খুঁজুন
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২০ চৈত্র, ১৪৩২

“শরমের চেয়ে মরণ ভালো’—ক্ষতিপূরণের চাপে প্রাণ দিলেন সালথার নৈশপ্রহরীর ওয়াহিদুল”

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ
“শরমের চেয়ে মরণ ভালো’—ক্ষতিপূরণের চাপে প্রাণ দিলেন সালথার নৈশপ্রহরীর ওয়াহিদুল”

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বাজারে চুরির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পরিশোধের চাপ ও অপমান সহ্য করতে না পেরে এক নৈশপ্রহরীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম (৩০) উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের মৃত নজরুল শেখের ছেলে। তিনি পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা এবং চার মাস বয়সী জমজ দুই পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বড়দিয়া বাজারে একটি শালিশ বৈঠক চলাকালে তিনি বিষপান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের স্ত্রী জোস্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বড়দিয়া বাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত মঙ্গলবার ভোরে ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পর থেকেই তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। কিছু জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে বলতেন, “মাথা ঠিক নাই, কথা বলিস না।” পরে জানান, বাজারে চুরি হয়েছে এবং এজন্য তাকে দায়ী করে ক্ষতিপূরণ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং প্রায়ই বলতেন, “এত টাকা কোথা থেকে দেবো, শরমের চেয়ে মরণ ভালো।”

জোস্না বেগম আরও জানান, নির্বাচনের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বাজারে একটি শালিশ বসে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, ডিউটিতে থাকা পাহারাদারদের চুরি হওয়া মালামালের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শালিশ চলাকালে ওয়াহিদুল কিছু সময়ের জন্য সরে গিয়ে ফিরে এসে তার তিন সন্তানের কথা উল্লেখ করে নিজের নির্দোষিতা দাবি করেন। এরপর হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

বাজার কমিটির সভাপতি আবু মেম্বার জানান, এক দোকানদারের ঘরের পেছনের টিন কেটে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়। বিষয়টি জানার পর শালিশ ডাকা হয়। তিনি বলেন, “চোর ধরা না গেলে পাহারাদারদের দায়বদ্ধতা থাকে। তবে কাউকে অপমান করা হয়নি, সময় দেওয়া হয়েছিল।”

অন্যদিকে বাজারে টাকা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা আজাদ মোল্যা বলেন, দুইজন পাহারাদার মাসে ২৪ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন। চুরির ঘটনায় বাজারের পক্ষ থেকে তাদের কাছেই ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, বৈঠকে চাপ সৃষ্টি করা হয়নি, তবে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পাহারাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন জরুরি।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জ্বালানি সংকট: অফিস চলবে নয়টা থেকে চারটা, দোকান-শপিংমল বন্ধ হবে সন্ধ্যা ছয়টায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি সংকট: অফিস চলবে নয়টা থেকে চারটা, দোকান-শপিংমল বন্ধ হবে সন্ধ্যা ছয়টায়

ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার অফিস সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোববার থেকে অফিস চলবে সকাল নয়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত। এতদিন অফিস সময় ছিল সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) রাত পৌনে নয়টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের পর প্রেসব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি সিদ্ধান্তগুলো জানিয়েছেন।

প্রেসব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যাংক লেনদেন চলবে সকাল নয়টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত। দোকানপাট ও শপিংমলসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে রোববার নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি আরও বলেন, “আগামী তিন মাস সরকারি ব্যয় কমানো হবে। এ সময়ে কোনো নতুন যানবাহন, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার সামগ্রী কেনা হবে না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ-ও বলেন, “অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।”

সভা-সেমিনারে ব্যয়ও ৫০ শতাংশ কমানো হবে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ কমাতে বলা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সালথায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০: বাড়িঘর ভাংচুর

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
সালথায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০: বাড়িঘর ভাংচুর

ফরিদপুরের সালথায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রাম এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষচলাকালে বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জমি সংক্রান্ত বিয়ষ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাতাগ্রাম এলাকার হেমায়েত মাতুব্বরের সাথে প্রতিপক্ষের মো. ফারুক মাতুব্বরের সমর্থক বাচ্চু চোকদারের বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা বিরোধপূর্ণ জমি মেপে সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি মিমাংসা করে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু জমি মাপামাপির সময় উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ সমর্থক দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ।

সংঘর্ষের সময় মেহেদী মুন্সী, মিন্টু মুন্সী, সেলিম মুন্সী, হালিম মীর, মান্দার শেখ, মিজা, সেলিম চোকদার ও আসাদ শেখের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আব্বাস মাতুব্বর, তমিজদ্দিন মাতুব্বর, আসাদ শেখ, রাজ্জাক শেখ, পিকুল মাতুব্বর, লিটন মীর ও আলিম মীরকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ বিষয় বক্তব্য নেওয়ার জন্য হেমায়েত মাতুব্বর ও ফারুক মাতুব্বরের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

সালথা থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘দেশে প্রচুর পরিমান তেল মজুদ আছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই’: ইসমাইল জবিউল্লাহ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
‘দেশে প্রচুর পরিমান তেল মজুদ আছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই’: ইসমাইল জবিউল্লাহ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, দেশে প্রচুর পরিমান তেল মজুদ আছে। জালানি তেলের কোন সমস্যা নেই। যে সমস্যা আছে শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী জালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কিছু নেই।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল ) সকাল ১০ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের রশিবপুরা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচীতে কেউ অনিয়ম বা দূর্নীতি করলে সে যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের সরকার জনবান্ধব সরকার, এখন পর্যন্ত কোনো তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। এপ্রিল মাসেও জালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হবে না। প্রচুর পরিমান তেল মজুদ আছে এবং প্রচুর পরিমান তেল পাইপ লাইনে রয়েছে। সুতরাং আমরা মনে করি আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারন নেই।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী জালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কিছু নেই। কেউ তেল নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির করবে বা অপচেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি পাম্পে খোঁজ রাখার জন্য। কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণের ভোগান্তি যাতে কেউ না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা করে তাহলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। সরকার ভর্তুকি দিয়ে আমরা এটা চালিয়ে যাবো, যাতে জনগণের কোনো সমস্যা না হয়।

এর আগে রশিবপুরা দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে খাল খনন কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ). মিজানুর রহমান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা সহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদরুল আলম।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ সহ বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।