খুঁজুন
, ,

ভ্যাট ফাঁকির নতুন কৌশল কী ‘শূন্য রিটার্ন’?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ভ্যাট ফাঁকির নতুন কৌশল কী ‘শূন্য রিটার্ন’?

কর ছাড়ের বড় সুবিধা পাওয়ার পরও বছরের পর বছর ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার এক অভিনব কৌশল উন্মোচন করেছে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ভ্যাটযোগ্য পণ্য বিক্রি করেও তা গোপন রেখে ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দাখিল করেছে এমন ৯৫৩টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খুঁজে পেয়েছে সংস্থাটি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হুইলচেয়ার, কমোড চেয়ার ও পোর্টেবল চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে আমদানি পর্যায়ে কোনো শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয় না। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিপণনের ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রদানের বিধান থাকলেও তা বছরের পর বছর ফাঁকি দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের ক্রয়-বিক্রয় তথ্য যাচাই করে ভ্যাট ফাঁকির এই বিশাল চিত্র পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টির বিরুদ্ধে ৫৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, সুদ ও জরিমানা যোগ করলে এই ফাঁকির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জনবল সংকট ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাকি ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকির প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন, রাজস্ব আদায়সহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশের ১২টি কমিশনারেট অফিসকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সবগুলো প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই শেষে ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ প্রায় হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটনসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’

আমদানিতে শুল্কছাড়ের বিশাল সুবিধা পাওয়ার পরও পণ্য বিক্রির তথ্য গোপন করে ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দাখিলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ করছে আমদানিকারকরা। ভ্যাট গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের এমন অভিনব জালিয়াতি ধরা পড়েছে। হুইলচেয়ার ও কমোড চেয়ারের মতো জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রিতে স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট প্রদানের বিধান থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর তা এড়িয়ে গেছে

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই চিহ্নিত ২১টি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া রাজস্ব আদায়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে, জনবল সংকটের কারণে অবশিষ্ট ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিস্তারিত তদন্ত ও ভ্যাট আদায়ের দায়িত্ব ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের ১২টি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটকে দেওয়া হয়েছে। তাদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যা বলছে

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ব্যবহৃত হুইলচেয়ার, হাঁটার লাঠি বা ছড়ি এবং পোর্টেবল কমোড চেয়ারের মতো পণ্যগুলো প্রায় শতভাগ আমদানি-নির্ভর। এসব পণ্য বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের মাধ্যমে দেশে আসে এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। ভ্যাট গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে এই খাতে মোট ৯৫৩টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদের আমদানি তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দু-একটি বাদে প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দাখিল করে আসছে। যদিও এসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা সব ধরনের শুল্ক ও কর অব্যাহতি পান, তবে নিয়মানুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নামমাত্র ভ্যাট দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই স্থানীয় পর্যায়ের প্রযোজ্য ভ্যাট পরিশোধ না করে নিয়মিত শূন্য রিটার্ন জমা দিচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ২১টি প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করেছে, যার আর্থিক পরিমাণ ৫৫ কোটি ১৭ লাখ ৯০৭ টাকা।

চিহ্নিত ২১ আমদানিকারক এবং ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের চিত্র

গোয়েন্দা অনুসন্ধানে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টির বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। ২০২০-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর ‘শূন্য রিটার্ন’ দাখিল করে মোট ৫৫ কোটি ১৭ লাখ ৯০৭ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে ২১টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরে ৫৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। ভ্যাট গোয়েন্দাদের মতে, সুদ ও জরিমানা যোগ করলে এই ফাঁকির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ট্রেড ভিশন ও ইউনিমিড লিমিটেডের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কড়া নজরদারিতে এখন বেরিয়ে আসছে বড় বড় রাঘববোয়ালদের নাম

শীর্ষ ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ট্রেড ভিশন লিমিটেড, ১৭ কোটি ৮১ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৬ টাকা; ইউনিমিড লিমিটেড, ১৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৮ টাকা; তাজ ট্রেডার্স প্রাইভেট লিমিটেড, ৫ কোটি ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮২২ টাকা; এসএস এন্টারপ্রাইজ, ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৪২ টাকা; মেডিকিট ইন্টারন্যাশনাল, ২ কোটি ৭২ লাখ ২৬ হাজার ৩০৯ টাকা; রুশদা এন্টারপ্রাইজ, ১ কোটি ৬৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪১ টাকা; ইউনাইটেড সার্জিক্যাল লিমিটেড, ১ কোটি ৫৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬২৭ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ফাঁকির পরিমাণ

তালিকায় থাকা আরও বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপরা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, ৮১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০২ টাকা; ইউরো মিলেনিয়াম ট্রেডিং, ৯৪ লাখ ৫ হাজার ৩৬৩ টাকা; দেশ মিডিকা, ৯১ লাখ ১১ হাজার ৬৪৯ টাকা; ইয়ামিন টেক ইন্টারন্যাশনাল, ৮৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৪৩ টাকা; মেহেদী সার্জিক্যাল স্টোর, ৫৮ লাখ ২৭ হাজার ৮৬১ টাকা; সুপার হেলথ কেয়ার, ৫৬ লাখ ২৯ হাজার ৫৯৭ টাকা; স্ট্যান্ডার্ড মেডিকেল সিস্টেম, ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৫ টাকা এবং ম্যাক্সটন এলাইন্স, ৫৩ লাখ ৮ হাজার ৫০১ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

এছাড়া মেসার্স ট্রেড ফেয়ার, ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার ৯০২ টাকা; সাজ্জাদ ইনট্রাস্ট ট্রেড ২৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫ টাকা; নুসাইবা ট্রেডিং, ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৯০৭ টাকা; বায়োটেক সার্ভিসেস, ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮৭ টাকা; মেডিকম, ৫৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭০১ টাকা; মন্ডল সার্জিক্যাল অ্যান্ড ট্রেডিং, ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫৯ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বা পরিশোধ করেনি।

অবশিষ্ট ৯৩২ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, জনবল ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অবশিষ্ট ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট অফিসকে দেওয়া হয়েছে। ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এসব প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি দেওয়া ভ্যাট নিরূপণ, বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে।

জনবল সংকটের কারণে অবশিষ্ট ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের তদন্ত ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেটকে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই শেষে মোট ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ১,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। বড় ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানের বিআইএন স্থগিত বা বাতিলসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও জেল-জরিমানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনবিআর

কমিশনারেট অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের তালিকা— ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট : ৪২০টি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেট : ১৬৮টি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট : ১৪৫টি প্রতিষ্ঠান, যশোর ভ্যাট কমিশনারেট : ৫৭টি প্রতিষ্ঠান, চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট : ৪৭টি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা পূর্ব ভ্যাট কমিশনারেট : ৪১টি প্রতিষ্ঠান, রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেট : ১৪টি প্রতিষ্ঠান, খুলনা ভ্যাট কমিশনারেট : ১২টি প্রতিষ্ঠান, কুমিল্লা ও রংপুর ভ্যাট কমিশনারেট : প্রতিটি ৯টি করে প্রতিষ্ঠান, সিলেট ভ্যাট কমিশনারেট : ৭টি প্রতিষ্ঠান এবং বৃহৎ করদাতা ইউনিট : ৩টি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিরূপণ, বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ কী?

‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ বা ‘নিল রিটার্ন’ বলতে এমন একটি ভ্যাট বিবরণীকে বোঝায়, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মাসে তাদের পরিশোধযোগ্য ভ্যাটের পরিমাণ ‘শূন্য’ দেখায়। অর্থাৎ, ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা থেকে সরকারের কাছে কোনো ভ্যাট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি— এমন তথ্য দিয়েই এই রিটার্ন দাখিল করা হয়।

ভ্যাট আইন অনুযায়ী, যদি কোনো মাসে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভ্যাটযোগ্য পণ্য বিক্রি না হয়, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে অথবা প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা শূন্য হারের পণ্য নিয়ে কাজ করে, তবেই তারা শূন্য রিটার্ন দাখিল করতে পারে। এক্ষেত্রে ভ্যাট জমা দেওয়ার দায় না থাকলেও প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া প্রতিটি বিআইএনধারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক।

তবে বাস্তবে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পণ্য বিক্রি করা সত্ত্বেও তা গোপন রেখে শূন্য রিটার্ন জমা দেয়। এটি মূলত ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার একটি অপকৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ভ্যাট গোয়েন্দাদের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

ভ্যাট ফাঁকিতে শাস্তি কী?

ভ্যাট ফাঁকি দিলে মূলত ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ‘কাস্টমস আইন, ১৯৬৯’ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আওতায় কোনো প্রতিষ্ঠান যে পরিমাণ ভ্যাট গোপন বা ফাঁকি দিয়েছে, তা আদায়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই জরিমানার পরিমাণ ফাঁকি দেওয়া করের সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। এছাড়া ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের ওপর মাসিক ভিত্তিতে সুদ বা সারচার্জ আরোপের বিধানও রয়েছে।

গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মূসক নিবন্ধন (বিআইএন) স্থগিত বা বাতিল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ কিংবা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও হিসাবপত্র জব্দ করতে পারে। এমনকি সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ফাঁকির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করারও সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে আদালত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড— উভয় ধরনের শাস্তির আদেশ দিতে পারেন।

সূত্র : ঢাকা পোস্ট

ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে বিছানায় গেলেও অনেকের চোখে ঘুম আসে না। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করেন, আবার কারও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এমন সমস্যা এক-দুদিন হলে চিন্তার কারণ না হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা হতে পারে অনিদ্রা (ইনসমনিয়া)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে পরদিন ক্লান্তি, কাজে অমনোযোগ, খিটখিটে মেজাজ, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অনেকেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ সেবন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে প্রাকৃতিকভাবেই অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন হয় অনিদ্রা?

অনিদ্রার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা

বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন)

আশপাশের অতিরিক্ত শব্দ

অস্বস্তিকর বিছানা বা ঘুমের পরিবেশ

মদ্যপানের অভ্যাস

অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ

রাতের শিফটে কাজ করার অভ্যাস

অনিদ্রা দূর করতে যা করবেন

১. নিয়মিত মেডিটেশন করুন

মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতে কার্যকর। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট মেডিটেশন করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।

২. ল্যাভেন্ডার অয়েলের ব্যবহার

ল্যাভেন্ডার অয়েল দীর্ঘদিন ধরে অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মানসিক প্রশান্তি এনে ঘুমে সহায়তা করতে পারে। বালিশে সামান্য স্প্রে করা বা ঘাড় ও কাঁধে অল্প পরিমাণে ম্যাসাজ করেও ব্যবহার করা যায়।

৩. নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর অভ্যাস

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের ‘বডি ক্লক’ বা সার্কাডিয়ান রিদমকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে ধীরে ধীরে ঘুমের সমস্যা কমতে পারে।

৪. ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান

ম্যাগনেসিয়াম পেশি শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। ডার্ক চকলেট, বাদাম, অ্যাভোকাডোসহ ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ভালো।

৫. মেলাটোনিন বাড়ায় এমন খাবার

মেলাটোনিন হলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। ডিম, দুধ, মাছ, কলা, মাশরুম, বাদাম ও আখরোটের মতো খাবার শরীরে মেলাটোনিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমানোও জরুরি।

৬. নিয়মিত শরীরচর্চা

প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম না করে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে শরীরচর্চা শেষ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৭. ৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি

অনিদ্রা কমাতে ‘৪-৭-৮’ শ্বাস-প্রশ্বাস কৌশল বেশ জনপ্রিয়। এ পদ্ধতিতে চার সেকেন্ড শ্বাস নিতে হবে, সাত সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখতে হবে এবং আট সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। কয়েকবার অনুশীলন করলে শরীর ও স্নায়ু শিথিল হতে পারে।

আরও কিছু অভ্যাস বদলাতে হবে

ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ পান করা উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, ভারী খাবার ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখলে ভালো ঘুমের সম্ভাবনা বাড়ে।

তবে জীবনযাপনের পরিবর্তনের পরও যদি দীর্ঘদিন অনিদ্রা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, অনিদ্রা অনেক সময় অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।

ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জব্দ করা হাতিটি এখনো সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। হাতিটির মালিকানা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, নাকি বন বিভাগের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে -তা নির্ধারণ হবে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাতিটি সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিক পক্ষ থেকে দুইজন মাহুতকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তারাই নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রতিদিন একটি হাতির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার সংগ্রহ করতে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ ও মাহুতদের। থানা প্রাঙ্গণে হাতির জন্য স্থায়ীভাবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

থানায় অবস্থানকালে হাতিটি প্রায়ই মাহুতদের সঙ্গে থানা চত্বরে হেঁটে বেড়ায়। বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটিকে দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন অপ্রত্যাশিত এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সদরপুর থানার পলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকলেসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই থাকবে। আদালত যদি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে। আর বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, হাতিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, পুলিশ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে আটক এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে হাতিটি থানার হেফাজতেই রয়েছে।