খুঁজুন
, ,

‘ফ্যামিলি কার্ড’ পেতে যা যা লাগবে? এক পলকে দেখে নিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
‘ফ্যামিলি কার্ড’ পেতে যা যা লাগবে? এক পলকে দেখে নিন

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি ধাপে পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড দেওয়া হবে। পরিবারে নারীদের গুরুত্ব বাড়ানো এবং স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা সরকারের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাহিদ হোসেন দাবি করেন, কার্ড প্রদানের প্রক্রিয়াটি এতটাই স্বচ্ছ হবে যে, এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না।

আবেদন প্রক্রিয়া ও তথ্য সংরক্ষণ

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হবে। এতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, ফলে অনিয়ম, ভুয়া তালিকা ও মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমবে।

প্রথম ধাপে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

আবেদন করতে যা যা লাগবে

যদিও পূর্ণাঙ্গ আবেদন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, তবু আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নিচের কাগজপত্র সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে-

১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

২. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি

৩. একটি সচল মোবাইল নম্বর

কোথায় আবেদন করবেন?

পাইলট কার্যক্রম শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি ঘরে বসে আবেদন করার সুবিধা দিতে একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

প্রতি পরিবারে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে মাসিক নগদ সহায়তা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে।

এদিকে আসন্ন ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুইজন মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রীসহ ১৫ সদস্যের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত এ কমিটিতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবরা অন্তর্ভুক্ত আছেন। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিটিকে প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতা, দেশ-বিদেশের সবার কাছে দোয়া কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতা, দেশ-বিদেশের সবার কাছে দোয়া কামনা

বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য এবং ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী আলেম মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বিরের মমতাময়ী মা আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগম (ব্রিটিশ নাগরিক) দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে অসুস্থ রয়েছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বির তাঁর মায়ের দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনায় দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া চেয়েছেন।

তিনি বলেন, “মা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। আমার মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং কষ্ট লাঘব করেন—এই দোয়াই সকলের কাছে কামনা করছি।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। বয়সজনিত কারণে তাঁর শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যার মধ্যে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁর সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অনুসারী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া করছেন। অনেকে আল্লাহর কাছে তাঁর রোগমুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত প্রার্থনা করেছেন।

ধর্মীয় অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বও আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগমের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, অসুস্থ মানুষের জন্য দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এবং একজন মায়ের সুস্থতার জন্য সন্তানের এই আবেদন মানবিকতারও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বির শেষবারের মতো আবারও সকলের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন সবাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে তাঁর মায়ের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করেন।

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান, ফরিদপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান, ফরিদপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত

‘সবার জন্য নিরাপদ ও পরিকল্পিত পরিবার, টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী এবং সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান।

এ সময় জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই), স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসম্মত পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

আলোচনা সভায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

খাল খনন শেষে ৭৩ লাখ টাকা বাঁচিয়ে সরকারি কোষাগারে ফেরালেন সালথার ইউএনও

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
খাল খনন শেষে ৭৩ লাখ টাকা বাঁচিয়ে সরকারি কোষাগারে ফেরালেন সালথার ইউএনও

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অপচয় কিংবা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ প্রায়ই আলোচনায় আসে। কিন্তু সেই প্রচলিত চিত্রের বাইরে গিয়ে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন গড়েছে এক ব্যতিক্রমী নজির। উপজেলার তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগের নেতৃত্বে ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের জন্য মোট ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় মোট ৪ দশমিক ৫৩৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানো এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা।

প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের মান ও অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। বিশেষ করে ইউএনও দবির উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।

কাজের গুণগত মান, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

প্রায় তিন মাসব্যাপী খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধ করা হয়। এরপরও ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা অব্যয়িত থাকে। সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) একাধিক সদস্য বলেন, শুরু থেকেই ইউএনও দবির উদ্দিন প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন, কাজের মান যাচাই এবং ব্যয়ের প্রতিটি খাত পর্যবেক্ষণের কারণে কোনো ধরনের অপচয় বা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে নির্ধারিত মান অক্ষুণ্ন রেখেই কম ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যেত না। পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যও রক্ষা পাবে। পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুনরুদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছেন।

সালথা উপজেলার বাসিন্দা আরমান মাতুব্বর ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “সরকারি প্রকল্পে কাজ শেষ হওয়ার পর টাকা ফেরত গেছে—এমন ঘটনা আমরা খুব একটা শুনি না। ইউএনও দবির উদ্দিন দেখিয়ে দিয়েছেন, সততা ও আন্তরিকতা থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব। আমরা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।”

একই উপজেলার আনোয়ার মোল্যা বলেন, “খাল পুনঃখননের কাজও ভালো হয়েছে, আবার সরকারের অনেক টাকাও বেঁচেছে। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা চাইলে যে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করা যায়, সালথার এই উদ্যোগ তার বড় উদাহরণ।”

সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. আছাদ মাতুব্বর ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “রাজনীতি যার যার জায়গায় থাকলেও ভালো কাজের প্রশংসা করতেই হবে। সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে অব্যয়িত টাকা কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগ অন্য উপজেলাগুলোর জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে।”

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে উন্নয়নের সুফল জনগণ পায়। সালথা উপজেলা প্রশাসন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যিই ইতিবাচক। ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্বচ্ছ প্রশাসনিক চর্চা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করি।”

সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “সরকারি প্রকল্পে ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার সংস্কৃতি শক্তিশালী হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপচয় রোধে এটি অন্য প্রশাসনিক ইউনিটগুলোর জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের মান অক্ষুণ্ন রেখে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি প্রমাণ করে, সৎ ও দক্ষ প্রশাসনিক নেতৃত্ব থাকলে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। ইউএনও দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে সালথা উপজেলা প্রশাসন যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা শুধু সালথা নয়, দেশের অন্যান্য প্রশাসনিক ইউনিটের জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি করবে।”

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে মান বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যয় করেছি। কাজ শেষ হওয়ার পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, সরকারি বিধি অনুযায়ী তা কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, যেখানে প্রায়ই সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, সেখানে সালথা উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। শুধু অর্থ সাশ্রয়ই নয়, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় সততা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার যে উদাহরণ তৈরি হয়েছে, তা অন্য প্রশাসনিক ইউনিটগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তারা।