খুঁজুন
, ,

দিনে কতবার চুল আঁচড়ানো উচিত? জানুন সঠিক নিয়ম

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:৫৬ পূর্বাহ্ণ
দিনে কতবার চুল আঁচড়ানো উচিত? জানুন সঠিক নিয়ম

চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে আঁচড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে কতবার আঁচড়ানো উচিত, তা নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। ভিক্টোরিয়ান যুগে একটি প্রচলিত ধারণা ছিল যে, দিনে অন্তত ১০০ বার চুল আঁচড়ানো চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

অস্ট্রিয়ার সম্রাজ্ঞী এলিজাবেথ (সিসি)-ও এই নিয়ম মেনে চলতেন বলে শোনা যায়। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন? আসলেও কি ১০০ বার আঁচড়ানো প্রয়োজন?

বিজ্ঞানীদের মতে, ১০০ বার চুল আঁচড়ানোর ধারণাটি একটি নিছক মিথ্যা বা ভুল ধারণা। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চিরুনি চালালে চুলের ভেতরে ফাটল ধরে এবং ‘স্প্লিট এন্ড’ বা আগা ফাটার সমস্যা তৈরি হয়। গবেষক ডেভিড টেলরের মতে, চুলে অতিরিক্ত ঘর্ষণ বা চাপের ফলে এই ক্ষতি হয়। এমনকি বিজ্ঞানীরা একে ‘কিউমিলেটিভ ফ্যাটিগ ড্যামেজ’ বা ক্রমপুঞ্জিত ক্লান্তিজনিত ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

কেন চুল আঁচড়ানো জরুরি?

অতিরিক্ত আঁচড়ানো ক্ষতিকর হলেও নিয়মিত ও সঠিক পদ্ধতিতে আঁচড়ানোর কিছু সুফল রয়েছে:

– এটি চুলে বড় জট পাকানো রোধ করে এবং চুল ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।

– মাথার ত্বকের মৃত কোষ, ময়লা এবং ঝরে যাওয়া চুল পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

– নরমভাবে আঁচড়ালে চুলের প্রাকৃতিক তেল পুরো চুলে ছড়িয়ে পড়ে।

চুলের ধরন অনুযায়ী আঁচড়ানোর সঠিক নিয়ম

আপনার চুলের ধরন বলে দেবে আপনার দিনে কতবার চিরুনি প্রয়োজন:

সোজা বা ঢেউখেলানো চুল: বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের চুলের জন্য দিনে এক থেকে দুবার বা সপ্তাহে অন্তত তিনবার আঁচড়ানোর পরামর্শ দেন। তবে মনে রাখবেন, সোজা চুল কখনোই ভেজা অবস্থায় আঁচড়ানো উচিত নয়। কারণ ভেজা অবস্থায় চুলের বাইরের স্তর (কিউটিকেল) নরম থাকে, ফলে তা সহজেই ভেঙে যেতে পারে।

কোঁকড়া বা কুঁচকানো চুল: এই ধরনের চুলের নিয়ম একদম ভিন্ন। কোঁকড়া চুল শুকনো অবস্থায় আঁচড়ালে তা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এ ধরনের চুল কেবল ধোয়ার সময় বা ভেজা অবস্থায় ডিট্যাঙ্গলিং কন্ডিশনার ব্যবহার করে আঁচড়ানো উচিত।

সঠিক চিরুনি নির্বাচন

চুল ভালো রাখতে সঠিক চিরুনি ব্যবহার করাও জরুরি:

– ভেজা চুলের জট ছাড়াতে নরম ও নমনীয় ব্রাশ ব্যবহার করুন।

– শুকনো চুলের ক্ষেত্রে ‘বোর ব্রিস্টল’ যুক্ত ব্রাশ ভালো, যা চুলের গোড়ার তেল আগা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।

পরিশেষে, কতবার আঁচড়াচ্ছেন তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কতটা যত্ন নিয়ে এবং কতটুকু জোরে আঁচড়াচ্ছেন। নিয়মিত কিন্তু পরিমিতভাবে চুল আঁচড়ানোর অভ্যাসই আপনার চুলকে রাখতে পারে প্রাণবন্ত ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

ফরিদপুরে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও HPV টিকা নিয়ে সচেতনতা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও HPV টিকা নিয়ে সচেতনতা সভা

জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি (HPV) টিকার গুরুত্ব তুলে ধরে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হলো সচেতনতামূলক কর্মসূচি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের বেগম রোকেয়া ছাত্রী হোস্টেলের হলরুমে এ সভার আয়োজন করে ‘স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশন, ফরিদপুর’।

​কর্মসূচিতে কলেজের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

​অনুষ্ঠানে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যাপক আব্দুল হালিম মিয়ার সভাপতিত্বে এবং তুহিন বিন আলমগীরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ডা. মো. মিজানুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাবরিনা গিয়াস।

​মূল প্রবন্ধে ডা. সাবরিনা গিয়াস বলেন, “উচ্চঝুঁকির এইচপিভি সংক্রমণ জরায়ুমুখের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। কিশোরী বয়সে এই টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।” টিকার পাশাপাশি নির্দিষ্ট বয়সে নিয়মিত জরায়ুমুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিং করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত বয়সের কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা প্রদান করছে বলেও উল্লেখ করেন।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো ও টিকাদানে উৎসাহিত করা জরুরি। আর্থিক কারণে কেউ যাতে বঞ্চিত না হন, সেজন্য স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশন একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এই ফাউন্ডেশনের আওতায় দুটি এইচপিভি টিকা গ্রহণ করলে তৃতীয় টিকাটি বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজেন্দ্র কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ওবায়দুর রহমান, সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর তারেক হোসাইন ও রাজবাড়ী কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লা বলেন, ক্যান্সারের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ বড়। তাই পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার।

​সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল হালিম মিয়া বলেন, এই ধরনের আলোচনা শিক্ষার্থীদের নিজেদের সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে সচেতন করার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বেগম রোকেয়া ছাত্রী হোস্টেলের হল সুপার, প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল নারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল নারীর

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মাসুদা বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে ওই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়।

এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে তার মৃত্যু হয়। মাসুদা বেগম ফরিদপুর শহরের আলিপুর এলাকার বাসিন্দা। জ্বর নিয়ে তিনি গত ২৬ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাসুদা বেগম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।

সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ফরিদপুরে প্রায় ৭০০ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

নগরকান্দায় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

জাকির হোসেন, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ৬টি জাতের চারা গাছ বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নগরকান্দার রামনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চারা গাছগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্যদের (মেম্বার) হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন চেয়ারম্যান মো. কায়মদ্দীন মন্ডল।

​অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যান মো. কায়মদ্দীন মন্ডল বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের বিকল্প নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আমাদের বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।”

​তিনি ইউনিয়নের ফাঁকা রাস্তার পাশ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ সুবিধাজনক স্থানে চারাগুলো রোপণের নির্দেশ দেন।

​চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইউপি সদস্য মো. মুরাদ হোসেন বলেন, “পরিষদের সব সদস্য মিলে নির্দেশিত স্থানে চারাগুলো রোপণ করব। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও বাড়ির আশপাশের খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

​কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।