খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

মিটিং চলাকালে ঘুম পায়? কাজে আসবে এই সহজ টিপস

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৬ এএম
মিটিং চলাকালে ঘুম পায়? কাজে আসবে এই সহজ টিপস

দীর্ঘ মিটিং, ক্লাস বা কোনো অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ করে চোখ ভারী হয়ে আসা খুবই পরিচিত একটি অভিজ্ঞতা। আপনি জানেন, সবার সামনে ঘুমিয়ে পড়া কতটা অস্বস্তিকর হতে পারে। তবুও ধীরে ধীরে ঘুম আপনাকে গ্রাস করে ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কিছু সহজ উপায় আছে, যা আপনাকে মিটিংয়ে জেগে থাকতে সাহায্য করতে পারে।

জেগে থাকার বিভিন্ন উপায়

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত ঘুম। গুরুত্বপূর্ণ কোনো মিটিং বা কাজের আগের রাতে ঠিকমতো ঘুম হলে মন অনেক বেশি সতেজ থাকে। পাশাপাশি মিটিংয়ে যাওয়ার আগে নিজের লক্ষ্য ঠিক করে নেওয়া ভালো। আপনি কী শিখতে চান বা কী বলতে চান, তা আগে থেকেই ভাবলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

সময় থাকলে ছোট একটি ঘুম উপকারী হতে পারে। খুব অল্প সময়ের, এমনকি ছয় মিনিটের ঘুমও শরীর ও মস্তিষ্ককে কিছুটা চাঙ্গা করতে পারে। তবে আধা ঘণ্টার বেশি ঘুমালে উল্টোভাবে আরও ঝিমুনি আসতে পারে।

মিটিংয়ের আগে বা বিরতিতে হালকা হাঁটাহাঁটি করলে উপকার পাওয়া যায়। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং শরীরের ক্লান্তি কিছুটা কমে। যদি সম্ভব হয়, মিটিংয়ের আগে মুখে ঠান্ডা পানি দিলে বা হাতমুখ ধুয়ে নিলেও সতেজ অনুভূত হতে পারে।

পানীয়ের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সকালের মিটিং হলে এক কাপ কফি কাজে লাগতে পারে। তবে দুপুর বা সন্ধ্যার দিকে অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমের ক্ষতি করতে পারে। যারা কফি পান করেন না, তারা নিয়মিত পানি পান করলে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন।

মিটিং চলাকালে সক্রিয় থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন করা, নোট নেওয়া বা আলোচনায় অংশ নিলে ঘুম ঘুম ভাব কমে যায় এবং মন সজাগ থাকে।

সমস্যা কি নিয়মিত হচ্ছে

দিনের বেলা প্রায়ই ঘুম চলে এলে নিজের ঘুমের অভ্যাস খতিয়ে দেখা দরকার। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন, যদিও বয়সভেদে এই চাহিদা কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

ভালো ঘুমের জন্য ঘর অন্ধকার, শান্ত ও আরামদায়ক হওয়া জরুরি। ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন বা অন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস দূরে রাখা ভালো। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে এসব বন্ধ করে দেওয়া উচিত। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও একই সময়ে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীরের ঘড়ি ঠিক থাকে। সকালে যত দ্রুত সম্ভব প্রাকৃতিক আলোতে বের হলে শরীর আরও সহজে জেগে ওঠে।

এসব চেষ্টা করার পরও যদি প্রতিদিনের মিটিংয়ে ঘুম পায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে ঘুমজনিত শারীরিক সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে। এছাড়া ঘুমের জন্য কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খেলে সেগুলো নিয়েও চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

মিটিংয়ে ঘুম পাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও মিটিংয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত যত্ন নিলে শুধু মিটিং নয়, সারাদিনই আপনি আরও সতেজ ও মনোযোগী থাকতে পারবেন।

সূত্র : সিএনএন

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।