২৯২ আসনের বেসরকারি ফল: কে এগিয়ে, কার কত আসন?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৯২টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এ ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা পর্যন্ত ইসি ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ২১২টি আসনে জয় পেয়েছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৭২টি আসনে। এছাড়াও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ৮টি আসনে জয় পেয়েছেন। এদের মধ্যে একটি আসন গেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দখলেও রয়েছে।
এর মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে, বিএনপির নেতৃত্বেই গঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আগামী সরকার। ফলে, প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই সরকারপ্রধান হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াত। এছাড়া, ফলাফল নির্ধারণ হয়ে গেলেও মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় তিনটি আসনের ফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসনগুলো হলো— শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ফলে দলীয় প্রধানদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন। মহাসচিব পর্যায়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব ও রংপুর-৪ আসনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিজয়ী হয়েছেন, তবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ান নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে পারেননি।
সবশেষ প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে ঢাকা-১৫ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আসনটিতে ৮২ হাজার ৬৪৫ ভোট পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯২০ ভোট।
এছাড়া, ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। আসনটিতে ৫৭ হাজার ৯২ ভোট ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট।
ঢাকা-১৩ আসনে মাওলানা মামুনুল হককে হারিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। আসনটিতে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৯০ হাজার ৬০১ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮৮৯ ভোট।
ঢাকা-৬ আসনে জয়ের হাসি হেসেছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। এই আসনে ৭৮ হাজার ১৪১ ভোট পেয়েছেন তিনি । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৪৬৫ ভোট।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৭২ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করেছেন তিনি। এই আসনের মোট ৬২টি কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে ধানের শীষের প্রার্থী শুরু থেকেই ভোটের দৌড়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। মির্জা ফখরুলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৪০২ ভোট। অর্থাৎ মির্জা ফখরুল প্রায় ২৮ হাজার ১৪৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও হেভিওয়েট প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ। আসনটিতে মোট ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১১ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান প্রায় ৯৪ হাজার ৪৪৭টি।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এ আসনে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৯ ভোট।
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) সংসদীয় আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলন। এ আসনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাওলানা আবু নসর আশরাফী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট।
একই জেলার ২, ৩ ও ৫ নং আসনেও জয় পেয়েছে বিএনপি। আর ৪ নং আসনটি গেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দখলে। এর মধ্যে চাঁদপুর-২ আসনে ১ লাখ ৭২ হাজার ৫০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মো. জালাল উদ্দিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির মো. বিল্লাল হোসেন পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৪০৬ ভোট।
চাঁদপুর-৩ আসনে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির শেখ ফরিদ আহমেদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬৫ ভোট।
চাঁদপুর-৫ আসনে ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে বিএনপিকে জয় এনে দিয়েছেন মো. মমিনুল হক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির মো. নেয়ামুল বশির পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৮৫।
তবে, চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হান্নান। আসনটিতে ৭৩ হাজার ৫৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো.হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৩৩।
ফেনী-২ আসনে বিএনপিকে জয় এনে দিয়েছেন জয়নাল আবদীন। এ আসনে ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ওরফে মঞ্জু পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট। নেত্রকোনা-১ আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বরিশাল-৩ (মুলাদী–বাবুগঞ্জ) আসনে নির্বাচনি লড়াইয়ে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) আলোচিত প্রার্থী আসাদুজ্জামান ভুঁইয়াকে (ব্যারিস্টার ফুয়াদ) বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন। আসনের ১২৬টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত গণনায় তিনি পেয়েছেন মোট ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যারিস্টার ফুয়াদ ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়াই করে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তাহসিনা রুশদীর লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৪৪৬ ভোট। দুজনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ২৫১।
পটুয়াখালী-৩ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি জোট থেকে ট্রাক প্রতীকে দাঁড়ানো গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ৭৩ হাজার ৯৩৪ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯৫০ ভোট।
৫৬ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জিতেছেন বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি তার দলীয় প্রতীক ‘মাথাল’-এ পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৩৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মহসীন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৬৭ ভোট।
ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষের বিজয় এসেছে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের হাত ধরে। আসনটিতে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭টি। সবগুলো কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট।
বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সুলতান মাহমুদ বাবু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ছামিউল হক ফারুকি পেয়েছেন ৬১ হাজার ৬৫৫ ভোট। জামালপুর-৩ আসনে ২ লাখ ৬ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. মজিবুর রহমান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৭ ভোট। জামালপুর-৪ আসনে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল পেয়েছেন ৪৪ হাজার ১৬১ ভোট।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের আরেক প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। শাপলা কলি প্রতীকে হান্নান মাসউদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ১১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৩৭২ ভোট।
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। আসনটির ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে শাপলা কলি প্রতীকে এনসিপির আখতার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট।
কুড়িগ্রাম-২ আসনে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আতিকুর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৫ ভোট।
কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, চর রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মোট ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হাফিজুর রহমান ৯ হাজার ৪৪৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২১ হাজার।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৬ ভোট।
এদিকে বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে একমাত্র বিজয় পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ আসনে দলটির মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ৪ হাজার ১৪৫ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারি ভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন৷ তিনি মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ২৯১ ভোট পেয়েছেন৷ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা। তিনি মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়েছেন।
বরগুনা-২ আসনটি আবার গেছে বিএনপির প্রার্থী নূরুল ইসলাম মণির দখলে। ৮৯ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১৫ ভোট।

আপনার মতামত লিখুন
Array