খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, কোয়ালিশন সরকার, ক্ষমতা হস্তান্তর – এগুলো কীভাবে হয়?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৩ এএম
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, কোয়ালিশন সরকার, ক্ষমতা হস্তান্তর – এগুলো কীভাবে হয়?

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারে, কোনো দল একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে নাকি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হবে, ক্ষমতা হস্তান্তর কীভাবে হবে- এসব নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

একই সাথে আলোচনায় আছে নির্বাচনে বিজয়ী পক্ষের গঠন করা সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর কীভাবে হবে এবং নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কী- তা নিয়েও।

এবার সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে তিনশ সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি। ওই দিন একই সাথে ভোটাররা গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ।

ফলে দৃশ্যত এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে।

ফলে নির্বাচনে কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসতে পারে কি-না তা নিয়ে যেমন কৌতূহল আছে, তেমনি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হওয়ার মতো তৈরি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি-না সেদিকেও দৃষ্টি আছে অনেকের।

কিন্তু এই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, ঝুলন্ত পার্লামেন্ট, কোয়ালিশন সরকার, ক্ষমতা হস্তান্তর কিংবা সরকার গঠন- এগুলো কী কিংবা এসব কীভাবে হয়?

একক/নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা

সংসদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলছেন, সংসদের মোট আসনের অর্ধেক+১টি কিংবা এর চেয়ে বেশি আসনে বিজয়ী হলেই তাকে একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বলা হয়।

অর্থাৎ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কোন দল বা জোটকে কমপক্ষে ১৫১টি আসন পেতে হবে। আর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের মোট আসন ৬৫০ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য পেতে হয় ৩২৬ আসন। ভারতে লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে কোনো দলকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ পেতে হরে ২৭২ আসন পেতে হয়।

“রাষ্ট্রপতি একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের প্রধানকেই সাধারণত সরকার গঠনের আহবান জানিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে কোনো দল এ ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বেশি আসনে জয়ী দলকে তখন সরকার গঠনের জন্য অন্য দলের সমর্থন যোগাড় করতে হয়। সংসদীয় পদ্ধতির সরকার আছে এমন সব দেশের জন্যই এটি প্রযোজ্য,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি এবং ১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বেশি আসনে জিতলেও একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে অন্যদের সমর্থন নিয়ে দল দুটিকে তখন সরকার গঠন করতে হয়েছিল।

নিজাম উদ্দিন আহমেদ অবশ্য বলছেন, অনেক সময় একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলকে সরকার গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির আহবান জানানোর উদাহরণ অনেক দেশেই আছে।

“সেক্ষেত্রে সরকার গঠনের পর সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হয়,” বলছিলেন মি. আহমেদ।

ভারতে ১৯৯৬ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বেশি আসন জিতেছিল বিজেপি। এরপর প্রথম বিজেপি নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। কিন্তু শপথ গ্রহণের তের দিনের মাথায় লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারায় তার সেই সরকারের পতন হয়েছিল।

নজির আছে”।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে ২০২২ সালে কোয়ালিশন সরকারের মিত্র দলগুলো সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সংসদে বিরোধী দলগুলোর আনা অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা হারিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পরে ইমরানের ওপর সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন শাহবাজ শরিফ।

দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা

অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলছেন, সরকার গঠনের জন্য একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট কিন্তু এর চেয়েও বড় বিষয় হলো দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা।

অর্থাৎ সংসদের মোট আসন সংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ কোনো দল বা জোট পেলে সেটিই দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হিসেবে পরিচিত।

“সাধারণত অনেক দেশে সংসদে সংবিধান পরিবর্তন, জরুরি কোনো আইন পাস কিংবা বিশেষ প্রস্তাব পাসের জন্য দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের সংবিধানও পরিবর্তনের জন্য এ ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিধান এখন পর্যন্ত বিদ্যমান সংবিধানে আছে,” বলেছেন মি. আহমেদ।

ক্ষমতা হস্তান্তর ও নতুন সরকার গঠন

নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দল বা জোটের নেতাকে সরকার গঠনের জন্য আহবান জানান রাষ্ট্রপতি।

নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলছেন, নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়েই পুরনো সরকারের বিদায় ঘটে এবং এটাকেই ক্ষমতা হস্তান্তর বলা হয়।

বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের উদাহরণ খুবই কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আন্দোলন বা সংঘাতের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে।

“গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী সরকার প্রধান বা তার প্রতিনিধিরা থাকেন। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমাদের দেশে এমনটা বিরল,” বলছিলেন অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এর মাধ্যমে সংসদ গঠিত হয়।

এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোট সংসদ নেতা নির্বাচন করার পর তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

এরপর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়।

“এর মধ্য দিয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর ও নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে এবার অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় সেটি এখনো পরিষ্কার নয়,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সংসদ বিষয়ক গবেষক নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

মি. আহমেদ এও বলছেন যে, অনেক সময় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহবান জানান রাষ্ট্রপতি। “সেক্ষেত্রে তিনি এই শর্ত দেন যে সরকার গঠনের পর সংসদে তার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে,” বলছিলেন তিনি।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

পবিত্র শবে বরাতের রাতেও আল্লাহ যাদের ক্ষমা করেন নি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৪ এএম
পবিত্র শবে বরাতের রাতেও আল্লাহ যাদের ক্ষমা করেন নি?

পবিত্র শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত মুসলমানদের জন্য এক মহিমান্বিত রজনী। হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী এই রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন। শবেবরাত উপলক্ষে সারা বিশ্বের মুসলমানগণ নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকেন। তবে শুধু একটি রাত ইবাদত করলেই সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে এমন ধারণা সঠিক নয়।

শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতের শুরু থেকেই আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি মনোযোগী হন এবং ঘোষণা করতে থাকেন; কে আছে ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করব; কে আছে রিযিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিজিক দেব; কে আছে বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে মুক্ত করব ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই আমাদের উচিত এই রাতে নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য দোয়া করা।

তবে এই মহিমান্বিত রাতেও দুই শ্রেণির মানুষ আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকবে। এক. মুশরিক (যার জীবনে শিরক রয়েছে)। দুই. মুশাহিন (হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণকারী)।

বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ অর্ধ-শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তার সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৫৬৬৫)

ইসলামে শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য মনে করা বা আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে অংশীদার করা মারাত্মক অপরাধ। একইভাবে হিংসা-বিদ্বেষ মানুষের নেক আমল ধ্বংস করে দেয়।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হিংসা থেকে দূরে থাকো। কেননা হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন লাকড়িকে ভস্ম করে দেয়। (সুনানে আবু দাউদ)

শবে বরাত কোনো ভাগ্যরজনী নয়। ভাগ্য নির্ধারণের রাত হলো লাইলাতুল কদর। শবে বরাত হলো আল্লাহর বিশেষ রহমতের রাত; যা ধারাবাহিক ইবাদতকারীদের জন্য এক ধরনের বোনাস। তবে যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে নতুনভাবে আল্লাহর পথে ফিরে আসে, তারাও এ রাতে সৌভাগ্যবান হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ—বিজ্ঞান কী বলে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১১ এএম
আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ—বিজ্ঞান কী বলে?

অতিরিক্ত টেনশন বা কাজের চাপের কারণে অনেকেই নিজের অজান্তে আঙুল ফুটিয়ে থাকেন। আঙুল ফোটানো অনেকের কাছে স্বস্তিদ্বায়ক, আবার অনেকের কাছে অভ্যাস। অনেকের ধারণা, আঙুল ফোটানো, আঙুলের হাড়ের জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেকের ধারণা, নিয়মিত আঙুল ফোটালে নাকি আঙুলের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে এ বিষয়ে? সম্প্রতি হেলথলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।

চলুন জেনে নেওয়া যাক-

আঙুল ফোটানোর পেছনের কারণ

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষ নিয়মিত বা মাঝেমধ্যে আঙুল ফুটিয়ে থাকেন। কেউ এই শব্দ শুনে আনন্দ পান, কেউ আবার মনে করেন এতে মানসিক চাপ কমে। অনেকেই আবার একে স্ট্রেস থেকে মুক্তির একটি উপায় হিসেবে দেখেন। কেউ কেউ চিন্তা বা উদ্বেগের সময় চুল পাকান, কেউ আবার নখ কামড়ান। তারাও অনিচ্ছাকৃতভাবে আঙুল ফোটাতে শুরু করেন। একবার এই অভ্যাস তৈরি হলে, তা ছেড়ে দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

আঙুল ফোটালে যে শব্দ হয়, তার উৎস

অনেকেই ভাবেন, হাড় ঘষা লেগেই বুঝি শব্দটি হয়। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা। ২০১৫ সালের এক গবেষণায় এমআরআইতে দেখা গেছে, আঙুল ফোটানোর সময় জোড়া টান দিলে অস্থিসন্ধির তরলের মধ্যে একটি ছোট ‘ক্যাভিটি’ বা ফাঁপা জায়গা তৈরি হয়, যেটির সৃষ্টিই শব্দের কারণ। আর ২০১৮ সালের আরেক গবেষণায় বলা হয়, শব্দটি আসলে ওই ফাঁপা অংশটি আংশিক ভেঙে পড়ার সময় তৈরি হয়। আর একই আঙুল কিছুক্ষণ পর আবার ফোটানো যায়। কারণ ওই ফাঁপা জায়গাটি আবার পূর্ণ হতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে।

আঙুল ফোটানো কি ক্ষতিকর

অনেক অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে কেউ যদি এটি নিয়মিত বা দিনে বারবার করতে থাকেন, তাহলে সমস্যা হতে পারে। এতে অস্থিসন্ধির ভেতরের তরল (সাইনুভিয়াল ফ্লুইড) কমে যেতে পারে। ফলে হাড়ে হাড়ে ঘষা লাগে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

তবে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আঙুল ফোটানো সরাসরি বাত বা হাড় ক্ষয়ের কারণ নয়। এক চিকিৎসক টানা ৫০ বছর ধরে শুধু এক হাতের আঙুল ফোটান। পরে তিনি দেখেন, ফোটানো হাত ও না ফোটানো হাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এতে প্রমাণিত হয়, আঙুল ফোটানো সব সময় ক্ষতিকর নয়।

যখন সাবধান হওয়া জরুরি

যদি আঙুল ফোটানোর সময় বা পরে ব্যথা হয়, আঙুল ফুলে যায় বা নড়াতে সমস্যা হয়, তাহলে এটি শুধু অভ্যাস নয়। এটি শরীরের কোনো সমস্যা বা রোগের লক্ষণ হতে পারে, যা গাউট, আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্ট ইনজুরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। উপসর্গগুলো হলো—

১. আঙুলে ব্যথা

২. ফুলে যাওয়া

৩. জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া

৪. নড়াচড়া করতে কষ্ট হওয়া

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে যদি কেউ নিয়মিতভাবে এটি করেন, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই সতর্ক থাকা ভালো। আর যদি আঙুলে ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বস্তি হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র : হেলথ লাইন

কে এই আলোচিত নীলা ইসরাফিল? জানুন তার পরিচয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৩ এএম
কে এই আলোচিত নীলা ইসরাফিল? জানুন তার পরিচয়

গোপালগঞ্জ জেলার মেয়ে নীলা ইসরাফিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে এক আলোচিত ও বিতর্কিত নাম। ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিকমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি নিয়মিতই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়াত উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে মুয়াজ আরিফের সাবেক স্ত্রী হিসেবে পরিচিতি পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নীলা নিজ পরিচয়েই আলোচনায় উঠে এসেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে নীলার দৃশ্যমান উপস্থিতি শুরু হয়। বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলনে তাকে সরব ভূমিকায় দেখা যায়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের গড়া নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন তিনি। দলটির বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নীলার উপস্থিতি সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তবে রাজনৈতিক যাত্রা খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দলের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে নীলা একপর্যায়ে নিজের সাবেক শ্বশুর প্রয়াত উপদেষ্টা হাসান আরিফ এবং এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন নীলা ইসরাফিল। পদত্যাগের পরও তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করে যাচ্ছেন, যা তাকে আলোচনায় রাখছে।

রাজনীতির বাইরে নীলা ইসরাফিল একজন পরিচিত মডেল ও অভিনেত্রী। শোবিজ অঙ্গনে তার পথচলা শুরু হয় বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে। রায়হানের নির্দেশনায় একটি প্রতিষ্ঠানের মশার কয়েলের বিজ্ঞাপনে প্রথম মডেল হিসেবে কাজ করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে দেশীয় বিজ্ঞাপন জগতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন নীলা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টির বেশি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে মেজবাউর রহমান সুমনের নির্দেশনায় ‘বিকাশ’ এবং পলকের নির্দেশনায় ‘জিপি’র বিজ্ঞাপন উল্লেখযোগ্য।

অভিনয় জগতে নীলার অভিষেক হয় অনিমেষ আইচ পরিচালিত নাটক ‘কুয়া’র মাধ্যমে। এরপর তিনি ‘ঘর সংষার’, ‘টিরিগিরি টক্কা’, ‘ফুল এইচডি’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। গেল ঈদে সকাল আহমেদ পরিচালিত ‘কে খুনী’ ও ‘ব্রেক আপ ইন’ নাটক দুটি প্রচারিত হয়, যা ইউটিউবে দর্শকদের ভালো সাড়া পায়।

চলচ্চিত্রেও নীলা কাজ করেছেন। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত একমাত্র সিনেমা আবীর খান পরিচালিত ‘পোস্টমাস্টার ৭১’। এ ছাড়া ধ্রুব’র পরিচালনায় আরও একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন তিনি, যা এখনো মুক্তির অপেক্ষায়।

রাজনীতি ও বিনোদন—দুই অঙ্গনেই সক্রিয় নীলা ইসরাফিলকে ঘিরে আলোচনা থামছে না। সমর্থক ও সমালোচক—দুই পক্ষের নজরেই থাকা এই তরুণী ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবেন, তা নিয়েই কৌতূহল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।