খুঁজুন
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফ্যামিলি কার্ডের টাকা—সরকারের তহবিল নাকি ঋণ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ডের টাকা—সরকারের তহবিল নাকি ঋণ?

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী ১০ই মার্চ থেকেই দেশে পরীক্ষামুলক ভাবে ফ্যামিলি কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যা এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলটির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার প্রাথমিকভাবে যেসব ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে তার বিপরীতে কার্ডধারী আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি উপজেলায় গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে সরকারের দিক থেকে জানানো হয়েছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, এখন আপাতত অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে থোক বরাদ্দ নেওয়া হবে। তবে আগামী বাজেট থেকে এ খাতে নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ থাকবে বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় ইশতেহারে বিএনপি নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছিলেন তার শুরুতেই ছিল এই ফ্যামিলি কার্ড।

এতে বলা হয়েছিল ‘প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে’।

প্রসঙ্গত, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টিসিবির মাধ্যমে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছিল যার মাধ্যমে কার্ড গ্রহীতা বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে টিসিবি থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্য কিনতে পারতেন।

কারা পাবেন, কিভাবে বাছাই হবেন তারা

সমাজকল্যানমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সচিবালয়ে আজ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে হওয়া এক বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি শুরুর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ওই বৈঠকেই বলা হয়েছে, এখন একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১৪টি উপজেলা থেকে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডকে বাছাই করা হচ্ছে এবং সেই ওয়ার্ডের প্রতি পরিবারের একজন নারী এই কার্ড পাবেন।

“এই কার্ডের সুবিধা পাবেন পরিবারের মা বা নারী প্রধান। এর মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে এবং পুরো পরিবার ও আগামী প্রজন্ম এর সুফল পাবে। আগামী চার মাসে পাইলটিং কাজ শেষ হবে। এরপর প্রতিটি উপজেলায় এর আওতায় আসবে,” বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে বলেছেন মি. হোসেন।

সরকারের এখনকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একটি ওয়ার্ডে যে কতজন এই কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত হবেন তাদের সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এজন্য মাঠপর্যায় থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মূলত হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মায়েরা এই সুবিধা পাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে যাচাই বাছাই করে এ তিন ধরনের পরিবার থেকে কার্ড গ্রহীতাদের নাম নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী বলেছেন, “এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীকে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার কাজ হবে। বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে এটা নিয়ে কাজ করেছেন। ওনার সভাপতিত্বেই আজ এটি অনুমোদিত হয়েছে”।

কত দেওয়া হবে, টাকার সংস্থান কিভাবে হবে

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবে তারা কার্ড পাওয়ার পর প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। অনুদানের এই অর্থ সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত অর্থ মন্ত্রণালয় এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ থোক বরাদ্দ হিসেবে দিবে। পরবর্তীতে আগামী জুনে জাতীয় বাজেট ঘোষণার সময় সেখানে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সরকার দেবে বলে সরকারের দিক থেকে বলা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, একটি ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে।

এছাড়া একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও’র নেতৃত্বে এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

“তদারকির জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ভুলত্রুটি এড়াতে ‘দ্বিস্তর বিশিষ্ট’ চেকিং ও রি-চেকিং ব্যবস্থা থাকবে,” ব্রিফিংয়ে বলেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

ফ্যামিলি কার্ড প্রথম দফায় যাদের দেওয়া হবে তাদের কীভাবে বাছাই করা হচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “বাছাই করা হচ্ছে না। ইনফরমেশন কালেক্ট করা হচ্ছে প্রতিটি ডোর-টু-ডোর স্টেপস অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে। কোনো অবস্থাতেই ঘরে বসে কোনো বাছাই হবে না”।

আবেদন করা যাবে যেভাবে

নির্বাচনের আগে ২২শে জানুয়ারি সিলেট এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন যে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে।

তিনি তখন বলেছিলেন যে এই ফ্যামিলি কার্ডটি মূলত পরিবারের প্রধান নারীর নামে দেওয়া হবে।

সরকার জানিয়েছে এখন মাঠপর্যায়ে নির্ধারিত উপজেলার নির্ধারিত ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এখনকার পাইলট প্রকল্প আগামী চার মাসে শেষ হবে এবং এরপর পর্যায়ক্রমে সারাদেশের প্রতিটি উপজেলাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনতে এবং অনিয়ম রোধে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেস তৈরি করছে সরকার। তবে আগ্রহীরা কিভাবে আবেদন করবেন তা এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি।

পাইলট প্রকল্পে যাদের বাছাই করা হচ্ছে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, রঙ্গিন ছবি ও একটি সচল মোবাইল নম্বর বা ব্যাংক নম্বর থাকে সেটি নিজেদের কাছে রাখতে বলা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, পরে একটি নির্দিষ্ট আবেদন ফরম থাকবে যা আগ্রহীরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা সরকারের একটি অনলাইন পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। এরপর ১৯শে ফেব্রুয়ারি আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

ওই কমিটিকে ঈদের আগেই যাতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করা হয় সেজন্য আজ মঙ্গলবারের মধ্যে‌ একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

আজ সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ১০ই মার্চ থেকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের অন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সমন্বয় করা হবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

গরমে সোনামণিকে সুস্থ রাখতে যা করবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
গরমে সোনামণিকে সুস্থ রাখতে যা করবেন

বৈশাখে আসতে না আসতেই গরমে অতিষ্ঠ দেশের মানুষ। তীব্র গরমে সব থেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশুরা।

এ সময় শিশুর সুস্থতায় যা করতে হবে-
বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই জরুরি। এই গরমে নিয়মিত সাবান দিয়ে গোসল করাতে হবে এবং গোসলের পর শরীর ভালোভাবে মুছে হালকা পাউডার ব্যবহার করলে ঘামাচির উপদ্রব কমে।

গরমের সময় শিশুর খাবার নির্বাচনেও সচেতন হতে হবে। পুষ্টিকর ও শরীর ঠাণ্ডা রাখে এমন খাবার দেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও ফলের জুস খাওয়ানো প্রয়োজন।

অতিরিক্ত গরমে দুর্বলতা এড়াতে মাঝে মাঝে খাবার স্যালাইনও দেওয়া যেতে পারে।
শিশুকে সবসময় সুতি, পাতলা ও নরম কাপড়ের পোশাক পরানো উচিত।

বাইরে তীব্র গরমে তাকে যতটা সম্ভব কম বের করা এবং ধুলাবালি থেকে দূরে রাখা ভালো।
শিশু ঘেমে গেলে দ্রুত ঘাম মুছে দিতে হবে। কারণ শরীরে ঘাম শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা লেগে জ্বর হতে পারে। অনেক সময় জ্বর নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

গরমের সময় শিশুর চুল ছোট করে রাখলে আরাম পায়, কারণ বড় চুলে ঘাম বেশি হয় এবং শুকাতে সময় লাগে।

এছাড়া শিশুর পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে এবং ঘরের ফ্যান বা এসির তাপমাত্রা এমন রাখতে হবে, যাতে সে স্বস্তি বোধ করে।

সালথায় সংঘর্ষের আগুন ছড়ালো কয়েক গ্রামে, বাড়িঘর ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ : আহত ২০

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
সালথায় সংঘর্ষের আগুন ছড়ালো কয়েক গ্রামে, বাড়িঘর ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ : আহত ২০

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ সহিংসতায় নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ফার্মেসী ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র, এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মাদরাসা গট্টি এলাকায় শুক্রবার বিকেলে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পূর্ব থেকেই বিরাজমান বিরোধের জেরে বিষয়টি দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যার পর পার্শ্ববর্তী ছোট বালিয়া গ্রামে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, ছোট বালিয়া গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ নুরু মাতুব্বরের লোকজনের আলেম মাতুব্বর, লুৎফর মাতুব্বর, ইছাহাক মাতুব্বর ও সাজাহান মাতুব্বরসহ অন্তত ৮ থেকে ১০টি বাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এ সময় মিরান মুন্সি ও দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে পাল্টা হামলা চালায় নুরু মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনও। এতে জাহিদ মাতুব্বরের পক্ষের শফি শেখসহ কয়েকজনের বাড়িতেও ভাংচুর চালানো হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়তে থাকলে তা আশপাশের গোয়ালপাড়া, খোয়াড় ও ভাবুকদিয়া গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ে। গোয়ালপাড়া গ্রামে ইলিয়াস মাতুব্বর, উচমান খাঁ, রব্বান ও আলী মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে মজিবুর সিকদারের একটি দোকানে লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় এক নারী যিনি কাওসার মাতুব্বরের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ভাবুকদিয়া গ্রামের পাভেল রায়হানের লোকজন, খোয়াড় গ্রামের মুরাদ, শাফিকুল ও ছামাদের অনুসারীরা এবং সিংহপ্রতাপ ও খাগৈড় এলাকার মাহফুজের কয়েকশ লোক একত্র হয়ে হামলা চালিয়েছে।” তবে অভিযুক্তদের মধ্যে পাভেল রায়হানসহ কয়েকজন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “রাতের অন্ধকারে কারা হামলা চালিয়েছে তা আমরা জানি না। আমাদের ওপর মিথ্যা দোষ চাপানো হচ্ছে।”

এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টহল জোরদার করে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান জানান, “সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ বিরোধ চলছিল। প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক থাকলেও এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ফোনের নীল আলোই কি আপনার ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছে?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১১ পূর্বাহ্ণ
ফোনের নীল আলোই কি আপনার ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছে?

দশকের পর দশক ধরে আমাদের সতর্ক করা হচ্ছে যে, শোবার আগে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের পর্দার নীল আলো আমাদের ঘুমের চরম শত্রু। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, আসল অপরাধী হয়তো এই আলো নয়, বরং অন্য কিছু।

গত ১০ বছর ধরে আমরা শুনে আসছি, ডিজিটাল ডিভাইসের নীল আলো শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়ি বা ‘বডি ক্লক’-এর ছন্দ নষ্ট করে দেয়। এই ভয়ের সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৪ সালের একটি গবেষণার মাধ্যমে, যেখানে দেখা গিয়েছিল ঘুমানোর আগে আইপ্যাড ব্যবহারকারীদের ঘুম আসতে দেরি হয় এবং তাদের শরীরে মেলাটোনিন (নিদ্রা হরমোন) কম তৈরি হয়।

তবে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জেমি জেইটজার এই গবেষণাকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ল্যাবরেটরির কৃত্রিম পরিবেশে যা দেখা যায়, বাস্তব জীবনে মানুষের অভিজ্ঞতা তার চেয়ে অনেক আলাদা।

কেন নীল আলোই একমাত্র কারণ নয়?

বিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের চোখের ‘মেলানোপসিন’ নামক একটি প্রোটিন নীল আলোর প্রতি সংবেদনশীল এবং এটি ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে ঠিকই, কিন্তু ফোনের স্ক্রিন থেকে যে পরিমাণ আলো নির্গত হয়, তা ঘুমের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলার জন্য যথেষ্ট নয়।

১১টি গবেষণার এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফোনের আলো বড়জোর আপনার ঘুমকে মাত্র ৯ মিনিট দেরি করিয়ে দিতে পারে, যা জীবন বদলে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা নয়।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমরা রোদে মাত্র এক মিনিট থাকলে যে পরিমাণ নীল আলোর সংস্পর্শে আসি, ডিজিটাল ডিভাইস থেকে সেই পরিমাণ আলো পেতে টানা ২৪ ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। এমনকি মেঘলা দিনেও বাইরের আলোর তীব্রতা থাকে ১০,০০০ লাক্স, যেখানে আপনার ফোনের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা মাত্র ৫০ থেকে ৮০ লাক্স।

আসল সমস্যা কোথায়?

গবেষকরা বলছেন, নীল আলোর চেয়েও বড় সমস্যা হলো আপনি শোবার আগে ফোনে কী দেখছেন বা করছেন। অধ্যাপক জেইটজারের মতে, পর্দার আলোর চেয়ে ফোনের ‘কনটেন্ট’ বা বিষয়বস্তু মানুষকে বেশি জাগিয়ে রাখে। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করা বা উত্তেজনাপূর্ণ কোনো ভিডিও দেখার ফলে মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে ওঠে, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

ভালো ঘুমের আসল দাওয়াই

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের মান উন্নত করতে নীল আলোর ফিল্টার বা বিশেষ চশমা ব্যবহারের চেয়ে ‘টোটাল লাইট এক্সপোজার’ বা সারাদিনে আপনি কতটা আলো পাচ্ছেন তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

১. দিনের শুরুতে পর্যাপ্ত আলো:*সকালে ঘুম থেকে উঠে যত বেশি সম্ভব উজ্জ্বল আলোর সংস্পর্শে থাকুন। এটি আপনার বডি ক্লককে সজাগ করে তোলে এবং রাতে দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে।

২. বিকেলে বাইরে হাঁটা: বিকেল ৩টার পর অন্তত ৩০ মিনিট বাইরে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। এটি আপনার শরীরকে রাতের আলোর প্রতি কম সংবেদনশীল করে তুলবে।

৩. আলোর বৈপরীত্য (Contrast): দিনের বেলা ঘর উজ্জ্বল রাখুন এবং রাত বাড়ার সাথে সাথে আলো কমিয়ে দিন। এই বৈপরীত্য শরীরকে বুঝতে সাহায্য করে যে এখন ঘুমের সময়।

মোমবাতির আলো ও মনস্তাত্ত্বিক সংকেত

ফিচারের লেখক থমাস জার্মেইন তার ব্যক্তিগত পরীক্ষায় দেখেছেন যে, নীল আলো আটকানো বিশেষ চশমা খুব একটা আরামদায়ক নয়। তবে রাতে মোমবাতি বা মৃদু আলো ব্যবহার করা একটি কার্যকর ‘সাইকোলজিক্যাল কিউ’ বা মনস্তাত্ত্বিক সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে। যখন আমরা স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমাই বা ঘরের আলো নিভিয়ে দিই, তখন আমাদের মস্তিষ্ক প্যাভলভিয়ান কন্ডিশনিংয়ের মাধ্যমে বুঝে নেয় যে ঘুমের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, ফোনের নীল আলোকে পুরোপুরি দোষ না দিয়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং শোবার আগের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়াই হবে সুনিদ্রার আসল চাবিকাঠি।

তথ্যসূত্র : বিবিসি