খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসিবুর রহমান (অপু ঠাকুর)-কে দলীয় সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির দপ্তর সেলের সদস্য মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মো. হাসিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি দলীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এলে তদন্ত ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। অব্যাহতির ফলে মো. হাসিবুর রহমান এখন থেকে দলের কোনো সাংগঠনিক পদে বহাল থাকবেন না এবং দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তার কোনো ভূমিকা থাকবে না।

এ বিষয়ে দলীয় একাধিক নেতা জানান, এনসিপি একটি শৃঙ্খলাভিত্তিক রাজনৈতিক দল। এখানে ব্যক্তির চেয়ে দলের নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কাজ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই দলের অবস্থান।

ফরিদপুর জেলা এনসিপির রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়লেও কেন্দ্রীয় নেতারা আশাবাদী, দ্রুতই সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণ করা হবে এবং দলীয় কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাবে।

এদিকে অব্যাহতির বিষয়ে মো. হাসিবুর রহমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে এনসিপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখছেন।

ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দিনব্যাপী এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে স্থানীয় তিন শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবা​র (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে উপজেলা​র পবনবেগ মোহাম্মাদিয়া নূরানী ও এতিমখানা মাদ্রাসায় এই কল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে ‘রাসু ফাউন্ডেশন’ (রাসু জুয়েলার্সের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান)।

​মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং গাইনী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাবনাজ সুলতানা। দিনভর সেবা নিতে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষদের শারীরিক পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও রক্তচাপ পরিমাপসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দিতে সার্বিক সহযোগিতা করে ‘আলফাডাঙ্গা ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’।

​ক্যাম্প পরিচালনা ও তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সেকেন্দার রুমি। এছাড়া মো. হাসান খান, আকিব সিকদার, সিয়াম মোল্যা, রিফাত মোল্যা, রনি মোল্যা, আরাফাত মোল্যা ও ওমর মোল্যাসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ সেবা কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করেন।

​সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আয়োজিত এই উদ্যোগ নিয়ে রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই তাগিদ থেকেই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

ফরিদপুরের সালথায় সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে বিসিআইসি’র এক নিবন্ধিত ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান ও আদালত পরিচালিত হয়।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বিসিআইসি মূল ডিলার সুভাষ দত্ত তাঁর নকুলহাটি বাজারস্থ দোকান থেকে গৌড়দিয়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা ওহিদের কাছে ২৪ বস্তা সার হস্তান্তর করেন বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে সার নির্ধারিত গন্তব্য গৌড়দিয়ার পরিবর্তে ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের দিকে পরিবহন করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইপুর সড়কে দুপুর ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে নসিমনটি সারসহ আটক করা হয়।

​আটক নসিমনের চালক এরশাদ কোনো বৈধ পরিবহন রশিদ দেখাতে পারেননি। পরে সংশ্লিষ্ট ডিলার সুভাষ দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁর বক্তব্যে নানা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়।

​সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ডিলার সুভাষ দত্তকে ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

​অভিযানকালে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, কৃষকদের জন্য সরকার বরাদ্দকৃত সার সুষ্ঠু ও নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় বিতরণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদ্রাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মিরাজ শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মিরাজ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

​মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আসামির বাড়ির সামনে খেলা করছিল ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী। এ সময় অভিযুক্ত মিরাজ শেখ সুকৌশলে তাকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে আসামি মিরাজ শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান।

​দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

​রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আসামি মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে উপযুক্ত সাজা দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছে।