খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন যাঁরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন যাঁরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসন পেয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক পর নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারা। বিএনপির এই মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, সবার নজর এখন সেদিকে।

এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোরালো আলোচনা। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পরই মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষণ গণনা শুরু হবে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, সাংবিধানিকভাবেই নির্বাচিত সংসদস দস্যদের শপথ পড়ানো হবে। তাঁরা আশা করছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই শপথ পড়ানো হবে এবং দেশবাসী নতুন সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিপরিষদ দেখতে পাবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন-প্রবীণের মিশেলে। অতীতে দলের প্রতি ত্যাগ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদে তাঁরা জায়গা পাবেন। দল থেকে যাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁদের মূল্যায়ন করা হবে। বিষয়ভিত্তিক যাঁরা এক্সপার্ট, তাঁরাই এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন। ঢাউস কোনো মন্ত্রিসভা করা হবে না বলে জানা গেছে।

নতুন মন্ত্রিসভার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক যে যাত্রা শুরু হলো, তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। সব রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং সংবিধানের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হবে—এটা আমাদের লক্ষ্য ছিল।’

তিনি বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই আমরা আমাদের ইশতেহার প্রণয়ন করেছি। এর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। এই রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল আমরা অক্ষর অক্ষরে পালন করব।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আশা করি, বিকেলের (গতকাল শুক্রবার) মধ্যে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করবে এবং তার পর থেকে ক্ষণ গণনা শুরু হবে। সংসদ সদস্য শপথ নেওয়ার বিষয়টি সাংবিধানিকভাবেই হবে।’

তারেক রহমান এবার দুটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে এবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে তাঁর ওপর দলের গুরুদায়িত্ব বর্তায়। নিজের পরিশ্রম, মেধা দিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে দেশের মানুষের মন জয় করে বিএনপিকে নিরষ্কুুশ জয় এনে দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হবেন।

নতুন সরকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যাচ্ছেন—এ বিষয়ে জোরালো আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জহিরউদ্দিন স্বপন, রেজা কিবরিয়া, এহসানুল হক মিলন, রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, শরীফুল আলম, দেওয়ান সালাহউদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, সেলিম ভূঁইয়া, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান আসাদ, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শামা ওবায়েদ, ফারজানা শারমিন পুতুল, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, আসাদুল হাবীব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রকিবুল ইসলাম বকুল আলোচনায় আছেন।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত, খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি ও বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত দুজনের মধ্যে একজন আলোচনায় আছেন।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপির  স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহ, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, হুমায়ূন কবীর, জিয়া হায়দারসহ কয়েকজন।

এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন-নবী খান সোহেলও আলোচনায় আছেন।

মন্ত্রিসভায় বিএনপি জোটে শরিকদের মধ্যে আলোচনায় আছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর, ববি হাজ্জাজসহ কয়েকজন।

প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতাবিষয়ক বড় কোনো দায়িত্বে যাচ্ছেন তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনও এ ধরনের কোনো দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনায় আছেন।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ৮ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব বিএস ডাঙ্গী অবস্থিত পরিত্যাক্ত জেলখানার একটি ভবনের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিশুটি প্রতি দিনের মতন বাড়ির পাশের পরিত্যাক্ত ওই জেলখানার উন্মুক্ত স্থানে খেলা করতে আসে। এ সময় শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে আলতাফ ওরফে আদু (৬৫) তাকে পাশেই পরিত্যাক্ত একটি ভবনের বারান্দায় ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। অভিযুক্ত আদু ওই ভবনের পাশেই একটি জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে বসবাস করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, আদুর বর্তমান স্ত্রী প্রতিবন্ধী। সে পেশায় একজন ভ্যান চালক। শিশুটি মাঝে মধ্যেই আদুর মেয়েদের সাথে খেলা করতে আদুর বাড়ির সামনে আসত।

ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী এক নারী জানান, তিনি ও তার বোন সকালে জেলখানার সামনের ওই স্থান দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তিনি খারাপ কাজ করার দৃশ্য দেখতে পায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন স্বামী স্ত্রী হতে পারে, পরে তিনি আবার তাকিয়ে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে ওই স্থানে এগিয়ে যান।

তিনি বলেন, তাকে দেখে আদু শিশুকে প্যান্ট পরিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টো করে। তখন ওই নারী এগিয়ে গিয়ে আদুকে শাসালে আদু পালিয়ে যায়।পরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা নিজেদের সন্তান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

এই ঘটনার বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় শিশুটির নানী বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছেন।

সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পশুর হাট বসিয়ে লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিঁয়াজখালী বাজার এলাকায় এ পশুর হাট বসানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হান্নান চাকলাদার নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা করছেন। হাটে আগত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘ সময় ধরে একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত খাজনার চাপে পড়ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হান্নান চাকলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, ওই বাজারে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে উনারা জেলা প্রশাসকের আবেদন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বজ্রপাতে শেখ সামাদ (৭৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সলিমুদ্দিন ফকিরের ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শেখ সামাদ ওই গ্রামের মৃত শেখ ইয়াজউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে শেখ সামাদ গরুর জন্য নিজ জমিতে ঘাস কাটতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তার স্ত্রী ছাহেরা বেগমের চিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সদরপুর থানা পুলিশকে জানালে উপ-পরিদর্শক (নি:) মো. মিনারুল কাজী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।