খুঁজুন
, ,

মধুমতির পেটে আশ্রয়ণের ঘর: নদীতীরে ঝুপড়িতে মাখন-হাসিনাদের মানবেতর জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
মধুমতির পেটে আশ্রয়ণের ঘর: নদীতীরে ঝুপড়িতে মাখন-হাসিনাদের মানবেতর জীবন

দূর থেকে দেখলে মনে হবে ফেলে রাখা কোনো পরিত্যক্ত কুঁড়েঘর। কিন্তু কাছে পৌঁছাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে রূঢ় বাস্তবতা। ঝুপড়ির ভেতরে মানুষের হাঁসফাঁস লড়াই, টিকে থাকার আকুতি। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চাপুলিয়া আশ্রায়ণ প্রকল্পে মধুমতি নদীর পাড়ে এখন এমনই এক করুণ চিত্র। নদীভাঙনে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে নদীতীরেই ঝুপড়ি বেঁধে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন নিঃস্ব দুটি পরিবার।

​চাপুলিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পটি মধুমতি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর বাসিন্দাদের অধিকাংশ অন্যত্র চলে গেছেন। কিন্তু আশ্রয় খোঁজার সামর্থ্য না থাকায় নদীপাড়েই পলিথিন ও ছন দিয়ে তৈরি ছোট ঝুপড়িতে স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন দিনমজুর মাখন রবি দাস।

​হতাশা আর কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে মাখন রবি দাস বলেন, “একসময় আলফাডাঙ্গা বারাশিয়া নদীর শ্মশান ঘাটে থাকতাম। পরে ২০১২ সালে সরকার এইখানে থাকার জায়গা দেয়। ভালোই চলছিল দিন। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে আমাদের ঘরটা নদীতে চলে গেল! এই দুনিয়ায় আমার আর কোনো জায়গা নেই। তাই পরিবার নিয়ে নদীর পাড়েই রাত কাটাচ্ছি।”

​পাশে দাঁড়িয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে তাঁর স্ত্রী রিতা দাস বলেন, “অন্যের বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিই। রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না, মনে হয় এই বুঝি নদীতে ভেসে গেলাম!”

​একই চিত্র ধরা পড়ে পাশের চাপুলিয়া গুচ্ছগ্রাম এলাকাতেও। ভাঙনের মুখে পড়ে সবাই সরে গেলেও অসুস্থ স্বামী, বৃদ্ধা মা ও চার সন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে সামান্য ছাউনি টাঙিয়ে দিন পার করছেন হাসিনা বেগম।

​আবেগাপ্লুত হয়ে হাসিনা বলেন, “আমার স্বামীর নিজের কোনো জমিজমা নেই। সরকার গুচ্ছগ্রামে ঠাঁই দিলে এখানে এসেছিলাম। কিন্তু কয়েকদিন আগে আমাদের সেই শেষ সম্বলটুকুও নদী গিলে খেয়েছে। স্বামী খুব অসুস্থ, কাজ করতে পারেন না। ঘরে বৃদ্ধা মা আর চার ছোট সন্তান। নিজে মানুষের বাড়ি কাজ করে যা পাই, তা দিয়েই কোনোমতে সবার পেট চালাই।”

​স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাহিদ বলেন, “নদীতে সব হারিয়ে পরিবার দুটো আজ পুরোপুরি নিঃস্ব। তাদের কোথাও যাওয়ার বিন্দুমাত্র জায়গা নেই।”

​বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম কালু বলেন, “বিত্তবানদের উচিত এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো। দ্রুত তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।”

​টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সাহায্যের ব্যবস্থা করতে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হচ্ছে।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ,কে,এম রায়হানুর রহমান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের কোনো ঘর ফাঁকা আছে কি না তা খুঁজে বের করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি কোনো খাস জমিতে তাঁদের ঘর তৈরি করে দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।”

ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তামান্না আক্তার মৌ (২৩) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন তার স্বামী।

​সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার চণ্ডীদাসদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

​নিহত তামান্না আক্তার মৌ নগরকান্দা উপজেলার রামেশ্বর এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে এবং ভাঙ্গা পৌরসভার চণ্ডীদাসদী এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় তামান্নাকে দেখতে পান তার স্বামী শাখাওয়াত। পরে দরজা ভেঙে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রীন প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তামান্নাকে মৃত ঘোষণা করলে লাশ রেখেই গা ঢাকা দেন স্বামী শাখাওয়াত।

​নিহতের মায়ের দাবি, তামান্নাকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। দুপুরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

​ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ জানান, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে অবহিতকরণ সভা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে অবহিতকরণ সভা

বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সোলার সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলফাডাঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলফাডাঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আশীষ কুমার রায়।

​সভায় স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রুফটপ সোলার সিস্টেম, ক্যাপেক্স ও ওপেক্স মডেল, নেট মিটারিংয়ের আবেদন, রুফটপ সোলার ক্যালকুলেটরের ব্যবহার এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

​পাশাপাশি সোলার সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে তালিকাভুক্তির নিয়ম, ন্যূনতম যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন প্রক্রিয়া ও তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়। পরে মুক্ত আলোচনায় অংশীজনদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

​সভায় বক্তারা বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বহুল ব্যবহার নিশ্চিত করতে দক্ষ ও মানসম্মত সেবা প্রদানকারীর বিকল্প নেই। সার্ভিস প্রোভাইডারদের তালিকাভুক্তির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত হবে এবং গ্রাহকরাও নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন। এর মাধ্যমে দেশে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

​অনুষ্ঠানে আলফাডাঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি), বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতিনিধি, বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ান, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে অনশন, হামলায় জখম ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে অনশন, হামলায় জখম ৩

ফরিদপুরের কৈজুরী ইউনিয়নের মঙ্গলকোটে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক তরুণী এবং তার মা ও ভাই। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মঙ্গলকোট গ্রামের ওই শিক্ষকের বসতভিটায় এ ঘটনা ঘটে।

​পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​ভূক্তভোগী তরুণী জানান, পাশের গ্রামের তাজুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক শেষে গত বছরের ২৫ মার্চ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাসও করে আসছিলেন। সম্প্রতি তাজুল ইসলাম স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তার পরিবার অন্যত্র বিয়ের তোড়জোড় শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তিনি তাজুলের বাড়িতে গেলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে তরুণীসহ তার মা ও ভাইকে মারধর করে জখম করা হয়।

​এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হন ওই পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে তারা উগ্র মেজাজে হুমকি-ধমকি দেন এবং মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করেন। পরে ক্যামেরার সামনে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসা শিক্ষক তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​তবে তাজুলের চাচা রহমতউল্লাহ বলেন, “আমরা ছেলের জন্য মেয়ে দেখছি। এই তরুণীর পক্ষ থেকে আগে কখনোই বিয়ের কথা জানানো হয়নি। হঠাৎ করে বাড়িতে এসে এভাবে বিয়ের দাবি করলে সামাজিকভাবে মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়। আমরা বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিলাম।”

​হামলার শিকার ওই তরুণীর পরিবার জানায়, তারা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।