খুঁজুন
, ,

সালথায় জুয়ার আসরে পুলিশের হানা, ৪ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
সালথায় জুয়ার আসরে পুলিশের হানা, ৪ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সালথার নটখোলা গ্রামের মৃত সত্তার চৌধুরীর ছেলে মো. মন্টু চৌধুরী (৫০), একই গ্রামের মৃত হারুন মাতুব্বরের ছেলে মো. নাছির মাতুব্বর (২৭)। এছাড়া পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকার মৃত ছালাম মোল্যার ছেলে মো. মাহাবুব সিকদার (৫০) ও একই উপজেলার পরমেশ্বরদী এলাকার মৃত আক্তার মোল্যার ছেলে মো. ফারুক মোল্যা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সালথা উপজেলার নটখোলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই এলাকায় জুয়া খেলার প্রস্তুতি ও কার্যক্রম চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযানে চারজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের সালথা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সালথা থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য দিয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, “জুয়া খেলার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সোমবার দুপুরে তাদের ফরিদপুরের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এলাকায় জুয়া ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। নিয়মিত অভিযান চললে এমন কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা বাড়িয়েছে, যার অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফরিদপুরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৬ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৬ জনের

চলন্ত অবস্থায় চাকা বিস্ফোরিত হয়ে মহাসড়কে উল্টে পড়ে বালুবাহী ট্রাক। মুহূর্তেই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে একটি প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া প্রাইভেটকারে থাকা মা ও তাঁর শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়। আর বালু ও ট্রাকের নিচে চাপা পড়া ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার করে উদ্ধারকর্মীরা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর জেলা সদরের কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। এর মাত্র এক ঘণ্টা আগে একই মহাসড়কে বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন আরো তিনজন। দুই দুর্ঘটনায় এক বিকেলেই ছয়জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন, মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের সুমি বেগম (৩২), তাঁর ৭ বছরের ছেলে শাওন এবং অজ্ঞাতপরিচয় এক ইজিবাইকচালক। এ ঘটনায় সুমি বেগমের স্বামী পলাশ (৩৮) গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর শহর থেকে একটি বালুবাহী ট্রাক কানাইপুরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ট্রাকটির চাকা বিস্ফোরিত হয়ে সেটি মহাসড়কের ওপর উল্টে পড়ে। এ সময় সামনে থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে। দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারটির একাংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।

অন্যদিকে ইজিবাইকটি বালু ও ট্রাকের নিচে পুরোপুরি চাপা পড়ে। খবর পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বালু সরিয়ে ইজিবাইক থেকে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়। ক্রেনের সাহায্যে ট্রাক সরিয়ে প্রাইভেটকার থেকে আরো একজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক সুমি বেগম ও তাঁর ছেলে শাওনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ট্রাক ও বালুর স্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ইজিবাইকচালককে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকে। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় সুমি বেগমের স্বামী পলাশ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে কোতয়ালী থানা ও করিমপুর হাইওয়ে পুলিশ।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় ঢাকাগামী কিং ফিশার পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মাগুরাগামী অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিনজন নিহত হন। আহত হন আরো কয়েকজন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সে সাতজনের একটি দল ছিল। তাঁরা ‘ভলেন্টিয়ার বাংলাদেশ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভায় অংশ নিতে মাগুরা থেকে ফরিদপুরে এসেছিলেন। সভা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাগুরায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা।

নিহতদের মধ্যে রাব্বি (২১) নামের একজনের পরিচয় জানা গেছে। অন্য দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে সাগর বিশ্বাস (২২) ও রিয়া (২১) রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁরা মাগুরা সদর উপজেলার বাসিন্দা।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর একই সড়কের কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মা-ছেলেসহ আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৩

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৩

ফরিদপুরের মধুখালীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার আড়কান্দি এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, ঢাকাগামী একটি বাসের সঙ্গে মাগুরাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনস্থলে তিনজন নিহত হয়।

ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের নাম-পরিচয় এখনও জানা সম্ভব হয়নি। আমরা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছি। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো যাবে।

সদরপুরে প্রকাশ্যেই সরকারি খাল থেকে ড্রেজারে দিয়ে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে কৃষিজমি

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
সদরপুরে প্রকাশ্যেই সরকারি খাল থেকে ড্রেজারে দিয়ে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে কৃষিজমি

ফরিদপুরের সদরপুরে প্রকাশ্যেই সরকারি খাল থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে খালের পাড়, পাশের কৃষিজমি ও আশপাশের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কোকারাম সরকারের কান্দি গ্রামের রামনগর খালে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাজল ও মুন্নাফ নামের দুই ব্যক্তি সেখানে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছেন বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে খালের পাড় ভেঙে যাওয়া, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং আশপাশের সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে খালের স্বাভাবিক পরিবেশ ও নাব্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে এলাকার কৃষিজমি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কোকারাম সরকারের কান্দি এলাকার এক কৃষক বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের প্রতিবছরই পদ্মা নদীর ভাঙনের শিকার হতে হয়। এর মধ্যে আবার প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু তুলছেন। এতে খালের পাশের কৃষিজমি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা এসব বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে ড্রেজার মালিক মুন্নাফ শেখের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখান থেকে চুরি করে বালু উত্তোলন করছি। সরকারি কোনো অনুমোদন নেই।

ড্রেজার মালিক কাজল বলেন, এভাবে বালু উত্তোলনে কোনো অনুমোদন লাগে না। এটা সরকারি জায়গা নয়, ব্যক্তিগত জমি।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন বলেন, সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।