খুঁজুন
, ,

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬: যে চার কারণে ব্যর্থ ১১ দলীয় জোট?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬: যে চার কারণে ব্যর্থ ১১ দলীয় জোট?

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনে আশাবাদী ছিল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডাকসু, জাকসু, রাকসুসহ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর জামায়াতে ইসলামী সংসদ নির্বাচনে বেশি আশাবাদী হয়েছিল।

তবে জামায়াত ও তার মিত্ররা ৮০টি আসনে (৭১টি এককভাবে জামায়াত) জয়লাভ করেছে। এতে জোটের ভেতরে-বাইরে অস্বস্তি ও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। জামায়াত ও ১১ দলের নেতারা তাদের ত্রুটি চিহ্নিত করছেন। গতকাল রাতে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের আমিরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত জোটের এই চমকপ্রদ সাফল্য বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে প্রধানত চারটি কারণে ১১ দলের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা ও প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তোলে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামী ও জোটের নেতারা জানান, এই কারণগুলো হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার থেকে প্রত্যাশিত ভোট না পাওয়া, আওয়ামী লীগের বিরাট অংশ বিএনপিকে সমর্থন দেওয়া, হেফাজতে ইসলামসহ আলেমদের একটি পক্ষ জামায়াতের বিরোধিতা করা এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ইস্যু। তার ওপর সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি বিতর্কিত ‘পোস্ট’ নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক ১১ দলীয় জোটকে অনেকটাই চাপে ফেলেছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার জন্য আপনাদের সবাইকে জানাই আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। তবে নির্বাচনের ফল তৈরি ও ঘোষণার ধরন আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। অনেক জায়গায় আমাদের প্রার্থীরা অল্প ভোটে রহস্যজনকভাবে হেরে গেছেন। ফলাফলে বারবার গরমিল ও সাজানো দেখা যাচ্ছে এবং প্রশাসনও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলে মনে হচ্ছে। এসব কারণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের ন্যায়ের লড়াই চলবেই, ইনশাআল্লাহ।

নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী তাদের আগের সব রেকর্ড ভেঙে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসনে জয়লাভ করেছে। দলটি এককভাবে ৭১টি আসনে জয় পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মোট ৮০টি আসনে জয়লাভ করেছে। তার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি ও খেলাফত মজলিস একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে দলটির প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি আসনে ভালো ফল করেছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা। এক কথায়, গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসন সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে জামায়াতের। অন্যদিকে, খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অন্তত ১০ জন হেভিওয়েট নেতা পরাজিত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একক দল হিসেবে জামায়াতের প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ আগের চেয়ে অনেক বেশি, যা মূলত নারী, তরুণ ও নতুন ভোটারদের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রংপুর ও খুলনা বিভাগের কয়েকটি জেলায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ কাজ করেছে। দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। ভোটারের একটি বড় অংশ বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে জামায়াতের কার্যক্রমের ওপর আস্থা রেখেছেন। সেইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর জোর ক্যাম্পেইন এবং আধুনিক ও কর্মমুখী রাজনীতির প্রতিশ্রুতি তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পেরেছে। এ ছাড়া দেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করে তাদের নিয়ে জোটবদ্ধ হওয়া এবং নিরপেক্ষ ভোটারদের সমর্থন নিজেদের বাক্সে টানতে সক্ষম হয়েছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, যেভাবেই হোক ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আমরা না মানলে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। সুতরাং দেশ ও জাতির বৃহৎ স্বার্থে আমাদের ফল মেনে সংসদে গিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার অভাব-অভিযোগ সংসদে তুলে ধরতে হবে।

সূত্র বলছে, বহু বছর কোণঠাসা থাকা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে পুনরুত্থান বা ফিরে আসা কেবল আকস্মিক নয়, বরং এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফসল। জামায়াত এবার এককভাবে না লড়ে সমমনা ১১টি দলের সঙ্গে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলে। শুরুর দিকে চরমোনাই পীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ জোটে থাকার কথা বললেও শেষ মুহূর্তে থাকেনি। ফলে নির্বাচনে ইসলামপন্থিদের ভোট একটি বাক্সে আনার বিষয়টি কিছুটা ধাক্কা খায়। যে কারণে জোটেও অস্বস্তি তৈরি হয়। কওমি ও আলিয়া ঘরানার ভোটের যে দীর্ঘদিনের বিভাজন ছিল, তা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। একপর্যায়ে জোটবদ্ধ হওয়ায় জামায়াত তার একক দলীয় পরিচয়ের বাইরে একটি ‘ইসলামী মোর্চা’ হিসেবে ভোটারদের কাছে হাজির হতে পেরেছে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, এবারের নির্বাচনের ঠিক আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ (চাকসু) বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র শিবিরের বড় জয় দলটির জন্য ‘ক্যাটালিস্ট’ হিসেবে কাজ করেছে। ক্যাম্পাসে শিবিরের জয় সাধারণ তরুণ ও প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে এ বার্তা দিয়েছে যে, জামায়াত এখন একটি ‘স্মার্ট’ ও ‘সুসংগঠিত’ শক্তি। শিবিরের দক্ষ ও সুশৃঙ্খল কর্মীবাহিনী নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখতে এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন অনেক দলের বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছিল, তখন জামায়াত কৌশলগতভাবে নিজেকে এসব থেকে দূরে রেখেছে। তারা জনসভায় ‘বিএনপিও দুর্নীতির পুরোনো ধারায় ফিরছে’ এমন একটি বয়ান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

১১ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল বলেন, দীর্ঘ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী যুগের অবসান ঘটিয়ে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচন অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো। বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংস ঘটনা ছাড়া সারা দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ফল ঘোষণায় বেশ কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। যা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশয় সৃষ্টি করে এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে তা আর কাম্য নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক স ম আলী রেজা বলেন, আমি মনে করি, এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম জোট ভালো করেছে। তাদের আসন ও ভোট অনেক বেড়েছে। তারা একটা বিকল্প ঢেউ তৈরি করতে পেরেছে। আমার ধারণা, এনসিপি তার স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখতে পারলে আরও ভালো করতো। আশা করি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একটি দায়িত্বশীল সরকার ও গঠনমূলক বিরোধী দল উপহার দেবে।

আরেকজন বিশ্লেষক বলেন, এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। আগের বছরগুলোয় তাদের নেতাকর্মীরা ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে পড়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধ সংশ্লিষ্ট মামলায় কয়েকজন শীর্ষ নেতার দণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনাও দলটির সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রভাব ফেলেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করে এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে জোরালোভাবে প্রচার করে। এই কৌশল ও মাঠপর্যায়ের সংগঠনের সক্রিয়তা তাদের ভোট বাড়াতে সহায়তা করেছে। এনসিপি একটি নবগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে সীমিত পরিসরে অংশ নিয়েও ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ। বৃহত্তর জোটভিত্তিক সমর্থন ও সাম্প্রতিক আন্দোলনকেন্দ্রিক পরিচিতি তাদের প্রাথমিক সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে জেলা পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সভা: অস্ত্র-মাদক উদ্ধারে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জেলা পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সভা: অস্ত্র-মাদক উদ্ধারে জোর

ফরিদপুর জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকাল ৩টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

​সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), তদন্ত কেন্দ্র ও ফাঁড়ির ইনচার্জ এবং বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা।

​সভায় পুলিশ সুপার দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ওয়ারেন্ট তামিল, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

​অনুষ্ঠানে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, ডাকাতি ও হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার, পরোয়ানা নিষ্পত্তি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়। পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য তাদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার।

​এ সময় জেলা পুলিশ এবং বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সদরপুরে আড়িয়াল খাঁর ভাঙন থেকে সড়ক রক্ষায় বৃক্ষরোপণ করল ছাত্রদল

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে আড়িয়াল খাঁর ভাঙন থেকে সড়ক রক্ষায় বৃক্ষরোপণ করল ছাত্রদল

ফরিদপুরের সদরপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙন থেকে ইটের সড়ক রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা ছাত্রদল। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ওই সড়ক ছাড়াও উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে আরও এক হাজারের বেশি গাছের চারা রোপণ করেছে সংগঠনটি।

গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শেষ হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটি রক্ষায় ইউনিয়নের হাকিমনগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে দুর্বারটেক ট্রলারঘাট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির পাঁচ শতাধিক গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

চরনাসিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রোকন উদ্দীনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে সদরপুর উপজেলা ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী তুষার মাহমুদ, সদরপুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিম সিয়াম, ছাত্রদল নেতা তরিকুল, হাবিব, আসিফ, আনিস ও অনিকসহ নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।

এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী তুষার মাহমুদ জানান, নদীভাঙন থেকে সড়ক রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেই আমরা এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছি। ছাত্রদল মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে চায়।

হামিম সিয়াম বলেন, গত কয়েক দিনে প্রায় এক হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। রোপণ করা গাছগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের তত্ত্বাবধানে কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।

ফরিদপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় পদ গেল জামায়াত নেতার

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় পদ গেল জামায়াত নেতার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ ওঠায় মো. ইনামুল মোল্লা (২৬) নামে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বোয়ালমারী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

​মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে তাকে সাময়িকভাবে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ও পৌর জামায়াত নেতারা। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

​ইনামুল মোল্লা পৌরসভার কুশডাঙ্গা গ্রামের মো. আকরাম মোল্যার ছেলে। তিনি বোয়ালমারী বাজারের ‘মোল্লা ডাক্তার কে হালিম হাসপাতাল’-এ রিসেপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত।

​স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ওই পৌরসভার কুটিপাড়া এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন ইনামুল। সম্প্রতি তাদের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি উভয় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

​হাসপাতালের ম্যানেজার রেজাউল করিম জানান, দুই দিন আগে ভুক্তভোগী প্রবাসী মোবাইল ফোনে কল করে ইনামুলের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানা ছিল না বলে তিনি ওই প্রবাসীকে জানান।

​এদিকে ঘটনার পর থেকে জামায়াত নেতা ইনামুল মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দুটি বন্ধ রয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

​বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৈয়দ সাজ্জাদ আলী বলেন, “প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়ায় প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে ইনামুল মোল্লাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ তদন্ত শেষে অভিযোগের সতত্যা পাওয়া গেলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় সংগঠন কখনো নেবে না।”