খুঁজুন
, ,

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন-২০২৬ : হেরে গেলেন যেসব হেভিওয়েট প্রার্থী?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন-২০২৬ : হেরে গেলেন যেসব হেভিওয়েট প্রার্থী?

ভোটের মাঠে নাম ছিল, প্রভাব ছিল, ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভার তবু শেষ হাসি হাসতে পারলেন না অনেকে। এবারের নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে ভোটাররাই; একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে বদলে দিয়েছেন সমীকরণ। বহুদিনের শক্ত ঘাঁটি, প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব আর পরিচিত মুখ সবকিছু ছাপিয়ে ফলাফলে উঠে এসেছে নতুন বার্তা।

খুলনা-৫ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-২ থেকে খুলনা নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-১ আসনের জামায়াতের আলোচিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী হেরে গেছেন। এছাড়া এনসিপির সারজিস আলম, বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু হেরে গেছেন। এই তালিকায় আরও আছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। জামায়াতের প্রার্থীর কাছে হার মেনেছেন ফুটবলার আমিনুল হকও।

লড়াই শেষে মামুনুল হকের পরাজয়:

ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৩২০।

ওই আসনের ১৩৯টি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ শুরু হওয়ার পর থেকেই দেখা গেছে, একে অন্যের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে এই দুই প্রার্থীর। ভোটের আগে এক জরিপেও ববি হাজ্জাজ ও মামুনুল হকের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল। এই আসন থেকে ববি হাজ্জাজ ও মামুনুল হক ছাড়াও আরো সাতজন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। এই সাত প্রার্থী সব মিলিয়ে ভোট পেয়েছেন তিন হাজার ৮১৩টি।

দুই আসনেই হেরে গেছেন ফয়জুল করীম:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির এবং হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল-৫ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বরিশাল-৫ আসনের মোট ১৭৬টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এই আসনে মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।

বরিশাল-৬ আসনেও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি ফয়জুল করীম। এ আসনের মোট ১১৩টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং বরিশাল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৭ ভোট। দ্বিতীয় হয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ মাহমুদুন্নবি। তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট। যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম বলে মনে করছেন ভোটাররা।

জামায়াত নেতা আযাদ হেরে গেছেন:

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ হেরে গেছেন। তার নিকটতম প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত  হয়েছেন। ১২৪ কেন্দ্রের ফলাফলে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট। আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।‎

ফুটবলার আমিনুলের পরাজয়:

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৬ আসনের ১৩৭টি কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেন মোট ভোট পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮২৩টি। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হক পেয়েছেন মোট ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট।

সারজিস আলমও হেরে গেছেন:

পঞ্চগড়-১ (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর ও অটোয়ারী) আসনে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমির বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট। ১৫৫ কেন্দ্রের এ আসনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৮৩০৪।

কৃষ্ণ নন্দী হেরেছেন ৫০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে:

হিন্দু-অধ্যুষিত খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনে এবারের নির্বাচনে ১২ জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের আটজন প্রার্থী মাঠে ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী প্রথা ভেঙে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাবেক সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে এখানে প্রার্থী করে। তিনি সারা দেশে আলোচনা তৈরি করতে পেরেছিলেন। তবে ভোটের মাঠে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হেরেছেন কৃষ্ণ নন্দী।

খুলনা-১ আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কৃষ্ণ নন্দী পান ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৫১ হাজার ৬। এই আসনে পোস্টাল কেন্দ্রসহ মোট কেন্দ্র ছিল ১২০টি। এখানে তৃতীয় অবস্থানে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু সাঈদ। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৬১৯ ভোট।

হেরে গেলেন হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু:

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ৫ হাজার ৫৯২। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমানুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ২৯৮ ভোট।

২০০৮ সালে খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে একমাত্র বিএনপির প্রার্থী হিসেবে খুলনা-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ২০০১ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই আসন থেকে জয় পান। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এখানে বিএনপি থেকে জয় পান সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী। ১৯৯৬ সালের পর এই আসনে কখনো প্রার্থী দেয়নি জামায়াত।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জিততে পারেননি:

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮। পোস্টাল কেন্দ্রসহ আসনটিতে মোট কেন্দ্র ছিল ১৫১টি। পরওয়ার ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছিলেন। এ আসনের লক্ষাধিক ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাদের ভোট পেতে দুই প্রার্থীই চেষ্টা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হিন্দু ভোট ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা।

অবশেষে হেরে গেলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী:

ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন। শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, এই আসনের ১০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিতে সরাসরি ভোট গ্রহণ হয়। এতে বিএনপির মির্জা আব্বাস ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট পান। এর সঙ্গে তিনি ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। তাতে মোট ভোট পড়ে ৫৯ হাজার ৩৬৬। অন্যদিকে, ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ১০৮টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। এর সঙ্গে তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি। তাতে তাঁর পক্ষে মোট ভোট পড়ে ৫৪ হাজার ১২৭টি।

হেরে গেলেন তাসনিম জারা:

তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। জাবেদ মিয়ার তুলনায় ৫৭ হাজার ৭৫২ ভোট এবং তাসনিম জারার তুলনায় ৬৬ হাজার ৫২৮ ভোট বেশি পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন হাবিবুর রশিদ।

এ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৭০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫৬ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ২১ হাজার ৬৮১ জন। বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৯৯৩টি ভোট। ফলে বৈধ ভোট দাঁড়ায় ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৮টি। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ ইফতেখার আহসান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৮২৭ ভোট। জাতীয় পার্টির কাজী আবুল খায়ের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২ ভোট।

সূত্র : জাগোনিউজ২৪

ফরিদপুরে ট্রেনের ছাদে দৌড়াদৌড়ির সময় গাছের ডালের ধাক্কায় কিশোর নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ট্রেনের ছাদে দৌড়াদৌড়ির সময় গাছের ডালের ধাক্কায় কিশোর নিহত

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চলন্ত ট্রেনের ছাদে উঠে দৌড়াদৌড়ি করার সময় গাছের ডালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জাহিদুল (১২) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এতে সাজেদুল শেখ নামে অপর এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের চতুল উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত জাহিদুল বোয়ালমারীর ময়না ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের মিল্টন শেখের ছেলে। আহত সাজেদুল একই গ্রামের কাইয়ুম শেখের ছেলে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাটিয়াপাড়া থেকে রাজবাড়ীগামী ‘ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ছাদে উঠে জাহিদুল ও সাজেদুল দৌড়াদৌড়ি করছিল। ট্রেনটি চতুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে রেললাইনের পাশের একটি কাঁঠালগাছের ঝুলন্ত ডালের সঙ্গে দু’জনের সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে তারা ট্রেনের ছাদ থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান। জাহিদুল ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। স্থানীয়রা আহত সাজেদুলকে উদ্ধার করে দ্রুত বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

​বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তমাল কৃষ্ণ রায় জানান, সাজেদুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

​দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার রয়েল আহমেদ জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেহেতু দুর্ঘটনাটি রেলপথে ঘটেছে, তাই এটি রেলওয়ে পুলিশের এখতিয়ারাধীন। রাজবাড়ী রেলওয়ে থানাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

​রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়েছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

সালথায় ২৮৫ সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া, উপজেলাটির ভাগ্য বদলের পথে ইউএনও দবির উদ্দিন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
সালথায় ২৮৫ সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া, উপজেলাটির ভাগ্য বদলের পথে ইউএনও দবির উদ্দিন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিনের চলাচল দুর্ভোগ কমিয়ে মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে ব্যাপক গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৮৫টি এইচবিবি ও সোলিং সড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে যোগাযোগব্যবস্থা। আর এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

২০২৬ সালের ৩ মার্চ সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দবির উদ্দিন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ এবং উন্নয়ন বঞ্চিত সড়কগুলোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সালথা উপজেলায় রয়েছে আটটি ইউনিয়ন—রমকান্তপুর, যদুনন্দী, গট্টি, ভাওয়াল, আটঘর, মাঝারদিয়া, বল্লভদী ও সোনাপুর। প্রায় দুই লাখ মানুষের এই উপজেলায় গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় সরাসরি সুফল পেতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে কাঁচা ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে অনেক গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো—সব ক্ষেত্রেই ছিল নানা প্রতিবন্ধকতা। বিশেষ করে বর্ষাকালে অনেক এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ত।

এখন ২৮৫টি রাস্তার এইচবিবি ও সোলিং হওয়ায় সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। গ্রামের সঙ্গে হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা সদরের যোগাযোগ সহজ হচ্ছে। কৃষকরা কম সময়ে ও কম খরচে তাদের কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও হচ্ছে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও সহজ হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি রাস্তা শুধু চলাচলের পথ নয়; এটি একটি এলাকার অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ভালো যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয় এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হয়। সেই বিবেচনায় সালথার এসব সড়ক উন্নয়নকে অনেকেই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয় উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় তিনি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সড়ক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি চেষ্টা করেছি উপজেলার সাধারণ মানুষের সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হলে মানুষের জীবনযাত্রার প্রায় সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তাই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে আমরা সড়ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছি।”

তিনি বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের আন্তরিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন ভাবনার কারণে এসব কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু রাস্তা নির্মাণ নয়, মানুষের জীবনকে সহজ করা এবং উন্নয়নের সুফল প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।”

দবির উদ্দিন আরও বলেন, “সালথার প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষের উন্নয়ন চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

প্রশাসনের উদ্যোগ, জনপ্রতিনিধির সহযোগিতা এবং স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা—এই তিনের সমন্বয়ে এখন বদলে যাচ্ছে সালথার গ্রামীণ জনপদের চিত্র। ২৮৫টি সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া শুধু যোগাযোগ সহজ করেনি, নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে প্রায় দুই লাখ মানুষকে। অনেকের চোখে, এটি সালথার উন্নয়নের পথে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের নগরকান্দায় স্ত্রী কহিনুর বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী লিটন মিয়া ওরফে লিটুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ফরিদপুরের একটি আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

​এছাড়া মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে লুকানোর অভিযোগে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

​বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের পারিবারিক আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, আসামির উভয় সাজা একসাথে কার্যকর হবে।

​সাজাপ্রাপ্ত লিটন মিয়া ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শশা উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে।

​মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে শশা উত্তরপাড়া এলাকার লিটন মিয়ার সাথে কহিনুর বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে কহিনুরকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন লিটন ও তার পরিবারের সদস্যরা। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকে।

​একপর্যায়ে প্রথম স্ত্রীকে কিছু না জানিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেন লিটন। এরপর কহিনুর ও তার সন্তানদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন তিনি। এমনকি বাড়ি না ছাড়লে কহিনুরকে মেরে মরদেহ গুম করারও হুমকি দেওয়া হয়।

​পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৭ আগস্ট রাতে কহিনুর তার মেয়েকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ের ঘুম ভেঙে গেলে সে মাকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে পাশের ঘরে থাকা ভাইকে জানায়। ভোরে স্বজনেরা বাড়ির দক্ষিণ পাশে পুকুরের উত্তর পাড়ে কহিনুরের নিথর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

​এ ঘটনায় নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

​রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আজিজুর রহমান পিকু বলেন, “আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামির বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সার্বিক বিচার বিশ্লেষণ শেষে বিচারক তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এতে আমরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করছি।”