খুঁজুন
, ,

আজ একই দিনে ভোট ও গণভোট, ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
আজ একই দিনে ভোট ও গণভোট, ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশ

নানা আলোচনা ও জল্পনার পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ জাতীয় নির্বাচনের পর এই নির্বাচন কবে হবে, কিংবা আদৌ হবে কী-না এ নিয়ে নানা প্রশ্নও ছিল।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটেও ভোট দিবেন দেশের প্রায় পৌনে তেরো কোটি ভোটার।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আগামী নির্বাচনকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন আখ্যা দিয়ে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেছেন, “আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারবো”।

নির্বাচনের কয়েকদিন আগে শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ওইআসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত হবে ভোট। এতে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে লড়বেন ১৭৫৫জন প্রার্থী।

২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া। যে কারণে ভোটার উপস্থিতি নিয়েও এক ধরনের শঙ্কা দেখা গিয়েছিল।

তবে, এবারের নির্বাচনে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আরো দুইদিন সরকারি ছুটি থাকায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ভিড় ঠেলে অনেককে বাড়ি যেতে দেখা গেছে; আমেজ ছিল অনেকটা ঈদ উৎসবের মতোই।

আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া ভোট হলেও বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে সারাদেশে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের বেশিরভাগই অংশ নিতে পারেনি। যে কারণে এবারের নির্বাচন ঘিরে মানুষের আগ্রহও অনেক বেশি।

তবে, তারা এটিও বলছেন যে, যদি এই নির্বাচন নিয়েও কোনো প্রশ্ন তৈরি হয় তা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য সংকট আরো বাড়াবে।

বহুল প্রত্যাশিত সংসদ নির্বাচন

বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র দুই বছর আগে ২০২৪ সালের সাতই জানুয়ারি। এর মাত্র দুই বছরের মাথায় আরো একটি সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।

গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের তিনদিনের মাথায় চব্বিশের আটই অগাস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এর কয়েক মাসের মাথায়ই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

এ নিয়ে বিএনপি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে টানাপোড়েনের মধ্যে গত বছরের জুনে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠক হয় তারেক রহমানের।

এরপরই নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটে। ২০২৫ সালের পাঁচই অগাস্ট জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা হয়।

এই ঘোষণার পরও নির্বাচন হবে কী-না সেই প্রশ্ন ছিল দেশের সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন জায়গায়।

গত বছরের ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। তফসিল ঘোষণার পরেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘাত সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে নির্বাচন নিয়ে যে অভিজ্ঞতা তা থেকে ভোটাররা অনেকটাই নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে এবারের সংসদ নির্বাচনটা ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছরে মাত্র তিনটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। ২০০১ সালের পর আর সব নির্বাচন নিয়েই ছিল নানা প্রশ্ন। এমন অবস্থায় এই সরকারকে আমরা যদি নিরপেক্ষ হিসেবে ধরি এই নির্বাচনটি ভাল হতে হবে”।

যে কারণে ভোটের আগের দিন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, এবারের নির্বাচনটি ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের অনুরোধও জানান তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে তরুণ ভোটাররা

এবারের নির্বাচনে পৌনে তেরো কোটিরও বেশি ভোটার। ভোটারদের বড় একটি অংশই এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, পৌনে তেরো কোটি ভোটারের মধ্যে ৪ কোটি ৯০ লাখ ভোটারই তরুণ ভোটার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন এই তরুণ ভোটাররা।

ইসির তথ্য বলছে, এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। আর হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি।

৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোট নেবেন। এদের প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন, পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।

এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক ও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন।

২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করছে। দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এরমধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন। বাকি ২০ জন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ভোটের পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন।

নিরাপত্তায় নয় লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ভোট চলবে বিকেলে সাড়ে চারটা পর্যন্ত। এবার একই দিনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় ফলাফলে দেরি হতে পারে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে সারাদেশের ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশের ওপরে ভোটকেন্দ্রকে নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এবার নির্বাচনের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করে সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।

এই নির্বাচনে ভোটের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে ৯ লাখেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখ ৩ হাজার, নৌ বাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার, আর বিমান বাহিনীর তিন হাজার ৫০০ সদস্য।

যে সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, যে সব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে বাড়তি পুলিশ, সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরাও থাকবে।

কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানোর পরই ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতের যাবতীয় কাজ শেষ করবেন প্রিসাইডিং অফিসার ও দায়িত্ব পালনকারী অন্য কর্মকর্তারা। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দিবে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি।।

বুধবার ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সহায়তায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে”।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট শেষে পোলিং কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সামনেই গণনা করা হবে ভোটের ফলাফল।

ভোট গণনা শেষে ফলাফল হবে কখন?

অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে এবারে ভোটার সংখ্যা অনেক বেশি। অন্যদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নির্বাচনের দিনই গোলাপি ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।

একই দিনে দুইটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হবে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

অন্যদিকে, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও দেশের সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে ইসিকে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আলাদা করে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল গণনা করা হবে পোলিং এজেন্টদের সামনেই।

দুইটি ব্যালট আলাদাভাবে গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হবে। পরে সেই ভোটের ফলাফল কেন্দ্রেই টানিয়ে দেবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

কেন্দ্রের রেজাল্টের আরেকটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখবেন, আরেকটি সেট তিনি নির্দিষ্ট খামে পাঠিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনে।

আর যে সব ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন সেটি থাকবে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে। ১২ই ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে যে সব ব্যালট রিটার্নিং অফিসে জমা হবে সেগুলোও রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর এজেন্টদের সামনে গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

পরে গণনা শেষে কেন্দ্রের ফলাফল ও পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল একত্রিত করে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করে তা ঘোষণা দিবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

সেই ফলাফল নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে একেক করে আসনভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, এবার দুইটি ভোট একদিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় সময় লাগবে বেশি।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ধারণা দিচ্ছেন বৃহস্পতিবার ভোট শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফ্রিজের আয়ু বাড়ানোর সহজ উপায়, এক পলকে দেখে নিন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রিজের আয়ু বাড়ানোর সহজ উপায়, এক পলকে দেখে নিন

একটা ভালো মানের ফ্রিজ সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত সার্ভিস দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক পরিবারে দেখা যায় সাত-আট বছরেই ফ্রিজ ঘন ঘন সমস্যা করতে শুরু করে। এর পেছনে যন্ত্রের দোষ কম, ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভ্যাসের দোষ বেশি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্রিজের বাড়তি চাপ:

ইউরোপ বা আমেরিকার তুলনায় বাংলাদেশে ফ্রিজের উপর চাপ অনেক বেশি। গরমের মাসগুলোতে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। বাইরের তাপমাত্রা বেশি হলে ফ্রিজের কম্প্রেসরকে বেশি কাজ করতে হয়। এর সাথে যোগ হয় লোডশেডিংয়ের সমস্যা। বিদ্যুৎ চলে গিয়ে ফিরে আসার সময় ভোল্টেজের ওঠানামা কম্প্রেসরের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ। এই চাপ কমাতে সহজ কিছু অভ্যাস মেনে চললে ফ্রিজের আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন:

লোডশেডিংয়ের পর বিদ্যুৎ ফিরলে প্রায়ই ভোল্টেজ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম থাকে। এই অবস্থায় কম্প্রেসর চালু হলে মোটরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে ক্ষতি হয়। ভালো মানের ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না:

রান্নার পরপরই গরম খাবার ফ্রিজে রাখলে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরিয়ে আনতে কম্প্রেসরকে অনেক বেশি কাজ করতে হয়। খাবার ঘরের তাপমাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার পর ফ্রিজে রাখুন।

পেছনের কয়েল পরিষ্কার রাখুন:

ফ্রিজের পেছনে বা নিচে কালো রঙের কুণ্ডলী পাকানো যে অংশটা থাকে সেটা কনডেন্সার কয়েল। এই কয়েলে ধুলো জমলে তাপ ছাড়তে পারে না, ফলে কম্প্রেসর বেশি চলতে হয়। প্রতি ছয় মাসে একবার নরম ব্রাশ দিয়ে এই কয়েল পরিষ্কার করুন।

দরজার রাবার সিল পরীক্ষা করুন:

ফ্রিজের দরজার চারপাশে রাবারের সিল থাকে যেটা ঠান্ডা বাতাস বের হতে দেয় না। এই সিল নষ্ট হলে বা আলগা হলে ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায় এবং কম্প্রেসর সারাক্ষণ চলতে থাকে। একটা সহজ পরীক্ষা হলো দরজায় একটা কাগজ রেখে বন্ধ করুন, সহজেই টেনে বের করতে পারলে সিল দুর্বল হয়ে গেছে।

ফ্রিজের চারপাশে বাতাস চলাচলের জায়গা রাখুন:

দেয়াল বা আসবাবপত্রের একদম সাথে লাগিয়ে ফ্রিজ রাখলে কনডেন্সারের তাপ বের হতে পারে না। ফ্রিজের পেছনে এবং দুই পাশে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার ফাঁকা রাখুন।

অতিরিক্ত ঠেসে ভরবেন না:

ফ্রিজের ভেতর বায়ু চলাচল না হলে সব জায়গায় সমান ঠান্ডা পৌঁছায় না। কম্প্রেসর তখন বেশি কাজ করে। খাবার গুছিয়ে রাখুন যাতে ঠান্ডা বাতাস সব দিকে ছড়াতে পারে।

কখন বুঝবেন মেরামত নয়, বদলানোর সময় হয়েছে:

ফ্রিজের বয়স ১০ বছরের বেশি হলে এবং ঘন ঘন কম্প্রেসর বা কুলিং সমস্যা হলে মেরামতে টাকা ঢালা সবসময় বুদ্ধিমানের কাজ নয়। পুরনো ফ্রিজ বিদ্যুৎও বেশি খরচ করে। সেক্ষেত্রে *বাজারে নতুন ফ্রিজের মডেল ও দাম* [https://www.bdstall.com/refrigerator/] অনলাইনে দেখে তুলনা করে নেওয়াটা সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচায়।

ফ্রিজ একটা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। একটু সচেতন থাকলে এবং সহজ কিছু অভ্যাস মেনে চললে একই ফ্রিজ অনেক বেশি সময় ধরে ভালো সার্ভিস দেবে।

দিনে ৩ বেলা খাওয়া ভালো, নাকি ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া ভালো?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
দিনে ৩ বেলা খাওয়া ভালো, নাকি ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া ভালো?

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের শেষ নেই। দীর্ঘকাল ধরে আমরা দিনে তিনবেলা ভারী খাবার খাওয়ার প্রথা মেনে আসছি। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও ফিটনেস দুনিয়ায় এখন অন্য একটি ধারণাও বেশ জনপ্রিয়, তা হলো ‘মিল ফ্রিকোয়েন্সি’ বা সারা দিনে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া।

কেউ ওজন কমাতে চাচ্ছেন, কেউ বা চাচ্ছেন দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম থাকতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শরীর আর মেটাবলিজমের জন্য আসলে কোনটি বেশি কার্যকর? প্রচলিত তিনবেলার রুটিন, নাকি আধুনিক ছয় বেলার অভ্যাস? এই বিতর্কের সমাধান পেতে এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস বেছে নিতে আমাদের বুঝতে হবে শরীরের নিজস্ব প্রয়োজন ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি।

পুষ্টিবিদদের মতে, সবার জন্য কার্যকর এমন কোনো নির্দিষ্ট ‘এক ছাঁচের’ নিয়ম নেই। আপনার প্রতিদিনের জীবনধারা, শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা, স্বাস্থ্যের লক্ষ্য এবং ক্ষুধার ধরনের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করতে হবে আপনার জন্য কোন পদ্ধতিটি সঠিক।

মেটাবলিজম বা বিপাক হার নিয়ে ভুল ধারণা

অনেকে বিশ্বাস করেন যে, ঘন ঘন খেলে মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। যদিও খাবার হজম করার সময় শরীর সাময়িকভাবে কিছু ক্যালরি পোড়ায় (যাকে ‘থার্মিক ইফেক্ট অফ ফুড’ বলা হয়), তবে এটি সারাদিনের মোট ক্যালরি ব্যয়ের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, আপনি যদি সারা দিনে ২,০০০ ক্যালরি গ্রহণ করেন, তবে তা তিনবারে খান বা ছয়বারে, মেটাবলিজমের ওপর তার প্রভাব প্রায় একই থাকে। শরীরের মেটাবলিজম মূলত নির্ভর করে আপনার বয়স, শারীরিক গঠন, হরমোন, ব্যায়াম এবং ঘুমের মানের ওপর।

ওজন কমানোর রহস্য

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মোট ক্যালরি গ্রহণ ও ব্যয়ের ভারসাম্য। আপনি যে পদ্ধতিই বেছে নিন না কেন, ওজন কমাতে হলে শরীর যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ করে, তার চেয়ে কম পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করতে হবে। কম ক্যালরি গ্রহণ করে এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো সম্ভব।

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও খাবারের গুণগত মান

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে কোন পদ্ধতিটি ভালো, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অনুভূতির ওপর নির্ভর করে। তবে এক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যার চেয়ে খাবারের উপাদান বা ‘কন্টেন্ট’ বেশি গুরুত্ব বহন করে।

প্রোটিন, ফ্যাট ও ফাইবার: এই উপাদান সমৃদ্ধ ভারসাম্যপূর্ণ খাবার ধীরে হজম হয়, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

চিনি ও রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট: চিনিযুক্ত খাবার বা ময়দা জাতীয় খাবার খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়। ফলে এগুলো খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার ক্ষুধা লাগে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও রক্তে শর্করা

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যা রক্তে শর্করার ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে যারা ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে ভুগছেন, তাদের জন্য ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া বেশি উপকারী হতে পারে। এতে একবারে রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও এড়ানো যায়।

আপনি কোন পদ্ধতি বেছে নেবেন?

তিনবেলা খাবার তাদের জন্য ভালো যারা নির্দিষ্ট ও সাধারণ রুটিন পছন্দ করেন, একবারে পেট ভরে খেলে বেশি সন্তুষ্ট বোধ করেন, অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকিং বা বারবার খাওয়ার অভ্যাস কমাতে চান, খুবই ব্যস্ত সময়সূচি মেনে চলেন এবং বারবার খাবারের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়।

ঘন ঘন অল্প খাওয়া তাদের জন্য ভালো যারা খাবারের মাঝখানের দীর্ঘ বিরতিতে খুব বেশি ক্ষুধার্ত অনুভব করেন, সারাদিন কাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন শক্তির প্রয়োজন বোধ করেন, অত্যধিক পরিশ্রমী জীবনযাপন করেন, যাদের বেশি ক্যালরির প্রয়োজন, হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন এবং একবারে বেশি খেলে অস্বস্তি অনুভব করেন।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

আপনি বিয়ের জন্য প্রস্তুত কি না জানিয়ে দেবে যে ১৪ লক্ষণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
আপনি বিয়ের জন্য প্রস্তুত কি না জানিয়ে দেবে যে ১৪ লক্ষণ?

বিয়ে মানেই কেবল উৎসবের আমেজ, নতুন পোশাক আর সুন্দর মুহূর্তের হাতছানি নয়; এটি জীবনের এক বিশাল বড় অঙ্গীকার। আমাদের সমাজে অনেকেই খুব দ্রুত বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চান, কিন্তু মানসিকভাবে এই দীর্ঘ যাত্রার জন্য তারা কতটুকু প্রস্তুত, তা নিয়ে খুব কমই ভাবেন।

মনে রাখা প্রয়োজন, বিয়ে কেবল একটি সমস্যার সমাধান নয়। বরং দুটি মানসিকভাবে সুস্থ ও সুখী মানুষ যখন একত্রিত হয়ে একটি সুন্দর পরিবার গড়ার স্বপ্ন দেখে, তখনই কেবল একটি সফল দাম্পত্য জীবন সম্ভব হয়।

আপনি বিয়ের জন্য সত্যিই প্রস্তুত কি না, তা যাচাই করার জন্য নিচের ১৪টি লক্ষণের দিকে নজর দিন:

১. নিজের যত্ন নিতে না শেখা: দাম্পত্য জীবনের চড়াই-উতরাই সামলাতে নিজের শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক যত্ন নেওয়া জরুরি। আপনি যদি প্রতিকূল সময়ে নিজের মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে না জানেন, তবে ছোটখাটো সমস্যাতেও আপনি ভেঙে পড়তে পারেন।

২. স্বামী ও স্ত্রীর দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা না থাকা: বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক ও ধর্মীয় ভূমিকা থাকে। এই দায়িত্বগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে সংসারের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

৩. বিয়ের মূল উদ্দেশ্য না বোঝা: বিয়ে কেবল একটি আইনি বা সামাজিক বন্ধন নয়, এটি একটি সুস্থ সমাজ গড়ার মূল ভিত্তি। একটি সুখী পরিবার যেমন সমাজকে সুন্দর করে, তেমনি একটি অসুখী বা ভেঙে যাওয়া পরিবার সন্তানদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৪. সৃষ্টিকর্তার ওপর নির্ভরশীলতার অভাব: সঙ্গীর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়। আধ্যাত্মিকভাবে নিজেকে শক্তিশালী করলে সঙ্গীর ছোটখাটো ভুলগুলো ক্ষমা করা সহজ হয় এবং প্রতিকূল সময়ে ধৈর্য ধারণ করা যায়।

৫. অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকা: সম্মান হলো সুখী দাম্পত্যের অন্যতম প্রধান উপাদান। যদি আপনি বর্তমান জীবনে আপনার চারপাশের মানুষকে সম্মান করতে না পারেন, তবে বিয়ের পর আপনার সঙ্গীর মর্যাদা রক্ষা করাও আপনার জন্য কঠিন হবে।

৬. নিজস্ব সত্তাকে খুঁজে না পাওয়া: আপনি কে, আপনার জীবনের লক্ষ্য কী—এই বিষয়গুলো বিয়ের আগে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নিজের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী না হলে অন্যের চাপে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলার ভয় থাকে।

৭. গঠনমূলকভাবে মতভেদ প্রকাশ করতে না পারা: সুখী দম্পতিদের মধ্যেও ঝগড়া হয়, কিন্তু তারা জানে কীভাবে সেই ঝগড়া মেটাতে হয়। চিৎকার বা জেদ ধরে রাখার বদলে শান্তভাবে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করা বিয়ের জন্য অপরিহার্য।

৮. সমস্যা এড়িয়ে চলার প্রবণতা: যেকোনো সমস্যা কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখলে তা কেবল তিক্ততাই বাড়ায়। দাম্পত্য জীবনে কোনো কিছু অপছন্দ হলে তা সরাসরি কিন্তু নম্রভাবে প্রকাশ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

৯. নিজের জীবনে সুখী না হওয়া: আপনি যদি ভাবেন বিয়ে করলেই আপনার সব অপূর্ণতা ঘুচে যাবে, তবে আপনি ভুল ভাবছেন। আগে নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে সুখী হতে শিখুন; তখনই কেবল আপনি অন্যকে সুখী করতে পারবেন।

১০. ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে না পারা: জীবনের কিছু নির্দিষ্ট আদর্শ বা নিয়ম থাকা উচিত যা আপনি কখনোই বিসর্জন দেবেন না। নিজের মূল্যবোধ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে একজন আদর্শ সঙ্গী আপনাকে সেই গুণের জন্যই সম্মান করবে।

১১. নিজের জন্য রুখে দাঁড়াতে না পারা: আপনি যদি সহজেই অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হন বা নিজের অধিকারের কথা বলতে দ্বিধা বোধ করেন, তবে দাম্পত্যের কঠিন পরিস্থিতিতে আপনি অসহায় বোধ করতে পারেন।

১২. নিজের মূল্য বুঝতে না পারা: নিজেকে মূল্যবান মনে করা অহংকার নয়, বরং আত্মমর্যাদা। আপনি যদি নিজেকে গুরুত্ব না দেন, তবে অন্য কেউ আপনাকে মূল্যায়ন করবে এমনটা আশা করা কঠিন।

১৩. বাহ্যিক চাকচিক্যে নিজের সার্থকতা বিচার করা: গায়ের রং, চাকরি বা সামাজিক মর্যাদা দিয়ে নিজের মূল্য নির্ধারণ করবেন না। এই বাহ্যিক বিষয়গুলো পরিবর্তনশীল, কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্ব ও কর্মই স্থায়ী সম্পদ।

১৪. ‘লোকে কী বলবে’ তা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবা: অন্যের চোখে নিজেকে নিখুঁত দেখানোর চেষ্টা না করে নিজের প্রতি সৎ থাকুন। বিয়ের আগে নিজের আসল রূপটি আড়াল করলে বিয়ের পর সঙ্গী যখন সত্যটি জানবেন, তখন বিশ্বাসভঙ্গ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিয়ে একটি দীর্ঘ ও সুন্দর পথচলা। উল্লিখিত ১৪টি লক্ষণের আলোকে নিজেকে মূল্যায়ন করুন। যদি আপনার মাঝে এই লক্ষণগুলো থাকে, তবে এখনই বিয়ে করা উচিত নয়; বরং পর্যাপ্ত মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন জীবনের দিকে পা বাড়ান।

তথ্যসূত্র: দ্য মুসলিম ভাইব