খুঁজুন
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৮ মাঘ, ১৪৩২

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীর ভোট, দেশের ভবিষ্যৎ

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৭ এএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীর ভোট, দেশের ভবিষ্যৎ

ভোট প্রদানে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী, যার অর্থ তাদের ভোটের গুরুত্ব অনেক। নারীরা শিক্ষা, আইন, প্রশাসন ও নাগরিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ভোট প্রদানে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা জনসংখ্যার অর্ধেক অংশীদার এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অপরিহার্য। নারীর ভোট আইন প্রণয়ন, পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়ন, এবং নারীবান্ধব নীতি নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলে।তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লিঙ্গবৈষম্য দূর করে এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ভোটার হিসেবে পিছিয়ে আছে নারী ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তালিকানুসারে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জন। এর মধ্যে নারী ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯ জন আর পুরুষ ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫ জন। অর্থাৎ নারী ভোটারের চেয়ে পুরুষ ভোটার সংখ্যা বেশি , মাত্র ১৯ লাখ ৪ হাজার ৬৩৬ জন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে ভোটার হতে উৎসাহিত করতে ব্যপক প্রচারণাও চালানো হয়েছে। অন্যদিকে নারী নেতৃবৃন্দরা মনে করেন, নারীরা ভোটার হলে রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণে আগ্রহ বাড়বে। তবে ভোটার বাড়লেই ক্ষমতায়ন বাড়বে এই কথা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা সময়ই বলে দিবে।

সারাদেশে সর্বত্র নির্বাচনী প্রচারণায় সর্বস্তরেই পুরুষ ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার দৌড়ঝাঁপরত নেতারা, জনসভা, পথসভা, মিছিল, মিটিং ও কর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালাতে দল বদ্ধ ভাবে দাওয়াত এ অংশগ্রহণ ইত্যাদি চলছে। দলের নেতাদের সালাম দেওয়া ও শুভেচ্ছায় ছবি সম্বলিত পোস্টারে, ব্যানারে ছেয়ে গেছে পথ ঘাট, ওলি, গলি, সমগ্র দেশের আনাচে কানাচের দেওয়াল ও পিলার এমন কি গাছ গাছালী পর্যন্ত। সেখানে নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য তেমন কোনো নজর কারা উদ্যোগ খুব একটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী এখনো অনেক পেছনে। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে পরিলক্ষিত হয়েছে একজন প্রধানমন্ত্রী একজন বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিয়ে নারীর সামগ্রিক রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হয়েছে তা বলা যায় না। কারণ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী দলে প্রতি কমিটিতে নারীর অংশগ্রহণ ৩৩ শতাংশের এখনো পূরণে তেমন কোনো অগ্রগতি চক্ষুগোচর হয়নি।

৭১ সাল থেকে সংরক্ষিত আসনে নারীর সংখ্যা বেড়েছে তুলনামূলকভাবে তা অনেক কম। নারীকে মনোনয়ন দিতে নারীর ভোটার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন নারী নেতৃবৃন্দ। নারীরা ভোটার হলে এবং ভোট দিলে রাজনীতিতে অংশগ্রহণে আগ্রহ বাড়বে। সাধারণ আসনে নারীকে মনোনয়ন দিতে চায়না পুরুষতন্ত্র। সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন হয় না। তাই ভোটারদের সংখ্যা বাড়ালেও পুরো রাজনৈতিক কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।

প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করা নারীদের নিবন্ধনজনিত কার্যক্রমের জন্য পুরুষের ওপর নির্ভরশীল করে রেখেছে সমাজ। ফলে তারা নিজেরা নিবন্ধন করে ভোটার হতে পারে না। আবার এক-দুই দিনে ছুটি নিয়ে বেতন কেটে গ্রামের বাড়ি গিয়ে ভোটার হওয়া তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। ফলে এই শ্রেণির অর্থাৎ গার্মেন্টস শ্রমিক নারীরা ভোটার হন কম। নির্বাচনে ভোটার করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। ভোটার হতে উৎসাহিত করতে প্রচারণাও চালিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বস্তি এলাকাসহ ভাসমান ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করতে বেদে, যাযাবর গোষ্ঠীকেও ভোটার করার কার্যক্রমও নির্বাচন কমিশনের আছে। তবে কাউকে জোর করে নির্বাচন কমিশন ভোটার বানাতে পারে না। বাংলাদেশের নারীরা ১৯৪৬ সালে সীমিত ভোটাধিকার লাভ করে, কিন্তু ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে তারা প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন যদিও অবিভক্ত বাংলায় ১৯২১ সাল থেকে সীমিত ভোটাধিকার ছিল, পাকিস্তান সৃষ্টির পর এবং পরবর্তীকালে স্বাধীনতার পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভোটাধিকারের সুযোগ আসে।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৪৬ সালে নির্বাচিত এবং মনোনীত উভয় ধরনের সদস্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়।

কিন্তু সেখানে নারীদের মনোনয়নের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান ছিল না। বস্তুত ১৯৫৬ সালে প্রথম বারের মতো নারীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার লাভ করে। তখন প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।স্বাধীনতার পরই এদেশের ইতিহাসে প্রথম স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তরে নারীরা প্রতিনিধিত্ব করার মর্যাদা লাভ করে।

এদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তাদের বিগত নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূলধারায় নারী সমাজকে যুক্ত করার গতি ধীর, জটিল এবং প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ। ক্ল্যাসিক্যাল গণতন্ত্র, সামাজিকভাবে পিতৃতান্ত্রিকতার প্রভাব ও সহজে অপরিবর্তনীয় রাষ্ট্রীয় বিধান রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণকে কঠিন করে তুলেছে। এমতাবস্থায় সকলের উচিত আসন্ন নির্বাচনে নারী ভোটারদের নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

নারীর ভোটের গুরুত্ব:

– নারীরা জনসংখ্যার অর্ধেক, তাই তাদের ভোটের গুরুত্ব অনেক।

– নারীরা শিক্ষিত এবং সচেতন, যা তাদের ভোটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

– নারীরা রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

– নারীরা এমন আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখে যা নারী ও শিশুসহ পরিবারের সবার জন্য সুবিধাজনক।

– পুরুষের সমান ভোটদানের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।

– রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে, যা নারীর ক্ষমতায়নকে বৃদ্ধি করে।

– কর্মক্ষেত্রে নারী অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ জরুরি।

সমস্যা কোথায়?

– রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ সীমিত।

– নারী প্রার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ও সমর্থনের অভাব।

– পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে।

কি করা উচিত?

– রাজনৈতিক দলগুলোকে নারী প্রার্থীদের জন্য সমর্থন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

– নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রেরণা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।

– সমাজে নারীর প্রতি সম্মান ও সমর্থন বৃদ্ধি করতে হবে।

সামগ্রিকভাবে, নারী ভোটাররা কেবল ভোটই দেয় না, বরং রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে এবং সুশাসনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবেও কাজ করে। তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ শতভাগ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

 

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে প্রাণ গেল দু’জনের, আহত ২০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৩২ পিএম
ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে প্রাণ গেল দু’জনের, আহত ২০

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সুয়াদি এলাকার সিসিপিএল পেট্রোল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে নড়াইলগামী নড়াইল এক্সপ্রেস নামের বাসটি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে প্রবেশ করতে ছিল। এমন সময় সামনে থেকে আরেকটি গাড়ি চলে আসলে সেই গাড়ির সাইট দিতে গিয়ে বাসটি উল্টে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে দু’জনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের মধ্যে একজন বাসের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম। তাৎক্ষণিকভাবে অপর নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালান। ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ১০জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গাড়িটি উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন।

ফরিদপুর-২ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস, জটিল সমীকরণে ভোটের হিসাব

এহসানুল হক, ফরিদপুর ও মিজানুর রহমান বাবু, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৫৩ পিএম
ফরিদপুর-২ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস, জটিল সমীকরণে ভোটের হিসাব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনে জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্থানীয় ভোটারদের বিশ্লেষণ বলছে, চূড়ান্ত লড়াই মূলত দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণা, সংগঠনিক শক্তি ও ভোটের সম্ভাব্য সমীকরণ—সবকিছু মিলিয়ে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওয়ায়েদ ইসলাম রিংকু মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (১১ দলীয় জোট) মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা শাহ মো. আকরাম আলী ধলা হুজুর। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক কাঠামো, ব্যক্তিগত প্রভাব এবং ভোটের সম্ভাব্য স্থানান্তর—এসব বিবেচনায় এই দুই প্রার্থীর মধ্য থেকেই আগামী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তবে কেবল এই দুই প্রার্থীই নন, আরও চারজন প্রার্থী রয়েছেন নির্বাচনী দৌড়ে। তারা হলেন—গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের ফারুক ফকির, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকের মো. নাজমুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের শাহ মো. জামাল উদ্দীন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকের মো. আকরামুজ্জামান মিয়া। যদিও স্থানীয়ভাবে তাদের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং সাংগঠনিক উপস্থিতিও কম চোখে পড়ছে।

ভোটার ও কেন্দ্রের পরিসংখ্যান:

ফরিদপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯০৪ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৭ জন। আসনটিতে মোট ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭টি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জটিল সমীকরণে ভোটের হিসাব:

স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ভোটের সমীকরণ অত্যন্ত জটিল। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—এই দুই দলই এ আসনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তাদের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ বিএনপিসহ বিভিন্ন দলে সক্রিয় হয়েছেন। ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কোনদিকে যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নগরকান্দা উপজেলার এক ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগের ভোট এবার ছড়িয়ে যেতে পারে। কেউ বিএনপিতে গেছে, কেউ আবার নিরপেক্ষ আছে। শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।”

সালথা উপজেলার এক তরুণ ভোটার সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আমরা উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান চাই। শুধু দল নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাও এবার বড় ফ্যাক্টর।”

ধর্মভিত্তিক ভোটের প্রভাব:

ফরিদপুর-২ আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কওমি মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে আলেম-ওলামা ও ধর্মভিত্তিক ভোটারদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খেলাফত মজলিস প্রার্থীর পক্ষে ধর্মীয় নেতাদের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বিএনপিও স্থানীয় পর্যায়ে মসজিদ-মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছে।

নগরকান্দার এক মাদরাসা শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক। প্রার্থীদের মধ্যে যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেবে, তাকেই সমর্থন দেব।”

প্রচারণায় কারা এগিয়ে?

মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, বিএনপি প্রার্থী শামা ওয়ায়েদ ইসলাম রিংকু দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার প্রচারণা বেশ সক্রিয়। অন্যদিকে খেলাফত মজলিস প্রার্থী আকরাম আলী ধলা হুজুরও ধর্মীয় সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিকভাবে বিএনপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও ধর্মভিত্তিক ভোটের একীভূত সমর্থন খেলাফত মজলিস প্রার্থীর পক্ষে গেলে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে।

সংঘর্ষের আশঙ্কা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি:

স্থানীয়দের মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কাও রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এবারও প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সালথার এক প্রবীণ ভোটার হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চাই। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।”

জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও মোবাইল টিম প্রস্তুত রাখা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।

শেষ মুহূর্তের কৌশল:

ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরদার হচ্ছে কৌশল নির্ধারণ। প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমর্থন চেয়েছেন। স্থানীয় ইস্যু যেমন—রাস্তা সংস্কার, কৃষি সহায়তা, বেকারত্ব, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন—এসব বিষয় নিয়ে প্রতিশ্রুতির ঝড় তুলেছিলেন তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন তা নির্ভর করবে—আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটের গতিপথ, ধর্মভিত্তিক ভোটের সংহতি এবং নির্বাচনের দিন ভোটার উপস্থিতির উপর।

সব মিলিয়ে ফরিদপুর-২ আসনে এবারের নির্বাচন কেবল সংখ্যার লড়াই নয়, বরং কৌশল, জনপ্রিয়তা ও জোট রাজনীতির এক জটিল সমীকরণ। এখন দেখার বিষয়, ৩ লাখের বেশি ভোটারের রায়ে কার কপালে জোটে সংসদ সদস্যের আসন।

চাঁদাবাজ ধরে ভাইরাল, ফরিদপুর-৩ আসনে আলোচনায় আসিফ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০৭ পিএম
চাঁদাবাজ ধরে ভাইরাল, ফরিদপুর-৩ আসনে আলোচনায় আসিফ

ফরিদপুর শহরকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে সম্প্রতি সময়ে ফের জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের সময় এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ। ঘটনার পর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা রুজু হওয়া নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী জুলাই যোদ্ধা মো. জনি বিশ্বাস। অনেকে এখানে আসিফকে নিরাপত্তা বাহিনীর মতো জনতার রক্ষাকারী হিসেবে দেখছেন, যার কারণে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মাঠে থাকায় বিভিন্ন সময়ের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তার।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াই করছেন মোরশেদুল ইসলাম আসিফ। তিনি ফরিদপুর-৩ (ফরিদপুর সদর উপজেলা) থেকে অংশ নিয়েছেন এবং রাজনৈতিকভাবে কোনো বড় দল সমর্থন না থাকলেও জনমুখে জনপ্রিয়তার ক্রমবর্ধমান ছাপ ফেলেছেন।

চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সরাসরি ভূমিকা:

সাম্প্রতিক ঘটনায় জানা যায়, শহরের ব্যস্ত এলাকায় ফুটপাত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছিল ইব্রাহিম শেখ নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাকে বাধা দিলে আসিফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যুবকটিকে আটক করেন এবং পুলিশকে হস্তান্তর করেন। পুলিশ পরে তাকে হেফাজতে নেয় এবং মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনাটি ফরিদপুরবাসীর মধ্যে তাৎক্ষণিক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি চাঁদাবাজি প্রতিরোধে প্রার্থী নিজেই সরাসরি মাঠে নামার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

মানুষের পাশে জনসেবামূলক কাজ:

চাঁদাবাজিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি আসিফ জনসেবামূলক কাজকেও গুরুত্ব করে চলেছেন, যা দীর্ঘসময় ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। সম্প্রতি তিনি ফরিদপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় জরুরি ফগিং এবং মশা নিধন কার্যক্রম জোরদারের দাবি উঠিয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। এতে তিনি পৌর প্রশাসককে লিখিতভাবে দ্রুত ফগিং, লার্ভিসাইড স্প্রে, ড্রেন ক্লিনিং এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালুর অনুরোধ জানান, বিশেষ করে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার্থে।

এছাড়া, স্থানীয় গণমাধ্যমেও তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে আসিফ মানবসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রবাসী হিসেবে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের দাতব্য সংস্থা “আসিফ ফাউন্ডেশন” এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “কুরাইশ নিউজ” এর মাধ্যমে অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের পাশে কাজ করে যাচ্ছেন। এতে তার মানবিক ও স্থানীয় উন্নয়নমূলক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

নির্বাচনী পরিবেশ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা:

ফরিদপুর-৩ আসনে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দলগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসিফের জনপ্রিয়তার ক্রমবিকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে ২৮ জন প্রার্থী লড়াইয়ে থাকলেও ভোটের প্রতীক বরাদ্দে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রতীক পেয়েছেন, আর আসিফ নিজের প্রতীক হরিণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গত নির্বাচনী পর্যায়ে (আগের নির্বাচনে) ফরিদপুর-৩ কেন্দ্রটি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল—কয়েকজন প্রার্থীর অফিস বা কর্মসূচিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যদিও তখনকার পরিস্থিতিতে পুলিশ তদন্ত করেছিল।

স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া:

ফরিদপুর শহরের ফুটপাত ব্যবসায়ীরা জনতার স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য মাঠে অবস্থান নেয়া প্রতি প্রার্থীর এই ধরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি সদস্যরা বারবার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ চাই—যা তারা মনে করেন কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়, বরং নেতৃত্বদাতা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত।

ভবিষ্যৎ শাসন ও ভোটের পরিশেষে প্রভাব:

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান, জনসেবামূলক যোগাযোগ এবং স্থানীয় সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের অনুরোধ—এসব পদক্ষেপ মোরশেদুল ইসলাম আসিফকে শুধুমাত্র ভাইরাল একজন প্রার্থী হিসেবে নয় বরং ‘জনগণের নেতা’ হিসেবে তুলে ধরছে। নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় আলোচনায় এই তথ্যগুলি সমর্থকদের মধ্যে সরবরাহ হলে নির্বাচনী মাঝে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ফরিদপুর-৩ আসনে ভোটাররা এখন চাঁদাবাজি বিরোধী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকা প্রার্থীর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন, এবং এই পরিস্থিতি আসিফের নির্বাচনী অভিযানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এমপি প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ বলেন— ফরিদপুর শহরকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করাই আমার প্রথম অঙ্গীকার। সাধারণ ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষের ঘামঝরা আয় কেউ জোর করে নিতে পারবে না। আমি কোনো দলের শক্তিতে নয়, জনগণের শক্তিতে রাজনীতি করছি। যেখানে অন্যায় দেখবো, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবো—এটাই আমার অবস্থান। ডেঙ্গু, মশক নিধন, ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতা—এসব মৌলিক সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই।

তিনি বলেন, নিম্নআয়ের মানুষ যেন সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি আমি গুরুত্ব দিচ্ছি। ফরিদপুর-৩ আসনকে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক রাজনীতির মডেল করতে চাই। হরিণ প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণ যদি সুযোগ দেন, তাহলে সবার জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করবো।