খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

চোখের নিচের কালো দাগ কি মারাত্মক রোগের সতর্ক সংকেত? জানাচ্ছে গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৫ এএম
চোখের নিচের কালো দাগ কি মারাত্মক রোগের সতর্ক সংকেত? জানাচ্ছে গবেষণা

চোখের নিচে কালো দাগ বা ‘ডার্ক সার্কেল’ এখন অনেকেরই সাধারণ সমস্যা। রাত জেগে কাজ করা, ক্লান্তি বা ঘুমের অভাবকে সাধারণত এর জন্য দায়ী করা হয়। তাই সচরাচর কেউ এটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবসময় বিষয়টি এতটা সহজ নয়। অনেক সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি চোখের নিচে স্থায়ীভাবে কালো দাগ থেকে যায়, তবে সেটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা জটিল সমস্যার ইঙ্গিত বহন করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিডনি ও লিভারের কর্মহীনতা, দুর্বল রক্ত সঞ্চালন, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা হজমের সমস্যার মতো কারণগুলোও চোখের নিচের কালো দাগের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকতে পারে। অর্থাৎ, এটি শুধু ক্লান্তি বা অনিদ্রার প্রতিফলন নয়, অনেক সময় বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকিরও বার্তা দিতে পারে।

কিডনির দুর্বলতা বা ফেইলিউর

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চোখের নিচের কালো দাগ বা পেরিওরবিটাল হাইপারপিগমেন্টেশন কিডনির সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমে যায়। এর ফলে চোখের চারপাশে তরল জমে থাকা ও রঙ পরিবর্তন হতে পারে, যা কালো দাগকে বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া কিডনির দুর্বল কার্যকারিতার কারণে ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে যায়। তবে সব কালো দাগ যে কিডনির রোগের কারণে হয়, তা নয়। মানসিক চাপ, অতিরিক্ত পরিশ্রম বা অনিয়মিত ঘুমও সমানভাবে দায়ী হতে পারে। তাই কিডনির সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম ও চাপ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

লিভারের রোগ

চোখের নিচে কালো দাগ দীর্ঘস্থায়ী লিভারের সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে। দুর্বল লিভার রক্ত থেকে বিষাক্ত উপাদান ফিল্টার করতে ব্যর্থ হয়, ফলে ত্বক ফ্যাকাশে ও নিস্তেজ হয়ে যায়। গবেষণা বলছে, লিভারের সমস্যায় আক্রান্ত প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষের চোখের নিচে কালো দাগ দেখা যায়। লিভার ফুলে যাওয়া বা চর্বি জমে যাওয়া অবস্থায় শরীরের বিপাকক্রিয়া ও টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয়, চোখ ক্লান্ত ও কালচে দেখায়। পাশাপাশি তরল ধরে রাখা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা পুষ্টিহীনতা সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ (ডিম, মাছ, দুধজাত খাবার ইত্যাদি), অ্যালকোহল পরিহার ও সক্রিয় জীবনযাপন অত্যন্ত কার্যকর।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও অনিয়মিত মাসিক

নারীদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক বা হরমোনের অসামঞ্জস্যও চোখের নিচে কালো দাগের কারণ হতে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, এ ধরনের অবস্থায় রক্ত প্রবাহ ব্যাহত হয়, ফলে মুখের ত্বকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায় না। এর ফলে ত্বক নিস্তেজ হয়, চোখ ভেতরে ঢুকে যাওয়া বা ক্লান্ত ও বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক দেখানোর প্রবণতা তৈরি হয়। মাসিকের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। পাশাপাশি আয়রন, ভিটামিন বি১২ ও ফোলেটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করা যায়।

সমাধান কী?

চোখের নিচের কালো দাগের চিকিৎসা নির্ভর করে মূল কারণের ওপর। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জীবনযাত্রার উন্নয়ন বড় ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাবার—সবই ত্বকের সুস্থতার জন্য জরুরি। ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য ও চর্বিহীন প্রোটিন গ্রহণ করলে ত্বক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা ভালো থাকে।

চিকিৎসকরা বলছেন, চোখের নিচে কালো দাগকে হালকাভাবে না দেখে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ, এটি শুধু সৌন্দর্যগত সমস্যা নয়, কখনো কখনো ভয়াবহ রোগের আগাম সতর্কবার্তাও হতে পারে।

সূত্র টাইমস অব ইন্ডিয়া

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।