খুঁজুন
, ,

আজ একই দিনে ভোট ও গণভোট, ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
আজ একই দিনে ভোট ও গণভোট, ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশ

নানা আলোচনা ও জল্পনার পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ জাতীয় নির্বাচনের পর এই নির্বাচন কবে হবে, কিংবা আদৌ হবে কী-না এ নিয়ে নানা প্রশ্নও ছিল।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটেও ভোট দিবেন দেশের প্রায় পৌনে তেরো কোটি ভোটার।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আগামী নির্বাচনকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন আখ্যা দিয়ে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেছেন, “আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারবো”।

নির্বাচনের কয়েকদিন আগে শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ওইআসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত হবে ভোট। এতে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে লড়বেন ১৭৫৫জন প্রার্থী।

২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া। যে কারণে ভোটার উপস্থিতি নিয়েও এক ধরনের শঙ্কা দেখা গিয়েছিল।

তবে, এবারের নির্বাচনে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আরো দুইদিন সরকারি ছুটি থাকায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ভিড় ঠেলে অনেককে বাড়ি যেতে দেখা গেছে; আমেজ ছিল অনেকটা ঈদ উৎসবের মতোই।

আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া ভোট হলেও বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে সারাদেশে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের বেশিরভাগই অংশ নিতে পারেনি। যে কারণে এবারের নির্বাচন ঘিরে মানুষের আগ্রহও অনেক বেশি।

তবে, তারা এটিও বলছেন যে, যদি এই নির্বাচন নিয়েও কোনো প্রশ্ন তৈরি হয় তা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য সংকট আরো বাড়াবে।

বহুল প্রত্যাশিত সংসদ নির্বাচন

বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র দুই বছর আগে ২০২৪ সালের সাতই জানুয়ারি। এর মাত্র দুই বছরের মাথায় আরো একটি সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।

গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের তিনদিনের মাথায় চব্বিশের আটই অগাস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এর কয়েক মাসের মাথায়ই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

এ নিয়ে বিএনপি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে টানাপোড়েনের মধ্যে গত বছরের জুনে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠক হয় তারেক রহমানের।

এরপরই নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটে। ২০২৫ সালের পাঁচই অগাস্ট জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা হয়।

এই ঘোষণার পরও নির্বাচন হবে কী-না সেই প্রশ্ন ছিল দেশের সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন জায়গায়।

গত বছরের ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। তফসিল ঘোষণার পরেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘাত সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে নির্বাচন নিয়ে যে অভিজ্ঞতা তা থেকে ভোটাররা অনেকটাই নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে এবারের সংসদ নির্বাচনটা ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছরে মাত্র তিনটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। ২০০১ সালের পর আর সব নির্বাচন নিয়েই ছিল নানা প্রশ্ন। এমন অবস্থায় এই সরকারকে আমরা যদি নিরপেক্ষ হিসেবে ধরি এই নির্বাচনটি ভাল হতে হবে”।

যে কারণে ভোটের আগের দিন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, এবারের নির্বাচনটি ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের অনুরোধও জানান তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে তরুণ ভোটাররা

এবারের নির্বাচনে পৌনে তেরো কোটিরও বেশি ভোটার। ভোটারদের বড় একটি অংশই এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, পৌনে তেরো কোটি ভোটারের মধ্যে ৪ কোটি ৯০ লাখ ভোটারই তরুণ ভোটার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন এই তরুণ ভোটাররা।

ইসির তথ্য বলছে, এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। আর হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি।

৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোট নেবেন। এদের প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন, পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।

এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক ও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন।

২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করছে। দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এরমধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন। বাকি ২০ জন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ভোটের পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন।

নিরাপত্তায় নয় লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ভোট চলবে বিকেলে সাড়ে চারটা পর্যন্ত। এবার একই দিনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় ফলাফলে দেরি হতে পারে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে সারাদেশের ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশের ওপরে ভোটকেন্দ্রকে নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এবার নির্বাচনের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করে সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।

এই নির্বাচনে ভোটের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে ৯ লাখেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখ ৩ হাজার, নৌ বাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার, আর বিমান বাহিনীর তিন হাজার ৫০০ সদস্য।

যে সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, যে সব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে বাড়তি পুলিশ, সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরাও থাকবে।

কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানোর পরই ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতের যাবতীয় কাজ শেষ করবেন প্রিসাইডিং অফিসার ও দায়িত্ব পালনকারী অন্য কর্মকর্তারা। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দিবে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি।।

বুধবার ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সহায়তায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে”।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট শেষে পোলিং কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সামনেই গণনা করা হবে ভোটের ফলাফল।

ভোট গণনা শেষে ফলাফল হবে কখন?

অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে এবারে ভোটার সংখ্যা অনেক বেশি। অন্যদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নির্বাচনের দিনই গোলাপি ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।

একই দিনে দুইটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হবে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

অন্যদিকে, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও দেশের সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে ইসিকে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আলাদা করে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল গণনা করা হবে পোলিং এজেন্টদের সামনেই।

দুইটি ব্যালট আলাদাভাবে গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হবে। পরে সেই ভোটের ফলাফল কেন্দ্রেই টানিয়ে দেবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

কেন্দ্রের রেজাল্টের আরেকটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখবেন, আরেকটি সেট তিনি নির্দিষ্ট খামে পাঠিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনে।

আর যে সব ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন সেটি থাকবে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে। ১২ই ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে যে সব ব্যালট রিটার্নিং অফিসে জমা হবে সেগুলোও রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর এজেন্টদের সামনে গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

পরে গণনা শেষে কেন্দ্রের ফলাফল ও পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল একত্রিত করে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করে তা ঘোষণা দিবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

সেই ফলাফল নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে একেক করে আসনভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, এবার দুইটি ভোট একদিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় সময় লাগবে বেশি।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ধারণা দিচ্ছেন বৃহস্পতিবার ভোট শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দৈনিক রানারের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দৈনিক রানারের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় সংবাদপত্র ‘দৈনিক রানার’-এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে দৈনিক রানারের আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

​প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা খান আসাদুজ্জামান টুনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম ও হারুন অর রশীদ, সাবেক সভাপতি আমিনুর রহমান আচ্চু ও সেকেন্দার আলম।

​এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিনিধি আজিজুর রহমান দুলাল, দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি গোলাম আজম মনির, প্রেসক্লাবের সাবেক দপ্তর সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ মুস্তাফিজ, সদস্য কমরুল হক ভূঁইয়া, আবুল বাশার ও শহিদুল ইসলামসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।

​আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সংবাদপত্র মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘ পথচলায় দৈনিক রানার পাঠকের আস্থা অর্জন ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা সত্যি প্রশংসনীয়।

​বক্তারা পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং এর সম্পাদক, প্রকাশক, সাংবাদিক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

​আলোচনা সভা শেষে এক আনন্দ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।

পদ্মার গ্রাসে বিলীন স্বপ্নের ভিটেমাটি: ফরিদপুরে খোলা আকাশের নিচে শত শত পরিবার

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
পদ্মার গ্রাসে বিলীন স্বপ্নের ভিটেমাটি: ফরিদপুরে খোলা আকাশের নিচে শত শত পরিবার

পদ্মার নির্মম ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৪টি দুর্গম চরের হাজার হাজার মানুষ। তীব্র স্রোতে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বহু সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো। এতে এলাকাটিতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে শত শত পরিবার।

​সম্প্রতি এলাকাটিতে সাংবাদিকদের আসার খবর পেয়ে জীবন-জীবিকা রক্ষা ও মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের দাবিতে আশ্রয়ণের ঘরের সামনেই মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্ত নারী-পুরুষরা।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জীবনজুড়ে নিত্য সংগ্রাম। বর্ষায় বন্যা আর নদীভাঙন, আবার শুষ্ক মৌসুমে মাইল কে মাইল হেঁটে ট্রলার ঘাটে পৌঁছাতে হয় তাদের। তবে এবারের নদীভাঙন তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে।

​নর্থচ্যানেল ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা হোসেন জানান, পদ্মার তীব্র তোড়ে গত কিছুদিন ধরে অব্যাহত ভাঙনে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। ফলদ ও বনজ গাছপালাসহ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে প্রায় ৭০০ বিঘা উর্বর ফসলি জমি। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিআরডি) প্রায় তিন কিলোমিটার পাকা সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল, মক্তব, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক এমনকি ১০টি আশ্রয়ণের ঘরও পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে অনেক পরিবার অতীতেও একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন।

​এ বিষয়ে স্থানীয় মজিবর মোল্লা বলেন, “ইতিমধ্যেই তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি পদ্মার পেটে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে অনেক পরিবার তড়িঘড়ি করে বসতভিটা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগটুকুও পায়নি।”

​জয়নাল মাতুব্বর ডাঙ্গীর বাসিন্দা মো. হিরু শেখ বলেন, “নর্থচ্যানেল ইউপির জয়নাল মাতুব্বর ডাঙ্গী, কবিরপুর ব্রিজ সড়ক এবং কবিরপুর এলাকাসহ প্রায় তিন কিলোমিটার পাকা ও কাঁচা সরকারি সড়ক সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। ব্রিজ, কালভার্ট, একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লিনিক নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ায় শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা একেবারেই স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।”

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ে কেবলই ভিটেমাটি হারা মানুষের হাহাকার আর আর্তনাদ। গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলো বাঁধের ওপর ও খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টাঙিয়ে দিন কাটাচ্ছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

​আক্ষেপ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা চায়না বেগম বলেন, “চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার আর জমিজমা পদ্মায় তলিয়ে গেল। আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা বাঁচতে চাই। নদীভাঙন বন্ধে স্থায়ী বাঁধ না হলে মানচিত্র থেকেই আমাদের নাম মুছে যাবে।”

​ভাঙনের শিকার হায়দার আলী জানান, পরিস্থিতি দিন দিন আরও আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। পদ্মার অব্যাহত আগ্রাসন থেকে বাকি গ্রামগুলো রক্ষা করতে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ দরকার। তারা সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি জানান— জরুরি ত্রাণ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলা ও স্থায়ী গাইড বাঁধ নির্মাণ করা, এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য খাসজমি বরাদ্দসহ কৃষিঋণ মওকুফ ও আর্থিক অনুদান দেওয়া।

​ক্ষতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নর্থচ্যানেল ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোফাজ্জল হোসেন এবং ডিক্রিরচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হায়দার আলী খান বলেন, “হঠাৎ নদীভাঙনে বিঘা বিঘা জমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হারিয়ে এই এলাকায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নদীপাড়ের কৃষকদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে মানুষ এখন নিঃস্ব। ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে তারা অমানবিক দিন কাটাচ্ছে।”

​সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙন প্রতিরোধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিকল্পনা ভাবা হচ্ছে।”

​প্রকৃতির এই নির্মম তাণ্ডবে দিশেহারা ফরিদপুরের দুর্গম চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষগুলো এখন স্থায়ী সমাধান ও দ্রুত সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন।

ফরিদপুরে সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, যুবদল কর্মীকে হাতুড়িপেটা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, যুবদল কর্মীকে হাতুড়িপেটা

ফরিদপুরের নগরকান্দায় সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তোলায় শেখ খোরশেদ আহমেদ দোলন (৫০) নামে এক যুবদল কর্মীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

​সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​আহত দোলন রামনগর ইউনিয়নের দুলারডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা এবং জেলা যুবদলের সদস্য। আহত অন্য তিনজন হলেন— উত্তর গোপীনাথপুর গ্রামের সুমন তালুকদার (৩৬), গোপালপুর গ্রামের ওয়াজেদ মোল্যা (৫০) এবং বাড়ৈইডাঙ্গী গ্রামের মোস্তাক আহমেদ কলি মণ্ডল (৫০)।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রামনগর ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ নিয়োগের জন্য আবেদন করেন যুবদল সদস্য খোরশেদ আহমেদ দোলন এবং একই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মান্নান মণ্ডলের ছেলে শিবলী সাদিক ওরফে তুষার মণ্ডল (৩০)। এর মধ্যে মেসার্স এসএস এন্টারপ্রাইজের নামে চূড়ান্তভাবে ডিলারশিপ পান তুষার মণ্ডল। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন দোলন।

​এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নগরকান্দা প্রেসক্লাবে নিয়োগবঞ্চিতরা সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে দোলন ডিলারশিপ নিয়োগে অর্থের বিনিময়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান।

​দোলনের বড় ভাই শেখ ফরিদ আহমেদ মিলনের অভিযোগ, ওই বক্তব্যের কারণে তুষার মণ্ডল ক্ষুব্ধ হন। এর জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা দোলনের ওপর হামলা চালানো হয়।

​ফরিদ আহমেদ মিলন বলেন, “সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে বসেছিল দোলন। এ সময় তুষারের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ভাইকে বাঁচাতে গেলে অন্যদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়। আমার ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

​তিনি আরও বলেন, “সারা জীবন বিএনপি করেও আজ আমরা বঞ্চিত। টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভাই প্রতিবাদ করায় তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

​ঘটনার বিষয়ে জানতে মেসার্স এসএস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তুষার মণ্ডলের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ফোনে চার্জ নেই’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

​নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।