খুঁজুন
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১৫ চৈত্র, ১৪৩২

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীর ভোট, দেশের ভবিষ্যৎ

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৭ এএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীর ভোট, দেশের ভবিষ্যৎ

ভোট প্রদানে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী, যার অর্থ তাদের ভোটের গুরুত্ব অনেক। নারীরা শিক্ষা, আইন, প্রশাসন ও নাগরিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ভোট প্রদানে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা জনসংখ্যার অর্ধেক অংশীদার এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অপরিহার্য। নারীর ভোট আইন প্রণয়ন, পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়ন, এবং নারীবান্ধব নীতি নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলে।তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লিঙ্গবৈষম্য দূর করে এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ভোটার হিসেবে পিছিয়ে আছে নারী ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তালিকানুসারে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জন। এর মধ্যে নারী ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯ জন আর পুরুষ ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫ জন। অর্থাৎ নারী ভোটারের চেয়ে পুরুষ ভোটার সংখ্যা বেশি , মাত্র ১৯ লাখ ৪ হাজার ৬৩৬ জন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে ভোটার হতে উৎসাহিত করতে ব্যপক প্রচারণাও চালানো হয়েছে। অন্যদিকে নারী নেতৃবৃন্দরা মনে করেন, নারীরা ভোটার হলে রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণে আগ্রহ বাড়বে। তবে ভোটার বাড়লেই ক্ষমতায়ন বাড়বে এই কথা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা সময়ই বলে দিবে।

সারাদেশে সর্বত্র নির্বাচনী প্রচারণায় সর্বস্তরেই পুরুষ ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার দৌড়ঝাঁপরত নেতারা, জনসভা, পথসভা, মিছিল, মিটিং ও কর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালাতে দল বদ্ধ ভাবে দাওয়াত এ অংশগ্রহণ ইত্যাদি চলছে। দলের নেতাদের সালাম দেওয়া ও শুভেচ্ছায় ছবি সম্বলিত পোস্টারে, ব্যানারে ছেয়ে গেছে পথ ঘাট, ওলি, গলি, সমগ্র দেশের আনাচে কানাচের দেওয়াল ও পিলার এমন কি গাছ গাছালী পর্যন্ত। সেখানে নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য তেমন কোনো নজর কারা উদ্যোগ খুব একটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী এখনো অনেক পেছনে। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে পরিলক্ষিত হয়েছে একজন প্রধানমন্ত্রী একজন বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিয়ে নারীর সামগ্রিক রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হয়েছে তা বলা যায় না। কারণ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী দলে প্রতি কমিটিতে নারীর অংশগ্রহণ ৩৩ শতাংশের এখনো পূরণে তেমন কোনো অগ্রগতি চক্ষুগোচর হয়নি।

৭১ সাল থেকে সংরক্ষিত আসনে নারীর সংখ্যা বেড়েছে তুলনামূলকভাবে তা অনেক কম। নারীকে মনোনয়ন দিতে নারীর ভোটার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন নারী নেতৃবৃন্দ। নারীরা ভোটার হলে এবং ভোট দিলে রাজনীতিতে অংশগ্রহণে আগ্রহ বাড়বে। সাধারণ আসনে নারীকে মনোনয়ন দিতে চায়না পুরুষতন্ত্র। সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন হয় না। তাই ভোটারদের সংখ্যা বাড়ালেও পুরো রাজনৈতিক কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।

প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করা নারীদের নিবন্ধনজনিত কার্যক্রমের জন্য পুরুষের ওপর নির্ভরশীল করে রেখেছে সমাজ। ফলে তারা নিজেরা নিবন্ধন করে ভোটার হতে পারে না। আবার এক-দুই দিনে ছুটি নিয়ে বেতন কেটে গ্রামের বাড়ি গিয়ে ভোটার হওয়া তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। ফলে এই শ্রেণির অর্থাৎ গার্মেন্টস শ্রমিক নারীরা ভোটার হন কম। নির্বাচনে ভোটার করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। ভোটার হতে উৎসাহিত করতে প্রচারণাও চালিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বস্তি এলাকাসহ ভাসমান ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করতে বেদে, যাযাবর গোষ্ঠীকেও ভোটার করার কার্যক্রমও নির্বাচন কমিশনের আছে। তবে কাউকে জোর করে নির্বাচন কমিশন ভোটার বানাতে পারে না। বাংলাদেশের নারীরা ১৯৪৬ সালে সীমিত ভোটাধিকার লাভ করে, কিন্তু ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে তারা প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন যদিও অবিভক্ত বাংলায় ১৯২১ সাল থেকে সীমিত ভোটাধিকার ছিল, পাকিস্তান সৃষ্টির পর এবং পরবর্তীকালে স্বাধীনতার পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভোটাধিকারের সুযোগ আসে।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৪৬ সালে নির্বাচিত এবং মনোনীত উভয় ধরনের সদস্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়।

কিন্তু সেখানে নারীদের মনোনয়নের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান ছিল না। বস্তুত ১৯৫৬ সালে প্রথম বারের মতো নারীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার লাভ করে। তখন প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।স্বাধীনতার পরই এদেশের ইতিহাসে প্রথম স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তরে নারীরা প্রতিনিধিত্ব করার মর্যাদা লাভ করে।

এদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তাদের বিগত নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূলধারায় নারী সমাজকে যুক্ত করার গতি ধীর, জটিল এবং প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ। ক্ল্যাসিক্যাল গণতন্ত্র, সামাজিকভাবে পিতৃতান্ত্রিকতার প্রভাব ও সহজে অপরিবর্তনীয় রাষ্ট্রীয় বিধান রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণকে কঠিন করে তুলেছে। এমতাবস্থায় সকলের উচিত আসন্ন নির্বাচনে নারী ভোটারদের নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

নারীর ভোটের গুরুত্ব:

– নারীরা জনসংখ্যার অর্ধেক, তাই তাদের ভোটের গুরুত্ব অনেক।

– নারীরা শিক্ষিত এবং সচেতন, যা তাদের ভোটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

– নারীরা রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

– নারীরা এমন আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখে যা নারী ও শিশুসহ পরিবারের সবার জন্য সুবিধাজনক।

– পুরুষের সমান ভোটদানের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।

– রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে, যা নারীর ক্ষমতায়নকে বৃদ্ধি করে।

– কর্মক্ষেত্রে নারী অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ জরুরি।

সমস্যা কোথায়?

– রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ সীমিত।

– নারী প্রার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ও সমর্থনের অভাব।

– পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে।

কি করা উচিত?

– রাজনৈতিক দলগুলোকে নারী প্রার্থীদের জন্য সমর্থন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

– নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রেরণা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।

– সমাজে নারীর প্রতি সম্মান ও সমর্থন বৃদ্ধি করতে হবে।

সামগ্রিকভাবে, নারী ভোটাররা কেবল ভোটই দেয় না, বরং রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে এবং সুশাসনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবেও কাজ করে। তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ শতভাগ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

 

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভয়ংকর অপরাধে’ গ্রেপ্তার ১০ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ

প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:২০ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভয়ংকর অপরাধে’ গ্রেপ্তার ১০ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের জননিরাপত্তার জন্য ‘ভয়ংকর অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত ১০ বাংলাদেশির ছবিসহ নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) গত এক বছরে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ লাখ নথিপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে। এদের মধ্যে ৫৬ হাজারের বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর অপরাধে সাজা খাটার রেকর্ড রয়েছে এবং তারা সাজার মেয়াদ শেষে মুক্তি পেয়েছিলেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, মাদক পাচার, জালিয়াতি, সশস্ত্র ডাকাতি এবং হামলার মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রয়েছে। ডিএইচএসের ডেপুটি সেক্রেটারি লরেন বেস বলেন, ‘যারা শিশুদের ওপর হামলা চালায় বা নিরীহ মানুষের ক্ষতি করে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোনো স্থান নেই। তারা সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি।’ প্রশাসন এই অপরাধীদের ‘নিকৃষ্টতম’ অপরাধী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ১০ বাংলাদেশির নাম, পরিচয় ও অভিযোগ-

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী অভিযুক্ত বাংলাদেশিরা হলেন- ফোর্ট স্কট, কানসাসের কাজী আবু সাঈদ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, অপ্রাপ্তবয়স্কের ওপর নিপীড়ন-শোষণ, অবৈধ জুয়া পরিচালনা এবং জুয়া সংক্রান্ত অপরাধ।

রেলি নর্থ ক্যারোলাইনার শহীদ হাসান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ-গোপন অস্ত্র বহন এবং দোকানে চুরি।

নিউ ইয়র্কে বাফেলোর মোহাম্মদ আহমেদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।

কুইন্স নিউ ইয়র্ক সিটির মো. হোসেনের বিরুদ্ধেও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।

চ্যান্টিলি ভার্জিনিয়ার মেহতাবউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- গাঁজা এবং হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ বিক্রি।

মার্লিন, টেক্সাসের নওয়াজ খান। এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিপজ্জনক মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে।

পেন্সকোলা, ফ্লোরিডার শাহরিয়ার আবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ- চুরি।

মাউন্ট ক্লেমেন্স মিশিগানের আলমগীর চৌধুরী। এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

মানাসাস ভার্জিনিয়ার ইশতিয়াক রফিকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন লঙ্ঘন এবং সিনথেটিক মাদক রাখার অভিযোগ রয়েছে।

ফিনিক্স অ্যারিজোনার কনক পারভেজের বিরুদ্ধে রয়েছে জালিয়াতির অভিযোগ।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, এই অভিযান মূলত তাদের লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে যারা জননিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। সহিংস এবং শোষণমূলক অপরাধের বিরুদ্ধে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে হজ ফরজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:১২ এএম
যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে হজ ফরজ?

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ। জীবনে একবার হলেও আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ-এ উপস্থিত হয়ে হজ আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ফরজ। তবে ‘সামর্থ্য’ শব্দটি নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা যায়, কত টাকা থাকলে হজ ফরজ হবে, কী ধরনের সম্পদ থাকলে তা বাধ্যতামূলক হবে, কিংবা ঋণ থাকলে কী হবে—এসব বিষয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই।

ইসলামি শরিয়তে হজ ফরজ হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে একজন মুসলমানের জন্য হজ আদায় করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। নিচে সেই শর্তগুলো ও ‘সামর্থ্য’ বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো—

হজ ফরজ হওয়ার মৌলিক পাঁচ শর্ত

১. মুসলমান হওয়া

২. মানসিকভাবে সুস্থ হওয়া

৩. সাবালক হওয়া

৪. স্বাধীন (দাসত্বমুক্ত) হওয়া

৫. সামর্থ্য থাকা

এই পাঁচটির মধ্যে ‘সামর্থ্য’ শর্তটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তব জীবনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

সামর্থ্যের ব্যাখ্যা

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর জন্য এই ঘরের হাজ করা লোকেদের ওপর আবশ্যক, যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে।’ (সুরা আল ইমরান : ৯৭)

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম-এর সিনিয়র মুফতি মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, এখানে ‘সামর্থ্য’ বলতে মূলত দুই ধরনের সক্ষমতাকে বোঝানো হয়েছে। তা হলো, শারীরিক সক্ষমতা ও আর্থিক সক্ষমতা।

শারীরিক সামর্থ্য

হজ ফরজ হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে এমন সুস্থ হতে হবে, যাতে তিনি নিজে মক্কায় গিয়ে হজের যাবতীয় আমল আদায় করতে পারেন। গুরুতর অসুস্থতা বা অক্ষমতা থাকলে সেই অবস্থায় হজ ফরজ হয় না।

কতটুকু সম্পদ হলে হজ ফরজ

হজ ফরজ হওয়ার জন্য কেবল ধনী হওয়া জরুরি নয়; বরং নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক শর্ত পূরণ হতে হবে—

১. নিজের মৌলিক প্রয়োজন (খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি) পূরণের পর অতিরিক্ত অর্থ থাকতে হবে।

২. হজে যাওয়া-আসা ও সৌদি আরবে থাকা-খাওয়ার খরচ থাকতে হবে।

৩. হজের সময় পরিবারের ভরণপোষণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রেখে যেতে হবে।

এই শর্তগুলো পূরণ হলে হজ ফরজ হয়ে যাবে।

ঋণ থাকলে করণীয়

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আগে ঋণ পরিশোধ প্রাধান্য পাবে। যদি জমাকৃত অর্থ দিয়ে ঋণ ও হজ দুটি সম্ভব না হয়, তাহলে হজ ফরজ হবে না। আগে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

‘মৌলিক প্রয়োজন’ কী?

মৌলিক প্রয়োজন বলতে অপচয় বাদ দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য যা অপরিহার্য, তা-ই বোঝানো হয়েছে। যেমন—বসবাসের জন্য একটি ঘর, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, পেশাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি এবং জীবিকার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ।

তাই একমাত্র বসতবাড়ি বা প্রয়োজনীয় গাড়ি বিক্রি করে হজ করা ফরজ নয়। তবে একাধিক সম্পদ থাকলে অতিরিক্ত অংশ সামর্থ্যের মধ্যে গণ্য হবে।

একইভাবে বিয়েও মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। কারো বিয়ের প্রয়োজন থাকলে, হজের আগে বিয়ে প্রাধান্য পাবে।

শারীরিকভাবে অক্ষম হলে করণীয়

যদি সাময়িক অসুস্থতা থাকে, তাহলে সুস্থ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে। আর স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে অন্য কাউকে দিয়ে ‘বদলি হজ’ করানো যাবে। এ বিষয়ে সহিহ হাদিসে নির্দেশনা পাওয়া যায়।

নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত

নারীর হজ ফরজ হওয়ার জন্য মাহরাম সঙ্গে থাকা শর্ত। বোখারি ও মুসলিমে এ বিষয়ে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে নারীর হজের জন্য স্বামীর অনুমতির শর্ত নেই। ওপরের শর্তগুলো পাওয়া গেলে স্বামীর অনুমতি ছাড়াই হজ করতে পারবেন নারীরা।

সূত্র : আল-শারহুল মুমতি, ৭ /৫-২৮।

প্রস্রাব করে পানি নাকি টিস্যু, কোনটি নেওয়া জরুরি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৫ এএম
প্রস্রাব করে পানি নাকি টিস্যু, কোনটি নেওয়া জরুরি?

প্রশ্ন : কেউ যদি প্রস্রাব করার পর শুধু টিস্যু বা মাটির ঢিলা ব্যবহার করে শুকিয়ে নেয় এবং অজু করে নামাজ পড়ে, তবে কি তার নামাজ হবে না? এ ক্ষেত্রে কি পানি ব্যবহার করা জরুরি?

উত্তর : প্রস্রাবের পর লজ্জাস্থানে শুধু মাটির ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহার করলেও পাক হয়ে যাবে এবং এরপর অজু করে নামাজ পড়াও সহিহ হবে। তবে ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পর পানিও ব্যবহার করা যে ভালো, তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। (কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা ১৪৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ৩৯৭৮, ৩৯৮৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/১০৪; আলবাহরুর রায়েক ১/২২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৮; রদ্দুল মুহতার ১/৩৩৮)

উল্লেখ্য, টয়লেটে প্রবেশের আগে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া পড়া সুন্নত। রাসুল (স.) টয়লেটে প্রবেশের আগে এই দোয়া পড়তেন—

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবায়িছ।

অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই সব নাপাক ও ক্ষতিকর জিনিস (শয়তান ও অপবিত্রতা) থেকে।

এ দোয়ার মাধ্যমে অদৃশ্য ক্ষতি ও অশুভ প্রভাব থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করা হয়। বোখারি : ১৪২ ও মুসলিম : ৩৭৫)