খুঁজুন
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১ ফাল্গুন, ১৪৩২

২৯২ আসনের বেসরকারি ফল: কে এগিয়ে, কার কত আসন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪১ এএম
২৯২ আসনের বেসরকারি ফল: কে এগিয়ে, কার কত আসন?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৯২টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এ ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা পর্যন্ত ইসি ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ২১২টি আসনে জয় পেয়েছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৭২টি আসনে। এছাড়াও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ৮টি আসনে জয় পেয়েছেন। এদের মধ্যে একটি আসন গেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দখলেও রয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে, বিএনপির নেতৃত্বেই গঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আগামী সরকার। ফলে, প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই সরকারপ্রধান হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াত। এছাড়া, ফলাফল নির্ধারণ হয়ে গেলেও মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় তিনটি আসনের ফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসনগুলো হলো— শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪।

এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ফলে দলীয় প্রধানদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন। মহাসচিব পর্যায়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব ও রংপুর-৪ আসনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিজয়ী হয়েছেন, তবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ান নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে পারেননি।

সবশেষ প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে ঢাকা-১৫ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আসনটিতে ৮২ হাজার ৬৪৫ ভোট পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯২০ ভোট।

এছাড়া, ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। আসনটিতে  ৫৭ হাজার ৯২ ভোট ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট।

ঢাকা-১৩ আসনে মাওলানা মামুনুল হককে হারিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। আসনটিতে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৯০ হাজার ৬০১ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮৮৯ ভোট।

ঢাকা-৬ আসনে জয়ের হাসি হেসেছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। এই আসনে ৭৮ হাজার ১৪১ ভোট পেয়েছেন তিনি । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৪৬৫ ভোট।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৭২ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করেছেন তিনি। এই আসনের মোট ৬২টি কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে ধানের শীষের প্রার্থী শুরু থেকেই ভোটের দৌড়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। মির্জা ফখরুলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৪০২ ভোট। অর্থাৎ মির্জা ফখরুল প্রায় ২৮ হাজার ১৪৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও হেভিওয়েট প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ। আসনটিতে মোট ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১১ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান প্রায় ৯৪ হাজার ৪৪৭টি।

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এ আসনে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৯ ভোট।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া) সংসদীয় আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলন। এ আসনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাওলানা আবু নসর আশরাফী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট।

একই জেলার ২, ৩ ও ৫ নং আসনেও জয় পেয়েছে বিএনপি। আর ৪ নং আসনটি গেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দখলে। এর মধ্যে চাঁদপুর-২ আসনে ১ লাখ ৭২ হাজার ৫০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মো. জালাল উদ্দিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির মো. বিল্লাল হোসেন পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৪০৬ ভোট।

চাঁদপুর-৩ আসনে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির শেখ ফরিদ আহমেদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬৫ ভোট।

চাঁদপুর-৫ আসনে ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে বিএনপিকে জয় এনে দিয়েছেন মো. মমিনুল হক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির মো. নেয়ামুল বশির পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৮৫।

তবে, চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হান্নান। আসনটিতে ৭৩ হাজার ৫৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো.হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৩৩।

ফেনী-২ আসনে বিএনপিকে জয় এনে দিয়েছেন জয়নাল আবদীন। এ আসনে ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ওরফে মঞ্জু পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট। নেত্রকোনা-১ আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বরিশাল-৩ (মুলাদী–বাবুগঞ্জ) আসনে নির্বাচনি লড়াইয়ে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) আলোচিত প্রার্থী আসাদুজ্জামান ভুঁইয়াকে (ব্যারিস্টার ফুয়াদ) বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন। আসনের ১২৬টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত গণনায় তিনি পেয়েছেন মোট ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যারিস্টার ফুয়াদ ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়াই করে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তাহসিনা রুশদীর লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৪৪৬ ভোট। দুজনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ২৫১।

পটুয়াখালী-৩ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি জোট থেকে ট্রাক প্রতীকে দাঁড়ানো গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ৭৩ হাজার ৯৩৪ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯৫০ ভোট।

৫৬ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জিতেছেন বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি তার দলীয় প্রতীক ‘মাথাল’-এ পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৩৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মহসীন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৬৭ ভোট।

ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষের বিজয় এসেছে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের হাত ধরে। আসনটিতে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭টি। সবগুলো কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট।

বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সুলতান মাহমুদ বাবু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ছামিউল হক ফারুকি পেয়েছেন ৬১ হাজার ৬৫৫ ভোট। জামালপুর-৩ আসনে ২ লাখ ৬ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. মজিবুর রহমান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৭ ভোট। জামালপুর-৪ আসনে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল পেয়েছেন ৪৪ হাজার ১৬১ ভোট।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের আরেক প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। শাপলা কলি প্রতীকে হান্নান মাসউদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ১১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৩৭২ ভোট।

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। আসনটির ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে শাপলা কলি প্রতীকে এনসিপির আখতার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট।

কুড়িগ্রাম-২ আসনে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আতিকুর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৫ ভোট।

কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, চর রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মোট ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হাফিজুর রহমান ৯ হাজার ৪৪৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২১ হাজার।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৬ ভোট।

এদিকে বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে একমাত্র বিজয় পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ আসনে দলটির মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ৪ হাজার ১৪৫ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারি ভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন৷ তিনি মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ২৯১ ভোট পেয়েছেন৷ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা। তিনি মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়েছেন।

বরগুনা-২ আসনটি আবার গেছে বিএনপির প্রার্থী নূরুল ইসলাম মণির দখলে। ৮৯ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১৫ ভোট।

“আসুন, আমরা বিভাজন নয়—ঐক্যের রাজনীতি করি” : শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩২ এএম
“আসুন, আমরা বিভাজন নয়—ঐক্যের রাজনীতি করি” : শামা ওবায়েদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টে শামা ওবায়েদ লিখেছেন, “প্রিয় নগরকান্দা ও সালথাবাসী, আপনাদের ভালোবাসা, আস্থা ও দোয়ার ফলেই আমি বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছি। এই বিজয় কোনো ব্যক্তির নয়—এটি নগরকান্দা ও সালথার প্রতিটি মানুষের বিজয়।”

তিনি বলেন, কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তরুণ-তরুণী, মা-বোনসহ সর্বস্তরের মানুষের যে বিশ্বাস ও সমর্থন তিনি পেয়েছেন, তা রক্ষা করা তাঁর প্রধান দায়িত্ব। “এই বিজয় উল্লাসের নয়, এটি দায়িত্বের”—এমন মন্তব্য করে তিনি আরও লেখেন, আজ থেকে তাঁর দায়িত্ব বহুগুণে বেড়ে গেল।

নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য জানান, দলমত নির্বিশেষে এলাকার প্রতিটি মানুষ তাঁর আপনজন। তিনি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীলভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করায় তিনি নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, সমর্থক এবং নিরপেক্ষ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

রাজনীতিতে বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “আসুন, আমরা বিভাজন নয়—ঐক্যের রাজনীতি করি। ভয় নয়, বিশ্বাসের রাজনীতি করি। ক্ষমতার নয়, মানুষের রাজনীতি করি।” তিনি জানান, নগরকান্দা ও সালথার উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষাই হবে তাঁর অগ্রাধিকার।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ শেষে ১১৭টি কেন্দ্রের সবগুলোর গণনা শেষ হয় রাত প্রায় ১১টার দিকে। প্রাপ্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আল্লামা শাহ্ আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। ফলে ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হন শামা ওবায়েদ।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক তৎপরতা, দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের সংযোগ এবং ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কই এ আসনে তাঁর বড় ব্যবধানের জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। নতুন এমপির কাছে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নের প্রত্যাশা করছেন তারা।

সালথায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০, বাড়ি-ঘর ভাংচুর

হারুন-অর-রশীদ ও এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
সালথায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০, বাড়ি-ঘর ভাংচুর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মসজিদের ভেতরে ভোট দেওয়া নিয়ে তর্কের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজের সময় স্থানীয় একটি মসজিদের ভেতরে রিকশা প্রতীকে ভোট দেওয়া নিয়ে সন্দেহ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের পক্ষের নেতৃত্বদানকারী কুদ্দুস তালুকদারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে রিকশা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগ তোলেন অপর পক্ষের নেতা আছাদ মাতুব্বরের অনুসারী রবিউল তালুকদারের সমর্থকরা। এ নিয়ে নামাজ চলাকালীনই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নামাজ শেষে উভয়পক্ষের সমর্থকরা মসজিদের সামনে জড়ো হলে তর্কাতর্কি একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, রবিউল তালুকদারের সমর্থকরা কুদ্দুস তালুকদারের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। আহত হন অন্তত ১০ জন।

এব্যাপারে রবিউল তালুকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে রবিউলের চাচাতে ভাই সেকেন্দার হোসেন বলেন, রবিউল সহ আমরা ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। স্থানীয় বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার তার দল ভারি করতে তার গ্রুপে আমাদের নেওয়ার জন্য আমাদের একজন লোকের উপর শুক্রবার সকালে হামলা করেন। স্থানীয় আধিপত্য ও নিজের দলে লোকজন ভিড়ানোর জন্য আমাদের বলা হচ্ছে রিকশায় ভোট দিয়েছি। এগুলো ভিত্তিহীন। আমরা এই সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এজেন্ট ছিলাম।

অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেওয়া সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার বলেন, রবিউলরা উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর ও ইশারতের লোক। রবিউলরা আ.লীগ করেন। তারা, আছাদের সাথে মিশে আমাদের ভোট কেন্দ্রে বিএনপিকে হারাতে রিকশায় ভোট দেন। যাতে আমাকে দলের কাছে ভিন্নভাবে দেখানো যায়। কারণ, আছাদ সামনে উপজেলা পরিষদের বিএনপির হয়ে নির্বাচন করবেন। এটা তাদের কৌশল।

হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন- মো. ওয়াদুদ তালুকদার (৫০), টিটুল তালুকদার (৩০), মুসা কাজী (৫০), রয়েল কাজী (৩০), সোহরাব তালুকদার (৪৫), শরিফুল ইসলাম (১৬), ফরিদ তালুকদার (২২)সহ আরও কয়েকজন। টিটুল তালুকদারকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে বলে দাবি করেছেন কুদ্দুস তালুকদার। আহতরা তার সমর্থক বলে দাবি তার। ওয়াদুদ তালুকদারের বাঁ পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে; তিনি সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে অভিযোগের ব্যাপারে আছাদ মাতুব্বর দাবি করেছেন, তার অনুসারী রবিউল তালুকদারের পক্ষেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে, তিনি আহতের সংখ্যা জানাতে পারেনি। তিনি বলেন, “রবিউলের লোকজনের ওপর আগে হামলা করা হয়েছে। এখন বিষয়টি আমাদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও দাবি করেন, কুদ্দুস তালুকদারের লোকজন প্রকাশ্যে রিকশা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। রবিউলের চাচাতো ভাই এনায়েত বিএনপির নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। তারা সবাই বিএনপি করেন এবং বিএনপিতে ভোট দিয়েছেন। বরং সিদ্দিক তালুকদার ও কুদ্দুস তালুকদারের অনেক লোকজন রিকশায় ভোট দিয়েছেন।

অন্যদিকে কুদ্দুস তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। রবিউল সহ যারা বিএনপির পক্ষে প্রচার করেছে, তারাই রিকশা প্রতীকে ভোট দিয়েছে। তারাই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।”

সালথা সেনা ক্যাম্প সূত্র জানায়, সহিংসতার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

এব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, ছোট-খাট কোনো বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সালথা উপজেলা ফরিদপুর-২ আসনের অন্তর্গত। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী রিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা, কে পাচ্ছেন কোন দায়িত্ব?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৫ পিএম
তারেক রহমানের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা, কে পাচ্ছেন কোন দায়িত্ব?

বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে ২০ বছর পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটি।

এরই মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দিয়েছেন ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠন করা হবে। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের জন্য ৪৫টি গাড়ি প্রস্তুত করেছে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

কেমন হবে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা—কারা স্থান পাবেন তার মন্ত্রিসভায়, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সচিবালয়, অফিস-আদালত, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, এমনকি চায়ের দোকানেও চলছে এ নিয়ে আলোচনা। মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুও নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুলকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী টেকনোকেট কোটায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরের নামও আলোচনায় রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

জোট থেকে মন্ত্রী কে?

বিএনপির শরিক জোট থেকেও কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর, জোনায়েদ সাকি।

এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু,অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল ও আজিজুল বারী হেলাল,ও ব্যারিস্টার মীর হেলালকে।

স্পিকার পদেও আলোচনা

জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, মুলাদী-বাবুগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

সূত্র : এশিয়া পোস্ট