খুঁজুন
রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২২ চৈত্র, ১৪৩২

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬: যে চার কারণে ব্যর্থ ১১ দলীয় জোট?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬: যে চার কারণে ব্যর্থ ১১ দলীয় জোট?

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনে আশাবাদী ছিল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডাকসু, জাকসু, রাকসুসহ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর জামায়াতে ইসলামী সংসদ নির্বাচনে বেশি আশাবাদী হয়েছিল।

তবে জামায়াত ও তার মিত্ররা ৮০টি আসনে (৭১টি এককভাবে জামায়াত) জয়লাভ করেছে। এতে জোটের ভেতরে-বাইরে অস্বস্তি ও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। জামায়াত ও ১১ দলের নেতারা তাদের ত্রুটি চিহ্নিত করছেন। গতকাল রাতে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের আমিরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত জোটের এই চমকপ্রদ সাফল্য বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে প্রধানত চারটি কারণে ১১ দলের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা ও প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তোলে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামী ও জোটের নেতারা জানান, এই কারণগুলো হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার থেকে প্রত্যাশিত ভোট না পাওয়া, আওয়ামী লীগের বিরাট অংশ বিএনপিকে সমর্থন দেওয়া, হেফাজতে ইসলামসহ আলেমদের একটি পক্ষ জামায়াতের বিরোধিতা করা এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ইস্যু। তার ওপর সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি বিতর্কিত ‘পোস্ট’ নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক ১১ দলীয় জোটকে অনেকটাই চাপে ফেলেছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার জন্য আপনাদের সবাইকে জানাই আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। তবে নির্বাচনের ফল তৈরি ও ঘোষণার ধরন আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। অনেক জায়গায় আমাদের প্রার্থীরা অল্প ভোটে রহস্যজনকভাবে হেরে গেছেন। ফলাফলে বারবার গরমিল ও সাজানো দেখা যাচ্ছে এবং প্রশাসনও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলে মনে হচ্ছে। এসব কারণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের ন্যায়ের লড়াই চলবেই, ইনশাআল্লাহ।

নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী তাদের আগের সব রেকর্ড ভেঙে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসনে জয়লাভ করেছে। দলটি এককভাবে ৭১টি আসনে জয় পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মোট ৮০টি আসনে জয়লাভ করেছে। তার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি ও খেলাফত মজলিস একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে দলটির প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি আসনে ভালো ফল করেছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা। এক কথায়, গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসন সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে জামায়াতের। অন্যদিকে, খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অন্তত ১০ জন হেভিওয়েট নেতা পরাজিত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একক দল হিসেবে জামায়াতের প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ আগের চেয়ে অনেক বেশি, যা মূলত নারী, তরুণ ও নতুন ভোটারদের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রংপুর ও খুলনা বিভাগের কয়েকটি জেলায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ কাজ করেছে। দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। ভোটারের একটি বড় অংশ বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে জামায়াতের কার্যক্রমের ওপর আস্থা রেখেছেন। সেইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর জোর ক্যাম্পেইন এবং আধুনিক ও কর্মমুখী রাজনীতির প্রতিশ্রুতি তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পেরেছে। এ ছাড়া দেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করে তাদের নিয়ে জোটবদ্ধ হওয়া এবং নিরপেক্ষ ভোটারদের সমর্থন নিজেদের বাক্সে টানতে সক্ষম হয়েছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, যেভাবেই হোক ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আমরা না মানলে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। সুতরাং দেশ ও জাতির বৃহৎ স্বার্থে আমাদের ফল মেনে সংসদে গিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার অভাব-অভিযোগ সংসদে তুলে ধরতে হবে।

সূত্র বলছে, বহু বছর কোণঠাসা থাকা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে পুনরুত্থান বা ফিরে আসা কেবল আকস্মিক নয়, বরং এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফসল। জামায়াত এবার এককভাবে না লড়ে সমমনা ১১টি দলের সঙ্গে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলে। শুরুর দিকে চরমোনাই পীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ জোটে থাকার কথা বললেও শেষ মুহূর্তে থাকেনি। ফলে নির্বাচনে ইসলামপন্থিদের ভোট একটি বাক্সে আনার বিষয়টি কিছুটা ধাক্কা খায়। যে কারণে জোটেও অস্বস্তি তৈরি হয়। কওমি ও আলিয়া ঘরানার ভোটের যে দীর্ঘদিনের বিভাজন ছিল, তা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। একপর্যায়ে জোটবদ্ধ হওয়ায় জামায়াত তার একক দলীয় পরিচয়ের বাইরে একটি ‘ইসলামী মোর্চা’ হিসেবে ভোটারদের কাছে হাজির হতে পেরেছে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, এবারের নির্বাচনের ঠিক আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ (চাকসু) বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র শিবিরের বড় জয় দলটির জন্য ‘ক্যাটালিস্ট’ হিসেবে কাজ করেছে। ক্যাম্পাসে শিবিরের জয় সাধারণ তরুণ ও প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে এ বার্তা দিয়েছে যে, জামায়াত এখন একটি ‘স্মার্ট’ ও ‘সুসংগঠিত’ শক্তি। শিবিরের দক্ষ ও সুশৃঙ্খল কর্মীবাহিনী নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখতে এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন অনেক দলের বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছিল, তখন জামায়াত কৌশলগতভাবে নিজেকে এসব থেকে দূরে রেখেছে। তারা জনসভায় ‘বিএনপিও দুর্নীতির পুরোনো ধারায় ফিরছে’ এমন একটি বয়ান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

১১ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল বলেন, দীর্ঘ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী যুগের অবসান ঘটিয়ে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচন অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো। বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংস ঘটনা ছাড়া সারা দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ফল ঘোষণায় বেশ কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। যা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশয় সৃষ্টি করে এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে তা আর কাম্য নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক স ম আলী রেজা বলেন, আমি মনে করি, এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম জোট ভালো করেছে। তাদের আসন ও ভোট অনেক বেড়েছে। তারা একটা বিকল্প ঢেউ তৈরি করতে পেরেছে। আমার ধারণা, এনসিপি তার স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখতে পারলে আরও ভালো করতো। আশা করি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একটি দায়িত্বশীল সরকার ও গঠনমূলক বিরোধী দল উপহার দেবে।

আরেকজন বিশ্লেষক বলেন, এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। আগের বছরগুলোয় তাদের নেতাকর্মীরা ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে পড়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধ সংশ্লিষ্ট মামলায় কয়েকজন শীর্ষ নেতার দণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনাও দলটির সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রভাব ফেলেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করে এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে জোরালোভাবে প্রচার করে। এই কৌশল ও মাঠপর্যায়ের সংগঠনের সক্রিয়তা তাদের ভোট বাড়াতে সহায়তা করেছে। এনসিপি একটি নবগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে সীমিত পরিসরে অংশ নিয়েও ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ। বৃহত্তর জোটভিত্তিক সমর্থন ও সাম্প্রতিক আন্দোলনকেন্দ্রিক পরিচিতি তাদের প্রাথমিক সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে হেরোইনসহ যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হেরোইনসহ যুবক গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬৫ পুড়িয়া হেরোইনসহ রহিম শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুর সদরের সিএন্ডবি ঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই (নিঃ) শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে উক্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের এক পর্যায়ে রহিম শেখকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হলে তার দেহ তল্লাশি করে ৬৫ পুড়িয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত রহিম শেখ ফরিদপুর জেলা সদরের সিএন্ডবি ঘাট এলাকার আইজুদ্দিন মাতুব্বর ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মৃত মালেক শেখ এবং মাতা রহিমা বেগম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, “মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে ডিবি পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।”

তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর জেলায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। স্থানীয় জনগণকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের মাদক সংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

ফরিদপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অপর এক আসামি পলাতক রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে সালথার বাউসখালী এলাকায় এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ হান্নান মিয়ার নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে রকিবুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার বাউশখালী মধ্যপাড়া এলাকার মৃত হারুন ফকিরের ছেলে।

গ্রেফতারকৃত রকিবুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একই এলাকার পলাতক আসামি মো. রিয়াজ শেখ (২৬)-এর বসতঘরে অভিযান চালায়। এ সময় তার শয়নকক্ষ থেকে আরও ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কেজি ১০০ গ্রাম।

পুলিশ জানায়, পলাতক রিয়াজ শেখ মো. রেজাউল শেখের ছেলে। অভিযান চালানোর সময় তিনি পালিয়ে যান। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”

তিনি আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে পুলিশ। জেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

পরকালে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন?

নিজামুল ইসলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
পরকালে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন?

মানুষ দুনিয়ার জীবনে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধনসম্পদ, পদমর্যাদা, চাকরি-বাকরি কিংবা প্রিয়জনকে হারিয়ে মানুষ সাময়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মানুষের এসব ক্ষতি চিরস্থায়ী নয়, সাময়িক। মানুষের স্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে পরকালীন ক্ষতি। পরকালীন জীবনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিভিন্ন স্তর রয়েছে। কেউ তার ক্ষতির পরিণাম ফল ভোগ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পরে শান্তি পাবে; জান্নাতে যেতে পারবে। কিন্তু কেউ কেউ তার ক্ষতির পরিণাম ফল ভোগ করবে অনন্তকাল।

পরকালীন ক্ষতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোরআনের অনেক আয়াত নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, এক. ‘ধ্বংস প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর জন্য।’ (সুরা জাসিয়াহ : ৭)। দুই. ‘ধ্বংস তার জন্য, যে মানুষের পেছনে অপবাদ রটায় এবং মানুষকে অপমানিত করে।’ (সুরা হুমাযাহ : ১)। তিন. ‘ধ্বংস তার জন্য, যে (জাকাত দেওয়া ব্যতীত) সম্পদ জমা করে এবং তা গণনা করতে থাকে।’ (সুরা হুমাযা : ২)। চার. ‘ধ্বংস সে সব নামাজির, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন থাকে।’ (সুরা মাউন : ৪)। পাঁচ. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা ক্রয়-বিক্রয়ের সময়ে ওজনে কম দেয়।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১)। ছয়. ‘ধ্বংস ওইসব মিথ্যারোপকারীর জন্য, যারা কেয়ামত দিবসকে অস্বীকার করে।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১০-১১)। সাত. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে (আসমানি) কিতাব রচনা করে এবং সামান্য মূল্য লাভের জন্য বলেÑ এটা আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।’ (সুরা বাকারা : ৭৯)। আট. ‘ধ্বংস ও কঠিন শাস্তি ওইসব কাফেরের জন্য, যারা পরকালের তুলনায় দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দেয় এবং আল্লাহর পথ হতে লোকদের বাধা প্রদান করে।’ (সুরা ইবরাহিম : ২-৩)। নয়. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা মহান দিবসের উপস্থিতিকে অস্বীকার করে।’ (সুরা মারইয়াম : ৩৮)। দশ. ‘ধ্বংস ওইসব লোকের, যারা আল্লাহ সম্পর্কে অযথা মিথ্যা কথা বানায়।’ (সুরা আম্বিয়া : ১৮)। এগারো. ‘ধ্বংস ওইসব কাফেরের জন্য, যারা ধারণা করে আসমান, জমিন ও এর মাঝে যা কিছু আছে আল্লাহ সেগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা সোয়াদ : ২৭)। বারো. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে কঠোর হয়ে গেছে।’ (সুরা যুমার : ২২)। তেরো. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে।’ (সুরা হামিম সাজদা : ৬)

এই শ্রেণির লোকজন ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত। এদের মধ্যে মুনাফেকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, তারা বাহ্যিকভাবে মুসলমানদের সঙ্গে মিশে নামাজ-রোজা করলেও জাহান্নামের সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকবে তারা। এসব ব্যক্তি চিরকালের জন্য জাহান্নামি হবে। আরেক শ্রেণির লোক আছে, যারা আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া এবং অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত। ওই সব লোক হলো—যারা বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধের মধ্যে ডুবে থাকে, অন্যের প্রতি জুলুম-অত্যাচার করে, আর ভাবে, অপরাধী ও জালেমদের যে ভয়াবহ পরিণতির কথা কোরআন ও হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে, তা কোথায়? আমরা তো অনেক অন্যায়-অপরাধ ও জুলুম-অত্যাচার করে বেড়াচ্ছি, কিন্তু আমাদের তো কিছুই হচ্ছে না! এ শ্রেণির লোকদের সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্তুত আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারাই নিশ্চিন্ত হয়, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।’ (সুরা আরাফ : ৯৯)

আরেক শ্রেণির ক্ষতিগ্রস্ত লোক আছে, যারা ইমান এনেছে বলে দাবি করে, সেইসঙ্গে তারা ইবাদত-বন্দেগিও করে। কিন্তু তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বের সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগি করে, যদি তাদের কোনো কল্যাণ অর্জিত হয়, তাহলে তারা ইবাদত-বন্দেগি করে, আর যদি তাদের কোনো বিপদ আক্রান্ত করে, তাহলে তারা দ্বীন ইসলামের সত্যতার ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়ে। তারা ভাবে, দ্বীন ইসলাম যদি সত্য হয়; তাহলে আমরা কেন এসব বিপদাপদে আক্রান্ত হচ্ছি? তাদের সম্পর্কে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করে। যদি তার কোনো কল্যাণ লাভ হয়, তাহলে সে ইবাদত-বন্দেগির ওপর কায়েম থাকে। আর যদি তাকে কোনো বিপদ আক্রান্ত করে, তাহলে সে পূর্বাবস্থায় কুফরির দিকে ফিরে যায়। সে ইহকালে ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত। এটাই প্রকাশ্য ক্ষতি।’ (সুরা হজ : ১১)

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক