খুঁজুন
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

আত্মাকে পবিত্র করতে চান? রমজানে মানুন এই ৫ উপায়

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
আত্মাকে পবিত্র করতে চান? রমজানে মানুন এই ৫ উপায়

রমজান শুধু রোজা রাখার মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি ও হৃদয়ের চিকিৎসার শ্রেষ্ঠ সময়। সারা বছরের গুনাহ, গাফেলতি ও দুনিয়ার ব্যস্ততায় মানুষের অন্তর কঠিন হয়ে যায়। রমজান সেই অন্তরকে কোমল করার, আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এবং ইমানকে নবায়ন করার এক অনন্য সুযোগ।

আল্লাহ তাআলা এই মাসে কুরআন নাজিল করেছেন, শয়তানকে বন্দি করা হয় এবং বান্দার জন্য রহমত ও মাগফিরাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। তাই আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য এ সময়টিই সবচেয়ে উপযোগী।

প্রখ্যাত আলেম ইয়াহিয়া ইবন মুয়াজ (রহ.) বলেছেন— কুরআন তিলাওয়াত, কম খাওয়া, কিয়ামুল লাইল করা, সেহরির সময় দোয়া করা এবং নেককারদের সঙ্গ—এই পাঁচটি বিষয়ই রমজানের প্রধান ফোকাস হওয়া উচিত। এগুলোই অন্তরের প্রকৃত মহৌষধ।

নিচে এই পাঁচটি আমলের গুরুত্ব কুরআন ও হাদিসের আলোকে তুলে ধরা হলো—

১. কুরআন বুঝে পড়া

রমজান মাস মূলত কুরআনের মাস। মানবজাতির হেদায়েতের জন্য এই মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে। তাই শুধু তিলাওয়াত নয়, বুঝে পড়া এবং নিজেদের জীবনে তা বাস্তবায়ন করা জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ

‘রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে—মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য-মিথ্যার স্পষ্ট প্রমাণস্বরূপ।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৫)

আরও বলা হয়েছে—

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ

‘তারা কি কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না?’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ৮২)

২. কম আহার করা

কম খাওয়া আত্মসংযম শেখায় এবং ইবাদতে মনোযোগ বাড়ায়। অতিরিক্ত আহার মানুষের অন্তরকে কঠিন করে এবং অলসতা সৃষ্টি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَا مَلَأَ آدَمِيٌّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ، بِحَسْبِ ابْنِ آدَمَ أُكُلَاتٌ يُقِمْنَ صُلْبَهُ

‘মানুষ পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র পূর্ণ করেনি। মানুষের জন্য এতটুকু খাদ্যই যথেষ্ট, যা তার দেহকে সচল রাখে।’ (তিরমিজি ২৩৮০)

রমজানের উদ্দেশ্যই হলো তাকওয়া অর্জন, আর সংযম ছাড়া তাকওয়া অর্জন সম্ভব নয়।

৩. কিয়ামুল লাইল করা

রাতের ইবাদত মানুষের অন্তরকে জীবিত করে। রমজানের তারাবিহ ও তাহাজ্জুদ বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

‘যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি ২০০৯, মুসলিম ৭৬০)

আল্লাহ তাআলা বলেন—

كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ

‘তারা রাতে অল্প সময়ই নিদ্রা যেত।’ (সুরা আয-যারিয়াত: আয়াত ১৭)

৪. শেষ রাতে আল্লাহর কাছে দোয়া করা

সেহরির সময় আল্লাহর রহমত বিশেষভাবে নাজিল হয়। এটি দোয়া ও ইস্তেগফারের সবচেয়ে উত্তম সময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ فَيَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ

‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের প্রতিপালক দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন—কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব?’ (বুখারি ১১৪৫, মুসলিম ৭৫৮)

আল্লাহ তাআলা নেককারদের সম্পর্কে বলেন

‘আর তারা শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা করত।’ (সুরা আয-যারিয়াত: আয়াত ১৮)

৫. দ্বীনি সহচার্য লাভ করা

নেককারদের সঙ্গ মানুষের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং অন্তরকে আল্লাহমুখী করে তোলে। ভালো মানুষের সঙ্গ মানুষকে ভালো পথে পরিচালিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন

 يُخَالِلُ

‘মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের ওপর থাকে। তাই তোমরা দেখো কাকে বন্ধু বানাচ্ছ।’ (আবু দাউদ ৪৮৩৩, তিরমিজি ২৩৭৮)

আর আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ

‘তুমি নিজেকে তাদের সঙ্গেই রাখো, যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের প্রতিপালককে ডাকে।’ (সুরা আল-কাহফ: আয়াত ২৮)

রমজান একটি সীমিত সময়ের নিয়ামত, কিন্তু এর প্রভাব হতে পারে আজীবন। এই মাসে কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, কম খাওয়া, রাত জেগে ইবাদত করা, শেষ রাতে দোয়া করা এবং নেককারদের সঙ্গ গ্রহণ— এই পাঁচটি আমল মানুষের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ খুলে দেয়।

যদি আমরা এই রমজানে অন্তরের চিকিৎসা করতে পারি, তাহলে আমাদের জীবন বদলে যেতে পারে। কারণ সুস্থ হৃদয়ই হলো সফলতার মূল চাবিকাঠি— দুনিয়াতেও, আখিরাতেও।

সূত্র: যুগান্তর

ফরিদপুরে ভ্যাপসা গরমের দাপট, হাঁসফাঁস করছে মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভ্যাপসা গরমের দাপট, হাঁসফাঁস করছে মানুষ

গত কয়েকদিন ধরে তীব্র ভাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ফরিদপুরের জনজীবন। দিনের পাশাপাশি রাতেও মিলছে না স্বস্তি। প্রচণ্ড রোদ, বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং বৃষ্টির অনুপস্থিতিতে জেলার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, কৃষক ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা কর্মজীবীদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ফরিদপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ০২ ডিগ্রি এবং শুক্রবার ৩৪ দশমিক ০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও শুক্রবার তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে, তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি কমেনি। বরং ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে মানুষ আরও অস্বস্তি অনুভব করছেন।

শনিবার (০৬ জুন) দুপুরে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। রাস্তাঘাট, বাজার ও জনসমাগমস্থলে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। যারা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগকেই ছাতা, টুপি কিংবা পানির বোতল সঙ্গে রাখতে দেখা গেছে।

শহরের আলীপুর এলাকার রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, “সকালে কিছুটা কাজ করা গেলেও দুপুরের পর রাস্তায় থাকা কঠিন হয়ে যায়। কয়েক মিনিট রোদে থাকলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। যাত্রীও কমে গেছে।”

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান সদর উপজেলার কৃষক মজিবর শেখ। তিনি বলেন, “ধান ও সবজির জমিতে কাজ করতে গিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। সকাল থেকে গরমের কারণে শ্রমিকরাও বেশিক্ষণ মাঠে থাকতে পারছেন না।”

ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অত্যধিক বেশি থাকার কারণেই মানুষ বেশি ঘামছেন এবং তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলেও গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীর থেকে ঘাম সহজে শুকাতে পারে না, ফলে অস্বস্তি ও ক্লান্তি বেড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তখন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বাড়বে এবং তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। এর ফলে গরমের তীব্রতা কমে স্বস্তি ফিরতে পারে জনজীবনে।

চিকিৎসকরা এই গরমে প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বাইরে বের হলে পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা রঙের সুতি পোশাক ব্যবহার এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা ও ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে টানা গরমে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। অনেক এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গরমে অতিষ্ঠ ফরিদপুরবাসী এখন এক পশলা বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটবে এবং দীর্ঘদিনের এই ভাপসা গরম থেকে মিলবে কিছুটা স্বস্তি।

সাংবাদিক আনিচের ওপর হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক আনিচের ওপর হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি

দেশ টিভি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ফরিদপুর প্রতিনিধি মো. আনিচুর রহমান আনিচের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (০৬ জুন) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সংবাদকর্মীরা এ মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক আনিচুর রহমান হামলার শিকার হয়েছেন। এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সত্য প্রকাশের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে ভবিষ্যতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হামলার শিকার সাংবাদিক আনিচুর রহমান বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ ও সত্য তুলে ধরা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে আমি বিভিন্ন সময় হুমকি পেয়েছি। পরে হাসপাতালের ভেতরেও আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিক এ ধরনের হামলার শিকার না হন।”

মধুখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হোসেন পলাশ বলেন, “সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যারা সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে, তারা মূলত সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা হোক।”

ভাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি ও আরটিভির সাংবাদিক আল ইমরান বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা এ ঘটনার দ্রুত বিচার চাই।”

বক্তারা আরও বলেন, সম্প্রতি ফরিদপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এব্যাপারে জানতে চাইলে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

উল্লেখ্য, এলজিইডির একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জেরে গত ২০ মে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে সাংবাদিক আনিচুর রহমানের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ঠিকাদারসহ ৮-৯ জনের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদে ভেসে উঠল অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদে ভেসে উঠল অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভুবনেশ্বর নদ থেকে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অনেকটাই বিবস্ত্র ও অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। নিহত কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ বছর হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার চরকৃষ্ণপুর এলাকার ভুবনেশ্বর নদে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সদরপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে নদীর পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান কয়েকজন জেলে ও এলাকাবাসী। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল মিয়াকে জানানো হলে তিনি থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করে।

সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে ফরেনসিক ও সিআইডি টিম কাজ করছে। এখন পর্যন্ত নিহত কিশোরীর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।