খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

বারবার মিষ্টি ও জাঙ্কফুড খেতে ইচ্ছে করছে? লোভ কমানোর ১১ উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৫ এএম
বারবার মিষ্টি ও জাঙ্কফুড খেতে ইচ্ছে করছে? লোভ কমানোর ১১ উপায়

হঠাৎ চকলেট, আইসক্রিম, চিপস বা সোডা খেতে ইচ্ছা হওয়াকে ফুড ক্রেভিং বলা হয়। অনেকেই ডায়েট শুরু করলেও এই ক্রেভিংয়ের কারণে হাল ছেড়ে দেন। অতিরিক্ত চিনি ও জাঙ্কফুড শুধু ওজন বাড়ায় না, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অসুস্থতার কারণও হয়ে দাঁড়ায়।

ভালো খবর হলো, কিছু সহজ ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই লোভ কমানো সম্ভব।

প্রচুর পানি পান করুন

অনেক সময় আমরা পিপাসাকে ক্ষুধা ভেবে ফেলি। হঠাৎ খেতে ইচ্ছা হলে আগে এক গ্লাস পানি পান করুন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, দেখবেন ইচ্ছা অনেক কমে গেছে।

প্রোটিনে ভরসা রাখুন

ডিম, মাছ, ডাল বা দইয়ের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখে। গবেষণা বলছে, বেশি প্রোটিন খেলে ক্রেভিং প্রায় ৬০% কমে।

মন অন্যদিকে ঘুরান

হঠাৎ লোভ দেখা দিলে মনকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখুন। হাঁটুন, বই পড়ুন বা গোসল করুন। চাইলে চুইংগাম চিবাতে পারেন।

খাবারের পরিকল্পনা করুন

দিন বা সপ্তাহের খাবারের পরিকল্পনা আগে থেকে করলে হঠাৎ জাঙ্কফুড খাওয়ার সম্ভাবনা কমে।

অনেকক্ষণ ক্ষুধার্ত থাকবেন না

লম্বা সময় না খেলে রক্তের শর্করার পরিমাণ কমে যায়, তখন চিনি বা ফাস্টফুডের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। মাঝেমধ্যে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খেতে থাকুন।

মানসিক চাপ কমান

চিন্তা বা টেনশনে অনেকেই মিষ্টি খাবার খেতে চান। নিয়মিত ব্যায়াম, মেডিটেশন এবং ভালো ঘুম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

পালংশাকের এক্সট্র্যাক্ট সাপ্লিমেন্ট

গবেষণায় দেখা গেছে, পালংশাকের এক্সট্র্যাক্ট খেলে চকলেট বা চিনি খাওয়ার ইচ্ছা ৯০% পর্যন্ত কমে। এটি ক্ষুধা কমাতে এবং হজম ধীর করতে সাহায্য করে।

পর্যাপ্ত ঘুমান

ঘুম কম হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য ভেঙে যায়। এর ফলে অকারণে খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায়।

সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করুন

ভিটামিন, প্রোটিন বা ফাইবার কম থাকলে শরীর চিনি চায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখুন। ক্ষুধা লাগলে ফল, বাদাম বা সবজি খান।

খালি পেটে বাজারে যাবেন না

ক্ষুধার্ত অবস্থায় বাজারে গেলে মিষ্টি ও প্রসেসড ফুড বেশি কেনার ঝুঁকি থাকে। আগে কিছু হালকা খেয়ে নিন।

সচেতনভাবে খাবার খান

খাওয়ার সময় খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও পরিমাণের দিকে মনোযোগ দিন। এতে বোঝা যাবে সত্যিই ক্ষুধা লাগছে নাকি শুধু লোভে খাচ্ছেন।

মিষ্টি ও জাঙ্কফুডের প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিক, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সচেতন অভ্যাস এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে খাওয়ার ধরন বদলে ফেলা সম্ভব। প্রথমে কঠিন মনে হলেও ধীরে ধীরে শরীর ও মন দুটোই উপকৃত হবে।

সূত্র : হেলথলাইন

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।