খুঁজুন
, ,

‘জুলাই আন্দোলন কি ভুল ছিল?’—কান্নাভেজা সেই লাইভ থেকে নেতৃত্বের মঞ্চে বৈশাখী

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
‘জুলাই আন্দোলন কি ভুল ছিল?’—কান্নাভেজা সেই লাইভ থেকে নেতৃত্বের মঞ্চে বৈশাখী

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া এক তরুণীর নাম বৈশাখী ইসলাম বর্ষা। বয়সে তরুণ হলেও সাহস, প্রতিবাদী মনোভাব এবং সামাজিক সচেতনতার কারণে ইতোমধ্যে তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি নাম। ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের সংগ্রাম—সব মিলিয়ে বৈশাখী ইসলাম বর্ষার জীবন যেন এক চলমান লড়াইয়ের গল্প।

২০০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বৈশাখী ইসলাম বর্ষা। তার বাবা মো. ছাবু শেখ কৃষিকাজের পাশাপাশি গাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মা একজন গৃহিণী। চার ভাই-বোনের মধ্যে বৈশাখী সবার বড়। মেঝো বোন চৈতী বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার্থী, ছোট ভাই ফাহিম নবম শ্রেণিতে এবং মাহিম পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও স্বপ্নবাজ ছিলেন বৈশাখী। গ্রামের ৩৩ নম্বর ভবুকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর মাধ্যমিক পর্যায়ে ফুলসুতি আব্দুল আলেম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮৯ অর্জন করেন। পরবর্তীতে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৮৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির লক্ষ্যে দ্বিতীয়বারের মতো প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফরিদপুরের তুষারস কেয়ার নামক একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নিরলস পরিশ্রম করছেন।

তবে বৈশাখীর পরিচয় শুধু একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি নিজেকে সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে চান। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ তার জীবনদর্শনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। সেই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তাকে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখায়।

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বৈশাখী। আন্দোলনের পর তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফরিদপুর জেলার সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও সচেতন করে তোলে।

বৈশাখীর জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের ৩০ মে। অভিযোগ রয়েছে, সেদিন তার ছোট বোন চৈতীকে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে ইভটিজিং করে। বিষয়টি জানতে পেরে বৈশাখী প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করেন। এরপর স্থানীয় কিছু বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাইভে এসে বৈশাখী প্রশ্ন তুলেছিলেন, “জুলাই আন্দোলন করা কি আমার ভুল ছিল? ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আমাকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হলো!” তার সেই আবেগঘন বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এরপর জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধারা তার পাশে দাঁড়াতে গেলে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এগিয়ে আসে। পরবর্তীতে বৈশাখী ইসলাম বর্ষা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি পুলিশও একটি পৃথক মামলা করে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

এই ঘটনার পর বৈশাখী উপলব্ধি করেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য শুধু ব্যক্তিগত প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সংগঠিত শক্তি। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনীতি সম্পর্কে বৈশাখীর দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ব্যতিক্রমী। তার মতে, রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার হাতিয়ার। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও তিনি মনে করেন।

শুধু রাজনীতি নয়, নিজের আর্থিক স্বাবলম্বিতার জন্যও সংগ্রাম করছেন এই তরুণী। উচ্চশিক্ষা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। সেই প্রয়োজন থেকেই তিনি “বৈশাখী চৈতিকা” নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। সেখানে নকশিকাঁথা ডিজাইনের শাড়ি, হাতের তৈরি জুয়েলারি, চুড়ি ও বিভিন্ন নারীদের পণ্য বিক্রি করেন।

বৈশাখী বলেন, “আমি চাই নিজের পায়ে দাঁড়াতে। পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে নিজের পড়াশোনা ও রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে। ব্যবসা থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই নিজের অনেক প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করি।”

তার এই উদ্যোক্তা মনোভাব অনেক তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা, রাজনীতি এবং ব্যবসা—তিনটি ক্ষেত্র একসঙ্গে সামলানো সহজ নয়। কিন্তু বৈশাখী মনে করেন, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে অসম্ভব কিছু নয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্ব দেওয়ার প্রবণতা ছিল তার মধ্যে। স্কুলজীবন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাকে সমবয়সীদের থেকে আলাদা করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বৈশাখী ইসলাম বর্ষা বলেন, “আমি ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই। একজন সৎ, শিক্ষিত ও মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখি। কারণ আইন পেশার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করার সুযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি গ্রামের মেয়ে। গ্রামকে ভালোবাসি। ভবিষ্যতে গ্রামের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। যেন কোনো মেয়েকে ইভটিজিং বা সামাজিক হয়রানির শিকার হয়ে নীরবে কষ্ট পেতে না হয়।”

গ্রামের সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে আসা বৈশাখী ইসলাম বর্ষার জীবন সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং সাহসিকতার এক অনন্য উদাহরণ। প্রতিবন্ধকতা, হামলা, হুমকি কিংবা সামাজিক চাপ—কোনো কিছুই তাকে তার অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি। বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ তাকে আরও দৃঢ় করেছে।

শিক্ষা, রাজনীতি, সামাজিক সচেতনতা এবং আত্মনির্ভরতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই তরুণীর ভবিষ্যৎ যাত্রা কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এতটুকু বলা যায়, বৈশাখী ইসলাম বর্ষা ইতোমধ্যেই ফরিদপুরের তরুণ প্রজন্মের কাছে সাহস, প্রতিবাদ এবং স্বপ্ন দেখার এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৯৩ জনে। এর মধ্যে হামজনিত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন।

​এদিকে গত এক দিনে আক্রানদের মধ্যে জেলার ২৪ জন এবং বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১০ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলাজুড়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন ৪৪ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​বর্তমানে এই দুই হাসপাতালে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে মোট ৯৩ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন। যার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২৬ জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৭ জন। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭ জন। এ নিয়ে জেলাজুড়ে মোট সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ৪৪৭ জনে।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া বোয়ালমারীতে ২৫, সালথায় ২৩, চরভদ্রাসনে ১৭, সদরপুরে ১৪, ভাঙ্গায় ১২, মধুখালীতে ৬, ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ এবং নগরকান্দায় ২ জন হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরের পানিতে ডুবে উৎস সরকার নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড় ৭টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের সীতারামপুর দাসপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত উৎস সরকার ওই গ্রামের উত্তম সরকারের একমাত্র সন্তান।

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শিশু উৎসের মা ঘরের গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সবার অলক্ষে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে পাশের বাড়ির একটি পুকুরে পড়ে তলিয়ে যায়।

​সন্তানকে ঘরে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থানীয় একটি পুকুরে শিশুটির স্যান্ডেল ভাসতে দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুকুরে নেমে তল্লাশি চালিয়ে পানির নিচ থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

​একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো দাসপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদন করায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

ফরিদপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি উদ্ধার ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার অবৈধ স্থাপনা সরাতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসময় কোটি টাকার সওজের জমি উদ্ধার করা হয়।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে এই অভিযান শুরু হয়।

​অভিযানের সময় ভাঙ্গা-ফরিদপুর (গোয়ালচামট) সড়কের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় পর্যন্ত সওজের আওতাধীন জায়গার অবৈধ দখল ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

​জেলা প্রশাসনের এনডিসি শাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতাল চত্বর ও মূল সড়কের ওপর অবৈধ দোকানপাট ও দখলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোগী, স্বজন ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। এই উচ্ছেদের ফলে এলাকায় পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি পথচারীদের যাতায়াত সহজ হয়েছে। হঠাৎ এই অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

​অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সওজের সরকারি জমি দখল ও যত্রতত্র অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল। উচ্ছেদ করা জায়গায় যেন নতুন করে কেউ দখল বা পুনরায় দোকানপাট বসাতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।