খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের নগরকান্দায় কাঁচা রাস্তার কষ্টে অতিষ্ঠ শতাধিক পরিবার, মিলছে না উন্নয়নের ছোঁয়া

এহসানুল হক মিয়া, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় কাঁচা রাস্তার কষ্টে অতিষ্ঠ শতাধিক পরিবার, মিলছে না উন্নয়নের ছোঁয়া

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের নাম একটি কাঁচা রাস্তা। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বর্ষা এলেই কাদামাটির স্তূপে পরিণত হয়। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—অন্তত একটি ইটের সড়ক নির্মাণ করে তাদের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব করা হোক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুরাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম বাজার থেকে মেহেরদিয়া মাঠ পর্যন্ত বিস্তৃত এই কাঁচা সড়কটি বছরের বেশিরভাগ সময় কোনোভাবে চলাচলের উপযোগী থাকলেও বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান কাদা জমে যায়। ফলে মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশাসহ কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে না। অনেক সময় পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে গিয়ে অনেক সময় তারা পিছলে পড়ে আহত হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষও সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এই রাস্তায় চলাচল যেন এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রাস্তার কারণে কৃষিপণ্য বাজারজাত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ধান, পাট, সবজি ও অন্যান্য ফসল মাঠ থেকে বাজারে নিতে অতিরিক্ত শ্রম ও খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় মাথায় বা কাঁধে করে কৃষিপণ্য বহন করতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।

এলাকাবাসী আরও জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এই সড়ক দিয়ে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে কাদার মধ্যে বহন করে মূল সড়কে নিয়ে যেতে হয়। এতে জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হয় বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, “বর্ষা এলেই রাস্তাটি একেবারে অচল হয়ে যায়। অন্তত ইট বিছিয়ে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও মানুষের দুর্ভোগ অনেক কমে যেত। আমরা দ্রুত রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চাই।”

পুরাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, “রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়, এলজিইডির আওতাধীন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

পুরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান (বাবু ফকির) বলেন, “বনগ্রাম দক্ষিণপাড়ার মানুষের এই দুর্ভোগের বিষয়টি আমরা জানি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে রাস্তাটি দ্রুত উন্নয়নের চেষ্টা করা হবে।”

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার রাহাত ফেরদৌস বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন করলে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কটি দ্রুত ইটের রাস্তা বা পাকা সড়কে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন বনগ্রাম দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে শতাধিক পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার শিক্ষা, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এজাজুল মিয়া (২০) ও স্বাধীন সরকার (২০) নামের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

​সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত এজাজুল মিয়া ভাঙ্গা পৌরসভার হাজরাহাটি গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে এবং স্বাধীন সরকার নগরকান্দা উপজেলার জিয়াকুলি গ্রামের শাহাদাৎ সরকারের ছেলে।

​আহতরা হলেন—নগরকান্দার জিয়াকুলি গ্রামের রহমান মাতুব্বরের ছেলে নাসিম মাতুব্বর (২০) এবং ভাঙ্গা পৌরসভার ভারইডাঙ্গা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে রাজন আলী (২১)। তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় দুটি মোটরসাইকেলে করে চার যুবক বিশ্বরোড গোলচত্বর এলাকায় ঘুরতে বের হন। পথিমধ্যে বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেল চালক নিহত হন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদ আহম্মেদ জানান, ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শিক্ষায় শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পেলেন অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষায় শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পেলেন অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান

শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ‘শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক স্মৃতি’ পুরস্কার পেলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দীর নবকাম পল্লী কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান। সম্প্রতি ‘স্বাধীনতা সংসদ’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও দক্ষ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এর আগেও বিভিন্ন পর্যায়ে সম্মাননা পেয়েছেন অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক মূল্যায়নে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। সালথা উপজেলায় একাধিকবার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি ফরিদপুর জেলা পর্যায়েও শ্রেষ্ঠ কলেজপ্রধানের স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি।

নবকাম পল্লী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে উৎসাহিত করা, ঝরে পড়া রোধ এবং প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন ওবায়দুর রহমান। তার নেতৃত্বে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশের উন্নয়নে নানা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অধ্যক্ষের এ পুরস্কার অর্জনের খবরে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, ‘যেকোনো স্বীকৃতি কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠা বাড়িয়ে দেয়। এ সম্মাননা আমার একার নয়; এটি নবকাম পল্লী কলেজ, সহকর্মী শিক্ষক এবং সালথাবাসীর ভালোবাসার ফসল।’

তিনি বলেন, শিক্ষার প্রসার ও সমাজকল্যাণে ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান। এ জন্য তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

শীতের আগমনী

সোহানুর রহমান
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
শীতের আগমনী

তাপমাত্রা আজ ২৯, আগামীকালও ২৯,আর কয়েকদিন পরেই তা নেমে আসবে ২৩-২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

ঊষালগ্নে আমাদের বিছানার দক্ষিণ পাশের জানলার থাই গ্লাসে শিমুল তুলার মতো স্বচ্ছ কুয়াশা জমবে,
সাথে বইবে উত্তরের ঝিরিঝিরি বাতাস।

​তোমার কপালের কালো টিপের দিব্যি—
তাতে আমি এতটুকু শিহরিত নই;
বরং আমি তো কল্পনায় বিভোর,
২৩-২৪ তাপমাত্রায় তোমার নিঃশ্বাসের হালকা উষ্ণ বাতাস আমার দাড়ির লোমকূপকে শিহরিত করবে!

​আমাদের বাসার ছাদে গাঁদা, চামেলি, চন্দ্রমল্লিকা ফুটবে,
অফিসের প্রান্তর ভরে উঠবে ক্যালেন্ডিলা, জারবেরা, কসমস আর অ্যাস্টার ফুলে।

​তোমার চোখের কাজলের দিব্যি—
তাতে আমার কোনো আগ্রহ নেই;
বরং আমি তো ভেবেই ব্যাকুল,
২০-২১ তাপমাত্রায় তোমার নিঃশ্বাসের কুয়াশার স্নিগ্ধতা আমার চোখের সুপারসিলিয়াকে ছুঁয়ে যাবে!

​ভেড়ামারা রেলস্টেশন, ফারাকপুর দক্ষিণ রেলগেটসহ অসংখ্য মোড়ে মোড়ে সরিষা বাটা, ধনিয়া পাতার ভর্তা আর চিতই পিঠার সাথে মিলবে গরম কালাই রুটি;

আর ভাপাপিঠা তো কমন!
​তোমার চুলের খোঁপার দিব্যি—
তাতে আমার সামান্য মনোযোগ নেই;
বরং আমি তো পরিকল্পনায় ব্যস্ত,
১৬-১৭ তাপমাত্রায় তোমার মুখের ভাপ ছড়িয়ে তুমি ড্রাগন হবে,
আর আমি হব মনস্টার!