খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পদ্মা থেকে বালি কাটায় দুইজনকে আটক, ড্রেজার পাইপ ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পদ্মা থেকে বালি কাটায় দুইজনকে আটক, ড্রেজার পাইপ ধ্বংস

ফরিদপুরের সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু কেটে নেওয়ার সময় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রায় পাঁচশত মিটার ড্রেজার কাজে ব্যবহৃত পাইপ ধ্বংস করা হয়।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে এ অভিযানে পরিচালনা করা হয়।

সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মফিজ উদ্দিন মুন্সির ডাংগী হতে রাজাই ব্যাপারীর ডাঙ্গী পর্যন্ত সড়কে এ অভিযান চলে। এ সময় বালু কাটার কাজে অংশ নেওয়া দুই শ্রমিক ফরহাদ শেখ (৩০) ও রুবেলকে (৩১) হাতেনাতে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মফিজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী হতে মমিন খার হাটে চলাচলের সড়কে অভিযান পরিচালনা করে চালু অবস্থায় একটি অবৈধ ড্রেজারের প্রায় ৫০০ মিটার পাইপ ধ্বংস করি।

এ সময় অবৈধ ড্রেজারে বালুকাটার কাজে নিয়োজিত দুইজন শ্রমিককে আটক করা হয়। আটকৃতরা জানান, রাকিব নামে একজন এই ড্রেজার মেশিন পরিচালনা করেন, সে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলা সংলগ্ন মগরব মাতুব্বরের পাড়ার জয়নাল মাতব্বরের ছেলে। অবৈধ ড্রেজার মালিককে অফিসে এসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অবৈধ ড্রেজারসহ যেকোনো বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।

অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিশেষ সহকারি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, স্থানীয় মেম্বার মো. ইউনুস আলী বেপারী, আনসার সদস্য ও চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশেরা।

ঘরোয়া কৌশলে যেভাবে কমানো যাবে বিদ্যুৎ বিল?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ
ঘরোয়া কৌশলে যেভাবে কমানো যাবে বিদ্যুৎ বিল?

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয় এখন শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজন নয়, বরং জাতীয় দায়িত্বও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব।

এতে যেমন কমবে মাসিক বিলের চাপ, তেমনি জাতীয় গ্রিডের ওপরও চাপ কমবে। তাই বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হওয়া সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সবার জানা উচিত যে বিষয়গুলো

দেশে গ্রীষ্মকাল এলেই বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে বাড়তি ব্যবহার সামাল দিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকেও বাড়তি চাপ মোকাবিলা করতে হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের একটি বড় অংশ সাশ্রয় করা সম্ভব।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম. তামিম বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বন্ধ করা। অনেক সময় আমরা প্রয়োজন না থাকলেও বাতি, ফ্যান কিংবা বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু রাখি। এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারলে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো—

এলইডি বাতির ব্যবহার বাড়ানো

প্রচলিত বাল্বের তুলনায় এলইডি বাতি অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। তাই বাসা কিংবা অফিসে এলইডি প্রযুক্তির আলো ব্যবহার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অন্যতম কার্যকর উপায়।

প্রয়োজন না হলে যন্ত্র বন্ধ রাখা

মোবাইল চার্জার, টেলিভিশন, কম্পিউটার কিংবা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র অনেক সময় ব্যবহার না হলেও বিদ্যুতের সংযোগে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব যন্ত্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার

গরমের সময় এসির ব্যবহার বাড়লেও তাপমাত্রা অযথা কমিয়ে রাখলে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এসি চালালে আরাম ও সাশ্রয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. মুজিবুর রহমান বলেন, এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং নিয়মিত সার্ভিসিং করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে যন্ত্রের দক্ষতা বাড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে।

প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের ব্যবহার

দিনের বেলায় যথাসম্ভব প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা এবং ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা গেলে বৈদ্যুতিক আলো ও ফ্যানের ওপর নির্ভরতা কমে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি কেনা

নতুন ফ্রিজ, এসি বা অন্যান্য গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি কেনার সময় বিদ্যুৎ দক্ষতা বিবেচনা করা উচিত। কম বিদ্যুৎ খরচ করে এমন প্রযুক্তি দীর্ঘমেয়াদে অর্থ সাশ্রয়ে সহায়ক হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রযুক্তি নয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ব্যবহারকারীর সচেতনতা। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে জাতীয় পর্যায়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় মানে শুধু নিজের বিল কমানো নয়; এটি জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আজ থেকেই বিদ্যুতের অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে বাবার অপমানের প্রতিবাদ, ঢাবি শিক্ষার্থীর মাথা ফাটাল দুর্বৃত্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বাবার অপমানের প্রতিবাদ, ঢাবি শিক্ষার্থীর মাথা ফাটাল দুর্বৃত্তরা

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তার মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।

আহত মলয় কান্তি বিশ্বাস নিশান (২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের মাস্টার্স প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী। তিনি নগরকান্দা পৌরসভার মধ্যজগদিয়া মহল্লার বাসিন্দা এবং সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা নলিনী কান্তি বিশ্বাসের ছেলে।

বুধবার (০৩ জুন) সন্ধ্যায় নগরকান্দা পৌরসভার মধ্যজগদিয়া মহল্লায় মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি (এম.এন. একাডেমি) সংলগ্ন সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে বিকেলে নলিনী কান্তি বিশ্বাসের এক প্রতিবেশীর তালগাছ থেকে দলবল নিয়ে তাল পাড়তে যান নগরকান্দা পৌরসভার জুঙ্গুরদী মহল্লার বাসিন্দা আরমান হোসেন (৩২)। এ সময় নলিনী বিশ্বাস তাদের তাল পাড়তে নিষেধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আরমান ও তার সহযোগীরা নলিনী বিশ্বাসকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

বিষয়টি জানতে পেরে মলয় কান্তি বিশ্বাস ঘটনাস্থলে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে এমন আচরণের কারণ জানতে চান এবং এর প্রতিবাদ করেন। তখন আরমান হোসেন তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।

আহত মলয় কান্তি বিশ্বাস জানান, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বের হওয়ার সময় বাড়ির সামনের সড়কে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস দিয়ে তার পথরোধ করা হয়। এরপর আরমান হোসেন ও তার সহযোগীরা বাঁশ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

তিনি বলেন, “কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করে। বাঁশের আঘাতে মাথা ফেটে যায়। হাত, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পাই। আমার সঙ্গে থাকা বন্ধু বিকাশ পালকেও মারধর করা হয়েছে।”

স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলার পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।

নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তাসমিমা আক্তার বলেন, “রোগীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত লেগে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। তাকে অন্তত দুই দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে বাসা নিকটবর্তী হওয়ায় তিনি বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আরমান হোসেন বলেন, “আপনি আমার সামনে এসে বক্তব্য নিয়ে যান।” তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল সামদানি আজাদ বলেন, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আলফাডাঙ্গায় ভুয়া স্বাক্ষরে জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, অভিযুক্তের শাস্তি চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় ভুয়া স্বাক্ষরে জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, অভিযুক্তের শাস্তি চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় জাল দলিল, ভুয়া স্বাক্ষর ও প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের জমি নিজের নামে নামজারি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাম কাজী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. শহিদুল ইসলাম।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে আলফাডাঙ্গা ডাকবাংলো সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহিদুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তার বাবা অলিয়ার রহমান বৈধ দানপত্রের মাধ্যমে তাকে ৩ শতাংশ জমি প্রদান করেন। পরবর্তীতে গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে ওই জমির নামজারির আবেদন করতে গেলে তিনি জানতে পারেন, জমিটি ইতোমধ্যে শাম কাজী নামের এক ব্যক্তি নিজের নামে নামজারি করে নিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০০৮ সালের একটি দলিল (নম্বর-৭৯১) দেখিয়ে জমিটির নামজারি সম্পন্ন করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। সেখানে সংরক্ষিত মূল দলিলে তার বাবা অলিয়ার রহমানের কোনো নাম, ছবি কিংবা স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। ফলে এটি সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা দলিল বলে প্রতীয়মান হয়।

শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর উপস্থাপন করা হলে তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। পরে প্রশাসন অভিযুক্ত শাম কাজীর নামে করা নামজারি বাতিল করে। তবে নামজারি বাতিল হলেও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অভিযুক্ত পক্ষ তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে। ফলে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের কাছে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত মূল হোতা, সহযোগী এবং ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি তার পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) একেএম রায়হানূর রহমান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট নামজারি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”