খুঁজুন
, ,

দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম ঘুম লাগে কেন? জানুন সত্যি কারণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম ঘুম লাগে কেন? জানুন সত্যি কারণ

দুপুরের খাবার শেষে, ক্লান্ত শরীর নিয়ে বসে থাকা অনেকের জন্যই মুশকিল হয়ে পড়ে। ক্লান্ত শরীর বিছানায় পড়লেই ঘুম চলে আসে। অনেকে তো আবার নিয়ম করে দুপুরে ঘুম দিয়ে থাকেন। তবে কখনো ভেবে দেখেছেন, দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম কেন আসে? অনেকে মনে করেন, দুপুরে ঘুমানো বড় কোনো রোগের লক্ষণ।

দুপুরের খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাবকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় পোস্ট প্রুডেনশিয়াল ড্রিনোমি বলা হয়। দুপুরে ঘুম প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এটি কোনো রোগ নয়; বরং শরীরের জৈবিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। এ ছাড়া এই ঘুমের পেছনে আরেক কারণ হতে পারে, পেট ভরে খাওয়ার পর ক্লান্ত বোধ বা অলস বোধ হওয়া। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে বা ঘুমের রুটিন ঠিকও নেই তাদের মধ্যেই বেশি ঘুম ঘুম ভাব দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি একটি প্রাকৃতিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া হলেও, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারাও এতে বড় ভূমিকা রাখে। ঘুমের ঘাটতি বা ঘুমজনিত সমস্যাগুলোও খাবার পর ক্লান্তি ও তন্দ্রাচ্ছন্নতার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া, খাওয়ার পর রক্তপ্রবাহ হজমে সহায়তা করতে পেটের দিকে প্রবাহিত হয়, ফলে মস্তিষ্কে রক্ত কম পৌঁছায়। এর ফলেই তৈরি হয় ঘুমের অনুভূতি।

খাবার পর তা পরিপাকতন্ত্রে পৌঁছেই গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়, যা শরীরের শক্তি জোগায়। এই প্রক্রিয়ায় কিছু হরমোন নিঃসৃত হয়, যেগুলো মস্তিষ্ককে ঘুমের সংকেত পাঠায়। বিশেষ করে উচ্চ প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার সেরোটোনিন হরমোনের মাত্রা বাড়ায়। যা ঘুম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে; ফলে অলসতা বা ঘুমঘুম ভাব দেখা দেয়। যদি শারীরিকভাবে সক্রিয় না থাকেন, তাহলে এই প্রভাব আরও বাড়তে পারে, খাওয়ার পর ক্লান্তি বা তন্দ্রা বেড়ে যেতে পারে।

দুপুরের খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাবের অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাওয়া। ভাত, রুটি, আলু বা মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ে। ইনসুলিন তখন ট্রিপটোফ্যান নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে মস্তিষ্কে পাঠাতে সাহায্য করে। ট্রিপটোফ্যান থেকে তৈরি হয় সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন—এই দুটি নিউরোট্রান্সমিটার ঘুমের অনুভূতি তৈরি করে। ফলে খাবারে যদি কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে তা খাওয়ার পর ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব বাড়িয়ে দিতে পারে।

এ ছাড়াও দুপুরের দিকে শরীরের ঘুমিয়ে পড়ার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে। এটি অনেকটা খাবারের ওপর নির্ভর করে না। এমনকি না খেলেও অনেক সময় দুপুরে ঘুম পেতে পারে। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, দুপুরের খাবার যেন হালকা এবং সুষম হয়। একবারে বেশি খাওয়ার বদলে দিনে কয়েকবার অল্প অল্প করে খাওয়াই ভালো। খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করাও উপকারী হতে পারে, এতে অলসতা ও ঘুম ঘুম ভাব অনেকটাই কমে যায়।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”