খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১২ চৈত্র, ১৪৩২

সিগারেট টানছেন? নীরবে গ্রাস করছে আপনার যে মানসিক স্বাস্থ্য?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৮ এএম
সিগারেট টানছেন? নীরবে গ্রাস করছে আপনার যে মানসিক স্বাস্থ্য?

ধূমপান কেবল ফুসফুস বা হৃদরোগের কারণ নয়, এটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। 

নতুন এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ধূমপান করেন তাদের মধ্যে বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় অনেক বেশি।

গবেষকরা দাবি করছেন, তামাকের মধ্যে থাকা নিকোটিন মস্তিষ্কের ডোপামিন নিঃসরণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক অস্থিরতা ও অবসাদের জন্ম দেয়।

গবেষণাটিতে বলা হয়েছে যে অনেক ধূমপায়ী সাময়িক মানসিক প্রশান্তি বা স্ট্রেস কমানোর অজুহাতে ধূমপান শুরু করলেও প্রকৃতপক্ষে এটি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটায়। নিকোটিনের প্রভাব যখন শরীর থেকে কমতে শুরু করে, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আরও বেশি দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা অনুভব করেন। এর ফলে তারা পুনরায় ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়েন, যা একটি ভয়াবহ চক্রের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে, যারা মানসিক চাপ মোকাবিলায় ধূমপানকে সমাধান হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে ধূমপান ত্যাগের মাধ্যমে কেবল শারীরিক সুস্থতাই নয়, বরং মানসিক প্রশান্তিও ফিরে পাওয়া সম্ভব। যারা ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কেবল ক্যানসার বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির ওপর গুরুত্ব না দিয়ে, ধূমপানের সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের এই গভীর সম্পর্কের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: সামা টিভি

 

‘কালো শকুন’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
‘কালো শকুন’

সেদিন আকাশে ছিল না চাঁদ, ছিল না কোনো আলো,
নেমে এল শুধু পাষাণপুরীর জঘন্য রাত কালো।
শান্ত শহরে হিংস্র থাবায় নামলো যমদূত দল,
হানাদার রূপী কালো শকুনরা বাড়ালো কোলাহল।

বজ্রকঠিন নিস্তব্ধতা ভেঙে দেয় কামানের গোলা,
রাজারবাগের রক্তে ভাসলো রাজপথ—দুয়ার খোলা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—জ্ঞানের আলোয়—জ্বললো লাশের স্তূপে,
ঘাতকেরা এলো দানবীয় সেই নারকীয় হিংস্র রূপে।

চব্বিশ বছরের শোষণের বিষ উগড়ে দিল সে রাতে,
ঘুমন্ত শিশু, জননী, বৃদ্ধ মরলো ঘাতক হাতে।
মেশিনগানের তপ্ত বুলেটে বিদীর্ণ বাংলার বুক,
খুনী শকুনের উল্লাসে ঢাকা পড়লো চেনা সব মুখ।

অন্ধকারের সেই মহাপ্লাবন রুখতে জাগলো প্রাণ,
রক্তের দামে কেনা হবে ঠিক স্বাধীনতার সম্মান।
২৫শে মার্চ আজো কাঁদে তাই বাংলার ঘরে ঘরে,
ভেবেছিনু বুঝি শকুন বিদায় রক্তে ভেজানো ভোরে।

শকুনেরা বদলালো রূপ লুকিয়ে ছদ্মবেশে,
সুযোগ পেলেই থাবা দেয় আজও আমার সোনার দেশে।
বাইরের শত্রু নয় শুধু আজ, ঘরের ভেতরে ঘাঁটি,
লোভ আর কালোর থাবায় ছিঁড়ছে আমার মায়ের মাটি।
স্বাধীন দেশেও অধিকার কাড়ে, শোষণের জাল বোনে,
আতঙ্কের ছায়া আজও হানা দেয় নিভৃত মনের কোণে।

তাই তো আবার জাগতে হবে রে, হতে হবে ইস্পাত,
শকুনের দল রুখে দিয়ে ফের, ঘুচাতে হবে এ রাত।
একাত্তরের সেই হুঙ্কার উঠুক আবার বেজে,
শকুনেরা পাক চরম জবাব, বাংলা উঠুক সেজে।

 

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরগুনা সরকারি কলেজ

‘স্বাধীনতা’

ড. মুহা আবুল কালাম আজাদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
‘স্বাধীনতা’

পাকিস্তানি শাসন শোষণ
দমন পীড়ন নৈতিক পদস্খলন
অধীনতা আধিপত্যের বিরুদ্ধে
মোড়লগিরি খবরদারি বন্ধে
দুর্বার চঞ্চল দামালছেলেদের গর্জন
মুক্তিসেনার জীবন বিসর্জন।
রক্তের বন্যায় স্বাধীনতা অর্জন
শ্রদ্ধা সম্মান এক অনন্য স্মরণ।

স্বাধীনতা কথা বলার অদম্য সাহস
আত্মবিশ্বাস গৌরব অহংকারের ইতিহাস।
শিল্পকলা সাহিত্য সংস্কৃতি
আচার রুচি ঐতিহ্য রীতি-নীতি
স্বস্তি শান্তি মূল্যবোধ অভিব্যক্তি
বিত্ত বৈভব স্বপ্নসারথি।

স্বাধীনতা মায়ের সমান
আদর-সোহাগ লালন-পালন
বাঁচার আশা ইচ্ছা পূরণ
মাতৃভূমির রক্ষণাবেক্ষণ।
মানবতার স্ফুরণ
গণতন্ত্রের পরিস্ফুটন
সাফল্যের ধাপ নিঃস্বার্থ সোপান
উপরে ওঠার সিঁড়ি উন্নতির সাম্পান।

স্বাধীনতা অফুরন্ত আশা
উদ্দীপনা ভালোবাসা
উত্তেজনা উৎসাহ আনন্দ প্রেরণা
অনুভূতি অনুভব প্রগতি চেতনা।

স্বাধীনতা বড় শক্তি
মুক্তবুদ্ধি চিন্তার মুক্তি
কৃষক-মজুর-মুটেদের রক্ষা করেছে অধিকার
ভবিষ্যতে সংগ্রামের জন্য করেছে অঙ্গীকার।

স্বাধীনতা রক্তেকেনা ফসল
চরম ত্যাগে বাঙালি সফল।
সুরভিত সুবাসে
ভরে উঠুক চিত্তাকর্ষে
অজয় অক্ষয় দেহ-মন-প্রাণ
জন্মজন্মান্তরে থাকুক চির অম্লান।

স্বাধীনতা গর্বের উপার্জন
প্রাপ্তি সিদ্ধি সংহতি মিলন
মুখে পড়ুক ফুলচন্দন
শুভেচ্ছা স্বাগতম অভিনন্দন।

লেখক: কলেজ শিক্ষক

ফরিদপুরে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল কলেজছাত্রীর লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৪ এএম
ফরিদপুরে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল কলেজছাত্রীর লাশ

ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় তুলি রানী দাস (২১) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত তুলি রানী দাস রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার লক্ষণদিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুজিত দাসের মেয়ে। তিনি ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার সুবিধার্থে তিনি শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় ইব্রাহিম হাসানের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় তুলি তার নিজ কক্ষে একা ছিলেন। দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হলে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে জানানো হলে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনাস্থলে নিহতের মা, কাকী ও অন্যান্য স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তাৎক্ষণিকভাবে এ মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। পারিবারিক, ব্যক্তিগত বা মানসিক কোনো চাপ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”