খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ভাড়া বাসা থেকে ব্র্যাক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভাড়া বাসা থেকে ব্র্যাক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ভাড়া বাসার একটি কক্ষ থেকে অলিভ বিশ্বাস (৩৮) নামের এক ব্র্যাক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ময়েনদিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত অলিভ বিশ্বাস মাগুরার শালিখা উপজেলার সোনাডাঙ্গা গ্রামের মিলন বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের জয়পাশা শাখায় ব্র্যাকের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ময়েনদিয়া বাজার এলাকায় শাহ জাফর টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যাপক স্বপন কুমার সাহার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অলিভ বিশ্বাসের কক্ষের সঙ্গী আমরেন্দ্র মণ্ডল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়িতে যান। শনিবার সকাল ৮টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ দেখতে পান। অলিভকে বারবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে তিনি প্রতিবেশীদের ডাকেন। পরে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে অলিভের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তাঁরা।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে।

সালথা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসান আশরাফ, সদস্য সচিব এনায়েত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সালথা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসান আশরাফ, সদস্য সচিব এনায়েত

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন এ কমিটিতে হাসান আশরাফকে আহ্বায়ক, মো. কামরুল ইসলামকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মো. এনামায়েত হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

​শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এই কমিটির অনুমোদন দেন।

​কমিটিতে অন্য যুগ্ম আহ্বায়করা হলেন— মিরান হোসাইন, মাহফুজুর রহমান খান, মো. সাইফুল ইসলাম রিজু, ফরিদ হোসাইন, সাফিকুল ইসলাম, কালাম, সাজিদ মাতুব্বর, খোকন মাতুব্বর, আনিসুর রহমান তাজুল, রাসেল শেখ, মতিয়ার রহমান, জনি পারভেজ ও হাবিবুর রহমান হাবিব।

​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন— মিজান খান, সাইফুল ইসলাম, নাজিমুদ্দিন খান লিমন, মাসুদ পারভেজ, মামুন হোসেন, ইমরান হোসেন, তারিকুর রহমান সম্রাট, জুয়েল লস্কর, রনি ফকির, মনোয়ার হোসেন, ছায়দার আলী, রিপন মাতুব্বর, কাওসার মাতুব্বর, শিমুল মিয়া, মো. আবের আলী, ইয়াসিন মোল্লা, নুরুল ইসলাম মাতুব্বর, রাজিব মোল্লা ও শাজাহান শরীফ।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে ওসি সোহেল সরোয়ার

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে ওসি সোহেল সরোয়ার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ।

​এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সরোয়ার। এ সময় তিনি মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

​পরিদর্শনকালে ওসি সোহেল সরোয়ার পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আয়োজকদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

​এ সময় ওসি মো. সোহেল সরোয়ার বলেন, “ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পূজা উদযাপন কমিটির সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করছি।”

​পরিদর্শনকালে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা ওসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

​স্থানীয়দের আশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির যৌথ উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে সুসম্পন্ন হবে।

ফরিদপুরে সাপে কাটা দুই রোগী হাসপাতালে ভর্তি, সচেতনতার পরামর্শ চিকিৎসকদের

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপে কাটা দুই রোগী হাসপাতালে ভর্তি, সচেতনতার পরামর্শ চিকিৎসকদের

​ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিষধর সাপে কাটা দুই রোগীকে সফলভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও অন্যজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসায় সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

​হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত কুলসুম বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তাঁর বাড়ি পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ধানজাইল গ্রামে।

​জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. বাকির হোসেন রোগীর শারীরিক অবস্থা ও উপসর্গ নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাঁকে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাপে কাটা অপর এক রোগীকেও এই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

​উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়াজ মুস্তাফি চৌধুরী বলেন, “সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। ওঝার কাছে গিয়ে বা ঝাড়ফুঁকের ওপর সময় নষ্ট করা মারাত্মক ভুল। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও সাপের বিষের ধরন বুঝে চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ অত্যন্ত জীবনরক্ষাকারী।”

​তিনি আরও জানান, সাপে কাটা রোগীদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। চিকিৎসাসেবা প্রদানে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবিদ হোসাইনের বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

​চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে এলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। ওঝা বা কবিরাজের কাছে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।