খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর সুগার মিলের বিষাক্ত বর্জ্যে বিপন্ন চন্দনা নদী: দুর্গন্ধে দমবন্ধ, ভেসে উঠছে মৃত মাছ

সুজিত কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর সুগার মিলের বিষাক্ত বর্জ্যে বিপন্ন চন্দনা নদী: দুর্গন্ধে দমবন্ধ, ভেসে উঠছে মৃত মাছ

ফরিদপুর সুগার মিলের অপরিশোধিত ও বিষাক্ত তরল বর্জ্যের কারণে চন্দনা নদী ক্রমেই ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটে পড়ছে। বছরের পর বছর ধরে আখ মাড়াই মৌসুম এলেই মিল থেকে নির্গত রাসায়নিক বর্জ্য একটি খালের মাধ্যমে সরাসরি নদীতে গিয়ে মিশছে। এতে মধুখালী পৌরসভার শ্মশান ঘাট এলাকা থেকে শুরু করে নদীর ভাটির বিস্তীর্ণ অংশে পানি দূষিত হয়ে পড়েছে, নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে মধুখালী থানা গেটসংলগ্ন শ্মশান ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফরিদপুর সুগার মিল থেকে নির্গত কালচে ও তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্যপানি একটি সরু খাল বেয়ে চন্দনা নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর উজানে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত মিলটি দীর্ঘদিন ধরেই এই খাল ব্যবহার করে বর্জ্য নিষ্কাশন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মিল এলাকা অতিক্রম করার সময় বাতাসে এমন তীব্র রাসায়নিক দুর্গন্ধ ছড়ায় যে পথচারীদের অনেককেই নাক-মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে চলাচল করতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মধুখালী পৌরসভার ভাটির চারটি গ্রামের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ এই দূষণের সরাসরি শিকার। আখ মাড়াই মৌসুমজুড়ে বাতাসে ভেসে বেড়ানো দুর্গন্ধে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে। নদীর পানি ব্যবহারের সুযোগ তো নেইই, এমনকি নদীর ধারে দাঁড়ানোও কষ্টকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

খালটি মধুখালী আইডিয়াল একাডেমি ও ফরিদপুর চিনি কল উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মিল গেট বাজার অতিক্রম করেছে। ফলে প্রায় দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই দুর্গন্ধের মধ্যেই ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। ফরিদপুর চিনি কল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, “ক্লাস চলার সময় এত বাজে গন্ধ হয় যে মাথা ব্যথা করে। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা যায় না। বাড়িতে ফিরলেও সেই গন্ধ যেন পিছু ছাড়ে না।”

আইডিয়াল একাডেমির গভর্নিং বডির সদস্য মো. মাসুদুল ইসলাম বলেন, “অপরিশোধিত বর্জ্যপানির দুর্গন্ধে আমাদের প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। অভিভাবকেরা সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমছে। বিষয়টি একাধিকবার মিল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো কার্যকর সাড়া পাইনি।”

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। চর মহিষাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মিল গেট বাজারের ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান মুন্সি (৫৬) বলেন, “আখ মাড়াই মৌসুমজুড়ে খাল দিয়ে বিষাক্ত পানি বয়ে যায়। দুর্গন্ধে ক্রেতারা দোকানে দাঁড়াতে চান না। কয়েক মিনিটের মধ্যেই চলে যান। এতে আমাদের ব্যবসায় বড় ক্ষতি হচ্ছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে মিলের বর্জ্য নদীতে মিশছে, সেখানে মাঝেমধ্যেই পানিতে মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, নদীর পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে জলজ প্রাণীর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। একসময় যে চন্দনা নদী ছিল মাছ ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ, আজ তা দূষণের ভারে ধুঁকছে।

ফরিদপুর সুগার মিল সূত্রে জানা যায়, সরকারি উদ্যোগে ১৯৭৪ সালে মিলটি স্থাপন করা হয় এবং ১৯৭৬ সালে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। কয়েক দশক ধরে মিলটি আখভিত্তিক শিল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষার ঘাটতির কারণে এটি এখন আশপাশের জনপদ ও নদীর জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মিলের বর্জ্যপানির কারণে চন্দনা নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে—এমন প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন। তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে মিল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন।

ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান জানান, চন্দনা নদী এই এলাকার মৎস্যসম্পদ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। পরিদর্শনের সময় মিলের বিষাক্ত পানির কারণে নদীতে মাছ মারা যেতে দেখেছেন বলেও তিনি জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপ-পরিচালক সাঈদ আনোয়ার বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একজন পরিদর্শককে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। পরিদর্শন শেষে মিল কর্তৃপক্ষকে পরিবেশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান জানান, মিল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তাদের ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) রয়েছে এবং বর্জ্যপানি নিজস্ব পুকুরে ফেলা হয়। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক ফারহাদ বলেন, “চুন ও সালফার ডাই-অক্সাইড পানির সঙ্গে মিশে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। আমরা মূলত মিলের নিজস্ব পুকুরের পানি ব্যবহার করি। তবে তরল হওয়ায় কিছু পানি মাটির নিচ দিয়ে চুঁইয়ে নদীতে যেতে পারে। ভবিষ্যতে যাতে কোনোভাবেই পানি নদীতে না যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল আশ্বাস নয়—দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ, আধুনিক বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নজরদারি ছাড়া চন্দনা নদী ও মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব নয়।

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”