খুঁজুন
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

জার্সি পরে শপথ! সংসদে হাসনাতকে ঘিরে যে তুমুল বিতর্ক?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫০ এএম
জার্সি পরে শপথ! সংসদে হাসনাতকে ঘিরে যে তুমুল বিতর্ক?

জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ গত মঙ্গলবার এমপি হিসেবে শপথ নেন একটি স্পোর্টস জার্সি পরে যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-বিতর্ক।

অনেকের মতে, সংসদের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনপ্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানে এমন পোশাক পরা ছিল ‘অপেশাদারি ও অসম্মানজনক’।

অন্যদিকে হাসনাতের সমর্থকদের দাবি, আন্দোলনের সময় তিনি যে জার্সি পরতেন সেটিই তিনি শপথের দিন বেছে নিয়েছেন যা জনগণের সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে।

তবে সংসদ সদস্য কী পরছেন, বাংলাদেশ এই আলোচনা নতুন নয়। এর আগেও একই ধরনের বিতর্কের জন্ম হয়েছে।

সংসদের আচরণবিধি নিয়ে জানাশোনা আছে এমন বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সংসদে উপস্থিত হওয়ার জন্য পোশাক সংক্রান্ত কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই, তবে রেওয়াজ আছে।

বিশ্বের অনেক দেশেই সংসদ বা আইনসভায় উপস্থিত থাকার ক্ষেত্রে লিখিত-অলিখিত ড্রেসকোড আছে এবং সেগুলো মানাও হয়। কারণ সংসদ বা আইনসভার মতো প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রের মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

কী ভেবে ওই জার্সি পরেছিলেন হাসনাত

হাসনাত আবদুল্লাহ ঠিক কী ভেবে শপথগ্রহণের দিন ওই জার্সিটিই পরেছিলেন, তা জানতে তার সাথে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দেননি।

এর আগেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং তারপর বিভিন্ন সময়ে নানা অনুষ্ঠানে তাকে এই জার্সি গায়ে দেখা গেছে।

জার্সিটির সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো রয়েছে, ইংরেজিতে লেখা ‘ইংলিশ’ যা মূলত বিভাগের নাম এবং জার্সির পেছনেও ইংরেজিতে তার নাম লেখা আছে ‘হাসনাত’, তার নিচে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ১০।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে বড় ব্যবধানে জয়ী হন হাসনাত আবদুল্লাহ। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমর্থনে এনসিপির দলীয় প্রতীক শাপলা কলি নিয়ে নির্বাচন করেছেন তিনি।

এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মুহাম্মদ ইউনূস যেদিন ফ্রান্স থেকে ঢাকায় আসেন, সেদিনও শাহজালাল বিমানবন্দরে তাকে বরণ করতে এই ধরনের জার্সি পরে গিয়েছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

এমনকি গত বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সেই চিরচেনা জার্সি পরেই মঞ্চে উঠেছিলেন তরুণ এই এনসিপি নেতা।

বর্তমানে তিনি এনসিপি’র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্বে রয়েছেন।

জার্সি পরা নিয়ে আলোচনা কেন

সংসদ বিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, “কাজটা (জার্সি পরা) ঠিক হয় নাই। কারণ গতানুগতিক নিয়মে ফর্মাল অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমাজের একটা গ্রহণযোগ্যতা থাকে”।

“তবে যেহেতু তারা একটা বিপ্লব করেছেন, তাই তিনি হয়তো জার্সি পরার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে দেখাতে চেয়েছেন। হয়তো জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন যে বিপ্লব কিন্তু এখনো চলে যায়নি। যেহেতু জুলাই নিয়ে অলরেডি একটা বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে,” যোগ করেন তিনি।

লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ সংসদে জার্সি পরা নিয়ে আপত্তিকে ‘শুচিবায়ু’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, “হাসনাতের হয়তো এখানে কিছুটা স্টান্টবাজি থাকতে পারে। কিন্তু একেবারে অবাক হওয়ার কিছু নাই, টি-শার্টে আমি সমস্যা দেখি না। আস্তে আস্তে এটা হতেই পারে। আমাদের এখানে আমজনতার পোশাক কেউ পরে না, পরে কলোনিয়াল মেন্টালিটির শাসকদের পোশাক। মনে করে, স্যুট টাই পরলে জেন্টলম্যান হওয়া যায়”।

এ সময় তিনি উদাহরণ হিসেবে আরও বলেন, “মওলানা ভাসানী তো লুঙ্গি পরে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। তার তো সমস্যা হয়নি”।

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী এক চরিত্র আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, যিনি তার অনুসারীদের কাছে মওলানা ভাসানী হিসেবে পরিচিত।

২৫ বছর ধরে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কাভার করা সাংবাদিক ও গবেষক কামরান রেজা চৌধুরী বলছিলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ’র জার্সি পরাটা “বোধহয় অ্যাটেনশন ড্র করার উপায়”।

তার মতে, “হাসনাত আব্দুল্লাহ হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন যে আমি আগের মতোই আছি, আমি আমার মতো যাবো। সেজন্যই সবাই পাঞ্জাবি-পাজামা পরে গেলেও তিনি জার্সি পরে গেছেন। এটা পলিটিক্সের পার্ট। উনি বোঝাতে চেয়েছেন, আমি জনগণের মানুষ”।

এতে “মানুষের কাছে হাসনাত আব্দুল্লাহ’র গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। কারণ মানুষ মনে করবে, সে জনগণের সঙ্গেই আছে,” যোগ করেন এই সাংবাদিক।

সংসদের নির্দিষ্ট ড্রেসকোড আছে?

গতকাল ১৭ই ফেব্রুয়ারি বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে ড্রেসকোড ছিল।

সাংবাদিকদের জন্য দেওয়া আমন্ত্রণপত্রগুলোতে মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ‘অফিসিয়াল/লাউঞ্জ স্যুট/মানানসই’ পোশাক পরে আসার কথা বলা হয়।

লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিকেলের মন্ত্রিসভার অনুষ্ঠানে মন্ত্রী থেকে শুরু করে সবার জন্য ড্রেসকোড ছিল।

কিন্তু সকালে এমপিদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কোনো ড্রেসকোড ছিল কি না, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

এদিকে, সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজামউদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, তার জানা মতে সংসদে কোনো ড্রেসকোড নেই। তবে সেখানে সবাই গ্রহণযোগ্য পোশাক পরেন।

একই তথ্য পাওয়া যায় দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কাভার করা সাংবাদিক ও গবেষক কামরান রেজা চৌধুরীর সাথে কথা বলার পরেও।

তিনিও বলছিলেন, অফিসিয়ালি (কাগজে-কলমে) সংসদের জন্য কোনো ড্রেসকোড নেই।

“গত ২৫ বছরে আমি সংসদ সদস্যদের পরতে দেখেছি পাঞ্জাবি-পাজামা। এমপিদের অনেকে প্যান্ট-শার্ট, কেউ কেউ ব্লেজার পরেন। নারীদের প্রায় সবাই শাড়ি পরেন। এটা নিজস্ব রুচির বিষয়। তবে সাধারণত এমপিরা সংসদে একটু সুন্দর ড্রেস পরেই যান”।

এর আগেও সংসদের ড্রেসকোড নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশের সংসদে পোশাক পরা ঘিরে এর আগে কিছু ঘটেছিলো কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত কিছু পাওয়া না গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে কিছু আলোচনা।

বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদ সংস্থা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মর্তুজা অন্তুর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মকিম হোসাইন হাওলাদারের পোশাক নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

১৯৭৩ সালের সাতই মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, সেসময় বাকেরগঞ্জ-৬ থেকে এমপি হয়েছিলেন ওই মকিম হোসাইন হাওলাদার।

মকিম হাওলাদার সবসময় লুঙ্গি পরেই চলাফেরা করতেন উল্লেখ করে মি. মর্তুজা লিখেছেন, তিনি “সংসদেও যাওয়া শুরু করলেন লুঙ্গিটা পরেই। তো এই নিয়ে তারই সহকর্মী কিছু এমপি অস্বস্তিতে পড়লেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি সংসদে অফিসিয়ালি আলোচিত হলো”।

“একজন এমপি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদে ড্রেসকোডের বিষয়টি তুললেন, সংসদের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লুঙ্গি পরে আসা যায় কি না সেই প্রশ্নও রাখলেন”।

“লুঙ্গির বিষয়টি নিয়ে অফিসিয়ালি প্রশ্ন ওঠার পর মকিম হাওলাদারও ছেড়ে কথা বললেন না। যদিও তার নাম কেউ উল্লেখ করেনি, তবুও বুঝলেন আলোচনা আসলে তাকে নিয়েই। সংসদ নেতার উদ্দেশে মকিম হাওলাদার বললেন, তিনি লুঙ্গি পরেন এটা জেনেই তো তাকে নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। এখন এমপি হওয়ার পর তাকে কেন প্যান্ট পরতে হবে?” লিখেছেন গোলাম মর্তুজা অন্তু।

মকিম হোসাইনের জবাব মেনে নিয়ে সংসদে লুঙ্গি পরে যাওয়ার বিষয়ে কোনো বিধি-নিষেধ না রাখার সিদ্ধান্ত হয় বলেও লিখেছেন তিনি।

তবে লেখক মহিউদ্দিন আহমদ এবং অধ্যাপক নিজামউদ্দিন আহমেদ, দু’জনের কেউ-ই এই ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।

তবে সাংবাদিক কামরান রেজা চৌধুরী বলেছেন যে তিনিও এরকম একটি ঘটনার কথা শুনেছেন। তার ভাষ্যে, “উনার কথা শোনা যায়, কিন্তু আমি কোনো রেকর্ডে পাইনি”।

তবে সেই প্রথম সংসদের ঘটে যাওয়া আরেকটি ঘটনার কথা বিবিসিকে বলেন তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছ থেকে তিনি সরাসরি এই কথা শুনেছিলেন উল্লেখ করে বলেন, “প্রথম সংসদে আব্দুল হামিদ রিকশা নিয়ে সংসদে গিয়েছিলেন, কারণ তার গাড়ি ছিল না। তখন তাকে আটকানো হয়। তখন শেখ মুজিবুর রহমান চিফ হুইপকে ডেকে বলেছিলেন যে তাকে একটা গাড়ি দেওয়া যায় কি না। তখন তাকে একটা পুরোনো গাড়ি দেওয়া হয়”।

অন্যান্য দেশে সংসদে কী পরতে হয়

যুক্তরাজ্যের সংসদে এমপিদের জন্য স্পষ্ট ফরমাল ড্রেস পরার বিধান রয়েছে।

দেশটিতে পুরুষদের জন্য সাধারণত স্যুট ও টাই এবং নারীদের জন্য ফরমাল পোশাক। টি-শার্ট, স্পোর্টস জার্সি, স্লোগানযুক্ত টি-শার্ট বা অতিরিক্ত ক্যাজুয়াল পোশাক অনুচিত হিসেবে ধরা হয়।

সে দেশে পোশাককে “রেসপেক্ট অব দ্য হাউজ” বা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা বলে মনে করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সংসদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সংসদের আনুষ্ঠানিক নিয়ম-নীতিতে পুরুষ ও নারীদের জন্য একই মাত্রার ফরমাল ড্রেসের কথা বলা হয়েছে।

সেখানেও বলা হয়েছে যে স্পোর্টসওয়্যার, স্লোগান লেখা পোশাক বা অতিরিক্ত ক্যাজুয়াল পোশাক প্রত্যাশিত না। কারণ এগুলো সংসদের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না।

তবে এতে আরও বলা হয়েছে যে গরম বা জরুরি পরিস্থিতিতে জ্যাকেট খুলে রাখা যেতে পারে। কিন্তু নিয়মকে একেবারেই অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই।

কমনওয়েলথের অনেক দেশেই মূলত সংসদে রাজনৈতিক স্লোগান বা স্টেটমেন্ট ছাপা পোশাক পরা নিষিদ্ধ। নারী-পুরুষ উভয়কেই ফরমাল পোশাক পরতে হয়।

তবে অনেক দেশে ঐতিহ্যবাহী পোশাককে ফরমাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে স্বাধীনতার পর নতুন রাষ্ট্রগুলো নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে নিজস্ব ড্রেসকোড তৈরি করে।

যেমন, আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়ায় ‘কাউন্ডা স্যুট’ জনপ্রিয় হলেও কেনিয়ার সংসদে তা নিষিদ্ধ।

ক্যারিবিয়ানে ঔপনিবেশিক পোশাকের বদলে ‘কারিবা স্যুট’ চালু হয়, যা একসময় জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী মাইকেল ম্যানলে পরলেও পরে আর সংসদীয় পোশাক হিসেবে গ্রহণযোগ্য থাকেনি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নেলসন ম্যান্ডেলার রঙিন ‘মাদিবা স্যুট’ রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং ভারতে স্বাধীনতার পর ‘নেহরু কলার’ সাংস্কৃতিক মর্যাদার অংশ হয়।

এ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে পোশাকের সঙ্গে সময়, রাজনীতি ও জাতীয় পরিচয়ও গভীরভাবে যুক্ত।

তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

নগরকান্দায় সাংবাদিকের ওপর হামলা: পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রহস্য, ‘হামলা নাটক’ নিয়ে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৬ পিএম
নগরকান্দায় সাংবাদিকের ওপর হামলা: পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রহস্য, ‘হামলা নাটক’ নিয়ে তোলপাড়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হামলার অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং ‘হামলা নাটক’ তৈরির অভিযোগে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরকান্দা বাজার এলাকায়। হামলার শিকার হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বাবু (৪৯) নিজেকে দৈনিক যুগান্তরের নগরকান্দা উপজেলা প্রতিনিধি দাবি করেছেন। অপরদিকে অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও একটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. লিয়াকত আলীর নাম। তবে ঘটনার পরপরই তিনি পাল্টা অভিযোগ এনে নিজেকেও হামলার শিকার দাবি করেছেন। এতে পুরো ঘটনাটি জটিল আকার ধারণ করেছে।

ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল:

মিজানুর রহমান বাবুর দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে তিনি নগরকান্দা বাজারে শাহিন মিয়ার চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় পূর্বের একটি বিরোধ ও ফেসবুকে লেখালেখির জের ধরে লিয়াকত আলী সেখানে এসে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি একটি কাঠের বাটাম দিয়ে মিজান বাবুর মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন।

আত্মরক্ষার জন্য হাত দিয়ে প্রতিহত করতে গেলে তার বাঁম হাতের বাহুতে গুরুতর আঘাত লাগে। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। এছাড়া ডান হাত ও পিঠেও আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত লিয়াকত আলী উপস্থিত লোকজনকে হুমকি দেন—ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিলে তাকে প্রাণনাশ করা হবে।

পরে আহত অবস্থায় মিজান বাবুকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান এবং পরবর্তীতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পাল্টা অভিযোগে ভিন্ন চিত্র:

ঘটনার কিছুক্ষণ পরই সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে থানায় পাল্টা অভিযোগ দেন লিয়াকত আলী। তার অভিযোগে বলা হয়, একই সময় ও স্থানে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজান বাবু তাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।

তিনি দাবি করেন, মিজান বাবু তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোমরে থাকা হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে রক্ত জমাটসহ জখম হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় মিজান বাবু প্রকাশ্যে তাকে হত্যার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার আশায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘হামলা নাটক’ সাজানোর অভিযোগ:

তবে ঘটনাটি এখানেই থেমে থাকেনি। স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের একটি অংশ দাবি করেছেন, হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি ভিন্নখাতে নিতে পরিকল্পিতভাবে ‘হামলা নাটক’ সাজানো হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, লিয়াকত আলী নিজের প্রভাব খাটিয়ে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন এবং হাসপাতালে প্রভাব বিস্তার করে নিজের নামে একটি ‘ভুয়া মেডিকেল প্রেসক্রিপশন’ সংগ্রহ করেন, যাতে তাকে আহত দেখানো যায়। অথচ তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেছেন কয়েকজন সাংবাদিক।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, “ঘটনার সময় আমরা আশেপাশেই ছিলাম। মিজান বাবুই হামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু পরে ঘটনাটি ঘুরিয়ে দিতে চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ:

এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা ও নগরকান্দা উপজেলার সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন সাংবাদিক অভিযোগ করেন, লিয়াকত আলী ও তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি শফিকুল ইসলাম মন্টু প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকতার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন।

তাদের দাবি, তারা কৌশলে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একপেশে প্রচারণা চালিয়ে মূলধারার সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।

একজন স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, “এরা সুযোগসন্ধানী। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তখন তাদের পক্ষেই কাজ করেন। এখন আবার নিজেদের বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।”

রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ:

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন অভিযুক্তরা। সেই সময় তাদের সঙ্গে তোলা বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা নতুন করে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।

এখন তারা নিজেদের একটি বড় রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়ে স্থানীয় নেতাদের ঘনিষ্ঠ দাবি করছেন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মূলধারার সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তারা।

অভিযুক্তের বক্তব্য:

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মো. লিয়াকত আলী। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি নিজেও একজন সাংবাদিক এবং একটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। নিয়মিত লেখালেখি করি।”

তিনি দাবি করেন, “মিজান বাবুই আমার ওপর হামলা করেছে। আমাকে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করেছে। তাই আমি থানায় অভিযোগ করেছি এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি।”

তবে তার শরীরে আঘাতের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন দেখাতে পারেননি—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

পুলিশের অবস্থান:

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, উভয় পক্ষের কাছ থেকে দুটি পৃথক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, “ঘটনার সঠিক তথ্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে তদন্তের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এব্যাপারে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা:

ঘটনাটি নিয়ে নগরকান্দা উপজেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একই ঘটনায় দুই বিপরীতধর্মী অভিযোগ এবং ‘নাটক সাজানোর’ অভিযোগে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাকে বিতর্কিত করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের কঠোর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।

তদন্তে নজর সবার:

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এবং ‘ভুয়া চিকিৎসা সনদ’ ইস্যু—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন একটি আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের মধ্যে এ ঘটনার প্রভাব বেশি পড়েছে।

এখন সবার দৃষ্টি পুলিশের তদন্তের দিকে। তদন্তে কী বেরিয়ে আসে, সেটিই নির্ধারণ করবে—আসলেই কে হামলার শিকার, আর কে বা কারা ‘হামলা নাটক’ সাজানোর চেষ্টা করছে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ফেব্রিকন ফ্যাশনের শো-রুম উদ্বোধন

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ফেব্রিকন ফ্যাশনের শো-রুম উদ্বোধন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা জাতীয় মানের খ্যাতিসম্পন্ন পোশাকের ব্যান্ড ফেব্রিকন ফ্যাশনের শো-রুম উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের হাসপাতাল রোডে বারি প্লাজার দ্বিতীয় তলায় এ শো-রুমের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেক কেটে ও দোয়ার আয়োজন করে শো-রুমের আনুষ্ঠানিকতা শুভ সূচনা করা হয়। এখন থেকে এই শো-রুমে ছেলে-মেয়ে, শিশুসহ সকল বয়সীদের আধুনিক ও রুচিসম্মত বিভিন্ন ধরনের পোষাক পাওয়া যাবে।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্তাধিকারী বায়েজিত মোল্যা বলেন, আমাদের অঞ্চলের মানুষ ভালো পোষাক ক্রয় করার জন্য ঢাকা ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতে যান। এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে আধুনিক ও রুচিসম্মত পোশাক ফেব্রিকন ফ্যাশানসহ অনের ভালো মানের পোশাকের শো-রুম দেওয়া হয়েছে। এই শো-রুম থেকে ক্রেতারা তাদের পছন্দের পোষাক সুলভ মূল্যে ক্রয় করতে পারবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

তিনি বলেন, এখানে নারী ও পুরুষের রুচিসম্মত সকল ধরনের পোষাক ও পাদুকা পাওয়া যাবে। ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী আমার আরও পোষাক সংযোজন করবো।

এই ঈদ উপলক্ষে সাধারণ ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে সকল পণ্যর উপর নির্দিষ্টহারে ছাড় দিবেন বলে জানান বায়োজিত মোল্যা।

পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় অভিমান—ভাঙ্গায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ গ্রাম

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৫ পিএম
পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় অভিমান—ভাঙ্গায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ গ্রাম

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় অপরূপা মন্ডল (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পারিবারিক অভিমান থেকে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ময়নাতদন্ত শেষে অপরূপার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে ভাঙ্গা উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়নের ভদ্রকান্দা গ্রাম থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত অপরূপা মন্ডল ওই গ্রামের বাবলু মন্ডলের মেয়ে এবং আব্দুলাবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের বার্ষিক পরীক্ষায় নবম শ্রেণিতে একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে পারেনি অপরূপা। এ নিয়ে বুধবার দুপুরে তার মা-বাবা তাকে বকাঝকা করেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে।

এরপর পরিবারের অজান্তে ঘরে থাকা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক পান করে অপরূপা। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, অপরূপা ছিল শান্ত স্বভাবের মেয়ে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো গ্রামজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। সহপাঠী ও শিক্ষকরাও এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে সন্তানদের মানসিক সহায়তা দেওয়া জরুরি, যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।