ফরিদপুরের নগরকান্দায় কাঁচা রাস্তার কষ্টে অতিষ্ঠ শতাধিক পরিবার, মিলছে না উন্নয়নের ছোঁয়া
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের নাম একটি কাঁচা রাস্তা। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বর্ষা এলেই কাদামাটির স্তূপে পরিণত হয়। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—অন্তত একটি ইটের সড়ক নির্মাণ করে তাদের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব করা হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুরাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম বাজার থেকে মেহেরদিয়া মাঠ পর্যন্ত বিস্তৃত এই কাঁচা সড়কটি বছরের বেশিরভাগ সময় কোনোভাবে চলাচলের উপযোগী থাকলেও বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান কাদা জমে যায়। ফলে মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশাসহ কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে না। অনেক সময় পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে গিয়ে অনেক সময় তারা পিছলে পড়ে আহত হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষও সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এই রাস্তায় চলাচল যেন এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রাস্তার কারণে কৃষিপণ্য বাজারজাত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ধান, পাট, সবজি ও অন্যান্য ফসল মাঠ থেকে বাজারে নিতে অতিরিক্ত শ্রম ও খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় মাথায় বা কাঁধে করে কৃষিপণ্য বহন করতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এই সড়ক দিয়ে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে কাদার মধ্যে বহন করে মূল সড়কে নিয়ে যেতে হয়। এতে জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হয় বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, “বর্ষা এলেই রাস্তাটি একেবারে অচল হয়ে যায়। অন্তত ইট বিছিয়ে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও মানুষের দুর্ভোগ অনেক কমে যেত। আমরা দ্রুত রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চাই।”
পুরাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, “রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়, এলজিইডির আওতাধীন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
পুরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান (বাবু ফকির) বলেন, “বনগ্রাম দক্ষিণপাড়ার মানুষের এই দুর্ভোগের বিষয়টি আমরা জানি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে রাস্তাটি দ্রুত উন্নয়নের চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার রাহাত ফেরদৌস বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন করলে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কটি দ্রুত ইটের রাস্তা বা পাকা সড়কে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন বনগ্রাম দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে শতাধিক পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার শিক্ষা, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

আপনার মতামত লিখুন
Array