খুঁজুন
, ,

ত্রিশের পর যে অভ্যাস বদলে দিতে পারে জীবন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ত্রিশের পর যে অভ্যাস বদলে দিতে পারে জীবন

জীবনের ত্রিশের দশক অনেকের কাছেই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার সময়। এ বয়সে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা বাড়ে, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব তৈরি হয়, পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আর্থিকভাবে নিরাপদ রাখার তাগিদও অনুভূত হয়।

ব্যস্ততার চাপে অনেক সময় নিজের ভালো থাকা, ব্যক্তিগত পছন্দ কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো গুরুত্ব হারায়।
অথচ জীবনের এই পর্যায়ে গড়ে ওঠা অভ্যাসগুলো পরবর্তী বছরগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই শুধু কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই নয়, নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যক্তিগত বিকাশের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ত্রিশের পর কোন সাতটি অভ্যাস এড়িয়ে চললে জীবনকে আরও গোছানো ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখা সম্ভব, জেনে নেওয়া যাক।

সঞ্চয়ের পরিকল্পনা ছাড়াই দিন কাটানো

আয় থাকলেই যে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তা নয়। মাসের শুরুতে হাতে টাকা এলেও পরিকল্পনাহীন ব্যয়ের কারণে মাস শেষে অনেকেরই সঞ্চয়ের সুযোগ থাকে না।

অথচ হঠাৎ চিকিৎসার খরচ, চাকরির অনিশ্চয়তা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে অতিরিক্ত অর্থের দরকার হতে পারে। এজন্য আয় হাতে পাওয়ার পরই সঞ্চয়ের জন্য নির্দিষ্ট অর্থ আলাদা রাখার অভ্যাস করুন। কত টাকা আয় করছেন, কতটা ব্যয় হচ্ছে এবং কোথায় খরচ কমানো যায়, তার হিসাব রাখুন। শুরুতে অল্প টাকা জমালেও নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস ভবিষ্যতের আর্থিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে।
সব দায়িত্বের মধ্যে নিজের জন্য সময় না রাখা

কর্মক্ষেত্রের চাপ, পরিবারের প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত নানা কাজ সামলাতে গিয়ে অনেকেই নিজের বিশ্রামকে অবহেলা করেন। সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে গিয়ে কখন যে নিজের জন্য সময় বের করা বন্ধ হয়ে যায়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিশ্রাম ও অবসরকে উপেক্ষা করলে ক্লান্তি বাড়তে পারে, কমে যেতে পারে কাজের প্রতি আগ্রহও। তাই প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের পছন্দের কাজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নিন। নিজের যত্ন নেওয়াকে বাড়তি কাজ না ভেবে সুস্থ জীবনযাপনের অংশ হিসেবে দেখুন।

পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের অগ্রাধিকার বদলায়। পড়াশোনা শেষে চাকরি, সংসার কিংবা অন্য শহরে চলে যাওয়ার কারণে বন্ধুদের সঙ্গে আগের মতো নিয়মিত দেখা করা সম্ভব হয় না। সময়ের সঙ্গে যোগাযোগ কমতে কমতে অনেক সম্পর্কই দূরত্বের আড়ালে হারিয়ে যায়। অথচ বন্ধুত্ব জীবনে আনন্দ ও মানসিক সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয় বন্ধুদের খোঁজ নিন। মাঝেমধ্যে ফোন করা, একসঙ্গে চা খাওয়া কিংবা ছুটির দিনে দেখা করার পরিকল্পনা করতে পারেন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সব সময় দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয় না, আন্তরিক যোগাযোগই অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট।

বয়সের অজুহাতে নতুন অভিজ্ঞতা থেকে দূরে থাকা

একটি নির্দিষ্ট জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ কমে যেতে পারে। কেউ মনে করেন, এখন আর নতুন করে কিছু শুরু করার সময় নেই, কেউ আবার ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কায় চেষ্টা করতেই চান না।

এই মানসিকতা ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগ সীমিত করতে পারে। নতুন ভাষা শেখা, রান্না, ছবি আঁকা, সংগীতচর্চা কিংবা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কোনো দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজের জগৎকে আরও বিস্তৃত করা যায়। সব নতুন অভিজ্ঞতা পেশাগত সাফল্যের জন্য হতে হবে, এমনও নয়। নিজের ভালো লাগার জন্য শেখা কিংবা নতুন কিছু চেষ্টা করাও জীবনে আনন্দ যোগ করতে পারে।

প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে অযথা দেরি করা

ক্যারিয়ার পরিবর্তন, উচ্চশিক্ষা, আর্থিক পরিকল্পনা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, এসব ক্ষেত্রে চিন্তাভাবনা করা স্বাভাবিক। সবকিছু নিখুঁত হওয়ার অপেক্ষায় সিদ্ধান্ত বারবার পিছিয়ে দিলে অনেক সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য সুবিধা, অসুবিধা ও ঝুঁকি বিবেচনা করুন। প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ মানুষের মতামত নিন। এরপর নিজের সামর্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করুন। প্রতিটি সিদ্ধান্তের ফল আগে থেকেই নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের অগ্রগতির তুলনা করা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও নতুন বাড়ি, ভালো চাকরি, বিদেশভ্রমণ কিংবা ব্যবসায়িক সাফল্যের খবর সহজেই চোখে পড়ে। এসব দেখে নিজের অর্জনকে ছোট মনে হতে পারে। বিশেষ করে একই বয়সী মানুষের সাফল্যের সঙ্গে নিজের অবস্থান মেলাতে গিয়ে অনেকেই অযথা হতাশ হয়ে পড়েন।

কিন্তু প্রত্যেকের জীবনযাত্রা, সুযোগ, পারিবারিক পরিস্থিতি ও লক্ষ্য আলাদা। বাইরে থেকে কারও জীবনের সব দিক জানা সম্ভব নয়। তাই অন্যের অগ্রগতিকে নিজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখবেন না। বরং নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং আগের অবস্থানের তুলনায় কতটা উন্নতি করতে পেরেছেন, তা মূল্যায়ন করুন। অন্যের সাফল্য থেকে অনুপ্রেরণা নিন, কিন্তু নিজের জীবনের মূল্য নির্ধারণের মাপকাঠি হিসেবে সেটিকে ব্যবহার করবেন না।

শরীর ও মনের প্রয়োজন উপেক্ষা করা

কাজের ব্যস্ততায় অনিয়মিত খাবার, কম ঘুম কিংবা শারীরিক পরিশ্রমের অভাব অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং মানসিক চাপের মধ্যেও বিরতি না নেওয়া সুস্থ জীবনযাপনের পথে বাধা হতে পারে। তাই নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে নজর দিন। কাজের ফাঁকে বিরতি নিন এবং দীর্ঘদিন কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মানসিক সুস্থতার জন্যও সময় বের করা জরুরি। প্রয়োজনে কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন, পছন্দের কাজে যুক্ত থাকুন এবং নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকুন।

ত্রিশের দশক হতে পারে নতুনভাবে শুরুর সময়

ত্রিশ পেরিয়ে গেলেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগগুলো শেষ হয়ে যায় না। বরং এ বয়সে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। আর্থিক পরিকল্পনা, বন্ধুত্বের যত্ন, নতুন দক্ষতা অর্জন এবং সুস্থ জীবনযাপনের মতো বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিলে জীবন আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।

সব অভ্যাস একসঙ্গে বদলানোর চেষ্টা না করে একটি দিয়ে শুরু করুন। নিজের প্রয়োজন বুঝে ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং ধীরে ধীরে তা বাস্তবায়ন করুন। বয়সের হিসাবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিদিন নিজের জীবনকে আগের চেয়ে একটু ভালো করার চেষ্টা করা।

সালথা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসান আশরাফ, সদস্য সচিব এনায়েত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সালথা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসান আশরাফ, সদস্য সচিব এনায়েত

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন এ কমিটিতে হাসান আশরাফকে আহ্বায়ক, মো. কামরুল ইসলামকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মো. এনামায়েত হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

​শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এই কমিটির অনুমোদন দেন।

​কমিটিতে অন্য যুগ্ম আহ্বায়করা হলেন— মিরান হোসাইন, মাহফুজুর রহমান খান, মো. সাইফুল ইসলাম রিজু, ফরিদ হোসাইন, সাফিকুল ইসলাম, কালাম, সাজিদ মাতুব্বর, খোকন মাতুব্বর, আনিসুর রহমান তাজুল, রাসেল শেখ, মতিয়ার রহমান, জনি পারভেজ ও হাবিবুর রহমান হাবিব।

​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন— মিজান খান, সাইফুল ইসলাম, নাজিমুদ্দিন খান লিমন, মাসুদ পারভেজ, মামুন হোসেন, ইমরান হোসেন, তারিকুর রহমান সম্রাট, জুয়েল লস্কর, রনি ফকির, মনোয়ার হোসেন, ছায়দার আলী, রিপন মাতুব্বর, কাওসার মাতুব্বর, শিমুল মিয়া, মো. আবের আলী, ইয়াসিন মোল্লা, নুরুল ইসলাম মাতুব্বর, রাজিব মোল্লা ও শাজাহান শরীফ।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে ওসি সোহেল সরোয়ার

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে ওসি সোহেল সরোয়ার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ।

​এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সরোয়ার। এ সময় তিনি মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

​পরিদর্শনকালে ওসি সোহেল সরোয়ার পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আয়োজকদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

​এ সময় ওসি মো. সোহেল সরোয়ার বলেন, “ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পূজা উদযাপন কমিটির সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করছি।”

​পরিদর্শনকালে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা ওসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

​স্থানীয়দের আশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির যৌথ উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে সুসম্পন্ন হবে।

ফরিদপুরে সাপে কাটা দুই রোগী হাসপাতালে ভর্তি, সচেতনতার পরামর্শ চিকিৎসকদের

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপে কাটা দুই রোগী হাসপাতালে ভর্তি, সচেতনতার পরামর্শ চিকিৎসকদের

​ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিষধর সাপে কাটা দুই রোগীকে সফলভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও অন্যজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসায় সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

​হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত কুলসুম বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তাঁর বাড়ি পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ধানজাইল গ্রামে।

​জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. বাকির হোসেন রোগীর শারীরিক অবস্থা ও উপসর্গ নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাঁকে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাপে কাটা অপর এক রোগীকেও এই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

​উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়াজ মুস্তাফি চৌধুরী বলেন, “সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। ওঝার কাছে গিয়ে বা ঝাড়ফুঁকের ওপর সময় নষ্ট করা মারাত্মক ভুল। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও সাপের বিষের ধরন বুঝে চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ অত্যন্ত জীবনরক্ষাকারী।”

​তিনি আরও জানান, সাপে কাটা রোগীদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। চিকিৎসাসেবা প্রদানে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবিদ হোসাইনের বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

​চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে এলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। ওঝা বা কবিরাজের কাছে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।