খুঁজুন
, ,

“অন্তহীন এ জীবন”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
“অন্তহীন এ জীবন”

বৃষ্টিভেজা বিকেলের শেষে আকাশটা আজ অদ্ভুত রকমের বিষণ্ন। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রাহাত চুপচাপ তাকিয়ে আছে দূরের কুয়াশা ঢাকা মাঠের দিকে। মাঠটা একসময় ছিল তার শৈশবের হাসি-আনন্দের কেন্দ্র, কিন্তু এখন যেন সবকিছু ফাঁকা, নির্জন—একদম তার নিজের জীবনের মতো।

রাহাত ভাবছিল—জীবনটা কি সত্যিই এতটা দীর্ঘ, নাকি শুধু টেনে নেওয়া কিছু নিঃশ্বাসের হিসাব?
তার মনে পড়ে, একসময় এই জীবনটাই ছিল স্বপ্নে ভরা। ছোট্ট গ্রাম, নদীর ধারে কাশবন, বিকেলে বন্ধুদের সাথে দৌড়ঝাঁপ—সবকিছুই যেন ছিল রঙিন। মা তখন বেঁচে ছিলেন। বাবার মুখে হাসি ছিল। সংসারে ছিল অভাব, কিন্তু ছিল শান্তি।
“জীবন মানে তো সুখ-দুঃখের মিশেল,”—মা প্রায়ই বলতেন।

কিন্তু তখন কে জানত, এই দুঃখ একদিন এতটা গভীর হয়ে উঠবে!

মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই রাহাতের জীবনটা যেন থমকে যায়। বাবা হয়ে ওঠেন নিরব মানুষ। কথা বলা কমে যায়, হাসি তো একেবারেই হারিয়ে যায়। আর রাহাত? সে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে—জীবন আসলে কোনো গল্প না, এটা এক ধরনের যুদ্ধ।
একদিন রাতে বাবার পাশে বসে রাহাত বলেছিল,
“আব্বা, মা থাকলে সবকিছু অন্যরকম হতো, না?”
বাবা অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলেছিলেন,
“মানুষ চলে যায়, কিন্তু জীবন থামে না। এইটাই সবচেয়ে কঠিন সত্য।”

সেদিন কথাটা বুঝতে পারেনি রাহাত। আজ বুঝতে পারে।
সময় গড়িয়ে যায়। রাহাত শহরে আসে পড়াশোনার জন্য। নতুন শহর, নতুন মানুষ, নতুন স্বপ্ন। সে ভাবতে শুরু করে—হয়তো জীবন আবার নতুন করে শুরু করা যায়।

শহরের ব্যস্ততা তাকে ধীরে ধীরে ভুলিয়ে দেয় গ্রামের স্মৃতি। কিন্তু কিছু কিছু স্মৃতি থাকে—যেগুলো কখনো মুছে যায় না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তার জীবনে আসে মায়া।

মায়া—নামের মতোই রহস্যময়। চোখে ছিল গভীরতা, হাসিতে ছিল এক অদ্ভুত শান্তি। প্রথম দিন ক্লাসে দেখা, তারপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব।
একদিন বিকেলে ক্যাম্পাসের গাছতলায় বসে মায়া হঠাৎ জিজ্ঞেস করেছিল,
“তুমি এত চুপচাপ কেন?”
রাহাত হেসে বলেছিল,
“চুপ থাকলেই কি খারাপ?”
মায়া বলেছিল,
“না, কিন্তু তোমার চুপ থাকায় একটা কষ্ট লুকিয়ে থাকে।”
সেদিন প্রথমবার কেউ তার ভেতরের কষ্টটা চিনে ফেলেছিল।

এরপর থেকে তাদের সম্পর্কটা ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। বন্ধুত্বের সীমা পেরিয়ে সেটা একসময় ভালোবাসায় রূপ নেয়।
মায়া বলত, “জানো, জীবনটা যতই কঠিন হোক, পাশে যদি একজন মানুষ থাকে, সবকিছু সহজ হয়ে যায়।”

রাহাত বিশ্বাস করতে শুরু করে—হয়তো তার জীবনও সুন্দর হতে পারে।
কিন্তু জীবন কি কখনো এত সহজ হয়?
একদিন হঠাৎ করেই মায়া দূরে সরে যেতে শুরু করে। ফোন ধরত না, মেসেজের উত্তর দিত না। দেখা হলে এড়িয়ে যেত।

রাহাত বুঝতে পারছিল না—কি হচ্ছে?
অবশেষে একদিন মায়া নিজেই দেখা করতে চাইল।
ক্যাম্পাসের সেই পুরোনো গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিল সে।

রাহাত কাছে যেতেই মায়া বলল,
“আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।”
কথাটা যেন বজ্রপাতের মতো আঘাত করল।
“কি?”—রাহাত শুধু এইটুকুই বলতে পারল।
মায়া মাথা নিচু করে বলল,
“বাড়ির সিদ্ধান্ত। আমি কিছু করতে পারিনি।”
“আর আমাদের ভালোবাসা?”—রাহাতের কণ্ঠ কাঁপছিল।

মায়া চোখ তুলে তাকাল। চোখে পানি।
“সব ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না, রাহাত।”
সেদিন আকাশে রোদ ছিল, কিন্তু রাহাতের ভেতরটা অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল।
মায়ার বিয়ের পর রাহাত পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। পড়াশোনায় মন বসে না, বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
রাতে ঘুম আসে না। বারবার মনে পড়ে মায়ার কথা, তার হাসি, তার চোখ।
একদিন সে নিজেকে প্রশ্ন করে—
“এই জীবনটা কি সত্যিই বেঁচে থাকার মতো?”
কিন্তু তারপরই বাবার কথা মনে পড়ে—
“জীবন থামে না।”
সে বুঝতে পারে, জীবন থেমে থাকলেও সময় থামে না। সময় তাকে টেনে নিয়ে যায় সামনে।

বছর পেরিয়ে যায়।
রাহাত এখন চাকরি করে। একটা ছোট্ট ফ্ল্যাটে একা থাকে। বাইরে থেকে সবকিছু ঠিকঠাক—চাকরি আছে, টাকা আছে, একটা স্থির জীবন।
কিন্তু ভেতরে?
ভেতরে এখনো সেই শূন্যতা।
একদিন অফিস থেকে ফেরার পথে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। রাহাত ভিজতে ভিজতে হাঁটতে থাকে।
তার মনে হয়—জীবনটা ঠিক এই বৃষ্টির মতো। কখন যে শুরু হয়, কখন যে থামে—কেউ জানে না।

হঠাৎ রাস্তার পাশে একটা ছোট্ট মেয়ে তাকে ডাকল,
“ভাইয়া, ফুল নিবেন?”
রাহাত থেমে গেল।
মেয়েটার বয়স খুব বেশি হলে আট-নয় বছর। ভেজা কাপড়, হাতে কিছু ফুল।
“তুমি এখানে কেন?”—রাহাত জিজ্ঞেস করল।
মেয়েটা হেসে বলল,
“ফুল বিক্রি করি। না হলে খাই কী?”
এই ছোট্ট মেয়েটার হাসি দেখে রাহাত অবাক হয়ে গেল। এত কষ্টের মধ্যেও সে হাসতে পারে!
রাহাত সব ফুল কিনে নিল।

মেয়েটা খুশিতে বলল,
“আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুক ভাইয়া!”
কথাটা শুনে রাহাতের চোখে পানি চলে এল।
সে ভাবল—
“আমার তো সব আছে, তবুও আমি সুখী না। আর এই মেয়েটার কিছুই নেই, তবুও সে হাসতে পারে!”
সেদিন রাতে রাহাত প্রথমবার নিজের জীবনকে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করল।
সে বুঝতে পারল—
জীবন শুধু নিজের কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকার নাম না। জীবন মানে অন্যের জন্য কিছু করা, অন্যের হাসিতে নিজের সুখ খুঁজে পাওয়া।

পরের দিন থেকেই সে বদলে যেতে শুরু করে।
প্রতিদিন অফিস শেষে সে রাস্তার সেই বাচ্চাদের সাথে সময় কাটায়। তাদের পড়ায়, তাদের জন্য খাবার নিয়ে যায়।
ধীরে ধীরে তার জীবনে নতুন এক আলো আসতে শুরু করে।
একদিন সেই ছোট্ট মেয়েটা—যার নাম ছিল রিমি—হেসে বলল,
“ভাইয়া, আপনি আসলে ভালো লাগে।”
রাহাত হেসে বলল,
“আমারও ভালো লাগে।”
সেদিন অনেকদিন পর সে সত্যিকারের হাসল।
বছর কেটে যায়।

রাহাত এখন একটা ছোট্ট স্কুল চালায় পথশিশুদের জন্য। তার জীবনের লক্ষ্য বদলে গেছে।
একদিন সন্ধ্যায় স্কুলের ছাদে দাঁড়িয়ে সে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।
তার মনে পড়ে মা, মায়া, তার অতীত।
সবকিছুই যেন এখন একেকটা গল্প।

সে ধীরে ধীরে বুঝতে পারে—
জীবন কখনো থামে না। এটা চলতেই থাকে।
কখনো সুখে, কখনো দুঃখে।
কখনো হারিয়ে, কখনো খুঁজে পেয়ে।
হঠাৎ একদিন সে শুনতে পেল, কেউ তার নাম ধরে ডাকছে।
“রাহাত?”
পেছনে ফিরে সে অবাক হয়ে গেল।
মায়া দাঁড়িয়ে আছে।
সময়ের সাথে সে বদলে গেছে, কিন্তু চোখ দুটো আগের মতোই আছে।
“কেমন আছ?”—মায়া জিজ্ঞেস করল।

রাহাত একটু হেসে বলল,
“ভালো আছি।”
“তুমি?”—সে জিজ্ঞেস করল।
মায়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“ভালো থাকার চেষ্টা করছি।”
তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত নীরবতা।
তারপর মায়া বলল,
“তুমি বদলে গেছ।”
রাহাত হেসে বলল,
“জীবন বদলে দিয়েছে।”
মায়া চারপাশে তাকিয়ে বলল,
“এই স্কুলটা তোমার?”
“হ্যাঁ।”
মায়া মৃদু হেসে বলল,
“তুমি সত্যিই বড় কিছু করেছ।”
রাহাত কিছু বলল না।

সে বুঝতে পারছিল—সব কথা বলা যায় না।
মায়া চলে যাওয়ার আগে বলল,
“জানো, আমি অনেক সময় ভাবি—যদি সবকিছু অন্যরকম হতো?”
রাহাত শান্তভাবে বলল,
“সবকিছু যেমন হয়েছে, সেটাই ঠিক ছিল।”
মায়া অবাক হয়ে তাকাল।
রাহাত বলল,
“কারণ এই পথেই আমি নিজেকে খুঁজে পেয়েছি।”
মায়ার চোখ ভিজে উঠল।
সে কিছু না বলে চলে গেল।
রাতের আকাশে চাঁদ উঠেছে।
রাহাত ছাদের উপর বসে আছে।
তার মনে হচ্ছে—জীবনটা আসলে শেষ হওয়ার মতো না। এটা চলতেই থাকে, একের পর এক অধ্যায় নিয়ে।
কিছু মানুষ আসে, কিছু মানুষ চলে যায়।
কিছু স্বপ্ন ভেঙে যায়, কিছু স্বপ্ন নতুন করে জন্ম নেয়।

কিন্তু জীবন?
জীবন কখনো থামে না।
এটা এক অন্তহীন যাত্রা।
রাহাত চোখ বন্ধ করে।
তার মুখে এক শান্তির হাসি।
সে মনে মনে বলে—
“অন্তহীন এ জীবন… তবুও সুন্দর।”

 

লেখক: হারুন-অর-রশীদ, সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

ফরিদপুরে মাদ্রাসার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৭ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৭ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের মধুখালীতে মাদ্রাসার আবাসিক ১১ বছর বয়সী এক শিশুছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মো. সাহেদ আলী (৭৭) নামে এক বৃদ্ধকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে জরিমানার অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী ওই শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

​বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ জুন রাত ১টার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীদের কক্ষে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সাহেদ আলী। তিনি ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও এক শিক্ষকের বাবা। এ সময় শিশুটির চিৎকারে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

​ঘটনার কয়েক দিন পর শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানালে, ৭ জুলাই শিশুটির মা বাদী হয়ে সাহেদ আলীকে একমাত্র আসামি করে মধুখালী থানায় একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিম উদ্দীন ফকির।

​আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, “দরিদ্র পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে শিশুটির সঙ্গে আসামি যে অপরাধ করেছেন, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এ রায়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না—এ রায়ে সেই বার্তাই ফুটে উঠেছে।”

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব নির্বাচনে সভাপতি আচ্চু, সম্পাদক তামিম

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব নির্বাচনে সভাপতি আচ্চু, সম্পাদক তামিম

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে সৈয়দ আমিনুর রহমান আচ্চু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে তামিম আহমেদ মিলন নির্বাচিত হয়েছেন।

​বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ও নির্বাচনের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আশরাফুর রহমান।

​ঘোষিত ফলাফলে জানা যায়, ২১ জন ভোটারের মধ্যে ১৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সভাপতি পদে সৈয়দ আমিনুর রহমান আচ্চু ৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সেকেন্দার শেখ পেয়েছেন ৮ ভোট (১৮টি ভোটের মধ্যে ১৭টি বৈধ)।

​সহ-সভাপতি পদে ১টি ভোটে তাজমিনউর রহমান তুহিন নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুর রহমান দুলাল পেয়েছেন ৭ ভোট।

​সাধারণ সম্পাদক পদে তামিম আহমেদ মিলন ১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম আজম মনি পেয়েছেন ৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ তিনটি পদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তামিম আহমেদ মিলন। বাকি পদগুলোতে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

​নির্বাচন শেষে আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সদ্য সাবেক সভাপতি এনায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করেন।

​নবনির্বাচিত সভাপতি সৈয়দ আমিনুর রহমান আচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক তামিম আহমেদ মিলন প্রেসক্লাবের উন্নয়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা রক্ষায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

​প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আশরাফুর রহমান জানান, সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

ফরিদপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ ৪ বছরেও শেষ হয়নি, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ ৪ বছরেও শেষ হয়নি, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে জাইকার অর্থায়নে নির্মিতব্য একটি এইচবিবি (হেরিংবোন বন্ড) সড়কের কাজ সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের সামান্য কিছু অংশ করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল তুলে নিয়েছে প্রায় অর্ধেক টাকা। দীর্ঘসূত্রতায় চরম ভোগান্তিতে পড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

​দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি পায় ‘এম এস মোল্যা কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইউনিয়নের নন্দলালপুর ঘাট থেকে ওয়াহেদ মোল্যার কান্দি (কালা মিয়া শিকদারের দোকান) পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার (৪,৭১২ মিটার) দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

​উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নির্ধারিত মেয়াদের দীর্ঘ সময় পার হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৭০০ মিটার কাজ সম্পন্ন করেছে। অথচ এরই মধ্যে তারা তুলে নিয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। বাকি কাজ ফেলে রাখায় থমকে আছে পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি।

​পদ্মাবেষ্টিত এই ইউনিয়নটি যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত দিক থেকে এমনিতেই পিছিয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয়দের আশা ছিল, সড়কটি নির্মিত হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। কিন্তু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সেই আশা ম্লান হয়ে গেছে।

​বিশ্বনাথপুর আকন গ্রামের বাসিন্দা আমিন শেখ বলেন, ‘সড়কটির কাজ শুরু হওয়ায় আমরা অনেক আশাবাদী হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, আমাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার অবসান হবে। কিন্তু সাড়ে চার বছর পার হলেও কাজ শেষ হয়নি। সামান্য কিছু কাজ করে ফেলে রাখা হয়েছে। বর্ষার সময় আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।’

​দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সড়কটি এই ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাজটি দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত থাকায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

​এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস মোল্যা কনস্ট্রাকশনের মালিক মো. কামরুজ্জামান টিটুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু এহসান মিয়া বলেন, ‘আমার দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল। প্রকল্পের অগ্রগতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দেখে বিস্তারিত বলা যাবে।’

​বর্তমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বেগম জানান, ‘প্রকল্পটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কাজের অগ্রগতি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ এবং বাকি কাজের বিষয়ে নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’