খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

২৮ বছরের কবরস্থান নিজের নামে রেজিস্ট্রি! নগরকান্দায় ক্ষোভে ফুঁসছে দুই গ্রামের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
২৮ বছরের কবরস্থান নিজের নামে রেজিস্ট্রি! নগরকান্দায় ক্ষোভে ফুঁসছে দুই গ্রামের মানুষ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের পাঁচকাইচাইল গ্রামে দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি কবরস্থানের জমি নিয়ে চরম বিরোধ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই গ্রামের মানুষের ব্যবহৃত কবরস্থানের জমি গোপনে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন সারোয়ার মাতুব্বর নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচকাইচাইল ও মাঝিকান্দা গ্রামের মানুষের জন্য প্রায় তিন দশক আগে কবরস্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয় জমিটি। এরপর থেকে দুই গ্রামের বাসিন্দারা তাদের স্বজনদের এই কবরস্থানে দাফন করে আসছেন। এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মৃত ব্যক্তির কবর রয়েছে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি সারোয়ার মাতুব্বর ওই জমির মালিকানা দাবি করে নিজের নামে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেছেন। শুধু তাই নয়, কবরস্থানের একটি অংশে বাথরুম নির্মাণ এবং সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কবরস্থান শুধু একটি জমি নয়, এটি মৃত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল এবং এলাকার মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত একটি স্থান। দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত জায়গা নিয়ে মালিকানা বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, “আমাদের বাবা-দাদা, আত্মীয়-স্বজনের কবর এখানে রয়েছে। এই জমি যদি ব্যক্তিগত মালিকানায় চলে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কবরস্থানটি হুমকির মুখে পড়বে। আমরা কবরস্থানের জমি সংরক্ষণ ও স্থায়ী সমাধান চাই।”

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। ফলে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে।

অভিযুক্ত সারোয়ার মাতুব্বর দাবি করেন, “আমি প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে অনেক আগে মৌখিকভাবে জমিটি ক্রয় করেছি। প্রায় এক মাস আগে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নিজের নামে দলিল করেছি। এখন গ্রামের লোকজন জমিটি ফেরত চাইছে।”

তবে দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত একটি জমি এত বছর পর নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

বুধবার (৪ জুন) বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে তৎপরতা শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান বলেন, “কবরস্থানের জমি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনে আমরা কাজ করছি। এলাকার মুরুব্বি ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। কবরস্থানের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।”

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমির বিরোধে মসজিদের ইমামকে কুপিয়ে জখম

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমির বিরোধে মসজিদের ইমামকে কুপিয়ে জখম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক মসজিদের ইমামকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে আপন চার ভাই, এক বোন এবং দুই ভাইয়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, আহত ইমামই প্রথমে হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

বুধবার (০৩ জুন) সন্ধ্যার আগে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের কঠুরাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শফিকুল ইসলাম (৪৫) কঠুরাকান্দি গ্রামের মৃত গোলাম রহমান মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত এবং নগরকান্দা জামে মসজিদে ইমামতি করেন।

শফিকুল ইসলামের স্ত্রী তাছলিমা বেগম আলফাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীর সঙ্গে বড় ভাই নুরুল ইসলাম টুকুসহ চার ভাই ও এক বোনের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বুধবার সন্ধ্যার পূর্বমুহূর্তে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে গালাগাল শুরু করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গালাগালের প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা শফিকুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার মাথা ও হাতের আঙুলে গুরুতর জখম হয়েছে এবং সেখানে মোট ১২টি সেলাই দিতে হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, শফিকুল ইসলামই তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।

অভিযুক্ত কিবরিয়া মিয়া ও তার স্ত্রী পারভিন বেগম জানান, ঘটনার সময় শফিকুল ইসলাম তাদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পারভিন বেগমও আহত হন এবং তাকেও আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

এ ঘটনায় বুধবার রাতেই কিবরিয়া মিয়া বাদী হয়ে শফিকুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “উভয় পক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি মূলত পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটেছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ফরিদপুরে কবরের ফুলগাছ চুরি, প্রতিশোধ নয়—১,৫০০ ফুলগাছে পুরো গ্রাম সাজালেন যুবক

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কবরের ফুলগাছ চুরি, প্রতিশোধ নয়—১,৫০০ ফুলগাছে পুরো গ্রাম সাজালেন যুবক

বাবা ও দাদির কবরের পাশে ভালোবাসা আর স্মৃতির নিদর্শন হিসেবে লাগানো ফুলগাছ একদিন হঠাৎ চুরি হয়ে যায়। এমন ঘটনায় যে কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারেন, চোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে পারেন। কিন্তু ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ বেছে নিয়েছেন এক ভিন্ন পথ। প্রতিশোধ নয়, তিনি জবাব দিয়েছেন ভালোবাসা দিয়ে। কবর থেকে চুরি হওয়া কয়েকটি ফুলগাছের বদলে পুরো গ্রামজুড়ে রোপণ করেছেন ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে প্রয়াত বাবা ও দাদির স্মৃতিকে ঘিরে কবরের পাশে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগান শামীম। প্রতিদিন নিয়মিত পরিচর্যা ও যত্নে গাছগুলো ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। এর মধ্যে একটি গাছে ফুলও ফুটেছিল। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

এক সকালে কবরস্থানে গিয়ে তিনি দেখেন, সেখানে লাগানো ফুলগাছগুলো আর নেই। কেউ রাতের অন্ধকারে গাছগুলো তুলে নিয়ে গেছে। এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি। তবে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ বা প্রতিশোধের চিন্তা না করে তিনি বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখার চেষ্টা করেন।

শামীমের ভাষায়, “প্রথমে খুব খারাপ লেগেছিল। পরে ভাবলাম, যে মানুষ গাছগুলো নিয়ে গেছে, সে হয়তো ফুল ভালোবাসে। যদি ফুলের প্রতি তার ভালোবাসা থাকে, তাহলে আরও বেশি ফুল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত।”

এই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের। নিজস্ব অর্থায়নে তিনি পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের প্রায় ৫০০টি বাড়ির সামনে তিনটি করে মোট ১,৫০০টি ফুলগাছ রোপণের উদ্যোগ নেন। ইতোমধ্যে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে হাসনাহেনা, কামিনী, শিউলীসহ নানা প্রজাতির সৌন্দর্যবর্ধক গাছ লাগানো হয়েছে।

গ্রামবাসীরা বলছেন, এমন উদ্যোগ শুধু গ্রামের সৌন্দর্যই বাড়াবে না, বরং পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফুলগাছের সুবাস ও সৌন্দর্যে গ্রাম আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। পাশাপাশি অন্যদের মাঝেও গাছ লাগানোর আগ্রহ তৈরি হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্তমান সময়ে যখন পরিবেশ দূষণ ও সবুজের সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন একজন তরুণের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ব্যক্তিগত ক্ষতিকে তিনি সামাজিক কল্যাণে রূপ দিয়েছেন, যা অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে।

শামীমের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একটি ছোট ঘটনা থেকে জন্ম নেওয়া এই মহৎ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অনেক মানুষকে পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করবে।

বাবা ও দাদির কবর থেকে হারিয়ে যাওয়া কয়েকটি ফুলগাছ হয়তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু সেই শূন্যতা পূরণ করতে গিয়ে শামীম যে ভালোবাসার বাগান গড়ে তুলেছেন, তা শুধু একটি গ্রামের নয়, মানবিকতারও এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ফরিদপুরে কৃষকের পাটখেতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে কৃষকের পাটখেতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের পশড়া গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমিতে থাকা পাটখেতে পচননাশক ঔষধ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবুল হোসেন ওরফে বাক্কু মিয়া কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বুধবার (০৩ জুন) দুপুরে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় দায়ের করা অভিযোগে আবুল হোসেন (৬৬) জানান, পশড়া মৌজার একটি পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী সহিদ বেপারী, জাহিদ বেপারী ও আক্কাস বেপারীর সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছে। জমি নিয়ে বিভিন্ন সময় মনোমালিন্য ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিবাদীরা প্রায়ই তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং বিভিন্নভাবে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ জুন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্তরা তার মালিকানাধীন জমিতে থাকা পাটখেতে পচননাশক ঔষধ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করে দেয়। এতে প্রায় ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগী আরও জানান, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় লোকজন অবগত রয়েছেন এবং প্রয়োজন হলে সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

অভিযোগে উল্লিখিত তফসিল অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিটি কোতয়ালী থানাধীন ৯৯ নম্বর কৈজুরী মৌজার এসএ দাগ নং-২৬৮২ এবং বিএস দাগ নং-৩৭০৪ এর অন্তর্ভুক্ত ১৯ শতাংশ জমি।

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”