ফরিদপুরের আলোচিত সেই এমপি প্রার্থী রায়হান জামিলের বিরুদ্ধে মামলা
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার সভাপতি ও সমাজসেবক মুফতি রায়হান জামিলকে আসামি করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করছেন ঘটনার দিন সে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন ও মামলাটিতে তাকে হায়রানি করার জন্য আসামি করা হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রায়হান জামিল তার নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেকে এসব কথা উল্লেখ করে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে ভাঙ্গা থানার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ ও চলন্ত যানবাহনে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মো. কাইয়ুম সিকদার বাদী হয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন। মামলায় মোট ১৯২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এজাহারে ভাঙা গাড়ির কাচের অংশ, ইটের খোয়া, পাথরের খোয়া ও বাঁশের লাঠি জব্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার ১৯১ নম্বর আসামি হিসেবে মুফতি রায়হান জামিলের নাম রয়েছে। তবে তিনি দাবি করছেন, ঘটনার দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন এবং তার অবস্থানের পক্ষে একাধিক প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আমাকে জনসেবা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকে বিরত রাখা যাবে না।’
মুফতি রায়হান জামিল আরও দাবি করেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা না হলে ফরিদপুর-৪ আসনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ জনসম্মুখে প্রকাশ করতে বাধ্য হবেন। তিনি বলেন, ‘যতই হামলা-মামলা হোক, ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।’
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর-৪ আসনে সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুফতি রায়হান জামিল ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ১০ টাকায় ইলিশ মাছ, ৩০ নভেম্বর ১ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এবং ১১ জুলাই ২ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া গভীর রাতে অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি এক বস্তা চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার মানবিক উদ্যোগও সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
Array