খুঁজুন
, ,

চোখ ভালো আছে কিনা বুঝবেন যেসব লক্ষণে

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ
চোখ ভালো আছে কিনা বুঝবেন যেসব লক্ষণে

চোখ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোট কোনো সমস্যাও যদি অবহেলা করা হয়, তাহলে তা বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। অনেক সময় দৃষ্টিশক্তি হঠাৎ কমে যায়, আবার কখনো ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়ে। এসব পরিবর্তন আগে থেকে বুঝতে পারলে এবং সময়মতো ব্যবস্থা নিলে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব। চোখের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন।

দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার ধরন

দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। যেমন—

সেন্ট্রাল ভিশন লস: চোখের মাঝখানের অংশে স্পষ্টভাবে দেখতে অসুবিধা

পেরিফেরাল ভিশন লস: চারপাশের দিক বা কোণের দৃষ্টি কমে যাওয়া

সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীনতা: পুরোপুরি দেখতে না পারা

নাইট ব্লাইন্ডনেস: কম আলো বা অন্ধকারে দেখতে সমস্যা

ঝাপসা দৃষ্টি: কুয়াশার মতো বা অস্পষ্টভাবে দেখা, শুধু ছায়া বা আকার বোঝা

হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ

মাইগ্রেন

মাইগ্রেনের রোগীদের একটি বড় অংশের চোখে ভিজ্যুয়াল সমস্যা দেখা যায়। জিগজ্যাগ আলো, ঝিলিমিলি দেখা, টানেলের মতো দৃষ্টি বা এক পাশের দৃষ্টি হঠাৎ কমে যেতে পারে। সাধারণত এই সমস্যা ১০ থেকে ৩০ মিনিট স্থায়ী হয়।

কেরাটাইটিস

চোখের কর্নিয়ায় প্রদাহ হলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। চোখে ব্যথা ও লালভাবও থাকতে পারে। সঠিক চিকিৎসায় এটি সেরে যায়।

কনজাঙ্কটিভাইটিস বা পিঙ্ক আই

চোখ লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালা ও ঝাপসা দেখার পাশাপাশি সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে সংক্রমণ হলে চিকিৎসা দরকার হয়।

চোখের ক্লান্তি

দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টিভির দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে চাপ পড়ে। এতে দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ২০ মিনিট পরপর কিছুক্ষণ দূরে তাকানো উপকারী।

চোখে আঘাত

চোখে আঘাত লাগলে দৃষ্টিশক্তি সাময়িক বা স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে। এমন হলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে।

ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ

বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন

৫০ বছরের পর অনেকের চোখের মাঝখানের দৃষ্টি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে।

গ্লুকোমা

চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে চারপাশের দৃষ্টি কমে যায়। শুরুতে তেমন লক্ষণ না থাকায় নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা জরুরি।

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি

ডায়াবেটিসের কারণে চোখের রেটিনার রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি থাকে। নিয়মিত পরীক্ষা করলে আগেভাগে ধরা সম্ভব।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন

দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে দেরি করা উচিত নয়। নিচের লক্ষণগুলোর যে কোনোটি দেখা গেলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন—

তীব্র মাথাব্যথা

কথা বলতে অসুবিধা

মুখ বেঁকে যাওয়া

শরীরের এক পাশে দুর্বলতা

চোখে তীব্র ব্যথা

কীভাবে চোখের যত্ন নেবেন

চোখকে বিশ্রাম দিন: স্ক্রিন ব্যবহার করার সময় নিয়মিত বিরতি নিন

সুরক্ষামূলক চশমা ব্যবহার করুন: খেলাধুলা বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে চোখ ঢেকে রাখুন

সানগ্লাস পরুন: রোদে বের হলে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখ রক্ষা করুন

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন: ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করুন: সমস্যা না থাকলেও চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যান

পুষ্টিকর খাবার খান ও ধূমপান এড়িয়ে চলুন: এতে চোখ সুস্থ থাকে

চোখের সামান্য পরিবর্তনকেও অবহেলা করা ঠিক নয়। সব ধরনের দৃষ্টিশক্তি হারানো প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সচেতনতা, সঠিক অভ্যাস এবং সময়মতো চিকিৎসা চোখ ভালো রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। নিয়মিত যত্ন নিলে দীর্ঘদিন সুস্থ দৃষ্টি বজায় রাখা সম্ভব।

সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে

আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) নেতৃবৃন্দ।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

​এ সময় ফরিদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আজিজ, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য কৃষিবিদ শাহরিয়ার আজম ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. রঞ্জুসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সাক্ষাৎকালে নেতারা ইউএনওর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। একই সঙ্গে তারা আলফাডাঙ্গা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও স্থানীয় সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়?

ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়? এ প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই অজানা। গবেষকদের মতে, শরীরে জমে থাকা চর্বির বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত শ্বাসের সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড হিসেবে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (০১ সেপ্টেম্বর) ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের দুই গবেষক ‘দ্য কনভারসেশন’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে জানান, শরীরের চর্বি কমার প্রক্রিয়া শুরু হয় যখন খাবার থেকে পাওয়া শক্তির চেয়ে শরীরের শক্তির চাহিদা বেশি হয়। তখন শরীর জমিয়ে রাখা চর্বি থেকে শক্তি নেওয়া শুরু করে।

খাবারের চর্বি হজমের পর ফ্যাটি অ্যাসিডে ভেঙে যায়। শরীর প্রয়োজনীয় অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। অতিরিক্ত অংশ ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তরিত হয়ে চর্বি কোষে জমা থাকে।

শরীরে মূলত দুই ধরনের চর্বি জমে- ত্বকের নিচে থাকা সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট এবং শরীরের ভেতরে বিভিন্ন অঙ্গের চারপাশে জমা ভিসেরাল ফ্যাট।

শরীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি হলে হরমোন ও স্নায়ুর সংকেতের মাধ্যমে চর্বি কোষে জমে থাকা ট্রাইগ্লিসারাইড ভাঙতে শুরু করে। এরপর ফ্যাটি অ্যাসিড কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ায় গিয়ে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এ সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শরীর থেকে হারানো চর্বির প্রায় ৮৪ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত হয়ে শ্বাসের সঙ্গে বের হয়ে যায়। বাকি প্রায় ১৬ শতাংশ পানি হিসেবে ঘাম, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন শারীরিক তরলের মাধ্যমে বের হয়।

তবে এই হারগুলো আনুমানিক বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। শরীরের সব ধরনের নির্গমন নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা কঠিন।

গবেষকরা আরও বলেন, দ্রুত শ্বাস নিলেই চর্বি কমে না। শ্বাস-প্রশ্বাস চর্বি ভাঙার কারণ নয়; বরং চর্বি ভাঙার পর তৈরি হওয়া পদার্থ শরীর থেকে বের হওয়ার একটি পথ।

শরীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি করাই চর্বি কমানোর মূল বিষয়। খাবার নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে এই ঘাটতি তৈরি করা যায়।

সূত্র: ইউরো নিউজ

সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

ফরিদপুরের সালথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে অন্তত আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ৫০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া বিলে এ অভিযান চালানো হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো আইন ও বিধি অনুযায়ী আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিন।

​অভিযানকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমানসহ পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, চায়না দুয়ারী জাল মাছের পোনা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দেশে সব ধরনের নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে।

​একই সঙ্গে নিষিদ্ধ জালের অশুভ প্রভাব থেকে দেশীয় প্রজাতি রক্ষায় স্থানীয় সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।