খুঁজুন
, ,

ডা. সুশীল আদিত্যর স্মরণে আলফাডাঙ্গায় অসহায় নারীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
ডা. সুশীল আদিত্যর স্মরণে আলফাডাঙ্গায় অসহায় নারীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও চিকিৎসক ডা. সুশীল কুমার আদিত্যর ২৮তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আদিত্য ভবনের উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থ নারীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দির প্রাঙ্গণে ডা. সুশীল কুমার আদিত্যর আত্মার শান্তি কামনায় এ মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও দুস্থ নারীদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।

বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রবীর কুমার বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দিরের সদস্য রণজিত মণ্ডলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আদিত্য ভবনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সুমী রাণী বিশ্বাসসহ আদিত্য পরিবারের সদস্যরা এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঐতিহ্যবাহী আদিত্য পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। প্রয়াত ডা. সুশীল কুমার আদিত্য ছিলেন একজন মানবদরদি চিকিৎসক ও সমাজসেবক। তার আদর্শ অনুসরণ করেই পরিবারটি নিয়মিত সামাজিক ও দাতব্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, “আদিত্য পরিবার জাতি, ধর্ম কিংবা বর্ণের কোনো ভেদাভেদ না করে সমাজের সকল স্তরের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও সমাজের সব ভালো উদ্যোগে তারা সক্রিয়ভাবে পাশে থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

এদিকে আদিত্য পরিবারের সদস্য অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ড. দীপক কুমার আদিত্য জানান, প্রবাসে থেকেও এলাকার অসহায় মানুষের কথা সবসময় তাদের মনে পড়ে। তিনি বলেন, “দুস্থ ও অসহায় মানুষের সেবা করাই আমাদের পরিবারের মূল লক্ষ্য। আমরা নিয়মিত বস্ত্র বিতরণ, আর্থিক সহায়তা ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছি। এই সেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, একটি দারিদ্র্যমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনে আদিত্য ফাউন্ডেশন সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে এবং এ কাজে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।

ফরিদপুরে অবৈধ ওষুধ কারখানায় সাজা, এনসিপি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার বায়েজিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অবৈধ ওষুধ কারখানায় সাজা, এনসিপি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার বায়েজিদ

অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সিদ্ধান্তে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলটির সকল পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

​জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় অবস্থিত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’ নামের কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। অভিযানে অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ উপায়ে শিশুদের বেবি জেল এবং প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন উত্তেজক আয়ুর্বেদিক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

​অভিযান পরিচালনা করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ইনসানা তানজীন ইকো। ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/১ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডাদেশ ঘোষণার পরপরই তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি।

​এদিকে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পরপরই কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে এনসিপি। কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে দলটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে (স্মারক: এনসিপি/কেন্দ্র/শোকজ/২০২৫-২০২৬/৬৩) বায়েজিদ হোসেনকে স্থায়ী বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বায়েজিদ হোসেনকে অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।

​এর আগে ফরিদপুর জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সাইফ হাসান খাঁন জানিয়েছিলেন, অন্যায়ের সঙ্গে দলের কোনো আপস নেই এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বার্তা কেন্দ্রে জানানো হয়েছে।

​দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করছেন।

শিশু একাডেমির ফরিদপুর জেলা পরিচালনা কমিটিতে নিরব ইমতিয়াজ শান্ত

শরিফুল ইসলাম, ফরিদপুর
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
শিশু একাডেমির ফরিদপুর জেলা পরিচালনা কমিটিতে নিরব ইমতিয়াজ শান্ত

ফরিদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা ও সংগঠক হিসেবে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ফরিদপুর জেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তরুণ সাংস্কৃতিক সংগঠক নিরব ইমতিয়াজ শান্ত।

কিশোর বয়স থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নিরব ইমতিয়াজ শান্ত অভিনয়, আবৃত্তি, নাট্যচর্চা, নাট্যরচনা ও নির্দেশনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিচালনায়ও যুক্ত রয়েছেন। শিশু-কিশোর ও তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগে কাজ করে আসছেন তিনি।

বর্তমানে তিনি ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নাট্যকুঞ্জ, ফরিদপুরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠন দুটির বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও নিয়মিত সম্পৃক্ত রয়েছেন।

নাট্যচর্চার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার পথচলা শুরু হয়। মঞ্চে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক লেখা ও নির্দেশনার সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি। তার নেতৃত্বে নাট্যকুঞ্জ শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়ে নাট্যচর্চা, সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে নিরব ইমতিয়াজ শান্ত বলেন, তরুণ বয়সে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জেলা পরিচালনা কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়াটা তার জন্য সম্মানের। এ দায়িত্বের জন্য তিনি ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, তার ওপর যে আস্থা রাখা হয়েছে, সেই আস্থার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করবেন। শিশুদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে নিজের অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কিশোর বয়সে পথচলা শুরু করে ধীরে ধীরে সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নিরব ইমতিয়াজ শান্তর নতুন এই দায়িত্বকে শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত করার একটি নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফরিদপুরে ৩৬ বছরের স্কুল, নেই নিবন্ধন: ২০ লাখ টাকার আয়েও প্রশ্নের শেষ নেই

এহসানুল হক মিয়া, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৩৬ বছরের স্কুল, নেই নিবন্ধন: ২০ লাখ টাকার আয়েও প্রশ্নের শেষ নেই

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা প্রশাসন স্কুলে বছরে প্রায় ২০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আয় হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনসহ দৃশ্যমান ব্যয় প্রায় ৫ লাখ টাকা। ফলে বাকি অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ না থাকা, আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং শিক্ষকদের অপ্রতুল বেতন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

১৯৯০ সালে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সরকারি জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয় স্কুলটি। ৩৬ বছরেও প্রতিষ্ঠানটির নামে কোনো নিবন্ধন নেই বলে জানা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩০৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শ্রেণিভেদে মাসিক গড়ে ৪৫০ টাকা বেতন নেওয়া হয়। এতে বছরে আয় প্রায় ১৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। জানুয়ারি মাসে শিক্ষার্থীপ্রতি প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকা ভর্তি ফি নেওয়া হয়, যা থেকে আয় প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ বেতন ও ভর্তি ফি মিলিয়েই বার্ষিক আয় প্রায় ২০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
এর বাইরে পুকুর লিজ, দোকানঘর ও দুটি কক্ষ ভাড়া, পুরোনো খাতাপত্র বিক্রি এবং বোর্ডের নির্ধারিত বইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই বিক্রি থেকেও আয় হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে আটজন শিক্ষক ও একজন আয়ার বেতন বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা, অর্থাৎ বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে জানা গেছে। ফলে অন্যান্য আয় বাদ দিলেও বেতন ও ভর্তি ফি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ উদ্বৃত্ত থাকার কথা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভাউচার, লিজ ও ভাড়ার নথি জনসমক্ষে নেই। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষক প্রতিনিধি না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যথাযথ নজরদারিও নেই বলে দাবি তাদের। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক রোকসানা নূর খান।

এদিকে এত আয় থাকার পরও শিক্ষকদের মাসিক বেতন মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। অপ্রতুল বেতনের কারণে যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক ধরে রাখা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো ও পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নেই এবং সরকারি অর্থায়নে নির্মিত টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয় না বলে দাবি অভিভাবকদের। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের দিকে সাবেক ইউএনও দবির উদ্দিনের সহযোগিতায় স্কুলটির কিছু সংস্কারকাজ করা হলেও ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো পুরোপুরি কাটেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাবেক ইউএনওর হস্তক্ষেপের পর আর্থিক লেনদেনে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। এরপর স্কুলের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা জমা পড়েছে। তবে আগের বছরগুলোর আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পরিষ্কার নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মুন্সি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষগুলোর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা দরকার। টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। শিশুদের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কার্যকর ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের জন্য একটি যৌক্তিক ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো চালু করার দাবি জানাই।’

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে একটি সমাবেশ আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া শিক্ষকদের জন্য মানসম্মত বেতন কাঠামো নির্ধারণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রোকসানা নূর খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।