খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুর-২ আসনে হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা, শেষ মুহূর্তে ভোটের অঙ্কে টানটান উত্তেজনা

এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
ফরিদপুর-২ আসনে হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা, শেষ মুহূর্তে ভোটের অঙ্কে টানটান উত্তেজনা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা) আসনে ভোটের মাঠে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জয়-পরাজয়ের সমীকরণ নিয়ে এলাকায় বাড়ছে উত্তেজনা ও কৌতূহল। শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশে কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে—এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

এই আসনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন দশ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আল্লামা শাহ্ আকরাম আলী এবং বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। আল্লামা শাহ্ আকরাম আলী ফরিদপুর অঞ্চলের একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় বর্ষীয়ান আলেম হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা।

স্থানীয় রাজনীতিক ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুবই কম হতে পারে। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফলাফল অনিশ্চিত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে উভয় পক্ষই গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে।

ভোটারদের সঙ্গে আলাপে উঠে এসেছে এবারের নির্বাচনের প্রধান ইস্যুগুলো। এর মধ্যে রয়েছে মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূল, এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। অনেক ভোটার এখনো তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি, যা নির্বাচনী ফলাফলকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম বলতে অনিচ্ছুক। রাজনৈতিক চাপ কিংবা পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের হয়রানি এড়াতেই তারা নীরবতা অবলম্বন করছেন বলে ধারণা স্থানীয়দের। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘নীরব ভোটারদের’ ভোটই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। মাঠে সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশা করি নগরকান্দা-সালথার মানুষ শামা ওবায়েদ ইসলামকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন।”

অন্যদিকে আল্লামা শাহ্ আকরাম আলীর মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নগরকান্দা-সালথা উপজেলায় দুর্নীতি, অন্যায় ও জুলুম রুখে দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য। সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দলমত নির্বিশেষে একটি মানবিক নগরকান্দা-সালথা গড়তে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে রিকশা মার্কায় একটি নীরব বিপ্লব হবে ইনশাআল্লাহ।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।”

সব মিলিয়ে ফরিদপুর-২ আসনে শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলেই মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতিক ও বিশ্লেষকরা।

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।