খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের সদরপুরে এলোভেরা গাছের প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে এলোভেরা গাছের প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা

ফরিদপুরের সদরপুরে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে রেজাউল প্রামাণিক (৬০) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে।

বুধবার (০৩ জুন) দুপুর ১টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে সদরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (০২ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চৈতার কোল গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

অভিযুক্ত রেজাউল প্রামাণিক ওই এলাকার মৃত গেন্দু প্রামাণিকের ছেলে।

স্থানীয় ও স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি অভিযুক্ত রেজাউলের বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এ সময় রেজাউল প্রামাণিক শিশুটিকে এলোভেরা (ঘৃতকুমারী) গাছ ও চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে তার ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ঘরের দরজা বন্ধ করে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। তখন শিশুটি ব্যথায় চিৎকার শুরু করলে রেজাউল তাকে ছেড়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে কান্নাকাটি করতে করতে তার স্বজনদের কাছে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।

এ ঘটনায় প্রতিবেশীরা জানান, রেজাউল প্রামাণিক এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে । তার কাছে শিশু বিদ্ধ কেউই নিরাপদ না। তার অভিযুক্ত উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান তারা ।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রেজাউল প্রামানিকের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মা জানান, আমার ছেলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাকে ফসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর মা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে জেলা পুলিশের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে সাদা দলের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জেলা পুলিশের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে সাদা দলের জয়

ফরিদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রীতি ফুটবল ম্যাচ-২০২৬’।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় ফরিদপুর পুলিশ লাইনস মাঠে অনুষ্ঠিত এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

প্রতিযোগিতায় সাদা দল ও নীল দল মুখোমুখি হয়। শুরু থেকেই উভয় দলের খেলোয়াড়রা আক্রমণাত্মক ও নান্দনিক ফুটবল উপহার দেন। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের ব্যবধানে নীল দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সাদা দল। খেলা শেষে পুলিশ সুপার চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের অভিনন্দন জানান।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী বলেন, একজন পুলিশ সদস্যের পেশাগত দায়িত্ব পালনে শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক দৃঢ়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খেলাধুলা শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার পাশাপাশি মানসিক চাপ ও অবসাদ দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, মাঠের খেলাধুলা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, দলগত চেতনা ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে। এসব গুণ একটি দক্ষ, মানবিক ও আদর্শ পুলিশ বাহিনী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খেলাধুলা মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে এবং বাস্তব কর্মজীবনে কঠোর পরিশ্রম ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মানসিকতা তৈরি করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা মাঠে উপস্থিত থেকে খেলাটি উপভোগ করেন।

আয়োজকরা জানান, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সুস্থ বিনোদন, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দলগত মনোভাব আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে এমপিকে পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদলেন নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ নারী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এমপিকে পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদলেন নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ নারী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী এলাকার নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর-৪ (সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

পরিদর্শনের সময় নদীভাঙনে চাষের জমি হারানো রিনা বেগম (৪০) নামের এক নারী সংসদ সদস্যকে সামনে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি নদীভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

রিনা বেগম বলেন, গত কয়েক বছরে নদীভাঙনে আমার ৬ থেকে ৭ বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটাও হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে তিনি সদরপুরের ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী এলাকায় নদীভাঙন পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি ভাঙনকবলিত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।

রিনা বেগমের মত নদীপাড়ের আরও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা তাদের দুর্ভোগ, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কার কথা সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরেন। তারা দ্রুত কার্যকর ও টেকসই নদীশাসনের দাবি জানান।

সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, নদীভাঙন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জানান, ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নদীতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীশাসনের উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য , বর্তমানে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা ও আকোট গ্রামে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া ভাঙন ঝুকিতে রয়েছে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রাম, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার ও আকোট গুচ্ছগ্রামসহ প্রায় ১০ টি গ্রাম।

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগে তদন্ত কমিটি

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের পর এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল অপারেশন ও চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই ১৭ বছর বয়সী কলেজছাত্রী আয়েশা আফরিনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

নিহত আয়েশা আফরিন সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে আয়েশাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আল জারা প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস শনাক্ত করে রাত ৯টার দিকে ভর্তি করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।

পরিবারের দাবি, অপারেশনের পর থেকেই আয়েশার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। রাত ৩টার দিকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শহরের টেপাখোলা এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মা আলেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করাতে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। চিকিৎসকের ভুলের কারণেই আজ আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনটি করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুল আহসান। ঘটনার পর থেকে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, আয়েশার মৃত্যুর খবরে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তবে তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে স্বাস্থ্য বিভাগের বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”