খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হেড ক্লাকের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হেড ক্লাকের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী (হেড ক্লার্ক) মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে বদলি-পদায়ন বাণিজ্য, ঘুষ-দুর্নীতি, ঠিকাদারি কাজে কমিশন গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য ও নারী সহকর্মীদের হয়রানিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) ফরিদপুর জেলার ঠিকাদার ও সর্বসাধারণের পক্ষে ইউসুফ মিয়া স্বাক্ষরিত আবেদনটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে মহিউদ্দিন জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। দাপ্তরিক নিয়মকানুন ও গোপনীয়তা উপেক্ষা করে তিনি বদলি-পদায়ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব খাটাচ্ছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন থানা, তদন্ত কেন্দ্র, ট্রাফিক বিভাগ ও পুলিশ ফাঁড়িতে কনস্টেবল থেকে উপপরিদর্শক (এসআই) পর্যায়ের সদস্যদের পছন্দমতো পদায়নের জন্য নির্ধারিত হারে অবৈধ অর্থ লেনদেন করা হয়। চাহিদামতো অর্থ না দিলে দুর্গম, প্রশাসনিকভাবে জটিল কিংবা অপছন্দনীয় স্থানে বদলি করার ভয় দেখানো হয়।

আবেদনপত্রে আরও অভিযোগ করা হয়, সাধারণ পুলিশ সদস্যদের নৈমিত্তিক ছুটি, অর্জিত ছুটি ও চিকিৎসাজনিত ছুটির ফাইল প্রক্রিয়াকরণে অযাচিত বিলম্ব করা হয়। অর্থ ছাড়া এসব ফাইল পুলিশ সুপারের কাছে উপস্থাপন করা হয় না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য এবং মৃত্যুবরণকারী সদস্যদের পরিবারের পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ফাইল আটকে রেখে হয়রানি এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) অনুকূলে লেখা, ইতিবাচক মন্তব্য প্রদান, সার্ভিস বুক সংরক্ষণ এবং বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সদস্যদের পদোন্নতির ফাইল প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রেও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন আবেদনকারী।

জেলা পুলিশের বার্ষিক কেনাকাটা, স্টেশনারি মালামাল সরবরাহ, দাপ্তরিক মেরামত ও অন্যান্য ব্যয়ের ভাউচার তৈরিতে অস্বাভাবিক বাজেট দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জেলা পুলিশের বিভিন্ন টেন্ডারের বিজ্ঞাপন প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পরিবর্তে তিনি নিজেই ঢাকার পত্রিকা অফিসে যোগাযোগ করেন। এ প্রক্রিয়ায় কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এ ছাড়া অন্তত পাঁচ বছর ধরে মানিকগঞ্জের ঊষা এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স ব্যবহার করে মহিউদ্দিন নিজেই জেলা পুলিশের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ নিয়ে কমিশন গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্য ঠিকাদারদের কাজের বিপরীতে কৌশলে ৫ শতাংশ কমিশন নেওয়া এবং জেলা পুলিশে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

আবেদনকারীর দাবি, এসব কারণে ফরিদপুরের স্থানীয় ঠিকাদাররা গত পাঁচ বছর ধরে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মহিউদ্দিন ও তার পরিবারের নামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সঙ্গে বৈধ আয়ের অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, তার নিজ জেলা মানিকগঞ্জ শহরের কালীবাড়ী সড়কে আটতলা একটি বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া নাম-বেনামে জমি, ব্যাংক হিসাবে অর্থ এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, রেশন স্টোরের ওজনদার হিসেবে পুলিশ বিভাগের সিভিল স্টাফের চাকরি শুরু করেন মহিউদ্দিন। পরে বিক্রয় সহকারী থেকে ধাপে ধাপে প্রধান সহকারী বা হেড ক্লার্কের পদে আসেন। এ ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

আবেদনপত্রে মহিউদ্দিনকে আওয়ামী লীগের দোসর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে থেকেই তিনি প্রায় চার বছর ধরে একই চেয়ারে রয়েছেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি হলেও অদৃশ্য কারণে তিনি একই পদে বহাল রয়েছেন।

নতুন পুলিশ সুপার যোগদান করলে তাকে কৌশলে প্রভাবিত করে নিজের অবস্থান ধরে রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া নারী সহকর্মীদের নিজের আশপাশে পদায়ন করিয়ে বিভিন্ন কৌশলে তাদের হয়রানি ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আবেদনপত্রে। এসব অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

আবেদনকারীর দাবি, মহিউদ্দিনের এসব কর্মকাণ্ডে ফরিদপুর জেলা পুলিশের সাধারণ কর্মচারী ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে তিনি একটি ক্ষমতার বলয় তৈরি করেছেন। ফলে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চান না।

এ অবস্থায় নিরপেক্ষ গোয়েন্দা সংস্থা অথবা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে গোপনীয়ভাবে তদন্ত পরিচালনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী।

এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে মহিউদ্দিন বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল ও আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, বদলি-পদায়ন, ছুটি, পেনশন, পদোন্নতি কিংবা ঠিকাদারি কাজে ঘুষ বা কমিশন গ্রহণের সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। আমার নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগও সম্পূর্ণ অসত্য। আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তদন্তে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”

বিদেশে নেয়ার নামে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নির্যাতন, ফরিদপুরে মানববন্ধনে বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
বিদেশে নেয়ার নামে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নির্যাতন, ফরিদপুরে মানববন্ধনে বিচার দাবি

বিদেশে নেয়ার কথা বলে নির্যাতন ও পরিবারের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জড়িত চক্রের বিচারের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

​বুধবার (১৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘নির্যাতিত ও নিপীড়িত সাধারণ মানুষ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।

​মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান, মৃত হাবিবুর রহমানের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার, নয়ন তালুকদার ও আজিজুল ইসলামসহ অনেকে।

​বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের মোহাম্মদ ব্যাপারীর ছেলে মুরাদ ব্যাপারী ও তার সহযোগীরা একটি প্রতারক চক্র গড়ে তুলেছে। চক্রটি ভুক্তভোগীদের ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাদের ওপর দিনের পর দিন অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন ও মারধর চালানো হয়। পরবর্তীতে তাদের জিম্মি করে পরিবারগুলোর কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ৬০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।

​ভুক্তভোগীরা জানান, দেশে ফিরে এসে নিজেদের পাওনা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তা দিতে অস্বীকার করে। উল্টো টাকা ফেরত না দিতে ভুক্তভোগীদের নামেই নানা ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

​মানববন্ধনে নিজের পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার আকুতি জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরল বিশ্বাসে বিদেশে যাওয়ার জন্য তাঁরা জীবনের সব সঞ্চয় তুলে দিয়েছিলেন। এখন নিঃস্ব হয়ে পাওনা টাকা ফেরতের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত পুরো প্রতারক চক্রটিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান তারা।

​এ বিষয়ে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আইনি সহায়তা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

ফরিদপুর মেডিকেলে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয়

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর মেডিকেলে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয়

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি যন্ত্র ক্রয়ে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে। যার মধ্যে বিগত ৯ বছর আগে ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হলেও চালু হয়নি এবং লিনিয়ার এক্সেলেটর বস্তাবন্দি অবস্থায় রয়েছে।  এছাড়া এমএসআর (চিকিৎসা সামগ্রী) ক্রয়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। একই সাথে সেগুলোর রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ শেষে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে গতকাল সোমবার সকাল ১০ টা থেকে এ অভিযান শুরু হয় এবং মঙ্গলবার রাত ৮টায় শেষ করেন। এতে তাঁর নেতৃত্বে ৮ জন সদস্য অংশ নেন।

দুদক কর্মকর্তা জানান, চিকিৎসা সেবা প্রদানে হয়রানি, দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো এবং আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়ম, ক্রয়-বিক্রয় সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময়ে নানা অনিয়মের তথ্য মিলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিটের জন্য সাড়ে ১৪ কোটি টাকা মূল্যের লিনিয়ার এক্সেলেটর যন্ত্র আনা হলেও আজও তা বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া একই অর্থ বছরে কার্ডিওলজি বিভাগে ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের ক্যাথল্যাব যন্ত্র স্থাপন করা হলেও তা চালু করা হয়নি। যেগুলো চালু না করেই ওই অর্থ-বছরে দুটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তা বলেন, “অবকাঠামো নির্মাণ না করেই লিনিয়ার এক্সেলেটর মেশিনটি ক্রয় করা হয়েছে এবং ক্যাথল্যাব চালু না করায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। এক্ষেত্রে সকল নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে৷”

এমএসআর ক্রয়ে অনিয়ম:

হাসপাতালের এমএসআর (চিকিৎসা সামগ্রী) ক্রয়ে তথ্যের গড়মিল পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন দুদক কর্মকর্তা। তিনি বলেন- “ফেব্রিক্স নামক একটি ওষুধের ৭৬২ বোতল ঘাটতি এবং হেক্সাটন নামক ওষুধের বেশি বোতল পাওয়া গেছে। যা আমাদের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে।

এছাড়া হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে পরীক্ষা বন্ধ থাকার ক্ষেত্রে অনিয়ম পেয়েছে দুদক। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে এমএসআর ক্রয়ের কার্যাদেশে সকল সামগ্রীর মধ্যে সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে ফ্লিম থাকলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করেনি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাদ দিয়ে দুদক জানান। এগুলো ব্যতিত সকল বিল পরিশোধ করে নিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি নিয়ে দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজ বলেন- এখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে অধিকতর যাচাইয়ের জন্য রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে৷

জমা হয়নি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া:

অপরদিকে গত এক মাসে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার কোনো অর্থ জমা হয়নি বলে তাঁরা অনুসন্ধানে তথ্য পেয়েছেন। দুদক বলেন- হাসপাতালে ৫টি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে এবং দুটি নষ্ট রয়েছে। তিনটি চালু থাকলেও ভাড়ার টাকা জমা হয়নি এবং এখানে অনিয়ম হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এছাড়া আউটসোর্সিং নিয়োগ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দুদক জানান।

দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আমরা প্রতিটি রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছি এবং রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণ শেষে দায় নির্ধারণ করা হবে। এরপর ব্যবস্থাগ্রহনের জন্য প্রধান কমিশনার বরাবর পাঠানো হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত পরিচালক) মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু  বলেন, “দুদক আমাদের কাছে যা যা চেয়েছি সকল তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছি। হাসপাতালের ওই মেশিন দুটি দীর্ঘদিন যাবৎ পড়ে আছে, যে বিষয়ে মন্ত্রণালয়েও জানানো হয়েছে। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার বিষয়টি সঠিক নয় এবং এমএসআর ক্রয়ে অনিয়ম হয়েছে কি-না সেটা আমার জানা নেই।

সালথায় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১২

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
সালথায় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১২

ফরিদপুরের সালথায় মাদ্রাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষচলাকালে দুটি দোকান ভাঙচুর ও একটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার রামকান্তুপুর ও আটঘর ইউনিয়নের সীমান্তে অবস্থিত বিভাগদী ব্রিজের ওপর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদরাসা থেকে ফেরার পথে আটঘর ইউনিয়নের বিভাগদী গ্রামের তিন মাদরাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন রামকান্তপুর এলাকার কয়েক যুবক। খবর পেয়ে উত্ত্যক্তকারী ওই যুবকদের ওপর হামলা চালায় বিভাগদী গ্রামের কয়েকজন যুবক। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় ইউনিয়নের দুটি পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এ সময় হামলা চালিয়ে দুটি দোকান ভাঙচুর করা হয় এবং একটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।