্সে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে আসা ৫০ জন সদস্য অংশ নেন। প্রশিক্ষণে নির্বাচনি দায়িত্বে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা, নিরপেক্ষতা, জনগণের আস্থা অর্জন, আইন প্রয়োগে মানবিকতা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

​সমাপনী অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে পথচারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় ব্যবহৃত ২২ বোরের রিভলবারটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. হামিদুল গাজী (৪২) নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের (ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সংলগ্ন) ওপর একটি খয়েরি রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৬-৩০৮৭) থামান হামিদুল গাজী। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে শিমু আক্তার তিশা ওরফে ফাতেমা ইসলাম এনি (২৬) নামে এক নারী আরোহী ছিলেন। গাড়ি পার্কিং নিয়ে এক পথচারীর সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে হামিদুল গাজী গাড়িতে বসেই নিজ রিভলবার দিয়ে ওই পথচারীকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরবর্তীতে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।

​ঘটনাটি নজরে আসার পর ভাঙ্গা থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানে আসামির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত কুমার মন্ডল বাদী হয়ে অস্ত্র আইন ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (মামলা নং-০৬) দায়ের করেন।

​পরবর্তীতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর র‍্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকার বনানী এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি হামিদুল গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা নারী আরোহী শিমু আক্তার তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত হামিদুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে।

​গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুল স্বীকার করেন যে, তিনি পিস্তলটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে তাঁর নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে লুকিয়ে রেখেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম লৌহজং উপজেলার গোয়ালী মান্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিভলবারটি উদ্ধার করে।

​ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মামলার তদন্ত কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা সদরে ভেজাল কালোজিরা বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কেনাবেচার সময় সন্দেহ হলে পরীক্ষা চালিয়ে ভেজালের প্রাথমিক প্রমাণ পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে আনুমানিক চার মণ কালোজিরা ফেলেই সটকে পড়েন কথিত এক বিক্রেতা।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধুখালী বাজারের চার রাস্তার মোড় সংলগ্ন মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ওই কালোজিরাগুলো বিনষ্ট করেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আকু বিশ্বাস, মনিরুল বিশ্বাস, ইমামুল বিশ্বাস ইমাম, ইমরান হোসেন ও তৌফিক বিশ্বাসসহ বাজার কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​ব্যবসায়ীরা জানান, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাটের দিনে কয়েকজন কথিত কৃষক কালোজিরা বিক্রি করতে মধুখালী বাজারে আসেন। তারা মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম লটাই বিশ্বাসের ভূষিমালের দোকানে এগুলো বিক্রি করতে নিয়ে যান। মান পরীক্ষা করতে গিয়ে এতে ভেজাল উপাদান মেলানোর সন্দেহ হয় লটাই বিশ্বাসের।

​তিনি কৌশলে ওই বিক্রেতাকে দোকানে বসিয়ে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানান। তবে পুলিশ আসার সুযোগ পেয়ে প্রায় চার মণ কালোজিরা রেখে চতুর বিক্রেতা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

​পরবর্তীতে ভেজাল কালোজিরা বিনষ্ট করার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী এবং মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী জানান, দৃশ্যমান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কালোজিরায় ভেজাল উপাদান মেশানোর প্রমাণ মিলেছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা মসলা গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং ল্যাব টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।