খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

মূল জানাজার আগে গায়েবানা জানাজা পড়া কি জায়েজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৩ এএম
মূল জানাজার আগে গায়েবানা জানাজা পড়া কি জায়েজ?

সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও গায়েবানা জানাজা আদায় করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকুস।

এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে, মূল জানাজার আগে গায়েবানা জানাজা জায়েজ কি না। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘খোদ গায়েবানা জানাজা বৈধ আছে কি না।’

বাংলাদেশের ইসলামি গবেষণা পত্রিকা ‘মাসিক আল কাউসার’এবং সৌদি আরবভিত্তিক ফাতাওয়া ওয়েব সাইট ‘ইসলাম সওয়াল-জওয়াব’র আলোকে কালবেলার পাঠকদের জন্য বিষয়টির বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হলো।

আল কাউসারে বলা হয়েছে, জানাজা নামাজ সহিহ হওয়ার জন্য লাশ সামনে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাজা নামাজ আদায়ের বিধান নেই।

নবীজি (সা.)- এর জীবদ্দশায় অসংখ্য সাহাবি মদিনার বাইরে দূর-দূরান্তে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে তাদের গায়েবানা জানাজা পড়ার কোনো ঘটনা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নেই। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামের জানাজা নামাজ পড়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ছিলেন। এজন্য তিনি বলে দিয়েছিলেন যে, ‘তোমাদের কেউ মারা গেলে আমাকে জানাবে। কেননা আমার জানাজা নামাজ মৃতের জন্য রহমত। (সহিহ ইবনে হিব্বান :৩০৮৩)

তদ্রূপ খোলাফায়ে রাশেদিন থেকেও গায়েবানা জানাজা নামাজ পড়ার প্রমাণ নেই। অথচ তাদের খেলাফতকালে বিভিন্ন মুজাহিদ শহীদ হয়েছেন। গায়েবানা জানাজা নামাজ যদি সুন্নাহসম্মত হত, তাহলে সাহাবিগণ অবশ্যই উক্ত সুন্নাহর অনুসরণ করতেন। কখনো পরিত্যাগ করতেন না।

আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রাহ.) যাদুল মাআদ গ্র্রন্থে লেখেন, অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাজা নামাজ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ ছিল না। কেননা অসংখ্য মুসলমান দূর-দূরান্তে ইন্তেকাল করেছেন। কিন্তু তিনি তাদের গায়েবানা জানাজা পড়েননি। (যাদুল মাআদ : ১/১৪৮)

সুতরাং বর্তমানে যেসব অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাজা পড়া হয়, তা সুন্নাহসম্মত নয় এবং সালাফের আমলের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এ প্রথা অবশ্যই বর্জনীয়।

কেউ কেউ গায়েবানা জানাজা প্রমাণ করার জন্য রাসুলে কারিম (সা.) কর্তৃক নাজাশী (রা.) -এর জানাজা পড়াকে দলিল হিসেবে পেশ করতে চান। কিন্তু পুরো বিষয়টা সামনে রাখলে এ কথা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, নাজাশীর জানাজা পড়ার ঘটনাটি বর্তমানে প্রচলিত গায়েবানা জানাজার জন্য দলিল হতে পারে না। কারণ সেটি ছিল বিশেষ একটি ঘটনা, যা ব্যাপকভাবে গায়েবানা জানাজা জায়েয হওয়াকে প্রমাণ করে না। এছাড়া মুসনাদে আহমদ ও সহিহ ইবনে হিব্বানে নাজাশীর জানাজা সম্পর্কিত একটি হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে, নাজাশীর লাশ কুদরতিভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনেই উপস্থিত ছিল।

ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমাদের ভাই নাজাশী ইন্তেকাল করেছে। সুতরাং তোমরা তার জানাজা আদায় করো।’ ইমরান (রা.) বলেন, অতপর রাসুলে কারিম (সা .) দাঁড়ালেন। আর আমরা তাঁর পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। অতপর তিনি তার জানাজা পড়ালেন। আমাদের মনে হচ্ছিল যে, নাজাশীর লাশ তাঁর সামনেই রাখা ছিল। (মুসনাদে আহমদ : ২০০০৫, সহিহ ইবনে হিব্বান : ৩০৯৮)

আর অনেক মুহাদ্দিস নাজাশীর জানাজা সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এ ঘটনাটি বিশেষ এক প্রয়োজনের কারণে সংঘটিত হয়েছিল। তা হলো, নাজাশীর মৃত্যু হয়েছিল এমন এক ভূখণ্ডে যেখানে তার জানাজা পড়ার মতো কোনো (মুসলিম) ব্যক্তি ছিল না। তাই আল্লাহর রাসুল (সা.) সাধারণ নিয়মের বাইরে তার জানাজা পড়িয়েছেন।

আল্লামা যায়লায়ী (রাহ.), আল্লামা ইবনে তাইমিয়াহ, আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম ও আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রাহ.) এ মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। (নাসবুর রায়া : ২/২৮৩, যাদুল মাআদ : ১/৫০২, ফয়যুল বারী : ২/৪৭০)

এদিকে সৌদি আরবভিত্তিক নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ওয়েবসাইট ‘ইসলাম সওয়াল-জওয়াবে’ বলা হয়েছে, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) ও ইমাম শাফেয়ি (রহ.) থেকে গায়েবানা জানাজা জায়েয হওয়ার একটি মত পাওয়া যায়। এই দুই ইমাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তি ভিন্ন শহরে থাকলে গায়েবানা জানাজা জায়েজ। কিন্তু শহরের ভিতরে থাকা মাইয়্যেতের গায়েবানা জানাজা জায়েজ নয়। মাইয়্যেতকে উপস্থিত করতে হবে। (আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু : ১/৫০৪, মাকতাবাতুল হক্কানিয়্যাহ, পাকিস্তান, আল মাজমু : ৫/২৫৩)

একই রকম সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সৌদি আরবের ফাতাওয়া বোর্ড আল-লাজনাতুদ দায়িমা। তারা একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, মৃত ব্যক্তির গায়েবানা জানাজা সর্বাবস্থায় জায়েজ। মৃত ব্যক্তির জানাজা আগে হোক বা না হোক। (সূত্র : আল ইসলাম সুওয়াল-জওয়াব, প্রশ্ন : ৩৫৮৫৩)

তবে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) থেকে আরেকটি বর্ণনা আছে। ওই বর্ণনা অনুযায়ী, যদি মৃত ব্যক্তির জন্য জানাজা না হয়ে থাকে, তাহলে গায়েবানা জানাজা পড়া জায়েজ হবে। আর যদি একবার জানাজা পড়া হয়ে যায়, তাহলে আর গায়েবানা জানাজা পড়া জায়েজ হবে না।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) এই মতের ওপর ফাতাওয়া দিয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবের প্রখ্যাত মুফতি সালেহ আল উসায়মিনও এই মতের ওপরই ফাতাওয়া দিয়ে থাকেন।

সূত্র : মাসিক আল কাউসার পত্রিকা

সালথায় স্ত্রী-সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় সেই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
সালথায় স্ত্রী-সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় সেই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের সালথায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী ও স্কুল পড়ুয়া সন্তানকে বাঁশের খুটির সাথে বেঁধে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় মো. সাহিদ শেখ (৪৫) নামে সেই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সকালে সাহিদকে ফরিদপুরের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (২ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া মাদক ব্যবসায়ী সাহিদ শেখ মাঝারদিয়া গ্রামের মো. আকুব্বর শেখের ছেলে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সাহিদ শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং নিজেও মাদকাসক্ত। এর আগেও একাধিকবার মাদকসহ আটক হয়ে কারাভোগ করেছেন। বর্তমানেও তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সাহিদের ছেলে আশিক শেখ চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। বাবার মাদক ব্যবসার কারণে সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ায় সে বাবাকে এ পথ থেকে সরে আসতে চাপ দেয়।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সাহিদ তার স্ত্রী জাহানারা বেগম ও ছেলে আশিকে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর ও নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে ছেলের পড়াশোনার সব বইখাতা পুড়িয়ে দেন তিনি। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার পর আশিক ও তার মা পাশের একটি গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এদিকে বাবার বিচার দাবি করে আশিক সালথা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে সাহিদকে গ্রেপ্তার করতে একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়। সবশেষ সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাঝারদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান নির্যাতনের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিদিন ইসবগুল খাচ্ছেন? আগে জেনে নিন ৫টি ভুল বিশ্বাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৫ এএম
প্রতিদিন ইসবগুল খাচ্ছেন? আগে জেনে নিন ৫টি ভুল বিশ্বাস

উপমহাদেশের ঘরোয়া চিকিৎসায় বহু বছর ধরেই পরিচিত একটি নাম ইসবগুল। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে শুরু করে হজমের নানা সমস্যায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম এটি ব্যবহার করে আসছে। প্রাকৃতিক আঁশসমৃদ্ধ এই উপাদান সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং তুলনামূলকভাবে মৃদু কার্যকারিতার জন্য এখনো অনেকের রান্নাঘরের তাকেই জায়গা করে আছে।

তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে ইসবগুলকে ঘিরে ছড়িয়েছে নানা ভুল ধারণাও। এসব বিভ্রান্তি দূর করতে সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওতে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন ফিটনেস কোচ রালস্টন ডি’সুজা। তিনি ইসবগুল নিয়ে প্রচলিত পাঁচটি সাধারণ মিথ ভেঙে দিয়েছেন একে একে।

১. ইসবগুল প্রাকৃতিক নয়

অনেকেই মনে করেন, ইসবগুল কোনো প্রক্রিয়াজাত বা কৃত্রিম পণ্য। বাস্তবে এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। ইসবগুল, যার ইংরেজি নাম সিলিয়াম হাস্ক, মূলত Plantago ovata উদ্ভিদের বীজের বাইরের খোসা। অর্থাৎ এটি একধরনের দ্রবণীয় আঁশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

ফিটনেস কোচ রালস্টনের ভাষায়, এতে কোনো কৃত্রিম বা সিনথেটিক উপাদান নেই, এটি সরাসরি উদ্ভিদজাত উৎস থেকে পাওয়া যায়। আর এই সরলতাই একে হজমের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলেছে।

২. ইসবগুল খেলে অভ্যাস হয়ে যায়

আরেকটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো, একবার ইসবগুল শুরু করলে তা ছাড়া মলত্যাগ সম্ভব হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধারণা সঠিক নয়।

ইসবগুল কোনো স্টিমুল্যান্ট ল্যাক্সেটিভ নয়, অর্থাৎ এটি অন্ত্রকে জোর করে সক্রিয় করে না। বরং পানি শোষণ করে জেলির মতো অবস্থা তৈরি করে, মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ সহজ করে।

রালস্টন ডি’সুজা বলেন, এটি অন্ত্রের সঙ্গে কাজ করে, অন্ত্রের বিরুদ্ধে নয়। তাই এটি অভ্যাস তৈরির মতো কোনো প্রভাব ফেলে না।

৩. ইসবগুল খেলেই গ্যাস হয়

হঠাৎ করে বেশি আঁশ খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপা হওয়া স্বাভাবিক। এটি শুধু ইসবগুল নয়, ওটস, চিয়া সিড, ফল বা শাকসবজি—সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আঁশের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাই এখানে মূল বিষয়। রালস্টনের ভাষায়, গ্যাস হওয়া মানে আপনার অন্ত্র নতুন আঁশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছে। ধীরে ধীরে বাড়ালে শরীর স্বাভাবিকভাবেই মানিয়ে নেয়।

৪. প্রতিদিন ইসবগুল খাওয়া ক্ষতিকর

অনেকে মনে করেন, নিয়মিত ইসবগুল খাওয়া শরীরের জন্য ভালো নয়। বাস্তবে, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশ না থাকলে প্রতিদিন ইসবগুল গ্রহণ করা নিরাপদ।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রায় ৩০ গ্রাম আঁশ প্রয়োজন, কিন্তু বেশিভাগ মানুষই এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে ইসবগুল সহজেই সেই ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। তবে শর্ত একটা, যথেষ্ট পানি সহ গ্রহণ করতে হবে।

৫. ইসবগুলের মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে

সঠিকভাবে গ্রহণ করলে ইসবগুল সাধারণত নিরাপদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কখনোই শুকনো অবস্থায় খাওয়া যাবে না। শুকনো ইসবগুল গলায় আটকে যেতে পারে বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। সবসময় এক গ্লাস পূর্ণ পানির সঙ্গে এটি গ্রহণ করতে হবে, যাতে এটি নিরাপদভাবে ফুলে উঠে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুরুতে প্রতিদিন ১ চা চামচ দিয়ে শুরু করুন, পরে প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে বাড়ান। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ইসবগুলের বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

শেষকথা

হজম ভালো রাখা মানেই সামগ্রিক সুস্থতার ভিত্তি মজবুত করা। ইসবগুল সেই প্রক্রিয়ায় একটি সহজ ও প্রাকৃতিক সহায়ক হতে পারে। তবে যেকোনো স্বাস্থ্য উপাদানের মতো এটিও সঠিক নিয়মে, পরিমিত মাত্রায় এবং প্রয়োজন বুঝে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র : এনডিটিভি

ভেজানো কিশমিশ টানা ৩০ দিন: শরীরে মিলবে অবাক করা ৬ উপকার

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৯ এএম
ভেজানো কিশমিশ টানা ৩০ দিন: শরীরে মিলবে অবাক করা ৬ উপকার

প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ছোট্ট একটি পরিবর্তনই শরীরে আনতে পারে বড় ইতিবাচক প্রভাব। ব্যস্ত জীবনে সহজে অনুসরণযোগ্য এমন স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের খোঁজে থাকেন অনেকেই। ঠিক তেমনই একটি সহজ উপায় হলো খালি পেটে ভেজানো কিশমিশ খাওয়া।

পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত এ অভ্যাস শরীরের ভেতর থেকে শক্তি জোগায়, হজমশক্তি উন্নত করে এবং নানা জটিলতা দূরে রাখতে সহায়তা করে।

তাদের দাবি, কেউ যদি টানা এক মাস প্রতিদিন খালি পেটে ৮-১০টি ভেজানো কিশমিশ খান, তাহলে শরীরে দেখা দেবে একের পর এক ইতিবাচক পরিবর্তন। চলুন দেখে নেওয়া যাক কী কী পরিবর্তন আসবে—

ভেজানো কিশমিশ কেন শুকনো কিশমিশের চেয়ে ভালো

শুকনো কিশমিশে প্রাকৃতিক চিনি ও ফাইবারের ঘনত্ব বেশি থাকে, যা কখনও কখনও হজমে সমস্যা করতে পারে। কিন্তু পানি ভিজিয়ে রাখলে কিশমিশ নরম হয়, প্রাকৃতিক চিনি কমে আসে এবং এর ভেতরের পুষ্টি উপাদান সহজে শরীরে মিশে যায়। ফলে হজমের চাপ কমে ও পুষ্টি শোষণ বেড়ে যায়।

১. হজম ক্ষমতার উন্নতি

কিশমিশে থাকা ফাইবার শরীরের প্রাকৃতিক রেচক হিসেবে কাজ করে। সকালে ভেজানো কিশমিশ খেলে হজম দ্রুত হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং পেটের সমস্যা দূর হয়।

এক মাসের ফল : নিয়মিত খেলে অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক থাকে, পেট হালকা লাগে ও হজম শক্তি বেড়ে যায়।

২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

কিশমিশ হলো পটাশিয়ামের দারুণ উৎস, যা রক্তনালীকে শিথিল করে ও সোডিয়ামের প্রভাব কমিয়ে দেয়। এক মাসের ফল : উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে এবং সারাদিন শরীর থাকে স্বস্তিতে।

৩. রক্তস্বল্পতা দূর করে

আয়রন ও বি-কমপ্লেক্স ভিটামিনসমৃদ্ধ কিশমিশ রক্তে লোহিত কণিকা বাড়ায় ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত করে। এক মাসের ফল : রক্তস্বল্পতা দূর হয়, দুর্বলতা কমে এবং শরীরে শক্তি ফিরে আসে।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

ভেজানো কিশমিশে থাকে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি, যা শরীরকে ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এক মাসের ফল : সর্দি-কাশির মতো সাধারণ সংক্রমণ কম হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৫. ত্বক উজ্জ্বল করে ও লিভার পরিষ্কার রাখে

কিশমিশ রক্ত পরিশোধনে সহায়ক, যা ত্বক ও লিভারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এক মাসের ফল : ত্বক হয় উজ্জ্বল ও দাগহীন, লিভার ডিটক্স হয়, বলিরেখা কমে এবং মুখে আসে প্রাকৃতিক জেল্লা।

৬. প্রাকৃতিক শক্তি যোগায় ও অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করে

সকালে ভেজানো কিশমিশ খেলে সারাদিন থাকে প্রাণশক্তি। এতে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম শরীরের অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

এক মাসের ফল : ক্লান্তি কমে, পেশির টান দূর হয় এবং মানসিক সতেজতা বাড়ে।

ভেজানোর পদ্ধতি

রাতে ঘুমানোর আগে ৮-১০টি কিশমিশ একটি পরিষ্কার গ্লাসে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে কিশমিশগুলো চিবিয়ে খান এবং সেই ভেজানো পানিটিও পান করুন।

সতর্কতা : ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন-সংবেদনশীল ব্যক্তিরা নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস