খুঁজুন
, ,

সেহরির পর ঘুম: কত ঘণ্টা হলে শরীর থাকবে সুস্থ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সেহরির পর ঘুম: কত ঘণ্টা হলে শরীর থাকবে সুস্থ?

রমজান মাসে মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সেহরির জন্য গভীর রাতে ঘুম থেকে ওঠা, দিনভর রোজা রাখা এবং রাতে তারাবি নামাজ; সব মিলিয়ে ঘুমের স্বাভাবিক সময়সূচি কিছুটা বদলে যায়। ফলে অনেকেই জানতে চান, সেহরির পর শরীর সুস্থ রাখতে ঠিক কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে রমজানে রাতের ঘুম ভেঙে যাওয়ায় এই সময়টি একটানা না হয়ে কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে যেতে পারে।

সেহরির পর ঘুমানো কি উপকারী?

ঘুম ও জীবনধারা বিষয়ক গবেষকদের মতে, রাতের ঘুম কমে গেলে সেহরির পর স্বল্প সময়ের ঘুম শরীরের শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে।

তারা বলছেন, সেহরি খাওয়ার পর যদি কাজ বা অফিসে যাওয়ার আগে কিছু সময় পাওয়া যায়, তাহলে ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা টানা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। কারণ আমাদের ঘুমের একটি পূর্ণ চক্র সম্পন্ন হতে প্রায় ৯০ মিনিট সময় লাগে।

গবেষকদের দাবি, এর কম সময় ঘুমালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর আরও বেশি ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত মনে হতে পারে। সম্ভব হলে সেহরির পর ১.৫ থেকে ৩ ঘণ্টা ঘুমানো আদর্শ।

দিনে ছোট্ট ‘ন্যাপ’ও উপকারী

অনেকের পক্ষে সেহরির পর আবার ঘুমানো সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা দিনের বেলায় ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ছোট্ট ঘুম (পাওয়ার ন্যাপ) নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে মনোযোগ বাড়ে এবং শরীরের ক্লান্তি কমে।

রমজানে কখন ঘুমানো ভালো?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সময়কে উপকারী বলে মনে করেন—

– সেহরির পর ১ থেকে ২ ঘণ্টা

– দুপুর ২০ থেকে ৩০ মিনিট

– রাত সাড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা

এভাবে ভাগ করে ঘুমালে শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায়।

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে কী সমস্যা হতে পারে?

যদি পর্যাপ্ত ঘুম না হয়, তাহলে কয়েকটি সমস্যা দেখা দিতে পারে—

১. মাথাব্যথা

২. ক্লান্তি ও অবসাদ

৩. মনোযোগ কমে যাওয়া

৪. কর্মক্ষমতা হ্রাস

বিশেষজ্ঞরা বলেন, রমজানে শরীরকে সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিছু সহজ পরামর্শ

রমজানে ভালো ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞরা যে পরামর্শগুলো দেন—

১. তারাবির পর দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করুন

২. সেহরিতে অতিরিক্ত ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন

৩. দিনে খুব বেশি ঘুমিয়ে রাতের ঘুম নষ্ট করবেন না

৪. ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় কম পান করুন

সঠিকভাবে ঘুমের সময় ভাগ করে নিতে পারলে রমজানেও শরীর থাকবে সতেজ এবং রোজা পালনও হবে সহজ।

সূত্র : স্লিপ ফাউন্ডেশন, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল হেলথ পাবলিশিং, ওয়েবএমডি।

ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর শহরের সিংপাড়া নিবাসী কৌশিক সাহা জিতু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ফরিদপুর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর শাখা।

​ফরিদপুর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তাপস কুমার সাহার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, সহ-সভাপতি ননী গোপাল বিশ্বাস ও সুকেশ কুমার সাহা, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তুষার কুমার দত্ত, সদর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সিতাংশু মিত্র কিংকর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চিরঞ্জীব রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ সরকার স্বাধীন এবং চন্দ্রা দেবনাথ।

​এ সময় পৌর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রাম দত্ত, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্যসচিব সুব্রত রবিদাসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৌশিক সাহা জিতুর অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো ফরিদপুরজুড়ে তীব্র শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​বক্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২২

ফরিদপুরে হামের সংক্রমণ থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৪২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় সন্দেহভাজন হামের মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩২৩ জনে এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

​প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দুই হাসপাতালে মোট ১১৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ৪০ জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৮ জন রোগী ভর্তি আছেন।

​গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতাল থেকে ৪৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৫২ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

​উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বোয়ালমারীতে ২৮, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদরে ৫ জনের হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

​এদিকে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯২৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং হামে আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, জেনারেল হাসপাতালে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৬৫ জন।

​স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হওয়া ৪২ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা ৩০ জন এবং অন্যান্য জেলার ১২ জন রয়েছেন।

ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক মেয়েশিশুকে (১৩) ধর্ষণচেষ্টার অপরাধে ইসমাইল মোল্লা (৫৬) নামে এক বৃদ্ধকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের একটি গ্রামে মুদি দোকানের পাশের পুকুর থেকে পানি নিয়ে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। এ সময় ইসমাইল মোল্লা তাকে দোকানঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় ইসমাইল মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

​মামলাটি তদন্ত শেষে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় দেন।

​রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”